Saturday, June 27, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

জগন্নাথ মন্দিরের মাথায় ‘ধ্বজাদান’ সম্ভব ভক্তদের!‌ দিঘার জগন্নাথধামে দর্শনার্থীর সংখ্যা ১ কোটির মাইলফলক স্পর্শ?

‌২০২৫ সাল শেষ হওয়ার আগেই ১ কোটির মাইলফলক স্পর্শ? আট মাসে ১ কোটির রেকর্ড ছুঁতে চলেছে দিঘার জগন্নাথধাম। ২০২৫ সাল শেষ হওয়ার আগেই দর্শনার্থীর সংখ্যা ১ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করবে। তার মধ্যেই পুরীর আদলে ভক্তদের জন্য ‘ধ্বজাসেবা’ শুরু করলেন দিঘার জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ। পুরীর মন্দিরের মাথায় ধ্বজা দান করেন ভক্তেরা। বিশেষ বিশেষ দিনে কোন ভক্তের দেওয়া ধ্বজা মন্দিরের চূড়ায় উড়বে, তার নিলামও হয়। দিঘায় এখনই সেই নিলাম শুরু না-হলেও ধ্বজা সেবার বন্দোবস্ত করেছেন কর্তৃপক্ষ। বিশেষ একটি নম্বরে ফোন করে ধ্বজা ওড়ানোর দিন অগ্রিম ‘বুক’ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট নম্বরে ফোন করেই দিনমাহাত্ম্যে ধ্বজার মূল্যের বিষয়ে বিশদে জানা যাবে। দিঘা জগন্নাথধাম ট্রাস্টের অন্যতম পুরোধা তথা ইসকন কলকাতার মুখপাত্র রাধারমণ দাসের কথায়, ‘‘পুরীর মতোই এ বার দিঘার মন্দিরেও ধ্বজা দান করতে পারবেন ভক্তেরা।’’ প্রত্যহ বিকাল ৪টে নাগাদ মন্দিরের সেবায়েতরা ধ্বজা বাঁধেন মন্দিরের চূড়ায়। পুরীর মন্দিরেও রোজ একই সময়ে ধ্বজা উত্তোলন হয়। রাধারমণ জানিয়েছেন, পুরীর মতোই দিঘার মন্দিরের চূড়াতেও ধ্বজা ওড়ানো দেখতে ক্রমশ ভিড় বাড়ছে। উল্লেখ্য, পুরীর মন্দিরে ধ্বজা ওড়ানো একটি দ্রষ্টব্য বিষয়। পালা করে সেবায়েতরা সামনের দিকে মুখ করে মন্দিরের কাঠামোয় পিছন দিয়ে হাতের উপর ভর দিয়ে মন্দিরের চূড়ায় ওঠেন। তার পরে ধ্বজা বাঁধা হয় মন্দিরের চূড়ায়। দিঘার জগন্নাথধামে ইতিমধ্যেই সকাল, মধ্যাহ্ন ও সন্ধ্যায় ভক্তদের জন্য আট রকম মহাপ্রসাদ বিতরণ করছেন কর্তৃপক্ষ। তালিকায় রয়েছে খিচুড়ি ভোগ, মিষ্টি মহাপ্রসাদ, প্যাঁড়া মহাপ্রসাদ, লুচি-সব্জি মহাপ্রসাদ (প্রাতরাশ), মহাপ্রসাদ (মধ্যাহ্নভোজ), বিশেষ মহাপ্রসাদ (মধ্যাহ্নভোজ), সন্ধ্যার মহাপ্রসাদ, সন্ধ্যার বিশেষ মহাপ্রসাদ। সেই মহাপ্রসাদ পাওয়ার জন্যও একটি নির্দিষ্ট ফোন নম্বরে ফোন করে ‘বুক’ করতে হবে। প্রাতরাশের ‘বুকিং’ করতে হবে তার আগের দিন। মধ্যাহ্নভোজের জন্য ‘বুকিং’-এর সময় আগের দিন থেকে সংশ্লিষ্ট দিনে সকাল ১০টা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যার মহাপ্রসাদের ‘বুকিং’ করতে হবে সংশ্লিষ্ট দিন সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে। এক একটি প্রসাদের মূল্য এক এক রকম। রাধারমণ জানাচ্ছেন, ভক্তেরা যাতে সামর্থ্যের মধ্যে প্রসাদ গ্রহণ করতে পারেন, সেইদিনে লক্ষ্য রেখেই প্রসাদের মূল্য ধার্য করা হয়েছে। ৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে মিলবে মহাপ্রসাদের ডালি। দিঘার জগন্নাথধামের প্রসাদ রাজ্যের সমস্ত বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল রাজ্য সরকার। গত মে মাসে রেশন দোকানের মাধ্যমে শুকনো প্যাঁড়া পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। এ বার মন্দিরেও ভোগের জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আট রকম বন্দোবস্ত করা হল। সৈকতশহরের জগন্নাথধামের পোশাকি নাম ‘জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’। বর্ষশেষে সেখানে শুরু হয়েছে ওড়িয়া নৃত্যের অনুষ্ঠান। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ওই অনুষ্ঠান চলবে সোমবার পর্যন্ত। বছরের শুরুতেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে মন্দিরপ্রাঙ্গণে।

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে নির্মিত দিঘার জগন্নাথ ধাম তথা সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধনের আট মাস এখনও কাটেনি। তার মধ্যে নিজস্ব মাইলফলক তৈরি করতে চলেছে এই মন্দির। কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে দর্শনার্থী তথা পুণ্যার্থীর সংখ্যা ৯৫ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। যে সংখ্যক দর্শনার্থী প্রতি দিন জগন্নাথদর্শনে আসছেন, তাতে ডিসেম্বরে কোটির গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। এক বছর আগেও পূর্ব মেদিনীপুরের সমুদ্র উপকূল ছিল শুধুই পর্যটনকেন্দ্র। তবে প্রসিদ্ধ এবং পরিচিত। তার বড় কারণ, সপ্তাহান্তে ঝটিকা সফরের জন্য অন্যতম আদর্শ স্থান। সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দেখা, সমুদ্রস্নান, ইলিশ-কাঁকড়ার বিবিধ পদ দিয়ে ভোজন, সমুদ্রের জলে পা ভিজিয়ে সৈকতে হাঁটাহাঁটি— নিরুপদ্রব এবং নিখাদ ছুটি কাটানো যায়। অক্ষয়তৃতীয়ার দিন থেকে দিঘার সমুদ্রের ‘টানের’ সঙ্গে জুড়েছে মন্দিরের আকর্ষণ। সমুদ্র এবং দেবদর্শন একই সঙ্গে। ‘ফুল প্যাকেজ’ এবং ‘বাজেট ফ্রেন্ডলি।’ স্থানীয় বাসিন্দা থেকে ছোট-বড় ব্যবসায়ী, টোটোচালক থেকে হোটেল কর্তৃপক্ষ, সকলেই একযোগে স্বীকার করে নিচ্ছেন, গত আট মাসে লক্ষণীয় ভাবে ভিড় বেড়েছে দিঘায়। আরও উপার্জনের পথ খুলেছে। একই কথা বলছেন দিঘা জগন্নাথ ধাম ও কালচারাল সেন্টার ট্রাস্টের সদস্য তথা কলকাতা ইসকনের প্রতিনিধি রাধারমণ দাস। তাঁর কথায়, ‘‘মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই ভক্তদের ভিড় ছিল। সেই ধারাবাহিকতাই বজায় আছে। বিশেষ করে ছুটির দিন এবং পুজোর দিনগুলোয় দর্শনার্থীদের ঢল নামে। গোটা ডিসেম্বর জুড়ে পর্যটকদের যে ভিড় দেখা যাচ্ছে, তাতে আমরা নিশ্চিত দ্রুত এক কোটির মাইলফলক (পদার্পণের) ছোঁয়া যাবে।’’ জগন্নাথ ধামে ভিড় কেমন হচ্ছে, তার একটি আভাস পাওয়া যাচ্ছে মন্দিরের দানপাত্র থেকেও। তিন-চার দিন পর গত সোমবার মন্দিরের দানপাত্র খুলেছিলেন কর্তৃপক্ষ। প্রণামীর পরিমাণ ৭ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা। প্রণামী ছাড়াও মন্দির কর্তৃপক্ষের আয়ের আরও একটি উৎস ভোগ। জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলরামের দর্শন সেরে চাইলে ভোগ খেতে পারেন দর্শনার্থীরা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চার বেলা ভোগের ব্যবস্থা রয়েছে। খিচুড়ি ভোগ খেলে থালা প্রতি মূল্য ১০০ টাকা। এ ছাড়া ‘মিষ্টি মহাপ্রসাদ’ ৫০ টাকা, ‘পেঁড়া মহাপ্রসাদ’ ১০০ টাকা, ‘পুরিভাজি মহাপ্রসাদ’ ৫০ টাকা, দুপুরের ‘মহাপ্রসাদ’ ১০০ টাকা এবং দুপুরের ‘স্পেশ্যাল মহাপ্রসাদ’-এর দাম ১৫০ টাকা। সন্ধ্যার ‘মহাপ্রসাদ’ মেলে ১০০ টাকায়। এখন প্রতি দিন গড়ে ৫০০ থেকে ৫৫০টি ‘থালি’ তৈরি হয়। প্রসাদ পেতে হলে নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বরে আগাম বুকিং করা বাধ্যতামূলক। সকাল এবং দুপুরের প্রসাদের জন্য আগের দিন সন্ধ্যা থেকে ওই দিন সকাল ১০টার মধ্যে এবং রাতের প্রসাদের জন্য সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে বরাত দিতে হয়। অল্প টাকায় দিঘার হোটেলে বসেও প্রসাদ পেয়ে যেতে পারেন। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, ধামে এক হাজার মানুষের বসে খাওয়ার ব্যবস্থা ছিল। সম্প্রতি হিডকোর চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য মন্দির পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। তিনি ওই আসনসংখ্যা বাড়িয়ে দু’হাজার করতে বলেছেন। পরিকাঠামো তৈরির কাজ চলছে। জগন্নাথ ধাম খোলার আট মাসের মধ্যে দর্শনার্থীর সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে যেতে কোনও সমস্যাই হবে না বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ।

