Sunday, April 26, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আরজি করের লিফটে শুধুই কি যান্ত্রিক ত্রুটি? খুনের মামলা হওয়া উচিত, ইচ্ছে করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে : শুভেন্দু

চার বছরের ছেলের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়ে মর্মান্তিক ঘটনার শিকার অরূপ! মৃতের নাম অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় (৪০)। তিনি দমদমের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, ছেলের হাত ভেঙে যাওয়ায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। সেই সময় স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ট্রমা কেয়ারের লিফটে ওঠেন। কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভয়াবহ ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ট্রমা কেয়ারের একটি লিফটে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে থাকার পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির। এই ঘটনার পরই স্বাস্থ্য দফতর রিপোর্ট তলব করেছে এবং গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। দমদমের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, ছেলের হাত ভেঙে যাওয়ায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। সেই সময় স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ট্রমা কেয়ারের লিফটে ওঠেন। অভিযোগ, লিফটে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা বিকল হয়ে যায় এবং তিনজনই ভিতরে আটকে পড়েন। প্রায় এক ঘণ্টা আটকে থাকার পর অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে লিফট খুললে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। প্রাথমিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, প্রাথমিক যে রিপোর্ট সামনে এসেছে তা ভয়াবহ। মৃত যুবকের পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, প্লীহা, এমনকী অন্ত্রও ফেটে গেছিল! দেহের ভিতরই সাংঘাতিক রক্তক্ষরণ হয়েছিল। এই ঘটনার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালের নজরদারি ক্যামেরায় দু’বার অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা গিয়েছে – একবার অপারেশন থিয়েটারের সামনে এবং পরে উদ্ধার হওয়ার সময়। মাঝের সময়টা নিয়েই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। আরজি কর হাসপাতালের লিফ্‌ট বিপর্যয়ের নেপথ্যে কার গাফিলতি? তা নিয়ে উঠছে বিস্তর প্রশ্ন। বেসমেন্টে থমকে থাকা লিফ্‌ট কী ভাবে আবার চালু হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে নিহত অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার। তাদের আইনজীবীর দাবি, লিফ্‌টম্যানদের মধ্যেই কেউ সম্ভবত উপরের কোনও তল থেকে লিফ্‌টটি চালু করে দিয়েছেন। ধৃত তিন লিফ্‌টম্যান এবং দুই নিরাপত্তাকর্মীকে শনিবার শিয়ালদহ আদালতে হাজির করানো হয়। বিচারক তাঁদের ছ’দিনের (২৭ মার্চ) পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবারের ওই লিফ্‌ট বিপর্যয়ে মৃত্যুর একমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের স্ত্রী। পরিবারের বক্তব্য, অরূপ যখন বেসমেন্টে আটকে পড়া লিফ্‌ট থেকে বেরোতে যান, তখনই লিফ্‌ট উপরের দিকে উঠতে শুরু করে। সেই সময় লিফ্‌ট এবং দেওয়ালের মাঝে আটকে পড়েন তিনি। আরজি করের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায়ও পরিবারের এই বক্তব্যের কথা জানিয়েছেন। তবে বেসমেন্টে গিয়ে থমকে যাওয়ার পরে সেই লি‌ফ্‌ট কী ভাবে আবার উপরের দিকে উঠতে শুরু করল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। নিহতের