এত ভারী চেহারা নিয়ে কী করে সরকারি বড় বড় অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন? সমাজমাধ্যম ছয়লাপ এই ধরনের মন্তব্যে। অনেকে সৌরভ-পত্নী হওয়ার সুবিধাকে কাজে লাগানোর কথাও উল্লেখ করেছেন। সব মিলিয়ে গত দু’তিন ধরে সমাজমাধ্যমে চোখ রাখা দায়! অনেক অশ্লীল মন্তব্যও ধেয়ে এসেছে তাঁর দিকে। পরিবর্তে ডোনা কী করেছেন? তিতিবিরক্ত নৃত্যশিল্পী প্রশাসনে অভিযোগ জানিয়েছেন। যদিও তাঁর কটাক্ষের শিকার হওয়া নতুন নয়। এর আগে আরজি কর-কাণ্ড-সহ নানা কারণে একাধিক বার এই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। ওড়িশি নৃত্যশিল্পী এবং ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের স্ত্রী ডোনা সরকারি অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করেন। তাঁর নৃত্য প্রতিষ্ঠান ‘দীক্ষামঞ্জরী’ যেমন দুর্গাপুজোর পর রেড রোড কার্নিভালে যোগ দেয়, তেমনই কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন এবং সমাপ্তি অনুষ্ঠানেও থাকে। এ বছরেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন স্বয়ং ডোনা। অনুষ্ঠান শেষ। কটাক্ষের সেখান থেকেই শুরু। ডোনার অভিযোগের আঙুল একটি বিশেষ সমাজমাধ্যমের দিকে। ওই নির্দিষ্ট সমাজমাধ্যম থেকে তাঁর লাগাতার ‘বডি শেমিং’ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁকে উদ্দেশ করে অশালীন মন্তব্যও করা হয়েছে। যা তাঁর খ্যাতি ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণ। হেনস্থার শিকার ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়। একটি বিশেষ ফেসবুক পেজ থেকে ডোনার বিরুদ্ধে বেশ কিছু কুরুচিকর মন্তব্য। ইদানিং যে কোনও সময় যে কোনও ব্যক্তিকে খুব সহজে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া যায়। অন্য তারকাদের মতই সোশ্যাল মিডিয়ায় বারবার হেনস্থার শিকার হতে হয় ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়কে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে কদর্য ভাষায় আক্রমণ করার জন্য বুধ সন্ধ্যায় ঠাকুরপুকুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়। সৌরভ পত্নীর অভিযোগের উপর ভিত্তি করে অজ্ঞাত পরিচয় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশের তরফ থেকে জানা গিয়েছে, কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি নাচের অনুষ্ঠান ঘিরে কুমন্তব্য করা হয়। একটি বিশেষ ফেসবুক পেজ থেকে ডোনার বিরুদ্ধে বেশ কিছু কুরুচিকর মন্তব্য ভেসে আসতে দেখা যায় যার ফলে এই পদক্ষেপ তুলতে বাধ্য হন ডোনা।
ডোনার অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি গত ৪৫ বছর ধরে নাচের সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন স্টাইলের নাচ করেন তিনি দেশে এবং বিদেশে। ওড়িশি নৃত্যের অনুষ্ঠান করেন বিশ্বের একাধিক দেশে। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে তাঁকে বডি শেমিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে, তা দেখে রীতিমতো ক্ষুব্ধ নৃত্যশিল্পী। অনলাইনে অযথা এবং অন্যায় ভাবে তাঁকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রের সঙ্গে ওই পোষ্টের বিভিন্ন স্ক্রিনশট পুলিশের কাছে তুলে দেন ডোনা। ওই ফেসবুক সংক্রান্ত একটি মোবাইল নম্বরও পুলিশের কাছে দেন তিনি। ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতেই শুরু হয়ে গিয়েছে তদন্ত। ফেসবুক পেজ এবং মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরেই শুরু হয়েছে অপরাধীদের খোঁজ। দোষীদের গ্রেফতার করে উচিত শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান ডোনা।