নতুন ক্যালেন্ডার ঝুলবে আর দিন কয়েক পর। বছরশেষে উৎসবে মেতেছে সকলে। এই ছুটির মরসুমে পর্যটকদের ঢেউ আছড়ে পড়ছে দিঘায়। বড়দিন থেকেই হোটেলগুলোয় ভিড় বাড়ছিল। কার্যত মানুষের ঢল নেমেছে দিঘায়। আগাম হোটেল বুকিংয়ের জেরে এখন তিলধারণের জায়গা নেই ওল্ড ও নিউ দিঘার হোটেলগুলিতে। হোটেলমালিকদের একাংশ বলছেন, এ বার নতুন রেকর্ড গড়বে পূর্ব মেদিনীপুরের এই সৈকতশহর। দিঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চট্টোপাধ্যায় জানান, ২৬ ডিসেম্বর থেকে আগামী ১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রত্যেকটি হোটেলের বুকিং হয়ে গিয়েছে। যে কয়েকটি ঘর বাকি আছে, তা পাওয়ার জন্য কার্যত প্রতিযোগিতা করছেন পর্যটকেরা। তবে সকলেই পরিষেবা পাবেন বলে মনে করছেন তিনি। বিপ্রদাসের কথায়, ‘‘পর্যটকদের সুবিধার্থে এখন ওল্ড ও নিউ দিঘা মিলিয়ে প্রায় ৮০০টি হোটেল পরিষেবা দিচ্ছে। গত কয়েক বছরে বেশ কিছু ঝাঁ-চকচকে আধুনিক হোটেল তৈরি হয়েছে, যেখানে আধুনিক মানের পরিষেবা কয়েক গুণ বেড়েছে। ফলে ভিড় বাড়লেও পর্যটকদের ঘর পেতে আগের মতো কালঘাম ছুটবে না।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘শুক্রবার সকাল থেকেই বাস এবং প্রাইভেট গাড়ির লম্বা সারি দেখা গিয়েছে দিঘার রাস্তায়। তা ছাড়া ট্রেনেও প্রচুর মানুষ এসেছেন।’’ বর্ষবরণের আগে দিঘায় বরাবরই ভিড় হয়। এ বারও তার অন্যথা হয়নি। তবে ভিড় বাড়ার আরও কিছু কারণ আছে বলে মনে করছেন হোটেলমালিক থেকে স্থানীয় দোকানিরা। হোটেল মালিকেরা জানাচ্ছেন, বর্ষবরণ উপলক্ষে এ বার নানা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। সেগুলোর আকর্ষণ আছে। তার উপর গত আট মাসে দিঘার আকর্ষণের আরও একটি কারণ হল জগন্নাথ ধাম। দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ ডিএসডিএ এবং হোটেল মালিক সংগঠনের তরফে এ বার দিঘায় ‘বিচ ফেস্টিভ্যাল’-এর আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ চমক থাকবে ৩১ ডিসেম্বরের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে। ওই দিন রাতে ‘অলিম্পিকের কায়দায়’ আধ ঘণ্টার একটি বিশাল বাজি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। অভিনবত্ব আনতে সমুদ্রের বুকে একটি ভাসমান জেটি থেকে এই পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন বাজি’র প্রদর্শনী হবে। এ ছাড়াও বড়দিন থেকেই আলোকমালায় সেজে উঠেছে সৈকতশহর। ওল্ড এবং নিউ দিঘার হোটেলের পাশাপাশি রঙিন আলোয় মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে নবনির্মিত জগন্নাথ ধাম চত্বর ও সংলগ্ন রাস্তাঘাট। উপচে পড়া ভিড় সামলাতে প্রশাসনও কোমর বেঁধে নেমেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুনকুমার দে বলেন, ‘‘পর্যটকদের সুরক্ষায় দিঘা জুড়ে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। পর্যটনকেন্দ্রকে যানজটমুক্ত রাখতে বাস এবং বড় গাড়িগুলিকে ওল্ড দিঘার বদলে বাইপাস দিয়ে নিউ দিঘার দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাতটি পৃথক পার্কিং জ়োন নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কোনও সমস্যা না হয়।’’ দিঘার এই নতুন রূপ উপভোগ করতে পর্যটক-জোয়ার বছরের শেষ দিন পর্যন্ত বজায় থাকবে বলে নিশ্চিত ব্যবসায়ী মহল। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে যাতে পর্যটকদের ‘ঠকানো’ না হয় সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। বিপ্রদাস বলেন, “দিঘার কোনও হোটেল যাতে বাড়তি ভাড়া না নেয়, সে দিকে বিশেষ ভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য হোটেলের ভাড়া সংবলিত পুস্তিকাও প্রকাশিত হয়েছে। কোনও হোটেল পর্যটকদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নিলে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য দিঘার বদনাম হবে, এটা আমরা কিছুতেই হতে দেব না।’’ ওই দিকে নজর রাখছে প্রশাসনও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles