বাবা ছিলেন রাজ্য স্তরের অ্যাথলিট। আর তাঁর খেলার দুনিয়ায় প্রবেশ স্প্রিন্টার হিসেবে। দৌড়তেন। সাঁতার কাটতে পারেন। টেবিল টেনিস খেলতে পারেন। পড়াশোনাতেও ভাল। আবার ক্রিকেটে তিনি সোনার মেয়ে। তিনি তিতাস সাধু। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে তিতাস চার ওভার হাত ঘুরিয়ে ২টি উইকেট নিয়েছিলেন। এশিয়ান গেমসের মেগা ফাইনালে সেই চার ওভারে ৩ উইকেট নেন। মহিলাদের আইপিএলে বাংলার তিতাস সাধুকে ৩০ লক্ষ টাকায় দলে নিল গুজরাট জায়ান্টস। বেস প্রাইসেই তাঁকে নেওয়া হল। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জয়ী তিনি। আবার এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী ক্রিকেটারও তিনি। সেই তিতাস সাধুকে এবারের টুর্নামেন্টে আগুনে বোলিং করতে দেখবেন ক্রিকেটভক্তরা। ভারতীয় মেয়েরা বিশ্বকাপ জেতার পর মহিলাদের প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। দাম বেড়েছে ক্রিকেটারদের। নিলামে দীপ্তি শর্মার দাম উঠেছে ৩.২ কোটি টাকা। তিনি আবার বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার। নিলামের আগে ইউপি ওয়ারিয়র্স ছেড়ে দিয়েছিল দীপ্তিকে। সেই দীপ্তিই ফিরলেন ইউপিতে। আগে তাঁর দাম ছিল ২.৬ কোটি। অতিরিক্ত ৬০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দীপ্তি ফিরলেন ইউপি ওয়ারিয়র্সে। নিউজিল্যান্ডের সফি ডিভাইনকে নিয়ে নিলাম-যুদ্ধ চলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও গুজরাট জায়ান্টসের মধ্যে। শেষপর্যন্ত ২ কোটিতে সফি ডিভাইনকে দলে নেয় গুজরাট জায়ান্টস। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ৩ কোটিতে দলে নেয় নিউজিল্যান্ডের অ্যামেলিয়া কেরকে। রেণুকা সিংয়ের বেস প্রাইস ছিল ৪০ লক্ষ টাকা। ৬০ লক্ষে তাঁকে নেয় গুজরাট জায়ান্টস। সফি একলেস্টনকে আবার দিল্লি ক্যাপিটালস ৮৫ লক্ষে দলে নেয়। মেগ ল্যানিংকে নিয়ে জোর লড়াই ছিল দিল্লি ক্যাপিটালস ও ইউপি ওয়ারিয়র্সের মধ্যে। শেষমেশ ইউপি ওয়ারিয়র্স ১.৯ কোটির বিনিময়ে মেগ ল্যানিংকে নেয়। বিশ্বকাপ ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যাপ্টেন লরা উলভার্ট সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন। ১.১০ কোটিতে তাঁকে কিনে নেয় দিল্লি ক্যাপিটালস। এদিকে নিলাম পর্ব যখন চলছে, ঠিক সেই সময়ে আইপিএলের সূচি জানিয়ে দেওয়া হয়। ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে প্রতিযোগিতা। চলবে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। নবি মুম্বই ও ভাদোদরায় হবে ম্যাচগুলো। প্রথম পর্ব হবে নবি মুম্বইতে। শেষ পর্ব ও ফাইনালের জন্য প্রত্যেকটি দল পাড়ি দেবে ভদোদরায়। ২০২৬ সালের ডব্লিউপিএল শুরু হবে নবি মুম্বইয়ে।
বিশ্বজুড়ে মহিলা ক্রিকেটের অন্যতম বড় টুর্নামেন্ট উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ জানুয়ারি মাসের শুরুতেই শুরু হতে চলেছে। এমনটাই জানিয়েছে বিসিসিআই। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে, উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগের চতুর্থ সংস্করণ আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নভি মুম্বই এবং গুজরাটের ভদোদরায় অনুষ্ঠিত হবে। ২৭ নভেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ডব্লিউপিএল মেগা নিলামের উদ্বোধনী বক্তব্যের পরই টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও ভেন্যুর ঘোষণা করেন ডব্লিউপিএল চেয়ারম্যান জয়েশ জর্জ। ডব্লিউপিএল হোম-অ্যাওয়ে ফরম্যাটে আয়োজনের জোর জল্পনা ছিল। ২০২৫ সালে মহিলা বিশ্বকাপ ভারতের মাটিতে সফলভাবে আয়োজনের পর এই পরিবর্তন হওয়া প্রত্যাশিত ছিল বলে ক্রিকেট মহলে ধরা হচ্ছিল। বিসিসিআই আরও কিছু সময় নিতে চাইছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে এখনই অতিরিক্ত কিছু শহরে হোম-অ্যাওয়ে ফরম্যাটে ম্যাচ ফেলা হয়নি। দিল্লিতে নিলাম চলাকালীন মেগ ল্যানিং, দীপ্তি শর্মার মতো তারকাদের জন্য তীব্র দর-কষাকষি চলার মাঝেই বিসিসিআই নিশ্চিত করে ফেলে নতুন আসরের সূচি। ভারত অধিনায়ক হরমানপ্রীত কৌরকও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স টেবিলে দেখা যায়। এই সংস্করণেও টুর্নামেন্ট চলবে কারাভান মডেল অনুসরণ করে। প্রথম পর্ব হবে নভি মুম্বইতে, এরপর শেষ পর্ব ও ফাইনালের জন্য প্রত্যেকটি দল পাড়ি দেবে ভদোদরায়। ২০২৬ সালের ডব্লিউপিএল শুরু হবে নভি মুম্বইতে। সেখানে চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ভারত প্রথমবার মহিলা বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস রচনা করেছে। গত বছর ডব্লিউপিএল হয়েছিল চারটি শহরে। সেই তালিকায় ছিল বেঙ্গালুরু, লখনউ, মুম্বই ও ভদোদরা। মুম্বইয়ের ব্রেবোর্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স হরমানপ্রীতের নেতৃত্বে দিল্লি ক্যাপিটালসকে হারিয়ে দ্বিতীয়বার শিরোপা জিতে নেয়। ২০২৬ সালের শুরুতে ভারত টানা দুইটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে। ডব্লিউপিএলের পরই শুরু হবে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। হবে পাঁচটি স্টেডিয়ামে। চেন্নাই, মুম্বই, আহমেদাবাদ, দিল্লি ও কলকাতা। শ্রীলঙ্কা কো-হোস্ট হিসেবে আয়োজন করবে বহুল প্রতীক্ষিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচটি, যা অনুষ্ঠিত হবে কলম্বোয়। ২০ দলের এই বিশ্বকাপ চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত।




