বিশ্বকাপের আসর। আরও অনেক টুর্নামেন্ট। টিম ইন্ডিয়ার। ২০২৬ সালে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সবচেয়ে বড় ইভেন্ট হতে চলেছে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। শুধু বিশ্বকাপের আসর না, আরও অনেকগুলো টুর্নামেন্ট রয়েছে আগামী বছর টিম ইন্ডিয়ার। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ দিয়ে ২০২৬ সাল শুরু করতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট। নিজেদের দেশের মাটিতে কিউয়িদের বিরুদ্ধে তিনটি ওয়ান ডে ও পাঁচটি টি টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজ দিয়ে আগামী বছর শুরু করতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। ১১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই সিরিজ। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এটিই শেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হতে চলেছে টিম ইন্ডিয়ার। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর বসবে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত চলবে এই মেগা টুর্নামেন্ট। সূর্যকুমার যাদবের অধিনায়কত্বে এই টুর্নামেন্টে খেলতে নামবে ভারত।
আইপিএলের পর আফগানিস্থানের বিরুদ্ধে একটি টেস্ট ও তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজের আয়োজন করবে ভারত। ইংল্যান্ড উড়ে যাবে দল সাদা বলের ফর্ম্যাটে সিরিজ খেলতে। সেখানে পাঁচটি টি টোয়েন্টি ও তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজ খেলবে দুই দল। আগস্টে শ্রীলঙ্কার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলবে ভারত। সেখানে ২ ম্যাচের সিরিজ খেলবে শুভমন গিলের দল। আফগানিস্থানের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে ভারত। যদিও দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলেছে এশিয়ান গেমস। গতবার রুতুরাজ গায়কোয়াডের অধিনায়কত্বে খেতাব জিতেছিল ভারত৷ সাধারণত বিসিসিআই এই টুর্নামেন্টে ভারতের দ্বিতীয় সারির দলকে পাঠায়। অক্টোবরের শেষের দিকে ভারতীয় দল নিউজিল্যান্ড সফরে উড়ে যাবে। সেখানে দুটো টেস্ট ও তিনটি ওয়ান ডে ম্যাচ খেলার কথা গিলের দলের। বছরের শেষ সিরিজটি ভারত খেলবে নিজেদের ঘরের মাঠে। তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজ ও তিন ম্যাচের টি টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে টিম ইন্ডিয়া শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। চলতি বছরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে এই বছরের ক্রিকেট সফর শেষ করেছে ভারতীয় দল। ওয়ান ও টি টোয়েন্টি দুটো সিরিজেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে টিন ইন্ডিয়া।
২০২৫ সালটা ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য অদ্ভুত একটা বছর। এই বছরেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও এশিয়া কাপ জিতেছে। আবার এই বছরেই দলের দুই তারকা ক্রিকেটার আচমকাই টেস্ট ফর্ম্য়াট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। যার জন্য দলের অন্দরে কোচ গৌতম গম্ভীর ও নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকরের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট প্রেমীরা। কিন্তু কেন গম্ভীর ও আগরকর এভাবে বিদ্বেষের কারণ হলেন? কোচ হয়ে আসার পর ভারতীয় ক্রিকেটে একটা আমূল পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন গৌতম গম্ভীর। তিনি চেয়েছিলেন ভারতীয় দলে কোনও সুপারস্টার সংস্কৃতি থাকবে না। বিশেষ করে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মার মত তারকাদের বেশি করে আলোচনার আসা। তাঁদের নিয়েই সব জায়গায় চর্চা এমনটা চাননি গম্ভীর। তিনি চেয়েছিলেন যে টিম হিসেবে মাঠে নামবে ভারতীয় দল। যেখানে জিতলেও যেন তার কৃতিত্ব সবার থাকে, তেমনই হারলেও তার দায় সবাইকেই নিতে হবে। গত বছর বর্ডার-গাওস্কর ট্রফি হারতে হয়েছিল ভারতকে। সেই সিরিজেই রোহিত শর্মাকে একটি টেস্টে বসিয়েও দেওয়া হয়েছিল। সেই থেকেই মূলত ছন্দপতন। এরপর ইংল্য়ান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের আগে আচমকাই প্রথমে রোহিত ও পরে বিরাট টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ান। শুভমন গিলকে অধিনায়ক নির্বাচিত করা হয়। গম্ভীর আশাবাদী ছিলেন যে গিলের নেতৃত্বে তরুণ ভারতীয় দলই চমক দেখাবে ইংল্যান্ডে গিয়ে। কিন্তু তেমনটা হয়নি। ব্যাটিং কোলাপস দেখা গিয়েছে সিরিজে। এমনকী সিরিজ ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ভারতকে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজের আগে রোহিত শর্মাকে আচমকাই পঞ্চাশ ওভারের ফর্ম্য়াটে নেতৃত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। শুভমন গিলকে ওয়ান ডে ফর্ম্য়াটেও নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু বছরের শেষে এসে সবচেয়ে বড় চমক অপেক্ষা করছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ঘােষিত ভারতীয় দলে। বাকি দুটো ফর্ম্য়াটে দেশের নেতৃত্বভার সামলানো গিলকে এই ফর্ম্য়াটে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকেই বাদ করে দেওয়া হয়েছে।