পরিবারের আইনজীবী জানান, যখন অরূপ এবং তাঁর পরিবার বেসমেন্টে আটকে ছিলেন, তখন একতলায় থাকা আত্মীয়েরা বিভিন্ন জনের কাছে সাহায্য চাইছিলেন। ওই সময়েই তিন জন ব্যক্তি এসে নিজেদের লিফ্‌টম্যান বলে পরিচয় দেন। আইনজীবী জানান, ওই তিন জনের মধ্যে এক জন উপরে চলে যান। তার পরে তিনিই হয়তো আচমকা উপর থেকে লিফ্‌টটি ‘অন’ করে দেন বলে সন্দেহ পরিবারের। আইনজীবীর বক্তব্য, এর ফলে লিফ্‌টটি উপরে উঠে যায়। মহিলা এবং তাঁর সন্তান নীচে পড়ে যান। অরূপ মাঝখানে আটকে যান। তবে ভবনের কোন তল থেকে লিফ্‌টটি ‘অন’ করা হয়ে থাকতে পারে, তা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারছেন না পরিবারের আইনজীবী। বেসমেন্টে কী পরিস্থিতি হয়ে রয়েছে, তা না-জেনেই লিফ্‌ট ‘অন’ করা উচিত হয়নি বলেই মনে করছে পরিবার। তাদের বক্তব্য, আগে বেসমেন্ট খুলে দেখতে হত। নিহতের পরিবারের আইনজীবী আরও জানান, বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার লিফ্‌টটিতে ওঠার আগে থেকেই সেটিতে সমস্যা ছিল। লিফ্‌টে ওঠার পর পরই তা বুঝতে পারেন বলে দাবি আইনজীবীর। তিনি আরও জানান, অরূপেরা ওই লিফ্‌টে ওঠার আগেই তাঁদের এক আত্মীয় ওই লিফ্‌টটিতে উপরে গিয়েছিলেন। তাঁরও মনে হয়েছিল, লিফ্‌টে সমস্যা রয়েছে। লিফ্‌টটি যে ওঠানামা করেছিল, তা-ও জানান আইনজীবী। তবে ভবনের কোন তল থেকে কোন তলের মধ্যে ওঠানামা হয়েছে, তা নির্দিষ্ট ভাবে বলতে পারছেন না তিনি। আইনজীবী বলেন, “নিহতের স্ত্রী বর্ণনা করছেন, লিফ্‌টটি ওঠানামা করে। শেষে সেটি বেসমেন্টে এসে দাঁড়িয়ে যায়। লিফ্‌টের দরজাটা সেখানে কিছুটা খুললেও, সামনে আর একটি গ্রিলের গেট ছিল। সেটি খোলা যায়নি। সেটি লক ছিল।”

হাসপাতালে কর্মরত বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী, সেখানে থাকা পুলিশ এবং আধাসেনা জওয়ানদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আইনজীবী। তাঁর কথায়, বিভিন্ন জনের কাছে সাহায্য চাওয়া হলেও কেউ-ই খুব একটা আমল দেননি। এই কাজের দায়িত্ব কার, তা নিয়েও দায় ঠেলাঠেলি হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। তিনি বলেন, “এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনকে গ্রেফতার হয়েছে। হাসপাতাল, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের কারা ওই সময়ে হাসপাতালে কর্তব্যরত ছিলেন, যাঁদের উপরে কোনও না কোনও ভাবে এই ঘটনা আটকানোর দায় বর্তায়, সে বিষয়ে রিপোর্ট চাওয়ার জন্য আমরা আদালতকে অনুরোধ করেছি।” ধৃতদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সরকারি আইনজীবীও। গ্রেফতার হওয়া পাঁচ জনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানান তিনি। আইনজীবী জানান, বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার রাত সাড়ে ১০টা নাহাদ হাসপাতালে যান। হাসপাতালের লিফ্‌ট সাধারণের কাজে লাগে। সেখানে ধৃতেরা দাঁড়িয়ে গান শুনছিলেন এবং তাঁরাই ওই লিফ্‌টকে মানুষ মারার যন্ত্রে পরিণত করেন বলে আদালতে সওয়াল করেন সরকারি আইনজীবী। কেউ অপারেশন থিয়েটারের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন বলে কি তাঁর অন্য দিকে দায়িত্ব নেই? সেই প্রশ্নও তোলেন আইনজীবী। সরকারি হাসপাতালের লিফ্‌টের সামনে লিফ্‌টম্যানের থাকার কথা। কেন ওই লিফ্‌টে কেউ ছিলেন না? প্রশ্ন উঠেছে। শুক্রবারই এই ঘটনায় তিন জন লিফ্‌টম্যান মিলনকুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস, মানসকুমার গুহ, নিরাপত্তারক্ষী আশরাফুল রহমান, শুভদীপ দাসকে টালা থানার পুলিশ গ্রেফতার করে। শনিবার ফরেনসিক দফতরের পদার্থবিদ্যা বিশেষজ্ঞদের একটি দল সংশ্লিষ্ট