Saturday, June 27, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

টলিউডে সুবিধা পাওয়ার জন্যই তৃণমূলে পার্নো? মাধ্যমিক পাশ পার্নো মিত্রর ২০১৯-এ তিন গুণ আয়?

২০১৯ সালে জুলাইয়ে প্রথম রাজনীতিতে পা। এক ঝাঁক সেলিব্রিটির সঙ্গে পার্নোও গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান। ২০২১ সালে একদা তৃণমূল বিধায়ক অধুনা বিজেপি নেতা তাপস রায়ের বিরুদ্ধে ভোটে লড়েন পার্নো। কিন্তু হেরে যান তিনি। রাজনীতির পাশাপাশি সিনেমা করতে দেখা গেলেও ২০১১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত পার্নোর কেরিয়ার যতটা উজ্জ্বল ছিল, ২০১৯ পর থেকে সেই গ্রাফ নিচে নামতে থাকে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে একটা পুরনো গাড়ি কেনেন। সেইসময় গাড়িটি ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার ২১০ টাকায় কিনেছিলেন। ৭০ হাজার টাকা স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে বলেও হলফনামায় জানান অভিনেত্রী। ২০১৯-এ তিন গুণ আয় মাধ্যমিক পাশ পার্নো মিত্রর? দল বদলু অভিনেত্রী। বছর ছয়েক আগে যোগ দেন বিজেপিতে। রাজ্য রাজনীতিতে ফের আলোচনা। কারণ, দল বদলে এবার ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়েছেন। রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার মধ্যেই দেখে নেওয়া যাক অভিনেত্রী পার্নো মিত্রর সম্পত্তির পরিমাণ। একুশের বিধানসভা ভোটে নির্বাচনী হলফনামায় নিজের সম্পত্তির পরিমাণ জানিয়েছিলেন? একুশের নির্বাচনে বরাহনগর আসনে বিজেপির হয়ে প্রার্থী হন। নিজের হলফনামায় সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে পার্নো জানিয়েছিলেন, হলফনামা জমা দেওয়ার সময় তাঁর হাতে ছিল নগদ ১৪ হাজার ৩৭৫ টাকা। বিভিন্ন ব্যাঙ্কে টাকা জমা ছিল। একুশের হলফনামায় ব্যাঙ্কে জমা ছিল মোট ৭ লক্ষ ৯৮ হাজার ৬৩৩ টাকা ৭২ পয়সা। একাধিক ইনস্যুরেন্স পলিসিতে ২ লক্ষ ৯ হাজার টাকা রেখেছিলেন। স্থাবর সম্পত্তির হিসেবে দিতে গিয়ে পার্নো জানিয়েছিলেন, তাঁর নামে কোনও কৃষিজমি নেই। উত্তরাধিকার সূত্রেও কোনও স্থাবর সম্পত্তি পাননি। ২০১৬ সালের মার্চে বালিগঞ্জ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনেন পার্নো। ৫০ লক্ষ টাকায় ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন। একুশের নির্বাচনের সময় ফ্ল্যাটটির দাম ৫৫ লক্ষ টাকার মতো ছিল বলে পার্নো জানিয়েছিলেন। নিজের হলফনামায় পার্নো জানিয়েছিলেন, তাঁর কোনও ঋণ নেই। নিজেকে অভিনেত্রী এবং সমাজকর্মী বলে উল্লেখ করেন তিনি। হলফনামা নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে পার্নো জানান, ২০০৪ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন। একুশের নির্বাচনী হলফনামায় ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষের কোনও আয় দেখাননি পার্নো। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে তাঁর আয় হয়েছিল ৩ লক্ষ ৩৯ হাজার ৯৮২ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে তাঁর আয় দ্বিগুণ বেড়ে যায়। ওই অর্থবর্ষে তাঁর আয় হয়েছিল ৮ লক্ষ ১৪ হাজার ১৬ টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ৫ লক্ষ ১৯ হাজার ৮৭৩ টাকা। আর ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে তাঁর আয় তিন গুণের বেশি বেড়ে যায়। ওই অর্থবর্ষে পার্নোর আয় ছিল ১৭ লক্ষ ৩২ হাজার ৯৪৮ টাকা।

ছিলেন গেরুয়া শিবিরে। এবার এলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। তৃণমূলে যোগ দিয়ে পার্নো স্পষ্ট জানালেন, ৬ বছর আগে বিজেপিতে যোগ দিয়ে ভুল করেছিলেন। যেমনটা ভেবেছিলেন, তেমনটা হয়নি। সেই ক্ষোভ থেকেই এবার তৃণমূলে যোগদান করা। তবে পার্নোর তৃণমূলে যোগদান নিয়ে বিজেপি শিবিরের অন্দরে অন্য কথা। পার্নো মিত্র নাকি টলিউডে কাজ পেতেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন! পার্নো মিত্রর তৃণমূলে যোগদান নিয়ে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ জানান, অভিনেত্রীদের একবার বিজেপিতে ছোঁয়া লেগে গেলে, টলিউডে তাঁরা কাজ পায় না। তখন বাধ্য হয়েই তৃণমূলে যোগ দিতে হয়। কাজ পেতেই তৃণমূল করতে হয়। এরা তো কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয়, কোনও একটা ছত্রছায়ায় থাকতে হবে। গতবার নির্বাচনে উনি দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু তারপর থেকে কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ওকে দেখা যায়নি। সিনেমা উনি পাচ্ছিলেন না তাই গিয়েছে। প্রত্যেকের গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। এর থেকে বেশি কী আর বলব!” টলিউডে সুবিধা পেতেই তৃণমূলে? পার্নো স্পষ্ট জানান, মানুষ তো সব কিছু নিয়েই সমালোচনা করবে। সেটা আটকাতে পারব না। কানও দিতে চাই না। তবে আমি কোনও সুবিধা নিতে তৃণমূলে যোগদান করিনি। পার্নো বলেন, এটা আমার হাতে নেই। আগেরবারও ছিল না। এটা দল সিদ্ধান্ত নেবে। ম্যাডাম সিএম সিদ্ধান্ত নেবেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিদ্ধান্ত নেবেন। এটার জন্য আমি মুখিয়ে নেই। যা দায়িত্ব দেওয়া হোক না কেন, সেটাতেই আমার ফোকা থাকবে। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। পার্নো মিত্র বরাহনগরের আসনে লড়েছিলেন বিজেপির হয়ে। সেই সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে তাঁর বিপরীতে ভোটে লড়েছিলেন তাপস রায়। ২০২৫-এর পরিস্থিতিতে বিস্তর ফারাক। এখন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক হয়ে বরাহনগরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। পার্নোর মনে যে গেরুয়া শিবির ঘিরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, তা তিনি ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসে অভিনেত্রী যোগ দেওয়ায়, তা নিশ্চিত হয়ে গেল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles