Friday, July 10, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

সর্বকনিষ্ঠ ইংল্যান্ড ফুটবলারের নজির! বেলিংহ্যামদের পূর্বসূরির নাম কলকাতার প্রিন্সেপ ঘাটে জড়িয়ে

RK NEWZ চতুর্থ কনিষ্ঠতম ফুটবলারের নাম হল- জেমস প্রিন্সেপ। ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ মাতিয়ে দিয়েছেন জুড বেলিংহ্যাম। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত ৪টে গোল, একটা অ্যাসিস্ট হয়ে গিয়েছে ২৩ বছর বয়সি তারকার। ইংল্যান্ডের তৃতীয় কনিষ্ঠতম ফুটবলার তিনি। ২০২০ সালে মাত্র ১৭ বছর ১৩৬ দিনে থ্রি লায়ন্সের জার্সি পরেছিলেন বেলিংহ্যাম। কলকাতার এক বিখ্যাত স্থাপত্যের নামের সঙ্গে মিল রয়েছে না? হ্যাঁ। ঠিকই ধরেছেন। গঙ্গার ধারে যে প্রিন্সেপ ঘাট রয়েছে, তার সঙ্গে যোগাযোগ আছে ইংল্যান্ড ফুটবলের। ১৭৭১ সালে ইংল্যান্ড থেকে মুম্বইয়ে এসে পৌঁছন জনৈক জন প্রিন্সেপ। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু হলেও পরে নীলকর হিসেবে যথেষ্ট নামডাক হয়। বারাসাতে ছিল তাঁর নীল কারখানা। প্রচুর অর্থ উপার্জন করে ইংল্যান্ডে ফিরে যান। তাঁর সাত ছেলেই চাকরি করতে আসেন ভারতে, সেই সূত্রে আসেন জেমস প্রিন্সেপ। ১৭৯৯ সালে ইংল্যান্ডে জন্ম তাঁর। ইনি কিন্তু সেই ফুটবলার নন। বিখ্যাত পুরাতাত্ত্বিক ও পণ্ডিত ছিলেন এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক। ভারতের খরোষ্ঠী ও ব্রাহ্মী লিপি পাঠোদ্ধারের জন্য যথেষ্ট পরিচিত। ১৮৪১ সালে তৈরি কলকাতার প্রিন্সেপ ঘাটের নামকরণও এই জেমস প্রিন্সেপের নামে।

সাত ভাইয়ের মধ্যে একজন ছিলেন উইলিয়াম প্রিন্সেপ। পেশায় চিত্রশিল্পী। তাঁর নাতির নাম জেমস ফ্রেডেরিক ম্যাকলিওড প্রিন্সেপ। বিখ্যাত দাদুর নামেই নাম রাখা হয়েছিল। ১৮৬১ সালে সিমলায় জন্ম। ক্রমে ফুটবল জগতে পা রাখেন। খেলতেন ক্ল্যাপহাম রোভার্সের হয়ে। ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী এফএ কাপের ফাইনালের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারও ছিলেন তিনি। জেমস সম্পর্কে বলা হত, মাথা খুবই ঠান্ডা। দু’পায়ে জোরালো শট ছিল। যে কোনও জায়গা থেকে গোল করতে পারতেন। পাসিংটাও ভালো ছিল। পাশাপাশি ক্রিকেটের বোলিংয়েও হাত পাকিয়েছিলেন। এর সঙ্গে জুড বেলিংহ্যামের সম্পর্ক? তিনি ইংল্যান্ডের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার। আর চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারের নাম জেমস ফ্রেডেরিক ম্যাকলিওড প্রিন্সেপ। ১৮৭৯ সালে মাত্র ১৭ বছরের ২৫২ দিনে অভিষেক হয়। সেই ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৫-৪ গোলে জেতে ইংল্যান্ড। ১২৫ ধরে জেমসই ছিলেন ইংল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার। পরে সেই ভাঙেন ওয়েন রুনি। ২০০৩ সালে ১৭ বছর ১১১ দিনে ইংল্যান্ডের হয়ে মাঠে নামেন তিনি। তবে জেমস কখনই পেশাদার ফুটবলার ছিলেন না। ইংল্যান্ডের হয়ে ওই একটি মাত্র ম্যাচেই খেলেছিলেন। আসলে তিনি ছিলেন ইংরেজ সেনাবাহিনীতে। সাসেক্স রেজিমেন্টে ছিলেন তিনি। সুদানে মাহদিস্তে যুদ্ধে লড়াই করেন। একাধিক পদকও অর্জন করেন। জেমসের কাছে পরে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু চোটের জন্য দু’বার সুযোগ হাতছাড়া হয়। আর মাত্র ৩৪ বছর বয়সে প্রয়াণ ঘটে জেমসের। মিশরে থাকাকালীন শরীর ভাঙছিল। এবার ফুটবল নয়। নিউমোনিয়া বাঁধান গলফ খেলতে গিয়ে। কিডনিও নষ্ট হয়ে যায়। সাত সপ্তাহ অসুস্থ থাকার পর মৃত্যু হয়। জন্ম ভারতে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ, ইংল্যান্ডের হয়ে ফুটবল। জেমস প্রিন্সেপের নামের সঙ্গে জড়িয়ে কলকাতার ঘাটের যোগাযোগও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles