Saturday, April 25, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আইএফএ-‌র সহ সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সৌরভ পাল!‌ সচিব-‌সহ সভাপতি বাকবিতণ্ডায় সরগরম বাংলার ফুটবল সংস্থা ও ময়দান

বহিরাগত ‘‌তমাল ঘোষালের’‌ বিতর্কিত অপমানকর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে আইএফএ-‌র সহ সভাপতি সৌরভ পাল ইস্তফা দিলেন। আইএফএ সচিবের সঙ্গে সহমত হতে না পারাও আরও এক কারণ বলে জানিয়েছেন সৌরভ পাল। আরকে নিউজ এর প্রতিনিধিকে সৌরভ পাল জানান,‌ ‘‘‌‌ জয় দত্ত আমার খুব ভালো বন্ধু। আমিই জয়কে সচিব চেয়ারে বসার জন্য প্রথম উদ্যোগী হয়েছি। কিন্তূ, ইদানিং আইএফএ সম্পর্কিত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বাংলার ফুটবলের উন্নতির বিপক্ষে যাচ্ছে বলে মনে হয়। অনির্বাণ দত্ত নিজে বড় খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছেন, সেটা নিজেই বুঝতে পারছেন না। শ্রাচী ও তমাল ঘোষালের মতো কেউ ভুল পথে চালিত করছেন সচিবকে। আইএফএ-‌র ভিতরে থেকে আমার গায়েও নর্দমার পাঁক লাগতে পারে। চেয়ারে বিশ্বাসী নই, তাই, নিজে থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত। বাইরে থেকে সরাসরি লড়াই ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাব। বাংলার ফুটবলকে শ্রাচী-‌তমালদের হাত থেকে বাঁচাতে লড়াই চালিয়ে যাব। এতদিন মুখ খুলতে পারিনি। মুখ খুললে সবকিছু ফাঁস হয়ে যাবে।’‌’‌ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রাক্তন আইএফএ-‌র সহ সভাপতি সৌরভ পাল। আইএফএ-‌র সহ সচিবের ভুমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলে দিলেন। শ্রাচী ও তমাল ঘোষালদের যদি সোনার খনি ভেবে থাকেন তাহলে ভুল করছেন আইএফএ সচিব, বলেও মন্তব্য করলেন সৌরভ। বিভিন্ন গদি মিডিয়া মারফৎ প্রচ্ছন্ন হুমকি বহিরাগত কেউ সংস্থার পদাধিকারীকে অপমান করার পরও বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই সচিবের। তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়লেন প্রাক্তন আইএফএ-‌র সহ সভাপতি সৌরভ পাল।

পাল্টা মন্তব্যে আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত স্পষ্ট বলেন, ‘‌‘‌ আমাকে কেউ চেয়ারে বসতে কোনওরকম ভুমিকা গ্রহন করেননি। সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। বরং অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় তখন ফোন করে বলেছিলেন বাংলার ফুটবলের হাল ধরার কথা। যে বলছেন এসব মিথ্যা কথা, এক্কেবারে জালি। যতবার স্পনসর এসেছে নানান ভাবে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে গেছেন। উল্টে চিঠি করে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে গেছে। ভিতরে থেকে কাজ করতে বাধা দিতে পারছিলেন না। স্পনসরদের ভুল বোঝাতে পারছিলেন না। তাই এবার বাইরে থেকে সেই কাজগুলো চালনা করতে ভালো পারবেন। আমি খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থেকেও কিভাবে সংস্থাকে টেনে তুলতে হয় জানি। সুতরাং এইভাবে বিরোধিতা করে বাংলার ফুটবলের ক্ষতি করতে পারবেন না, এই সৌরভ পর।’