বাংলার হার। বিজয় হজারের প্রথম ম্যাচে বিদর্ভের বিরুদ্ধে ৩৮৩ রান তাড়া করে জিতলেও দ্বিতীয় ম্যাচে বরোদার বিরুদ্ধে লজ্জার হার হয়েছে বাংলার। রাজকোটের মাঠে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩৮.৩ ওভারে ২০৫ রান অল আউট হয়ে যায় বাংলা। ব্যাটারদের মধ্যে অভিষেক পোড়েল ৩৮, অনুষ্টুপ মজুমদার ৪৭ ও কর্ণ লাল ৪০ রান করেন। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ ৫ রানে আউট হন। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়ায় জুটি গড়তে পারেনি বাংলা। বরোদার হয়ে রাজ লিম্বানি ৫ উইকেট নেন। অধিনায়ক ক্রুণাল পাণ্ড্য নিয়েছেন ৩ উইকেট। ব্যাটিং ব্যর্থতার খেসারত দিতে হয় বাংলাকে। ৩৮.৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে রান তাড়া করে নেয় বরোদা। শাশ্বত রাওয়াত ৬১, প্রিয়াংশু মোলিয়া ৫২ ও ক্রুণাল ৫৭ রান করেন। ব্যাটে-বলে জয়ের নায়ক অধিনায়ক ক্রুণাল। মহম্মদ সামি ৯ ওভারে ৪২ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন।
অর্ধশতরান করেছিলেন। এ বার করলেন শতরান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে ছন্দে রিঙ্কু সিং। উত্তরপ্রদেশের হয়ে শতরান করেছেন তিনি। কেকেআরের আর এক ক্রিকেটার অঙ্গকৃশ রঘুবংশী খেলার মাঝে চোট পাওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে। আরও একটি শতরান করে নজির গড়েছেন বিদর্ভের ধ্রুপ শোরে। আগের ম্যাচ জিতলেও বরোদার কাছে লজ্জার হার হয়েছে বাংলার। বিজয় হজারের প্রথম ম্যাচে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ৪৮ বলে ৬৭ রান করেছিলেন উত্তরপ্রদেশের অধিনায়ক রিঙ্কু। ছ’টি চার ও দু’টি ছক্কা মেরেছিলেন তিনি। ১৩৯.৫৮ স্ট্রাইক রেটে রান করেছিলেন কেকেআরের ব্যাটার। সেই ম্যাচে বেশি বল খেলার সুযোগ পাননি রিঙ্কু। চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধে সেই সুযোগ পেলেন। তাকে কাজেও লাগালেন রিঙ্কু। প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাট করছিলেন তিনি। ৬০ বলে ১০৬ রান করে অপরাজিত থাকেন রিঙ্কু। ১১টি চার ও চারটি ছক্কা মারেন তিনি। আগের ম্যাচের থেকে বেশি স্ট্রাইক রেটে (১৭৬.৬৭) রান করেন তিনি। তাঁর ব্যাটে ভর করে ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৬৭ রান করেছে উত্তরপ্রদেশ। ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে জায়গা পেয়েছেন রিঙ্কু। ফিনিশার হিসাবে ভাবা হচ্ছে তাঁকে। যা পরিস্থিতি, তাতে প্রথম একাদশেও জায়গা হতে পারে। ভারতীয় দলের অনেক দিন খেলেননি কেকেআরের ব্যাটার। ফলে বিশ্বকাপের আগে এই প্রস্তুতি দরকার ছিল রিঙ্কুর।
উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে ফিল্ডিং করার সময় চোট পেয়েছেন মুম্বইয়ের অঙ্গকৃশ রঘুবংশী। আইপিএলে কেকেআরের হয়ে খেলেন তিনি। ব্যাট হাতে মাত্র ১১ রান করেন। পরে ফিল্ডিংয়ের সময় একটি কঠিন ক্যাচ ধরার চেষ্টা করেন রঘুবংশী। ডাইভ দেওয়ার পর কাঁধে লাগে। যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন তিনি। রঘুবংশীকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যেতে হয়। সঙ্গে সঙ্গে জয়পুরের একটি হাসপাতালে সিটি স্ক্যানের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। রঘুবংশীর চোট কেমন রয়েছে সে বিষয়ে অবশ্য মুম্বই এখনও কিছু জানায়নি। ভারতের হয়ে লিস্ট এ ক্রিকেটে নজির গড়েছেন ধ্রুব শোরে। হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ৭৭ বলে ১০৯ রান করেছেন বিদর্ভের ব্যাটার। ন’টি চার ও ছ’টি ছক্কা মারেন তিনি। তাঁর ব্যাটে ভর করে ৫ উইকেটে ৩৬৫ রান করে বিদর্ভ। লিস্ট এ ক্রিকেটে নিজের অষ্টম শতরান করলেন ধ্রুব। তার মধ্যে শেষে পাঁচ ম্যাচে পাঁচটি শতরান করেছেন তিনি। লিস্ট এ ক্রিকেটে টানা শতরানের নিরিখে নারায়ণ জগদীশনকে ছুঁয়েছেন তিনি। ২০২২-২৩ বিজয় হাজারে ট্রফিতে জগদীশনও টানা পাঁচটি শতরান করেন। বিজয় হজারে ট্রফিতে আর দেখা যাবে না বৈভব সূর্যবংশীকে। তার এ বারের প্রতিযোগিতা এক ম্যাচেই শেষ হয়ে গেল। শুরুর সেই ম্যাচে ৮৪ বলে ১৯০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিল বৈভব। কিন্তু তার পর কেন আর ভারতের ঘরোয়া এক দিনের প্রতিযোগিতা খেলবে না সে? নেপথ্য কারণ জানিয়েছেন বৈভবের ছোটবেলার কোচ মনোজ ওঝা।
অরুণাচল প্রদেশের বিরুদ্ধে খেললেও শুক্রবার মণিপুরের বিরুদ্ধে খেলছে না বৈভব। তার কারণ অবশ্য আলাদা। শুক্রবার ভারতের ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সিদের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার’ পেয়েছে বৈভব। সেই পুরস্কার নিতে দিল্লি গিয়েছে সে। সেই কারণেই এই ম্যাচে খেলা হচ্ছে না বিহারের বাঁহাতি ওপেনারের। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পুরস্কার নিয়েছে ১৪ বছরের বৈভব। তার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে তার। বৈভব ছাড়া আরও যারা এই পুরস্কার পেয়েছে, তাদের সঙ্গেও দেখা করবেন মোদী। সাতটি বিষয়ে দেওয়া হয় এই ‘প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার’। সেগুলি হল— সাহসিকতা, শিল্প ও সংস্কৃতি, পরিবেশ, উদ্ভাবনী দক্ষতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সমাজসেবা এবং ক্রীড়া। বৈভব ক্রীড়া ক্ষেত্রে এই পুরস্কার পাচ্ছে। বিজয় আজারের আগামী ম্যাচগুলিতে কেন খেলবে না বৈভব? কারণ, সামনেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। ১৫ জানুয়ারি থেকে জ়িম্বাবোয়েতে শুরু সেই প্রতিযোগিতা। মনোজ বলেন, “বিজয় হজারের বাকি একটা ম্যাচেও বৈভব খেলতে পারবে না। সামনেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। তাই ভারতীয় দলে যোগ দিতে হবে ওকে। প্রস্তুতি শিবির হবে। সেই কারণেই আর ঘরোয়া ক্রিকেটে দেখা যাবে না ওকে।” ভারতীয় ক্রিকেটে গত এক বছরে উল্কার গতিতে উত্থান হয়েছে বৈভবের। প্রথমে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের নজর কেড়েছে সে। তার ফলে আইপিএলে মাত্র ১৩ বছর বয়সে দল পেয়েছে। নিলামে কোটিপতি হয়েছে বৈভব। রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলতে নেমে শতরানও করেছে। ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে যুব টেস্ট ও এক দিনের ম্যাচে শতরান করেছে বৈভব। ভারতের হয়ে এমার্জিং এশিয়া কাপ ও অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপেও শতরান করেছে বৈভব। বিজয় হজারে খেলতে নেমেও নজির গড়েছে সে। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জোর চর্চা চলছে। বৈভবকে ভারতের ভবিষ্যতের তারকা ধরা হচ্ছে। তবে তার মাঝেই ধারাবাহিকতা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে সে। বড় ম্যাচে তার ব্যর্থতা নিয়েও আলোচনা চলছে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সেই সব সমালোচনার জবাব দিতে চাইবে বিহারের ছেলে।





