প্রতীকের বাড়ি থেকে বেরিয়েই ফের ছুটলেন মমতা। হাতে সবুজ ফাইল। তার ভিতর গুচ্ছ-গুচ্ছ কাগজ। সেই ফাইল ধরে আছেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাত সকালে আইপ্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈন-এর বাড়িতে তল্লাশিতে আসেন ইডি আধিকারিকরা। দিল্লির একটি আর্থিক প্রতারণা মামলার তল্লাশিতে যে সময় প্রতীকের বাড়িতে গোয়েন্দারা তল্লাশি করছেন, ঠিক সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছলেন সেখানে। তারপর খানিক বাদে বেরিয়ে এলেন। আর কেন্দ্রীয় অমিত শাহ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এরপর তিনি জানিয়ে দিলেন তৃণমূলেরর আইটি অফিসে তিনি পৌঁছছেন। ইডি অভিযানের মাঝেই প্রতীক জৈনের বাড়ি পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে গিয়েছেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা। জানা গিয়েছে, প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এই মুহূর্তে কলকাতা পুলিশের আধিকারিকরা ঘিরে রেখেছেন।

I-PACএর অফিসে ইডি হানা। দিল্লির আর্থিক প্রতারণা মামলায় I PAC এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের অফিস ও লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ইডি হানা। ইতিমধ্যেই প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৭ নম্বর লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা। মনোজ ভর্মা ঢোকার কিছুক্ষণ পরই প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ছবি রাজ্যের নজিরবিহীন। ইডি তল্লাশি অভিযানের মাঝেই পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতীক জৈনের বাড়িতে যখন বিভিন্ন কাগজপত্র খতিয়ে দেখছিলেন আধিকারিকরা, তখনই তল্লাশির মাঝে ঢুকে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে ছবি রাজ্যের নজিরবিহীন। যখন কোথাও কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশি চলছিল, সে সময়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর অকুস্থলে পৌঁছে যাওয়া, এ বঙ্গে আগে কখনও ঘটনি বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এর আগে অবশ্য রাজীব কুমারের বাড়িতে যখন কেন্দ্রীয় এজেন্সি গিয়েছিল তল্লাশি, বাইরে ধরনায় বসতে দেখা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী। মিনিট পনেরো প্রতীক জৈনের বাড়িতে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। খালি হাতে ঢুকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, যখন বেরোলেন হাতে একটা সবুজ ফাইল। সেই ফাইলে ঠিক কী কী রয়েছে? বেরিয়ে এসে বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী। দৃশ্যত তিনি অত্যন্ত বিরক্ত। তিনি বললেন, “প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি আধিকারিকরা। আইটি ইনচার্জের বাড়িতে সব হার্ডডিস্ক সংগ্রহ করতে এসেছিল। সমস্ত প্রার্থীর তালিকা, পার্টির প্ল্যান, স্ট্র্যাটেজি সংগ্রহ করতে এসেছিল। এটাই কি অমিত শাহের কাজ? যে আমার দলের সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করতে এসেছে।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যে দেশকেই রক্ষা করতে পারে না। আমার আইনি অফিসে ইডি হানা।”

সকালে প্রথমে সল্টলেক সেক্টর ফাইভের আইপ্যাকে তল্লাশি চালাচ্ছিল। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থার আরও একটি দল পৌঁছে যায় বেসরকারি ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্য়াকের কর্নধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে। প্রতীক থাকেন ৭ লাউডন স্ট্রিটের আবাসনে। সূত্রের খবর, দিল্লিতে আর্থিক প্রতারণা মামলায় আই-প্যাকের যোগসূত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখতেই তল্লাশি অভিযানে নামে ইডি। ৫ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।আইপ্যাকের অফিসে ইডি হানা। সল্টলেক সেক্টর ফাইফে সকাল থেকেই চলছিল তল্লাশি। এর পাশাপাশি ভোর ৫টায় তৃণমূলের ভোট কুশলী আইপ্যাকের সহ প্রতিষ্ঠাতা ও অন্যতম ডিরেক্টর প্রতীক জৈন-এর বাড়িতে তল্লাশিতে আসেন ইডি আধিকারিকরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুদূর অতীতে এমন ছবি কখন দেখা গিয়েছে তা মনে পড়ে না। এর আগে রাজীব কুমারের সময় মুখ্যমন্ত্রী ধরনায় বসতে দেখা গিয়েছিল। তবে এবার ভোট কুশলী আইপ্যাকের অন্যতম কর্নধার প্রতীকের বাড়িতে তল্লাশি চালাতেই পৌঁছলেন মমতা। প্রতীক জৈনের বাড়িতে যখন তল্লাশি চালায়, তখন শেক্সপিয়ার থানার পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে আবাসনের নীচে কথা কাটাকাটি হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর। পুলিশকে আবাসনের প্রধান গেটের বাইরে যেতে অনুরোধ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। তদন্ত চলাকালীন থার্ড ফ্লোর থেকে নীচে নেমে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে ইডি আধিকারিকরা। এরপর ডিসি সাউথ প্রিয়ব্রত রায় এরপর আসেন। সটান চলে যান আবাসনের উপরে।
আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আইপ্যাকের দফতর এবং ওই সংস্থার দফতর প্রতীকের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চলছে। দুপুর ১২টা নাগাদ তল্লাশি চলার সময়ে হঠাৎই প্রতীকের বাড়িতে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছোনোর মিনিট পাঁচেক আগেই সেখানে পৌঁছোন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাও। সকাল থেকেই প্রতীকের বাড়িতে অভিযান চলছিল। খবর ছড়িয়ে পড়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই। বেলা ১২টা নাগাদ সেখানে পৌঁছন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। তার কয়েক মিনিটের মধ্যে সেখানে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বাড়ির বাইরের দেওয়ালের বাইরের রাস্তায় গাড়ি থেকে নেমে প্রশ্ন করেন, ‘‘বাড়িটা কোথায়?’’ তার পরে গাড়ি থেকে নেমে চলে যান ওই বাড়িতে। প্রতীকের বাড়ি থেকে কয়েক মিনিটেই বেরিয়ে আসেন মমতা। তখন তাঁর হাতে একটি সবুজ ফাইল। বাইরে এসে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘ওরা আমার দলের সমস্ত নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করছিল! আমি সেগুলো নিয়ে এসেছি। ওই জঘন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ! উনি দেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না! আমার দলের নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করাচ্ছেন! আমি প্রতীককে ফোন করেছিলাম। ও আমার দলের ইনচার্জ। ওরা হার্ড ডিস্ক, ফোন সব নিয়ে নিচ্ছিল।’’ মমতা জানান, তিনি এর পরে সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরেও যাবেন। সেই মতো লাউডন স্ট্রিট থেকে তিনি সেখানে রওনা দেন। মুখ্যমন্ত্রী আইপ্যাকের সেক্টর ফাইভের দফতরে পৌঁছোনোর আগেই সেখানে চলে যান বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী। তিনি জানান, ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ প্রচার করতেই সেখানে গিয়েছেন তিনি। ইডি অভিযান প্রসঙ্গে কৃষ্ণা বলেন, “রাজ্য সরকারকে হেনস্থা করতেই এই প্রচেষ্টা। ইতিমধ্যেই আইপ্যাকের দফতরের বাইরে পুলিশি নিরাপত্তা আঁটসাঁট করা হয়েছে। সেখানে পৌঁছেছেন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারও। বাইরে স্লোগান দিচ্ছেন তৃণমূলকর্মীরা। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে এই লাউডন স্ট্রিটে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাংলোয় হানা দিয়েছিল সিবিআই। তখনও সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন মমতা। ওই ঘটনার প্রতিবাদে তিনি ধর্মতলায় ধর্নাও শুরু করেছিলেন। ঘটনাচক্রে, তার পরে আবার একটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা হানা দিল মমতার সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থার কর্ণধারের বাড়িতে। তখনও তিনি সেখানে সশরীরের উপস্থিত হলেন!
এই ঘটনা প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এর আগেও সাংবিধানিক সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং তদন্তে বাধা দিয়েছেন। ২০২১ সালে তিনি ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্রের গ্রেফতারির বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের নিজাম প্যালেসের দফতরে ধর্না দিয়েছিলেন। এর আগে রাজীব কুমারের বাড়িতে যখন সিবিআই তল্লাশি চালিয়েছিল, তখনও তিনি পুলিশ কমিশনারকে নিয়ে ধর্না দিয়েছিলেন।” এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে জানান তিনি। আইপ্যাকের কাছে কেন তৃণমূলের নথিপত্র থাকবে, সেই প্রশ্নও তোলেন শুভেন্দু। বিরোধী দলনেতার দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে অভিযান হলে ১০০ কোটি টাকা বেরোবে!




