Saturday, May 2, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ইমরান খানের চোখের পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক? নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্যের খবর ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চিঠি দিয়েছেন ক্রিকেট বিশ্বের একাধিক কিংবদন্তি- সুনীল গাভাসকর, কপিল দেব, ক্লাইভ লয়েড, অ্য়ালেন বর্ডার, স্টিভ ওয়া, ইয়ান চ্য়াপেল-সহ মোট ১৪ জন প্রাক্তন আন্তর্জাতিক অধিনায়ক। পাক সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত হয় বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড। সেই বোর্ড রাওয়ালপিণ্ডির আদিয়ালা জেলে গিয়ে ৭৩ বছরের ইমরানের চোখের পরীক্ষা করে। রিপোর্টে যেমন কিছু জটিলতার উল্লেখ রয়েছে, তেমনই উন্নতির আশাও দেখা যাচ্ছে। চশমা ছাড়া ও চশমা পরার পর দৃষ্টিশক্তি রিপোর্ট অনুযায়ী, চশমা ছাড়া তাঁর ডান চোখের দৃষ্টি ছিল ৬/২৪ (আংশিক), আর বাঁ চোখের ৬/৯। অর্থাৎ ডান চোখে স্বাভাবিকের তুলনায় দৃষ্টিশক্তি অনেকটাই কম, তবে বাঁ চোখ তুলনামূলকভাবে ভালো কাজ করছে। চশমা পরার পর চিত্রটা বদলায়। ডান চোখের দৃষ্টি বেড়ে হয় ৬/৯ (আংশিক) এবং বাঁ চোখে ৬/৬, যা স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি হিসেবে ধরা হয়। ৬/৬ মানে ৬ মিটার দূরের বস্তু একজন সুস্থ দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তির মতোই স্পষ্ট দেখা। আর ৬/৯ মানে, যা তিনি ৬ মিটার দূর থেকে দেখছেন, স্বাভাবিক চোখের কেউ তা ৯ মিটার দূর থেকেও দেখতে পারেন। ইমরানের চোখের পরীক্ষা করেন অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞদের একটি দল। বোর্ডে ছিলেন রাওয়ালপিণ্ডির আল-শিফা ট্রাস্ট আই হসপিটালের-এর ভিট্রিওরেটিনাল বিভাগের প্রধান ডা. নাদিম কুরেশি এবং ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্য়াল সায়েন্সের চক্ষু বিভাগের প্রধান ডা. আরিফ খান। তাঁরা রেটিনা, ম্যাকুলা এবং চোখের ভেতরের গঠন খুঁটিয়ে দেখেন। স্লিট-ল্যাম্প পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দুই চোখের কর্নিয়া স্বচ্ছ এবং সামনের অংশে কোনও অস্বাভাবিক কোষ নেই। অর্থাৎ চোখের সামনের অংশ আপাতত সুস্থ। তবে ডান চোখে কিছু জটিলতা রয়েছে। ভিট্রিয়াস জেল বেশিরভাগটাই পরিষ্কার হলেও কয়েকটি ফাইব্রিলার অপাসিটি ধরা পড়েছে। চোখের প্রান্তিক অংশে হালকা রক্তক্ষরণ রয়েছে। রেটিনার চারটি অংশেই মাঝারি মাত্রার রক্তক্ষরণ দেখা গিয়েছে। কিছু ‘কটন উল স্পট’ও মিলেছে, যা রেটিনায় রক্তপ্রবাহের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। তবে ইতিবাচক দিকও আছে। ম্যাকুলার ইডিমা বা রেটিনার ফোলাভাব কমছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ডান চোখে গুরুতর সমস্যা থাকলেও চিকিৎসার ফলে উন্নতির স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ওসিটি স্ক্যানে উন্নতির ইঙ্গিত। অপটিক্যাল কোহেরেন্স টোমোগ্রাফি পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ডান চোখের সেন্ট্রাল ম্যাকুলার থিকনেস ৫৫০ মাইক্রন থেকে কমে ৩৫০ মাইক্রনে এসেছে। চিকিৎসকদের মতে, এটি রেটিনার ধীরে ধীরে সেরে ওঠার লক্ষণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles