ভারতের দৃষ্টিহীন মহিলা দল বিশ্বকাপ জেতার পরেই এক্স হ্যান্ডলে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লিখেছিলেন, “দৃষ্টিহীন মহিলাদের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস তৈরি করার জন্য ভারতীয় দলকে শুভেচ্ছা। গোটা প্রতিযোগিতায় অপরাজিত থেকেছে তারা। কঠোর পরিশ্রম, জেদ ও দলগত খেললে যে সাফল্য আসবে, এটা তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। দলের প্রত্যেক ক্রিকেটার চ্যাম্পিয়ন। ভবিষ্যতের জন্য এই দলকে আমার শুভেচ্ছা।” সমাজমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েই ক্ষান্ত থাকলেন না প্রধানমন্ত্রী, এ বার সকলের সঙ্গে দেখা করলেন। ভারতের মহিলা দল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর হরমনপ্রীত কৌর, স্মৃতি মন্ধানাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ বার ভারতের আরও এক বিশ্বজয়ী দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেখা করলেন তিনি। কয়েক দিন আগে দৃষ্টিহীন মহিলাদের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। সেই দলের ক্রিকেটারদের সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে যান ক্রিকেটারেরা। সেখানেই তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন মোদী। দলের সকলের স্বাক্ষর করা একটি ব্যাট মোদীর হাতে তুলে দেন ক্রিকেটারেরা। পাল্টা প্রধানমন্ত্রীও তাঁর স্বাক্ষর করা একটি বল ক্রিকেটারদের উপহার হিসাবে দেন। ক্রিকেটারদের নিজের হাতে লাড্ডুও খাইয়ে দেন মোদী। সংবর্ধনার পর ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথাও বলেন। বিশ্বকাপের ফাইনালে কলম্বোর মাঠে নেপালকে সাত উইকেটে হারিয়েছেন ভারতের মেয়েরা। অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তাঁরা। নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তাঁরা। ঠিক একই ভাবে বিশ্বকাপজয়ী হরমনদের অভিজ্ঞতা শুনেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

কলম্বোতে অনুষ্ঠিত প্রথম ব্লাইন্ড মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন দলকে মোদি উপহার দেন তাঁর স্বাক্ষর করা একটি ক্রিকেট বল। টুর্নামেন্ট জুড়ে দলের সাহস, শৃঙ্খলা ও ধীরস্থির মানসিকতার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই জয়ে শুধু ইতিহাসই রচিত হয়নি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মও অনুপ্রাণিত হবে’। এর আগে প্রধানমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে দলের সাফল্যকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন এবং টুর্নামেন্ট জুড়ে অপরাজিত থাকার জন্য প্রশংসা জানান। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলের প্রতি প্রশংসা ও অভিনন্দনের জোয়ার দেখা যাচ্ছে। কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ঘোষণা করেছেন কর্ণাটক ভিত্তিক খেলোয়াড়দের ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার এবং সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। অন্য রাজ্যের খেলোয়াড়রা প্রত্যেকে পাবেন দু’লক্ষ টাকা পুরস্কার। ১৩ জন ক্রিকেটার যাঁরা কর্ণাটকের বাসিন্দা নন তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার সুবিধা পাবেন, যা দলের প্রতি জাতীয় গর্বের প্রতিফলন। পুরো প্রতিযোগিতা জুড়েই একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়েছিল ভারত। ফাইনালে নেপালকে ১১৪/৫–এ আটকে দেওয়ার পর ১৩ ওভারেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ভারত। ওপেনার ফুলা সারেন মাত্র ২৭ বলে ৪৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে এগিয়ে দেন। করুণা কে–র ২৭ বলে ৪২ রানের ইনিংস জয়ের পথ আরও সহজ করে দেয়। ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান সারেন। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ভারত নিজেদের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিল। শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর পাকিস্তানের দেওয়া ১৩৬ রানের লক্ষ্য ১০.২ ওভারেই টপকে যায় দল। প্রতিযোগিতার অন্যতম দাপুটে জয়। সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ভারত ফাইনালে ওঠে এবং নেপালকে হারিয়ে শিরোপা জেতে। খেলোয়াড়দের কাছে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল বিশাল স্বীকৃতি ও উৎসাহের মুহূর্ত।