‌’‌ সচিব হিসাবে পদের অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে একের পর এক বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানান অণির্বাণ দত্ত। সব হার্ডল টপকেও কাজ করে যেতে হচ্ছে। কোনো ভুলভাল লোক, কে কী বলল সেটা নিয়ে মাথা ঘামানো উচিৎ নয় বলেই মনে করেন আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত।

রোগ সারেনি! ম্যাচ গড়াপেটা নিয়ে বোম ফাটালেন দুই কর্তা, তুমুল অশান্তি আইএফএ-‌তে। ম্যাচ ফিক্সিংকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে আইএফএ-র অন্তর্দ্বন্দ্ব। কলকাতা লিগে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন ফুটবল কর্তাসহ ফুটবলারদের গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। অভিযোগ,তারপরও কমছে না ফুটবলে গড়াপেটার ঘটনা। আইএফএ-র ভূমিকায় অসন্তুষ্ট খোদ আইএফএ-র দুই পদাধিকারী স্বরূপ বিশ্বাস, সৌরভ পাল। প্রতিবাদে সরব দুই কর্তা। সহ সভাপতি আইএফএ স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, “আমরা যারা মাঠে ফুটবল খেলি আমরা জানি বেশির ভাগ ক্লাবের কোনও স্পনশারশিপ নেই। আমরা সকলে নিজের পকেটের টাকা খরচা করে ক্লাব চালাই। আমাদের কষ্ট দুঃখ বেদনার বহিঃপ্রকাশ হয়েছে আজ। ফিক্সিং এখন বাংলার ফুটবলে ছেয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই আমাদের ফুটবলের উন্নতি হোক। তার জন্য সবার কাছে আমাদের আহ্বান ফিক্সিংয়ের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। সেটা যে গেঞ্জি পরেই ফিক্সিং করুক না কেন, আমাদের ধরতে হবে। পুলিশকে সাহায্য করতে হবে। এই ধরনের মানুষদের ময়দান ছাড়া করতে হবে। বাংলার ফুটবলকে কলুষিত করা থেকে আটকাতে হবে আমাদের।” ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ঘটনায় বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মহমেডান কর্তা বেলাল আহমেদ। তাঁর অভিযোগ, ২ বছর আগে কলকাতা লিগে ম্যাচ গড়াপেটার সঙ্গে যুক্ত ছিল তাঁর দলেরই ফুফুটবলাররা। অথচ সব জেনেও এতদিন চুপ ছিলেন কর্তারা। বেলাল আহমেদ বলেন, “আমার টিম সুপার সিক্সে গিয়েছিল নৈহাটিতে খেলা ছিল। আমার সঙ্গে কয়েকজন ঘুরছিল। ওরা বলছিল, বিলালদা তোমরা তো সুপার সিক্সে চলে গেছ। আমাদের ম্যাচটা ছেড়ে দাও। আমি বলেছিলাম, কী উল্টোপাল্টা বলছ? তারপরও ওরা জোর করছিল, আমি বলেছিলাম, তোমরা এই সব বলো না। চলে যাওয় এখান থেকে। এরপর ওরা চলে গেল। যদিও ম্যাচটা হয়নি সেদিন। এরপর একদিন ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ ছিল। সেটায় আমরা হেরে গেলাম। সেই সময় আমার মনে হল দুটো প্লেয়ার গটআপ হয়ে গেছে।।”

এমনিতেই বেঙ্গল সুপার লিগ আবির্ভাবেই বেটিং অ্যাপ যোগ!‌ পুলিশি তদন্ত?‌ বিতর্কে কলকাতা ফুটবল লিগও?‌ আইএফ-র ‘অ্যান্টি-করাপশন সেল’ গঠনের অনুরোধ সরকারকে। কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের বেটিং কান্ড নিয়ে তথ্য সরবরাহ করে এক ফুটবলপ্রেমী সকলের নজর কেড়েছিলেন, তাঁকে আইএফএ সন্মান জানিয়ে প্রচারমাধ্যমের সামনে আনা হয়েছিল সেই ব্যক্তিও সামাজিক মাধ্যমে একই অভিযোগ এনেছেন। সাধারন ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এই ঘটনায় আলোড়ন পড়েছে। প্রসঙ্গতঃ কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ শেষ হতেই ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে ধরপাকড় শুরু হয়। এমন আবহে এই অভিযোগ প্রমান করে আসল অপরাধীরা এখনও বাইরেই আছে। ছদ্মবেশে বেশ কিছু নিউজ পোর্টাল আসলে বেটিং সাইট পরিচালনা করে। এমন এক বেটিং সাইটের দিকে তিনি দৃষ্টিপাত করেছেন। তাদের লোগো বা ব্র্যান্ডিং নিয়ে মূলতঃ অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস এই সাইটের বিষয়ে আইএফএ’কে সর্তক থাকতে বলেছিলেন। স্পনসরশিপের অর্থের চেয়ে ফুটবলের স্বচ্ছতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রসঙ্গে আইএফএ’র উচিত স্পষ্ট ঘোষনা, কোনও বেটিং-সংশ্লিষ্ট সংস্হার টাকা তারা গ্রহণ করবে না। ক্লাবগুলোকে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করা উচিত। যেহেতু ক্রীড়া দপ্তর এখন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে, আইএফ-র একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে সরকারের কাছে ‘অ্যান্টি-করাপশন সেল’ গঠনের অনুরোধ করা যায়। যা সরাসরি লিগের প্রতিটি ম্যাচে নজরদারি চালাবে। কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের বেটিং নিয়ে পুলিশি তদন্ত চলছে। আইএফএ-র কাজের সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু আইএফএ পরিচালনার কাজ যেহেতু বন্ধ করে দেওয়া যায়না, আইএফএ বেঙ্গল সুপার লিগ নিয়ে ‘স্বতন্ত্র তদন্ত কমিশন’ গঠন করুক। সেই কমিটি অবিলম্বে দেখুক, এই বেঙ্গল সুপার লিগের নিয়মাবলি কোথায় মানা হচ্ছে না । বেঙ্গল সুপার লিগে জেলার নাম জড়িয়ে আছে। কলকাতা লিগের ম্যাচ থেকে খেলোয়াড় বেছে “প্লেয়ার ড্রাফট” তৈরি করা হয়েছিল। সেখান থেকে প্লেয়ার বেছে বেঙ্গল সুপার লিগের টিম তৈরি হয়েছে। বেঙ্গল সুপার লিগের দল গঠনের পর মনে হচ্ছে,জেলার দলগুলো ছদ্মবেশে কলকাতা লিগের কিছু ক্লাব ও তার কর্মকর্তারা নিয়ন্ত্রন করছেন। খেলোয়াড় বাছাই শেষে এমনভাবে বিভিন্ন দল হয়েছে–কলকাতা লিগের সাথে যুক্ত কর্মকর্তারা চাইলেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরাসরি বিভিন্ন দলকে প্রভাবিত করতে পারেন। কলকাতা লিগ নিয়ে যেখানে বেটিং চক্রের যোগাযোগ প্রমানিত হয়েছে, সেখানে উদ্বোধনী বেঙ্গল সুপার লিগে, কলকাতা লিগের কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রন দেওয়া হলো কেন? আইএফএ’র গুরুত্বপূর্ণ পদের আধিকারিকদের দলের ফুটবলার ও কোচদের যদি প্রাধান্য দেওয়া হলো–তবে এই লিগকে জেলা লিগের ‘নবজাগরন’ অ্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে কেন? এরপরেও আইএফএ প্রভাবশালী ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে সত্যিই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারবে?

কলকাতা লিগের মতন বেঙ্গল সুপার লিগেও তরুন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা অনেক সময় ভুল করেই এই চক্রে পড়ে যায়। খেলোয়াড়রা পরিচয় গোপন রেখে কোথায় ও কিভাবে অভিযোগ জানাবে? খেলোয়াড়দের নিয়ে এমন কোনও কাউন্সিলিং হয়েছে, যার মাধ্যমে খেলোয়াড়রা সচেতন হবেন ? ময়দানের ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাবের নাম এই বেটিং ও ফিক্সিং কান্ডে জড়িয়ে গেল। ময়দানের পোড়খাওয়া কর্মকর্তারা এই ক্লাবের শুভানুধ্যায়ী হিসেবে নিজেদের জাহির করেন। বদনাম যা হওয়ার ঐ ক্লাবের হলো। কলকাতার ক্লাবের যদি বদনাম হতে পারে, তবে ভবিষ্যতে জেলার দলকে ঘিরে বদনাম হবেনা–এই নিশ্চয়তা কে বা কারা দিতে পারবে? তাই,আইএফএ’র সহ সভাপতি বেঙ্গল সুপার লিগ নিয়ে যে অভিযোগ এনেছেন, আইএফএ এই বিষয়ে কতটা গুরুত্ব দেবে? বাংলার ফুটবলমহল সেদিকে তাকিয়ে থাকবে। কলকাতা ​লিগ ফুটবলে ​বেটিং ​চক্রের প্রভাব দেখতে পাওয়া গিয়েছিল৷ তাহলে কী বেঙ্গল সকার লিগে সেই ছবি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে৷ ফুটবলারদের পা থেকে বল কাড়তে চায় না ময়দান। ভারতীয় ফুটবল কোন পথে চলবে, তা এখনও অন্ধকারে। এরই মাঝে কিছুটা হলেও আশার আলো বেঙ্গল সুপার লিগ। শ্রাচী স্পোর্টসের উদ্যোগে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে আইএসএলের ধাঁচেই হোম–অ্যাওয়ে পদ্ধতিতে হওয়া এই টুর্নামেন্টে অনেক প্রতিশ্রুতিমান ফুটবলারও নজরে পড়ছেন। একই সঙ্গে বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য, ব্যারেটো, মেহতাব হোসেন, রহিম নবি, সংগ্রাম মুখোপাধ্যায়, সন্দীপ নন্দী, সুমন দত্তদের প্রাক্তনদের কোচের ভূমিকাতেও দেখা যাচ্ছে। বিদেশি কোচেদের দাপটে যাঁরা প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিলেন। বিএসএল ঘিরেও উঠছে প্রশ্ন। ফুটবলার বাছাই থেকে শুরু করে বেটিং অ্যাপের যুক্ত থাকার মতো অভিযোগও উঠছে। সম্প্রতি খোলাখুলি ভাবে এমন অভিযোগ তুলেছেন আইএফএর ভাইস প্রেসিডেন্ট সৌরভ পাল। আইএফএ এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে শুরু থেকেই জড়িয়ে। সৌরভের কথায়, ‘ডাফা নিউজ বিশ্ব জুড়ে খেলাধুলোয় বেটিং করে। সেই রকম একটা সংস্থা কেন এই লিগ চালাবে? কেনই বা আইএফএর মতো প্রতিষ্ঠান এমন ঘটনায় যুক্ত হবে?’ ভারতীয় ফুটবলের এই ভয়ঙ্কর স্তব্ধ পরিস্থিতিতে বিএসএলকে ঘিরে মাঠে বল গড়াচ্ছে, ফুটবলাররা খেলতে পারছেন, এটাকেই বিরাট প্রাপ্তি হিসেবে দেখছে ময়দান।

বেঙ্গল সুপার লিগ বিএসএল-কে স্বচ্ছ রাখতে এবং ফুটবল মাঠে গড়াপেটার ছায়া যাতে না পড়ে সেই উদ্দেশ্যে কলকাতা পুলিশের শরণাপন্ন হতে চলেছে বঙ্গ ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা। কলকাতা ফুটবলকে গড়পেটা মুক্ত করতে আইএফএ-র অনুরোধে দীর্ঘদিন ধরেই খেলার মাঠে নজর রাখছিল কলকাতা পুলিশ। এখনো তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে, গড়াপেটের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন একাধিক। এরই মধ্যে এবার বিপিএলকে