নেশার জিনিসের অনুষঙ্গে আরাম দিয়ে তাকে আরও বাড়িয়ে তোলা যাবে না। তাকে কঠিন করে তুলতে হবে। তবেই তাতে লাগাম পরানো যাবে। আর ঋজুতার বক্তব্য, যে কোনও আসক্তিকে কড়া হাতে দমন করলে তবেই কাজ হতে পারে, নইলে নয়। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে বা সমাজমাধ্যমে মগ্ন হয়ে কাটিয়ে দিচ্ছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। খাওয়া, ঘুম, বাবা-মা-প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলার সময়, সবেতে ভাগ বসাচ্ছে মোবাইল। এমনকি, খাওয়ার টেবিলেও চোখ থাকছে মোবাইলে। ফলে কী খাচ্ছেন, কতটা খাচ্ছেন, খেয়াল থাকছে না সে দিকেও। দুনিয়াকে হাতের মুঠোয় আনার প্রযুক্তি থেকে যে উপকার পাওয়ার কথা ছিল, তার থেকে ক্ষতিই হচ্ছে বেশি। কারণ, মোবাইল এখন ধূমপান, মদ্যপানের মতোই বিপজ্জনক আসক্তিতে পরিণত হয়েছে। সুস্থ থাকতে এবং সার্বিক ভাবে ভাল থাকতে স্ক্রিনটাইম কমাতে বলছেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু বলা যতটা সহজ, কাজে করা তত সহজ নয়। মোবাইল যে অনেক ভাবে শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক ক্ষতি করছে, তা বুঝেও তা থেকে নিজেকে দূরে সরাতে পারছেন না বহু মানুষ। কারণ, ওই আসক্তি। তবে এক তারকা যাপনবিদ তথা পুষ্টিবিদ ঋজুতা দ্বিবেকর ওই আসক্তি কাটানোর একটি উপায় বাতলেছেন। তিনি বলছেন, ‘‘মোবাইল যখন নেশা, তখন তাকে অন্য নেশার মতোই রাখতে হবে। ঠিক যেমন ভাবে ধূমপান বা মদ্যপানকে দেখা হয়, সেই রকম।’’ আলোচনার মঞ্চে ঋজুতা জানিয়েছেন, কী ভাবে মোবাইল আসক্তিকে কাটানো যায়। আসক্তি কাটানোর উপায় হিসাবে ঋজুতা বলেছেন, ‘‘বিমানবন্দরে স্মোকিং জ়োন কেমন হয় দেখেছেন? অত বড় বিমানবন্দরের এক প্রান্তে একটি ছোট্ট কাচের ঘর। সেখানে গিয়ে আর পাঁচজনের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ধূমপান করতে হয়। সেখানে আপনার বসার উপায় থাকে না। আরামের কোনও জায়গা নেই। মোবাইলের ক্ষেত্রেও তেমন নীতি নিতে হবে।’’ বাড়িতে মোবাইল দেখারও আলাদা একটি জ়োন বা ঘর হওয়া উচিত। মোবাইল নিয়ে সমস্ত কাজ ওই একটি ঘরেই বন্দি করে রাখতে হবে।’’ যাপনবিদের পরামর্শ, বাড়িতে থাকলে যাঁর যখন মোবাইল দেখার বা কাজ করার, তিনি ওই ঘরে গিয়ে দেখবেন। সেখানে বসার কোনও জায়গা থাকবে না। ফ্যান, এসি থাকবে না। আরাম করার কোনও উপায়ই থাকবে না। ফোন এলে সেখানে গিয়ে ধরতে হবে। তার পরে সেখানেই রেখে চলে আসতে হবে।
দিন দিন ঘুমের চক্র নষ্ট হচ্ছে, রাতে শুয়ে ঘুম আসে না, দিনে ঝিমুনি আসে, দিনভর ক্লান্তি— তা হলে বুঝতে হবে, মানসিক চাপ মাত্রাতিরিক্ত বেড়েছে। পাশাপাশি, শরীরে ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতিও শুরু হয়েছে। এর কারণ যেমন রোজের যাপনের কিছু বদভ্যাস, তেমনই শরীরচর্চার অভাব। কর্মব্যস্ততার কারণে শারীরিক কসরত করার সময় হয় না। এতে শরীরের বিভিন্ন পেশির সক্রিয়তা কমে। আবার কাজের চাপে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়ে গেলে মনও ক্লান্ত হয়। দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে ঘুমের দফারফা হয়ে যায়। তাই নিশ্চিন্তের ঘুম চাইলে আগে শরীর ও মনের ক্লান্তি দূর করা প্রয়োজন। তার জন্য উপকারে আসতে পারে ভ্রামরী প্রাণায়াম। এই প্রাণায়াম অভ্যাসের সময়ে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে মুখ দিয়ে গুণগুণ করে ভ্রমরের মতো শব্দ করতে হয়। প্রাণায়ামের ভঙ্গিমা ও শব্দ স্নায়ুতন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলে, ফলে মন স্থির হয়। আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসুন। পদ্মাসন বা সুখাসনে বসতে পারেন। পিঠ সোজা থাকবে। চোখ বন্ধ রাখুন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক ভাবে নিন। মুখ বন্ধ থাকবে। এ বার নাক দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস নিন। কিছু ক্ষণ ধরে রেখে নাক দিয়েই শ্বাস ছাড়ুন। আর শ্বাস ছাড়ার সময়ে গলা দিয়ে গুনগুন করে আওয়াজ বার করতে হবে। কিন্তু ঠোঁট ফাঁক করলে চলবে না। মুখ বন্ধ রেখে আওয়াজ করতে হবে। প্রক্রিয়াটি করার সময়ে দুই হাতের আঙুল দিয়ে কান বন্ধ করে রাখবেন। শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার প্রক্রিয়াটি ৩ সেট করে অন্তত ৫ বার করুন। রাতে শোয়ার আগে বা সকালে উঠে ভ্রামরী অভ্যাস করলে মন শান্ত হবে, অস্থিরতা কমবে। দুশ্চিন্তা ও অবসাদ গ্রাস করলে ভ্রামরী অভ্যাস করে দেখতে পারেন, সুফল পাবেন। মনোযোগ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এই প্রাণায়াম। স্নায়ুর রোগে ভুগলে এই প্রাণায়াম নিয়মিত অভ্যাস করতে পারেন। এতে মন শান্ত থাকবে, শারীরিক অস্বস্তিও কমবে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও ভ্রামরী উপকারী।