লিফ্‌ট থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। কোন তলা থেকে অরূপেরা লিফ্‌টে উঠেছিলেন, কোন বোতাম টিপেছিলেন, লিফ্‌ট কোথায় তাঁদের নিয়ে যায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগে থেকেই লিফ্‌টে যান্ত্রিক সমস্যা থাকলে তা কেন নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়নি? উঠছে সেই প্রশ্নও। সোমবার ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা ফরেনসিক দফতরের জীববিদ্যা বিভাগের আধিকারিকদেরও। যেখান থেকে অরূপের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেখান থেকেও ফরেনসিক দল নমুনা সংগ্রহ করেছে। নমুনা নেওয়া হয়েছে বেসমেন্ট থেকেও। লিফ্‌টের রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ছিল কি না, ঠিক কোথায় গলদ ছিল, খুঁজে বার করতে মরিয়া তদন্তকারীরা। লালবাজারের গোয়েন্দারা বিষয়টি দেখছেন। টালা থানা থেকে হোমিসাইড বিভাগ তদন্তভার গ্রহণ করেছে।

আরজি কর হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারে লিফ্‌টে আটক প্রহরের ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন মৃত অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী সোনালি দত্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। জানিয়েছেন, আটকে পড়া লিফ্‌টের ভিতর থেকে স্বামীর দেহ গড়িয়ে পড়ে তাঁর কোলের উপর। বহুতলের অন্ধকার বেসমেন্টে স্বামীর দেহ এবং ভয়ে আড়ষ্ট একরত্তি ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে অসহায়ের মতো আর্তনাদ ছাড়া আর কিছু তাঁর করার ছিল না। দীর্ঘ ক্ষণ পরে সাহায্য আসে। তাঁদের উদ্ধার করা হয়। কিন্তু তত ক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। ছেলেকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে গিয়ে বেঘোরে প্রাণ হারিয়েছেন বাবা। আরজি করের লিফ্‌ট বিপর্যয়ের তদন্তভার টালা থানার হাত থেকে নিয়েছে কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড বিভাগ। লালবাজারের গোয়েন্দারা দেখছেন, কী থেকে কী হয়েছিল? গাফিলতিই বা কার? আপাতত এই ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত হত্যার একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। যে সময়ে এই ঘটনা ঘটেছে, তখন আরজি করের লিফ্‌টের দায়িত্বে কে বা কারা ছিলেন, নির্দিষ্ট ওই লিফ্‌ট পরিচালনার ভার কার উপর ছিল, তা জানতে কর্মীদের ডিউটির সূচি (রস্টার) ঘেঁটে দেখছেন আরজি কর কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার তাঁরা একটি বৈঠক করেছেন। সোমবার আবার বৈঠকে বসবেন। আরজি কর থেকে গোটা ঘটনার একটি রিপোর্ট পাঠানো হবে স্বাস্থ্য ভবনে। মৃতের স্ত্রী বলেন, ‘‘ছেলের হাত ভেঙে গিয়েছিল। আমরা রাত ১০টায় আরজি করে গিয়েছিলাম। ছেলে বলল, বাথরুম যাবে। আমরা ওকে নিয়ে যাই লিফ্‌টের দিকে। ফোনটুকুও আমাদের সঙ্গে ছিল না।’’ লিফ্‌টের ভিতরের প্রহর বর্ণনা করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন সোনালি। বলেন, ‘‘হঠাৎ লিফ্‌টের দরজা বন্ধ হয়ে গেল। লিফ্‌ট উপরে উঠে গেল। তার পর নামতে নামতে একেবারে নীচে বেসমেন্টে চলে গেল। বেসমেন্টে পৌঁছোনোর পর দরজা এক বার খুলেছিল। চারদিক অন্ধকার। ভিতরে থাকব না বেরিয়ে যাব, বুঝতে পারছিলাম না। আমি আর ছেলে বেরিয়ে যাই। আমার স্বামী বেরোতে পারেননি। বাইরে দাঁড়ানোর জায়গাও ছিল না। আমরা লিফ্‌টের নীচের গর্তে পড়ে যাই।’’

অরূপ লিফ্‌টের দরজায় আটকে থাকা অবস্থাতেই তা উপরের দিকে আবার উঠতে শুরু করে বলে জানিয়েছেন সোনালি। তাঁর কথায়, ‘‘গর্ত থেকে আমি কোনও রকমে পাশের জায়গাটুকুতে ছেলেকে তুলতে পেরেছিলাম। আপ্রাণ চিৎকার করছিলাম ‘হেল্প হেল্প’ বলে। কেউ আসেনি। হঠাৎ ভিতর থেকে ওর রক্তাক্ত দেহ আমার কোলে এসে পড়ে। আমার কিছু করার ছিল না।’’ এর পরেও দীর্ঘ ক্ষণ বেসমেন্টে আটকে থাকতে হয়েছিল সোনালিদের। তাঁর তিন বছরের সন্তান আতঙ্কগ্রস্ত। লিফ্‌টের বাইরে একটি লোহার গ্রিলের দরজা ছিল। তাতে তালা ঝুলছিল। সেই তালার চাবিই খুঁজে পাওয়া যায়নি দীর্ঘ ক্ষণ, দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।
লিফ্‌টকাণ্ডে ইতিমধ্যে পুলিশ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন লিফ্‌টম্যান মিলনকুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস, মানসকুমার গুহ, নিরাপত্তারক্ষী আশরাফুল রহমান এবং শুভদীপ দাস। শনিবার তাঁদের শিয়ালদহ আদালতে হাজির করানো হবে। ঘটনার পরেই টালা থানায় ডেকে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। তার পর তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। গোটা ঘটনার দায় কার? বিরোধীরা তৃণমূলকে নিশানা করছেন। আরজি করের রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য তথা এলাকার বিধায়ক অতীন ঘোষ স্থানীয় প্রশাসনের ব্যর্থতা মেনে নিয়েছেন শুক্রবারই। বিজেপির তরফে স্বাস্থ্য ভবন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। দাবি, অবিলম্বে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়া উচিত।

‘খুনের মামলা হওয়া উচিত,’ আরজি করের লিফট দুর্ঘটনায় মৃত্যু নিয়ে মমতার দিকেই আঙুল শুভেন্দুর
সূত্রের দাবি, ওপরতলায় শৌচালয়ে যাওয়ার জন্যই পরিবার-সহ লিফটে ওঠেন তিনি। তবে লিফটটি কিছু তলা উঠেই সজোরে বেসমেন্টে নেমে যায় (ধাক্কা খায়) এবং এক সময় দরজা খুলে যায়। সেই সময় স্ত্রী ও সন্তান বেরিয়ে আসতে পারলেও অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় ভিতরেই থেকে যান বলে অভিযোগ। তবে ঠিক কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে তিনি বেরোতে পারেননি, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অভিযোগ, পাঁচ নম্বর ফ্লোরের বাটন টিপলেও লিফটে তিন নম্বর ফ্লোর পর্যন্ত উঠে ফের নীচে নেমে আসে। বেসমেন্টে সজোরে ধাক্কা লাগার কারণেই অরূপের এত বেশি চোট লেগেছে বলে অনুমান। আরজি কর হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী কর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির নাক-মুখ থেকে রক্ত বেরোচ্ছিল। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, লিফট বেসমেন্টে পৌঁছলে স্বাভাবিক নিয়মেই দরজা খুলে যায়। সেই ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে একজন ব্যক্তি ভিতরে আটকে থাকলেন কীভাবে, তা নিয়েই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। এই ঘটনার পর হাসপাতালের পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। সব মিলিয়ে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা জানতে এখন তদন্তের দিকেই তাকিয়ে সকলেই। যদিও এটিকে দুর্ঘটনা বলতে নারাজ ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, ইচ্ছে করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ খুনের ঘটনা, দায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি প্রার্থী বলেন, ”ইচ্ছে করে মেরে দিয়েছে। খুনের মামলা দায়ের হওয়া উচিত। প্রত্যক্ষ খুনের জন্য দায়ী আরজি করের সুপার। আর পরোক্ষভাবে দায় স্বাস্থ্য দফতর, স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।” শুভেন্দু দাবি করেছেন যে, তাঁর কাছে সরকারি নথিও রয়েছে যেখানে স্পষ্ট বলা আছে যে, লিফটে কাজ হচ্ছিল।‌

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles