কে রাজু নস্কর? বেলেঘাটার ‘বাহুবলী’। আবার রাজু ‘জেন্টলম্যান’। রাজু একটি ‘ব্যাপার’। নানা গোষ্ঠীতে বিদীর্ণ উত্তর কলকাতা তৃণমূলে সব পক্ষের কাছেই ঘনিষ্ঠ। বিবিধ ব্যাখ্যা উত্তর কলকাতার তৃণমূলে। প্রায় সকলেই একান্ত আলোচনায় একবাক্যে মানছেন, রাজু কেমন ‘ব্যাপার’? বেলেঘাটার রাজনীতিতে রাজু চিরকালই ডাকসাইটে। বাম জমানায় প্রাক্তন মন্ত্রী অধুনা প্রয়াত মানব মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন রাজু। ‘মানব-দরদী’ হিসাবে সিপিএমের হয়ে ভোটও করাতেন। কিন্তু বাম জমানার শেষ দিকে পরিবর্তনের হাওয়া বুঝে জামা বদল রাজুর। চলে যান তৃণমূলের দিকে। কারণ তিনি ব্যবসায়ী। উত্তর কলকাতা তৃণমূলে সব পক্ষের কাছেই রাজু ‘জেন্টলম্যান’। সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। আবার কাউন্সিলর জীবন সাহার অন্নকূট উৎসবেও অন্যতম হোতা রাজু। দলের জেল খাটা মুখপাত্রের সঙ্গে সখ্য রয়েছে। আবার বেলেঘাটার বিধায়ক পরেশ পালের সুভাষ মেলার সভাপতিও রাজু। শুধু তা-ই নয়। তাঁর পুত্র স্বরাজ নস্করও তৃণমূলের সব পক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে চলেন। স্বরাজ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের পদাধিকারীও। চিনত শুধু বেলেঘাটা। রাতারাতি তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে! তাঁকে নিয়ে শোরগোল তৃণমূলেও। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ বেলেঘাটার ‘বাহুবলী’ তৃণমূল নেতা তথা ব্যবসায়ী রাজু নস্করকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। তার পর থেকেই শাসকদলের মধ্যে হইচই। কেন বিধানসভা ভোটের মুখে রাজুকে গ্রেফতার করা হল?
বেলেঘাটার এক বাসিন্দাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল রাজুর। তৃণমূল নেতা রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন আক্রান্ত। অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্তে নেমে তাঁকে গ্রেফতার করল পুলিশ। রবিবার তাঁকে শিয়ালদহ আদালতে পেশ করা হলে ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অতীতেও রাজুর বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু কখনও এই ধরনের পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এ বার কেন ধরা হল? ভোটের মুখে এই ঘটনা স্বাভাবিক ভাবেই কৌতূহল তৈরি করেছে তৃণমূলের অন্দরে। গত লোকসভা নির্বাচনে উত্তর কলকাতায় ভোটগ্রহণের দিন রাজুর অফিসে পৌঁছে গিয়েছিলেন সুদীপ, কুণাল, পরেশ। রাজু ভোট করিয়েছিলেন। বাকিরা অকুস্থলে হাজির ছিলেন। কারণ, ভোটের আগে উত্তর কলকাতার তৃণমূলের কোন্দল প্রকাশ্যে এসে পড়েছিল। অনেকে বলেন, কুণাল রাজুর অফিসে গিয়েছেন খবর পেয়েই পাল্টা নজরদারি চালাতে সেখানে পৌঁছেছিলেন সুদীপ এবং পরেশ। রাজু যে বেলেঘাটায় একটি নাম, তার প্রমাণ মেলে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কথাতেও। বেলেঘাটায় কোনও কর্মসূচিতে গেলেই শুভেন্দু সরব হন রাজুর নাম করে। রাজু গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের মধ্যে আলোচনা শুরু, ভোটের আগে উত্তর কলকাতার কোনও নির্দিষ্ট পক্ষকে বার্তা দিতেই এই পুলিশি পদক্ষেপ? অনেকে তেমনটা ভাবছেন। তবে আরও দু’রকমের মত ঘুরছে তৃণমূলে। এক, যে ধরনের অভিযোগ উঠেছে তাতে পুলিশের গ্রেফতার না-করে উপায় ছিল না। কারণ, সদ্য নিযুক্ত কলকাতার নতুন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারের মুখ বাঁচানোর দায় রয়েছে বলে অভিমত তাঁদের। দ্বিতীয় ব্যাখ্যা, রাজু বিভিন্ন ভাবে বিজেপির সঙ্গেও সংশ্রব রাখছিলেন। সেটা তৃণমূলের গোচরে এসেছে বলে দাবি শাসকদলেরই প্রথম সারির কয়েক জন নেতার।