কলঙ্কমুক্ত করতে পুলিশের দ্বারস্থ হতে চলেছে বঙ্গ ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে আইএফএ-র সহ-সভাপতি সৌরভ পাল দাবি করেছেন, বিএসএল-এ ফিক্সিংয়ে’র ছায়া রয়েছে, পাশাপাশি প্রশ্ন তুলেছেন বিএসএল-র স্পনসর ডাফা নিউজ নিয়েও। তবে, যে ভাষায় নিজের মতামত তিনি ব্যক্ত করেছেন এবং শ্রাচি স্পোর্টসের অন্যতম শীর্ষ আধিকারিক’কে আক্রমণ করেছেন তা শুধু কুরূচিকর নয়, ‘অসংবিধানিক’-ও বটে। আইএফএ দফতরে শ্রাচি স্পোর্টসে’র সেই আধিকারিক দেখা করেন সংস্থার সচিব অনির্বাণ দত্ত এবং সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। শ্রাচি স্পোর্টসের তমাল ঘোষাল বলেন, “বেঙ্গল সুপার লিগে ম্যাচ ফিক্সিং ও বেটিং-এর যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা আমাদের প্রতিষ্ঠান এবং আইএফএ-র ভাবমূর্তির পক্ষে হানিকর। আমরা আইএফএ’কে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশি তদন্তের অনুরোধ করছি। যে দাফা নিউজ সম্পর্কে এত অভিযোগ সেই ডাফা নিউজ ভারতে নিষিদ্ধ নয়। এটা একটা স্পোর্টস সংবাদ মাধ্যম। যে কেউ তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে সেটি যাচাই করে নিতে পারে।” পাশাপাশি তিনি আইএফএকে অনুরোধ করেছেন, সংস্থার সহ-সভাপতি’র কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে হস্তক্ষেপ করার জন্য। আইএফএ তিন সদস্যদের এই বৈঠকের পর যে প্রেস রিলিজ জারি করেছে তাতে লেখা রয়েছে, ‘সঠিক সভায় সংশ্লিষ্ট পদাধিকারীর ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হবে।’ ডাফা নিউজ নিয়ে আইএফএ-র সহ-সভাপতি সৌরভ পাল একের পর এক অভিযোগ তুলছেন, সেই ডাফা নিউজ সিএবি-র টি-টোয়েন্টি লিগ বিপিএল বেঙ্গল প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম প্রধান স্পনসর। আইএসএল-এর দল পাঞ্জাব এফসি, হায়দরাবাদ এফসি, তামিলনাড়ু প্রিমিয়ার লিগের নিল্লাই রয়্যাল-এর মতো দলের স্পন্সরের ভূমিকায় দেখা গিয়েছে ডাফা নিউজ’কে। এটিপি টুর্নামেন্ট বেঙ্গালুরু ওপেন-এর প্রধান স্পনসর ডাফা নিউজ। কেরল সুপার লিগের স্পনসরের তালিকায়ও খুঁজলে দেখা যাবে ডাফা নিউজ’কে‌।

বেশ কয়েক বছর ধরেই আই এফ এ’র অভ্যন্তরীণ সমীকরণের অঙ্কে সংস্থার মধ্যে থেকেও বঙ্গ ফুটবলের নিয়ামক সংস্থার বিরোধিতা করছেন মুষ্টিমেয় কয়েকজন। এই বিরোধিতা শুধু আইএফএর-ই ক্ষতি করছে না ক্ষতি করছে বাংলা ফুটবলের। মরা গাঙে কবে শেষ জোয়ার এসেছে তা দেখতে গেলে কয়েক দশকের পঞ্জিকা নিয়ে বসতে হবে। মাঝেমধ্যে ঢেউ উঠলেও তা যথেষ্ট নয়। একটা সময় ভারতীয় ফুটবলের প্রাণকেন্দ্র বাংলা এবং বাংলার ফুটবল এখন অতীতের পুরনো স্মৃতি। বাঙালির ফুটবলকে বাঁচিয়ে তোলার জন্য কম চেষ্টা করছেন না বর্তমান আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত এবং সভাপতি অজিত বন্দোপাধ্যায়। আইএফএ-র মার্কেটিং পার্টনার বা আইএফএ-র কোষাগারে টাকা আসার অন্যতম মাধ্যম শ্রাচি স্পোর্টস’কে বা সেই সংস্থার অন্যতম শীর্ষ আধিকারিক’কে সরাসরি আক্রমণ বাংলা ফুটবলের স্বার্থে গভীর উদ্বেগের। বাংলা ফুটবলের টাকার পাইপলাইন কখনোই মসৃণ ছিল না, বর্তমান সময় তা স্বাভাবিক নিয়মে থাকলেও ক্রমাগত আক্রমণ আবারও সেই পাইপলাইনে টুইস্ট আনতে পারে।

সৌরভ পালের মূল বক্তব্য ও অভিযোগ: বেটিং বিতর্ক: তিনি বেঙ্গল সুপার লিগে ‘ডাফা নিউজ’-এর মতো বেটিং সংস্থার যুক্ত থাকা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন যে এমন একটি সংস্থা কীভাবে একটি ফুটবল লিগ পরিচালনা করতে পারে। ফিক্সিংয়ের ছায়া: তিনি বেঙ্গল সুপার লিগে ফিক্সিংয়ের ছায়া রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এবং এই টুর্নামেন্টের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বাঙালি ফুটবলারদের ভবিষ্যৎ: কলকাতা লীগ ও বাংলা লীগে বাঙালি খেলোয়াড় বাধ্যতামূলক নিয়ম থাকলেও বাইরের রাজ্যের খেলোয়াড়দের দাপট বেশি হওয়ায় তিনি প্রশ্ন করেছেন, বাঙালি ফুটবলাররা কীভাবে উঠে আসবে। সৌরভের দাবি, ‘সব কিছু আমাদের অন্ধকারে রেখে করছেন আইএফএর প্রেসিডেন্ট এবং সচিব!’ আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত সরাসরি এই অভিযোগ উড়িয়ে বলেন, ‘মিটিংয়ে আমরা বারেবারে জানতে চেয়েছিলাম, কারও হাতে এর চেয়েও বড় স্পনসর আছে কি না। তা ছাড়া প্রতিটা পদক্ষেপ করা হয়েছে সবার সামনে। যদি কেউ মিটিংয়ে না আসেন, সেটা তাঁর দায়িত্ব। কলকাতা লিগের পরে ফুটবলাররা খেপ খেলে বেড়াত। সেখানে এত ভালো একটা টুর্নামেন্ট হচ্ছে, এত ফুটবলার খেলার সুযোগ পাচ্ছে, অর্থ পাচ্ছে, সেটাকে আটকানোর প্রবল চেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়।’ আয়োজক শ্রাচী স্পোর্টস চেয়ারম্যান তমাল ঘোষালের বক্তব্য, ‘বেটিং তো আমাদের দেশে আইনত নিষিদ্ধ। ডাফা নিউজ বিএসএলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এখানে তো বেটিং অ্যাপ চালাতে পারবে না। তা ছাড়া ওরা শুধু ফিড নেয় এবং মাঠের ব্র্যান্ডিং করে। এখানে বেটিংয়ের প্রসঙ্গ আসছে কী ভাবে? তা ছাড়া কেরালা সুপার লিগ, সিএবির বেঙ্গল প্রো লিগ এমনকী হকি ইন্ডিয়ার সঙ্গেও ডাফা যুক্ত। তখন তো প্রশ্ন উঠছে না? এ ভাবে বিরোধিতা হলে বাংলার ফুটবলে আর কেউ স্পনসর করতে এগিয়ে আসবে না।’ সৌরভ পাল আইএফএ-র মতো একটি প্রতিষ্ঠানের এমন ঘটনায় যুক্ত থাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং বেটিংয়ের মতো বিষয় থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সৌরভ পাল কলকাতা ফুটবলের স্বচ্ছতা, মানোন্নয়ন এবং স্থানীয় প্রতিভাদের সুযোগ করে দেওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন, বিশেষত নতুন লিগের স্পনসরশিপ ও নিয়মাবলী নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত এই সবকটি অভিযোগকি ভিত্তিহীন ও অনৈতিক বলে দাবি করে বলেন,‘‌‘‌ এরা প্রথম থেকেই একের পর এক বাধার সৃষ্টি করেছেন, বাংলার ফুটবলকে ধ্বংস করতে উঠেপড়ে লেগেছে এই সৌরভ পাল। এর কোনও মন্তব্য কোনও মাধ্যমে প্রকাশ করাই উচিৎ নয় বলে মনে করি। পুরোটাই ভিত্তিহীন’‌’‌।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles