শক্তি জোগানো হোক বা কোষ্ঠ পরিষ্কার, খেজুরের গুণে সবই সম্ভব। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর খেজুর হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখে, চিনির বিকল্পও হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু কারও তা না-পসন্দ হতেই পারে। আবার ছোটদের ফল খাওয়ানো রীতিমতো কষ্টসাধ্য। খুদেরা লজেন্স পছন্দ করে। ভালমানের খেজুর লম্বালম্বি ভাবে চিরে বীজ বার করে সেখানে চকোলেটের আস্তরণ দেওয়া বাদাম ভরে দিন। দিতে পারেন চিজ় এবং পেস্তাও। দেখতেও অন্য রকম হবে। এমন জিনিস প্লাস্টিকের মোড়কে বা সুন্দর করে সাজিয়ে রাখলে এমনিতেই খেতে ইচ্ছা হবে। নেকেই দিন শুরু করেন রকমারি স্মুদি দিয়ে। স্মুদিতে মিষ্টি স্বাদ আনতে কৃত্রিম চিনি নয়, মিশিয়ে নিন কয়েকটি খেজুর। এর প্রাকৃতিক মিষ্টত্ব স্বাদে ভারসাম্য আনবে। তা ছাড়া, ক্যালোরির পরিমাণও এতে যথেষ্ট। খনিজে ভরপুর। খেজুরের বীজ ছাড়িয়ে মিক্সারে ঘুরিয়ে নিন। আখরোট, পেস্তা, কাঠবাদাম, কুমড়ো, তিসির বীজ শুকনো খোলায় হালকা নাড়াচাড়া করে নিন। একটু ঘি এবং স্বাদমতা নুন ছড়িয়ে মিনিট ২ নাড়াচাড়া করে নিন। হামানদিস্তায় থেঁতলে ছোট টুকরো করে ফেলুন। তার পর খেজুরের মণ্ডের সঙ্গে ভাল করে মিশিয়ে নিন রোস্টেড বাদাম এবং বীজ। ছোট ছোট বলের আকার দিন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে, দ্রুত শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করবে এই বল। দেখতে সুন্দর এবং আকারে ছোট হলে শিশুরাও তা খেতে চাইবে।
ডায়াবিটিস হলে ডার্ক চকোলেট খাওয়া ভাল। আবার রক্তাল্পতা দূর করতে খেজুরের জুড়ি মেলা ভার। হার্টের জন্য যেমন ডার্ক চকোলেট উপকারী, তেমনই যৌন অক্ষমতার সমস্যা কাটাতে খেজুরের বেশ নামডাক আছে। কাজেই ডার্ক চকোলেট এবং খেজুর, দুইই স্বাস্থ্য়কর। ডার্ক চকোলেটে চিনির পরিমাণ একেবারেই কম, কোকোর মাত্রা বেশি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। যেহেতু চিনি কম, তাই ডার্ক চকোলেট হার্টের জন্য ভাল। ডায়াবেটিকেরাও খেতে পারেন। তবে সব ব্র্যান্ডের ডার্ক চকোলেটে চিনি ও কোকোর অনুপাত সমান থাকে না। সে ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভাল। খেজুরে আবার প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ খুব বেশি। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) বেশি। প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুরে চিনির মাত্রা প্রায় ৬৮.৮ গ্রাম। কাজেই ডায়াবিটিসে খেজুর না খাওয়াই ভাল। তবে যাঁদের ডায়াবিটিস নেই কিন্তু মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা মাঝেমধ্যেই হয়, তাঁরা দু’টি বা তিনটি খেজুর খেতেই পারেন। ডার্ক চকোলেটকে বলা হয় অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের ভান্ডার। এটি খেলে শরীরে প্রদাহনাশ হয়, রক্তচাপ কমে, ইনসুলিন হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়। অত্যধিক মানসিক চাপ হলেও ডার্ক চকোলেট খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। খেজুরে আবার পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন বি৬ বেশি। হার্টের রোগে ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দূর করতে খেজুরও ভাল, তবে এ ক্ষেত্রে ডার্ক চকোলেটের পাল্লাই ভারী। বরং উচ্চমাত্রায় ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়াম থাকার কারণে শরীরে জলের ভারসাম্য রক্ষা করে খেজুর। স্নায়বিক দৌর্বল্যের সমস্যা কাটাতে খেজুরের জুড়ি মেলা ভার। খেজুরে ফাইবারের পরিমাণ ডার্ক চকোলেটের থেকে বেশি। দুটি মাঝারি মাপের খেজুরে ৩.৩ গ্রাম করে ফাইবার থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা ছাড়াও বদহজম, অম্বল, এমনকি পাকস্থলির আলসারেও উপশম আনে খেজুর।
ডার্ক চকোলেটেও ফাইবার থাকে, তবে এতে পলিফেনলের মাত্রা বেশি। এই উপাদান জিএলপি-১ হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এতে চিনি, ভাজাভুজি খাওয়ার ইচ্ছা কমে। তাই যাঁরা ডায়েট করে ওজন কমাতে চাইছেন, তাঁদের জন্য ডার্ক চকোলেট ভাল। ডার্ক চকোলেট ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। খেজুরের পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম, কপার, ভিটামিন-কে, এসেনসিয়াল অ্যামাইনো অ্যাসিড হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখে। জৈব সালফার থাকার কারণে বিভিন্ন ভাইরাল, ফাঙ্গাল, ব্যাক্টেরিয়াল সংক্রমণ দূর করে খেজুর। ফুসফুসের রোগ আছে যাঁদের, তাঁরা নিশ্চিন্তে খেজুর খেতেই পারেন।
নিয়মিত খেজুর খাওয়ার একাধিক উপকার রয়েছে। বিশেষ করে পেটের স্বাস্থ্যের পক্ষে এই অভ্যাস জরুরি। ফলটি ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং শর্করায় পরিপূর্ণ। তাই পেটের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি সার্বিক ভাবে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে খেজুর। পুষ্টিবিদদের মতে, সকালে খালি পেটে দুটো খেজুর খাওয়া যেতে পারে। এই অভ্যাসের একাধিক উপকারিতা রয়েছে—
১) সকালে শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির জন্য অনেকেই চা-কফির উপর নির্ভর করেন। কিন্তু সেই এনার্জি সাময়িক। সেখানে খেজুরের মধ্যে উপস্থিত প্রাকৃতিক শর্করা অনেক সহজে দেহে শোষিত হতে পারে।
২) খেজুরের মধ্যে ফাইবার এবং খনিজ উপাদান থাকায় তা সকালে একাগ্রতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
৩) অহেতুক খাবার খাওয়ার প্রবণতা রুখে দিতে পারে খেজুর। ফাইবার হজম হতে সময় নেয়। তার ফলে সকালে খেজুর খেলে খিদে কম পায়।
৪) যাঁরা অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে পছন্দ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বিকল্প হতে পারে খেজুর। তার ফলে দেহের ওজন থাকে নিয়ন্ত্রণে।
৫) খেজুরের ফাইবার হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। তার ফলে পেটে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় থাকে।





