RK NEWZ প্রশান্ত খুনের ঘটনার তদন্তভার ইতিমধ্যেই সিআইডির হাতে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশের পর ২১ তারিখ সিআইডি তদন্ত শুরু করে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এফআইআরে নাম রয়েছে আরও ৪১ জনের। হাওড়ার বাগনানে নিহত বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে-র পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারকে ক্ষতিপূরণের ঘোষণার পাশাপাশি ‘সুবিচারের’ আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এফআইআরে নাম আছে ৫১ জনের। বাকি ৪১ জন অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেফতারির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘দরকারে পাতাল খুঁড়েও অভিযুক্তদের ধরতে হবে।’’ প্রশান্ত খুনের ঘটনার তদন্তভার ইতিমধ্যেই সিআইডির হাতে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নির্দেশের পর ২১ তারিখ সিআইডি তদন্ত শুরু করে। শনিবার বিকেলে বাগনানে প্রশান্তের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু। নিহতের ছবিতে মাল্যদানও করেন তিনি। সেখান থেকে বাগনান থানায় গিয়ে পুলিশ আধিকারিক এবং সিআইডি কর্তাদের সঙ্গে এই মামলা নিয়ে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারির উপর জোর দেন। শুভেন্দু বুঝিয়ে দেন, প্রশান্তের মামলায় কাউকে রেয়াত করা হবে না। প্রয়োজনে পাতাল খুঁড়ে অভিযুক্তদের খুঁজে বার করতে হবে তদন্তকারীদের। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘অত্যন্ত নিষ্ঠুর ভাবে প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে কয়েক জনকে আঘাত করা হয়েছিল। এখনও কয়েক জন কলকাতার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অস্ত্রোপচার হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিশেষ নজরদারিতে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। প্রশান্তকে বাঁচানো যায়নি। আমি প্রথম দিন থেকেই বিষয়টা নজর রেখেছিলাম।’’ হাওড়ার জেলাশাসকের দফতরের তরফে ইতিমধ্যেই পরিবারকে চার লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা জানান শুভেন্দু। একই সঙ্গে তাঁর বড় কন্যাকে বিডিও অফিসে চুক্তিভিত্তিক কাজও দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘অর্থ দিয়ে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না। কিন্তু একমাত্র উপার্জনকারী না-থাকলে সেই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য। বড় মেয়েকে নিয়ম মেনে বিডিও অফিসে একটা চাকরি দিলাম। ভবিষ্যতে আমরা দেখব।’’ প্রশান্তের বাবা-মা যাতে বার্ধক্য ভাতা পান, সে ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি জানান, প্রত্যেক অভিযুক্ত যাতে ধরা পড়েন এবং আইন মেনে শাস্তি হয় তা দেখার দায়িত্বও তাঁর। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘আমি পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি, ধৃতেরা হেফাজতে থাকার মধ্যেই চার্জশিট দিতে হবে। চার্জশিট পেশের পর বিশেষ সরকারি আইনজীবীও নিযুক্ত করে দেব।’’ তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছিল প্রশান্তের। জানা যায়, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই এলাকাছাড়া ছিলেন বাগনানের আন্টিলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ মফিজুল ইসলাম। গত ১৮ জুন তিনি ফিরলে তাঁর বাড়ির সামনে বেশ কয়েক জন বিজেপি কর্মী জড়ো হন। উপপ্রধানের বাড়ি ঘেরাও করা হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক মিনিটের মধ্যেই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, মফিজুল এবং তাঁর দলবদল বিজেপি কর্মীদের উপর চড়াও হন। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি চলে। সেই ঘটনায় গুরুতর জখম হন কয়েক জন। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে প্রশান্তকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
তৃণমূলের জমানায় রাজ্যজুড়ে লুটপাট ও দুর্নীতির অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি ছোট-বড় বহু তৃণমূল নেতা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের রাতারাতি বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠার অভিযোগও উঠেছে। তল্লাশিতে তদন্তকারী সংস্থা ও পুলিশের হাতে উদ্ধার হয়েছে চোখ ধাঁধানো সুবিশাল বাড়ি, বিপুল ব্যাঙ্ক আমানত, আলমারি ও লকারভর্তি সোনাদানা-সহ নানা মূল্যবান সম্পদ। এই আবহেই সোমবার বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’, যা সংক্ষেপে ‘গুন্ডাদমন বিল’ নামে পরিচিত। বিধানসভা সূত্রের খবর, বিলটি আইনে পরিণত হলে অপরাধ ও অসামাজিক কার্যকলাপের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ব্যবস্থাও কার্যকর করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তবে এই আইন কবে থেকে কার্যকর হবে এবং এর প্রয়োগের সময়সীমা কী হবে, সেদিকেও নজর রয়েছে আইনজ্ঞদের। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই কীভাবে তৃণমূল নেতারা বেআইনিভাবে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন, তা নিয়ে বারবার প্রকাশ্যে তোপ দাগছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘‘কাউকে ছাড়া হবে না’’ বলেও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। শুধু কথা নয়, তা বাস্তবায়িত করতে কড়া আইন আনছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার বিধানসভায় এই বিল পাস করিয়ে লুটের সম্পত্তি উদ্ধার করাও সরকারের লক্ষ্য বলে জানা গিয়েছে। বিলের খসড়ায় বলা হয়েছে, কমিশন চাইলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণের চেয়েও দ্বিগুণ ‘দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ’ বা জরিমানা চাপাতে পারে। এখানেই শেষ নয়, বর্তমানে যে আইন রয়েছে তা অন্তত এই বাংলায় আইনের শাসন কায়েম করে রাখার পক্ষে যথেষ্ট নয়। বিলে পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থাকে বিপুল ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কারণ তৃণমূল জমানায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ, গুন্ডামি যে চরম মাত্রায় পৌঁছেছিল তা ঠাণ্ডা করতে বাড়তি দাওয়াই দরকার। প্রস্তাবিত নতুন বিল হল সেই দাওয়াই। বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে বা মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারে, এমন সব কাজই সমাজবিরোধী কাজের সংজ্ঞার মধ্যে আনা যাবে। এর মধ্যে রাখা হয়েছে-শৃঙ্খলা নষ্ট করা, মানুষের জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করা, আইনসম্মত ব্যবসা-বাণিজ্য বা পেশায় বাধা দেওয়া, বেআইনি ভাবে কারও স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দখল করা, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করা, খনি, বালি, পাথর বা প্রাকৃতিক সম্পদ বেআইনি ভাবে উত্তোলন করা, বন্যপ্রাণী বা বনজ সম্পদের ক্ষতি করা। অর্থাৎ, শুধু রাজনৈতিক হিংসা নয়, তোলাবাজি, জমি দখল, সিন্ডিকেট, বেআইনি খনি বা বালি কারবার, সম্পত্তি ভাঙচুর, ব্যবসায় বাধা—সবকিছুকেই এই আইনের আওতায় আনার রাস্তা খুলে রাখা হয়েছে। ‘গুন্ডা’ শব্দটিরও আলাদা সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সেখানে খসড়ায় লেখা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি নিজে, অথবা কোনও দল, গ্যাং বা সিন্ডিকেটের সদস্য বা নেতা হিসেবে অভ্যাসগতভাবে সমাজবিরোধী কাজ করলে তাকে ‘গুন্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে। যে কেউ অস্ত্র আইন, মাদক আইন, অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইন, বিস্ফোরক আইন বা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট গুরুতর ধারায় অপরাধ করলে, অথবা এই ধরনের অপরাধে যুক্ত থাকার চেষ্টা করলে, তাকে এই আইনের অধীনে আনা যাবে। এর ফলে শুধু অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর নয়, অপরাধের সম্ভাবনা বা পুনরাবৃত্তি রোখার জন্যও পুলিশ ও প্রশাসন আগাম ব্যবস্থা নিতে পারবে। এই আইনটিকে ‘কালা কানুন’ বলেই মনে করছে বিরোধীরা। বিরোধীদের সরকার বিরোধী আন্দোলনকে দমন করতেই এই আইন বলে মনে করা হচ্ছে।
মহরমের মিছিলে দেখা গেল না অস্ত্র, শুভেন্দু বললেন, ‘লাইনে আনার দায়িত্বটা আমাদের’। বাংলার মসনদে বিজেপি সরকার। ইদের মতোই মহরমের আগেও বৈঠক ডেকে একাধিক কড়া বিধি নিষেধ জারি করা হয়। তার জেরেই এবার মহরমে অস্ত্র হাতে দেখা যায়নি। এমনকী ডিজের দাপটও ছিল অনেক কম। বদলের বাংলায় এহেন ছবি সামনে আসতেই পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে যারা মহরমের মিছিল করেছেন তাঁদেরও ধন্যবাদ জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”শাসকের আইন নয়, এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে।” বাগনানে নিহত দলীয় কর্মী প্রশান্ত দে-র বাড়ি যান শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘটনার পাশাপাশি মহরমে এবার যে ছবি দেখা গিয়েছে, তা নিয়ে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ”এতদিন শাসকের আইন ছিল। কিন্তু এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে।” তাঁর কথায়, ”গত বছর মহরমের মিছিলে অস্ত্র ছিল। এই বছর গোটা রাজ্যে অস্ত্র দেখেননি। এজন্য পুলিশকেও ধন্যবাদ দেব, যারা মহরম করেছেন তাঁদেরকেও ধন্যবাদ দেব। এঁদেরকে লাইনে আনার দায়িত্বটা আমাদের।” কার্যত এই বিষয়ে পূর্বতন সরকারকে কার্যত একহাত নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”এতদিন এঁদেরকে বলা হতো যা খুশি করতে। এখন পুলিশ সরকারের পক্ষ থেকে বলছে, যা করবেন আইন মেনে করবেন। তাই সবাই মানছে। আর সবাই আইন মেনে নিলে আমাদের কোনও সমস্যা নেই।” শুক্রবার কলকাতা-সহ সারা রাজ্যে পালিত হয় মহরম। এবার আগে থেকে সতর্ক ছিল পুলিশ প্রশাসন। দফায় দফায় বৈঠক করে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, মহরমের দিন কোনও ধরনের অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। শোভাযাত্রায় ডিজে বাজানোর উপরেও জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা। তাজিয়ার উচ্চতাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয় পুলিশের তরফে। শুধু তাই নয়, সম্প্রীতি যাতে বজায় থাকে, সেদিকেও নজর রাখার কথা বলা হয়। সেই মতো শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যেই কড়া পুলিশের নজরদারি ছিল।




