বালিতে তৃণমূল নেতাকে গুলি করল কে? নিজে করল, না কেউ করেছে, তা দেখার কথা পুলিশের, ভিন্ন সুরে দাবি ডোমজুড়ের তৃণমূল বিধায়ক কল্যাণ ঘোষের। তৃণমূল দলেরই একাংশ ও তাঁদের মদতপুষ্ট সমাজবিরোধীদের টার্গেট বাবু। অপরদিকে, হামলাকারী বাসু চৌধুরীও বিধায়ক কল্যাণ ঘনিষ্ঠ। একাধিক সমাজমাধ্যমে কল্যানের সঙ্গে হামলাকারীর ছবিও দেখা গেছে। ঘটনার পরে বেলুড়ের সাঁপুইপাড়া-বসুকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দেবব্রত মণ্ডলকে গুলি চালানোর ঘটনায় অধরা দুষ্কৃতী। গুলি করার পিছনে সিন্ডিকেটের বিবাদের কথাই জানা যাচ্ছে। স্থানীয় বিধায়ক কল্যাণ ঘোষের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বাবু মণ্ডল এলাকায় ইট, বালি, সিমেন্টের ব্যবসায় জড়িত ছিলেন বহুকাল। গত ‘২৩ সালে বাবু এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান হওয়ার পরে, তাঁর ইমারতি ব্যবসার সিন্ডিকেট ফুলেফেঁপে ওঠে। সেই নিয়ে দলেরই একাংশ ও তাঁদের মদতপুষ্ট সমাজবিরোধীদের টার্গেট হয়ে যান বাবু। প্রায় ১৩ বছর আগেও, ২০১২ সালে বাবুকে লক্ষ্য করে একবার গুলি করা হয়। সে বার আততায়ী লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় বাবু বেঁচে যান। এইবার শরীরে দু’টি গুলি নিয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বছর পঞ্চান্নর বাবু মণ্ডল। বাবুকে অস্ত্রোপচারের জন্য হাওড়ার বেসরকারি হাসপাতাল থেকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এসএসকেএম সূত্রে জানা গিয়েছে বাবু মণ্ডলের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। অস্ত্রোপচার করে শরীর থেকে গুলি বের করার চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা।
এ দিন ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বৃহস্পতি রাতে একজনের বাইকের পিছনে বসে বাড়ি ফেরার পথে বাবুকে খুব কাছ থেকে গুলি করে এক দুষ্কৃতী। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাইকের পিছন থেকে রাস্তায় পড়ে গিয়েও, বাঁচার চেষ্টা করছেন পঞ্চায়েত প্রধান দেবব্রত মণ্ডল ওরফে বাবু। সেই অবস্থাতেই তিনি টেনে হিঁচড়ে আততায়ীর হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, তা-ও স্পষ্ট দেখা যায় ফুটেজে। এই অবস্থায় যে ব্যক্তির বাইকের পিছনে প্রধান বসেছিলেন, তাঁকেও প্রাণভয়ে তির বেগে বাইক ছুটিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। আততায়ীকেও দেখা যায়, বাবুকে রাস্তায় ফেলে, শরীরের দু’দিকে পা দিয়ে দাঁড়িয়ে ফের বন্দুক তাক করছে। তার পরেই বাবুকে ছেড়ে হেঁটে চলে যায় আততায়ী। রাত তখন সাড়ে ১০টা পেরিয়েছে। রাস্তায় কিছু লোকজন চলাচল করতেও দেখা যায়। কিন্তু প্রথমে কেউ প্রধানকে বাঁচাতে ছুটে আসেননি। হাওড়ায় বিয়ে বাড়ি থেকে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান। রাস্তার মাঝে ধীরেসুস্থে এসে গুলি চালিয়ে গেল আততায়ী। গুলিতে জখম পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গীও। অধরা আততায়ী। তৃণমূল নেতাকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি! তৃণমূল নেতার পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলাকারী বাসু চৌধুরী। পেশায় সেও ইমারতি দ্রব্যের ব্যবসায়ী। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মোটরবাইক থেকে পড়ে যান তৃণমূল নেতা। বাইক নিয়ে চলে যান তাঁর সহকর্মী। রাস্তায় পড়ে থাকা অবস্থাতেই আততায়ীকে ধরার চেষ্টা করেন তৃণমূল নেতা। কিন্তু তাঁকে লাথি মারে আততায়ী। নিশ্চিন্তে হেঁটে চলে যায় হামলাকারী।




