আমেরিকা থেকে ভারতে আসা জাহাজটির নাম ‘পাইএক্সিস পাইওনিয়ার’। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এই জাহাজ টেক্সাসের একটি বন্দর থেকে ছেড়েছিল। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে এই জাহাজ ভারতে ঢোকায় দেশে গ্যাসের জোগান বাড়ল। তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস এলপিজি নিয়ে আমেরিকা থেকে ভারতে এল পণ্যবাহী জাহাজ। রবিবার জাহাজটি কর্নাটকের নিউ ম্যাঙ্গালুরু বন্দরে ঢোকে। জাহাজটিতে রয়েছে ১৬,৭১৪ মেট্রিক টন। আমেরিকা থেকে ভারতে আসা জাহাজটির নাম ‘পাইএক্সিস পাইওনিয়ার’। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এই জাহাজ টেক্সাসের একটি বন্দর থেকে ছেড়েছিল। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে এই জাহাজ ভারতে ঢোকায় দেশে গ্যাসের জোগান কিঞ্চিৎ বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে। ম্যাঙ্গালুরুতেই রয়েছে দেশের বৃহত্তম ভূগর্ভস্থ গ্যাসের ভান্ডার। সমু্দ্রপৃষ্ঠ থেকে ২২৫ মিটার নীচে অবস্থিত এই ভান্ডারে ৮০ হাজার টন গ্যাস মজুত রাখা যায়। গত সেপ্টেম্বর মাসে এই ভান্ডার থেকে গ্যাস নেওয়া শুরু করে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি। নিউ ম্যাঙ্গালুরু বন্দরে নোঙর করেছে রাশিয়ার তেলবাহী জাহাজ ‘অ্যাকোয়া টাইটান’। চিনের দিকে যাওয়ার সময় মাঝপথে অভিমুখ বদলে ভারতে এসেছে জাহাজটি। মাঝারি মাপের এই জাহাজটিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, চিন যাওয়ার পথে অন্তত সাতটি রুশ জাহাজ অভিমুখ বদলে ভারতের দিকে ঘুরেছে। তার মধ্যে ‘অ্যাকোয়া টাইটান’-ই প্রথম ভারতীয় বন্দরে নোঙর করেছে। তবে বাকি ছ’টি জাহাজের সবগুলিই ভারতে আসছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
দেশে তেল এবং গ্যাসের জোগান কেমন, তা পর্যালোচনা করতে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার বিকেলে দিল্লিতে হওয়া এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে ছিলেন বেশ কয়েক জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ, পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী প্রমুখ। দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গ্যাস, অশোধিত তেল সরবরাহে কী প্রভাব পড়েছে, তা জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে দেশের বিদ্যুৎ এবং সার উৎপাদন ক্ষেত্রে কী প্রভাব পড়েছে, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ওই সূত্রের দাবি, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ করার কথা বলা হয় বৈঠকে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, গৃহস্থালিতে রান্নার গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। গ্রাহকদের মধ্যে ‘বুকিং’ সংক্রান্ত উদ্বেগও কমেছে। এই পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ আগের অবস্থায় ফেরাতে চাইছে কেন্দ্র। কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকায় ফের এলপিজি নির্ভরতা কমিয়ে পিএনজি (নলবাহিত প্রাকৃতিক গ্যাস) ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নলবাহিত গ্যাস সরবরাহের জন্য পরিকাঠামো তৈরির আর্জি জানিয়ে যে সমস্ত আবেদন জমা পড়েছে, সেগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।





