শামির ৮ উইকেটের দাম দিতে ব্যর্থ বাংলার ব্যাটারেরা, ৯৯ রানেই দ্বিতীয় ইনিংস শেষ! জয় থেকে ৮৩ রান দূরে জম্মু-কাশ্মীর, হাতে ৮ উইকেট। ৯০ রানে ৮ উইকেট—বাংলার পেসারের রঞ্জি কেরিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার। বাংলার প্রথম ইনিংসের রান টপকে যেতে দিলেন না মহম্মদ শামি। বাংলাকে গুরুত্বপূর্ণ লিড এনে দিলেন। কল্যাণীর মাঠে দাপট দেখালেন মহম্মদ শামি। বাংলার ৩২৮ রানের জবাবে জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম ইনিংস শেষ হল ৩০২ রানে। শামি প্রথম ইনিংসে নিলেন ৮ উইকেট। দ্বিতীয় দিনের শেষে জম্মু-কাশ্মীরের রান ছিল ৫ উইকেটে ২০৫। ক্রিজ়ে ছিলেন কানহাইয়া ওয়াধাওয়ান ও আবিদ মুশতাক। মঙ্গলবার সকালে তাঁদের বেশি রানের জুটি গড়তে দেননি শামি। কানহাইয়াকে ২৯ ও আবিদকে ২৭ রানে ফেরান। বংশরাজ শর্মাকেও আউট করেন শামি। ২৩১ রামে ৮ উইকেট পড়ে গিয়েছিল জম্মু-কাশ্মীরের। বাংলার লিড পাওয়া সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন আকিব নবি ও যুদ্ধবীর সিংহ। বল হাতে ৫ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতেও গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন আকিব। তাঁদের মধ্যে ৬৪ রানের জুটি হয়। সেই জুটি ভাঙতে পারছিল না বাংলা। সেই সময় দেখে মনে হচ্ছিল, এই জুটিই জম্মু-কাশ্মীরকে লিড এনে দেবে। ৩৩ রানের মাথায় যুদ্ধবীরকে বোল্ড করলেন তিনি। ৪২ রানের মাথায় আকিবকে আউট করে জম্মু-কাশ্মীরকে অল আউট করে দিলেন তিনি। ৩০২ রানে শেষ হল জম্মু-কাশ্মীর। ২৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেল বাংলা। দ্বিতীয় দিন শামি ৩ উইকেট নিয়েছিলেন। তৃতীয় দিন সকালে বাকি ৫ উইকেটই নিলেন তিনি। ২২.১ ওভারে ৯০ রান দিয়ে ৮ উইকেট নিলেন বাংলার পেসার। জাতীয় দলে ব্রাত্য হয়ে গেলেও শামি দেখাচ্ছেন, এখনও কথা বলছে তাঁর বল। খেলা শেষে শামি যখন সাজঘরে ফিরছেন তখন দেখা যায়, গোটা বাংলা দল উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিচ্ছে। এই পারফরম্যান্সের পর ভারতীয় দলে ঢোকার দাবি আরও জোরালো করলেন শামি। অথচ কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ দিয়েছে বোর্ড।
দ্বিতীয় সেশনে ছবিটা পুরোপুরি পাল্টে যায়। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলার টপ অর্ডার কার্যত তাসের বাড়ির মতো ভেঙে পড়ে। আকিব নবি ও সুনীল কুমারের শুরুর স্পেলে বিপর্যয়। সুদীপ ঘরামি গোল্ডেন ডাক। অভিমন্যু ঈশ্বরন ইনসুইংয়ে পরাস্ত। অনুষ্টুপ মজুমদার এলবিডব্লিউ। স্কোরবোর্ডে ২০ রানও ওঠেনি, ততক্ষণে চার উইকেট পড়ে গিয়েছে! হঠাৎ করেই ম্যাচে কামব্যাক জম্মু ও কাশ্মীরের। পিচে বাড়তি বাউন্স ও মুভমেন্ট কাজে লাগিয়ে বোলাররা বাংলার ব্যাটারদের চাপে রেখেছেন। লিড থাকলেও তা যথেষ্ট নয়, এটা এতক্ষণে স্পষ্ট। তাই সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে সামির ৮ উইকেট আখেরে ফল দেবে? অভিমন্যু ঈশ্বরণেরা প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবিধা হারালেন। শুধু তাই নয়। দ্বিতীয় ইনিংসে জঘন্য ব্যাটিং করে তৃতীয় দিনের শেষেই রঞ্জি ট্রফির সেমিফাইনাল হারের অপেক্ষায় লক্ষ্মীরতন শুক্লর দল! প্রথম ইনিংসে ২৬ রানে এগিয়ে থাকা বাংলার দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে গেল ৯৯ রানে। জয়ের জন্য ১২৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে জম্মু-কাশ্মীরের রান ২ উইকেটে ৪৩।বাংলার ব্যাটারেরা তাঁর চেষ্টার মান রাখতে পারলেন না। ইনিংসের শুরু থেকেই পর পর উইকেট হারালেন ঈশ্বরণেরা। প্রথম সারির কোনও ব্যাটারই চেনা পিচে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারলেন না। ঈশ্বরণ (৫), সুদীপ চট্টোপাধ্যায় (০), সুদীপ ঘরামি (০), অনুষ্টুপ মজুমদার (১২), সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল (১৪), সুমন্ত গুপ্ত (৮), হাবিব গান্ধীরা (১০) মাঠে নেমেছেন এবং সাজঘরে ফিরে গিয়েছেন। এমন বিপর্যয়ের মধ্যে কিছুটা চেষ্টা করেন শাহবাজ় আহমেদ। ২৪ রান এসেছে অলরাউন্ডারের ব্যাট থেকে। বাংলাকে ৯৯ রানে অলআউট করে মঙ্গলবারই ব্যাট করতে নেমে গিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর। দিনের শেষে তারা জয় থেকে ৮৩ রান দূরে। হাতে রয়েছে ৮ উইকেট। শুভম পুন্ডির ২৩ এবং বংশরাজ শর্মা ৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন। আউট হয়েছেন দুই ওপেনার শুভম খাজুরিয়া (১) এবং ইয়ায়ির হাসান (৬)। ২টি উইকেটই নিয়েছেন আকাশ দীপ।
রঞ্জি ট্রফির অন্য সেমিফাইনালে কর্নাটক প্রথম ইনিংসে তুলেছে ৭৩৬ রান। জবাবে তৃতীয় দিনের খেলার শেষে উত্তরাখণ্ডের রান ৫ উইকেটে ১৪৯। দেবদত্ত পাড়িক্কল, লোকেশ রাহুলদের ফাইনালে ওঠা এক রকম নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছে। একদিকে সামির নির্বাচকদের উদ্দেশে জোরালো বার্তা, অন্যদিকে বাংলার ব্যাটিং লাইন আপে ভাঙন। সেমিফাইনালের তৃতীয় দিনের লড়াইয়ে মানসিকভাবে এগিয়ে জম্মু। বাংলার সামনে লড়াই কঠিন। ফাইনালের দরজা এখনও বন্ধ না হলেও ক্রমশ আশার আলোটুকু নিভে যাচ্ছে।





