“ভারতীয় হকির ব্লু রিব্যান্ড”। বেটন কাপ হকি। বেঙ্গল হকি অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ১২৬তম বেটন কাপ। অনুষ্ঠিত হবে নবনির্মিত বিবেকানন্দ যুবভারতী হকি স্টেডিয়ামে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দাবি অনুযায়ী, ২২,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামটি দেশের “বৃহত্তম আন্তর্জাতিক মানের হকি স্টেডিয়াম”। প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে সল্টলেক স্টেডিয়াম বা বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন চত্ত্বরের ভিতরে নির্মিত অত্যাধুনিক এই স্টেডিয়ামটি গতকাল ভারতীয় হকি শতবর্ষ উদযাপনের প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বোধন করেন। বেটন কাপে এবারেও বেশ কয়েকজন বর্তমান ও প্রাক্তন অলিম্পিয়ান এবং আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের মাঠে দেখা যাবে। ১৮৯৫ সালে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টটি বিশ্বের প্রাচীনতম হকি চ্যাম্পিয়নশিপ। মূল প্রতিযোগিতা শুরু শনিবার। ফাইনাল ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত। ভারতীয় হকি সদ্য শতবর্ষ পূর্ণ করেছে। ১৯২৫ সালে প্রথম জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা গঠনের মাধ্যমে এর সুসংগঠিত যাত্রা শুরু হয়। শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এদিন সকালে হকি বেঙ্গল বিভিন্ন জেলায় পুরুষ ও মহিলা হকি ম্যাচের আয়োজন করে। অরূপ বিশ্বাস বলেন, আপাতত এখানে ম্যাচই হবে। পরে হকি আকাদেমি গড়া হলে সেখানে প্লেয়াররা অনুশীলন করবেন। ডুমুরজলা স্টেডিয়ামে হকির অ্যাস্ট্রোটার্ফ বসিয়েছে হিডকো। যুবভারতীতে করল রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতর। হকির এমন পরিকাঠামো দেশে কোথাও নেই। রাজনীতি না করে নিরপেক্ষভাবে খেলা দেওয়া হলে হকি ইন্ডিয়ার টুর্নামেন্ট তো বটেই, বিশ্বকাপ-সহ আন্তর্জাতিক ইভেন্ট করতেও আমরা প্রস্তুত।

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চ থেকে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয় নবনির্মিত বিবেকানন্দ হকি স্টেডিয়ামের। অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম বললেন রাজ্যের ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। নতুন মাঠে এসে হকি স্টিক হাতে নিয়ে নিজেই নেমে পড়েন ক্রীড়া মন্ত্রী। কলকাতা লিগের ম্যাচ নিয়েও ফুটবলপ্রেমীদের সুখবর দিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে তৈরি এই হকি স্টেডিয়ামটি গড়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মানের সিন্থেটিক টার্ফ দিয়ে। স্টেডিয়ামটিতে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ান আদলে আধুনিক আর্দেন গ্যালারি, ডেডিকেটেড ওয়ার্ম-আপ জোন, দুটি সম্পূর্ণ সজ্জিত ড্রেসিং রুম, ভিআইপি ও ভিভিআইপি বক্স, ভিআইপি লাউঞ্জ, আম্পায়ার ও ভিডিও আম্পায়ার রুম সহ একাধিক আধুনিক সুবিধা। ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে আমাদের রাজ্যে দুটি হকি মাঠ তৈরি হয়েছে। ডুমুরজলায় এবং অন্যটি যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের চত্বরে। আগামী দিনে একটি হকি একাডেমি গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। দেশের অন্যতম সেরা স্টেডিয়াম এটি। আমি আশা করছি, ভবিষ্যতে এখানেই ভারতীয় দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচ হবে। রাজনৈতিক কারণে এখন বাংলায় ম্যাচ দেওয়া হয় না। বাংলার প্রতি যত বঞ্চনা হবে, ততই বাঙালি আরও শক্তভাবে উঠে দাঁড়াবে।” মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে নির্মিত নতুন স্টেডিয়াম। বিশ্বমানের সিন্থেটিক টার্ফ, চারটি স্ট্যান্ড-সহ একপাশে গ্যালারি, দুটি সুসজ্জিত ড্রেসিং রুম, একটি প্রেস কর্নার, ভিডিও বিশ্লেষকদের জন্য একটি কক্ষ এবং একটি ভেন্যু অপারেশন সেন্টার সুসজ্জিত। এছাড়াও রয়েছে ডোপিং কন্ট্রোল ও মেডিক্যাল রুম, মিক্সড জোন, সম্প্রচার ও ভিডিও বিশ্লেষণ কেন্দ্র, ভেন্যু অপারেশন সেন্টার এবং প্রেস কর্নার। মোট ২০,০০০ কোটি টাকার ব্যয়ে তৈরি হয়েছে এই আধুনিক ক্রীড়াঙ্গন। রাজ্য সরকার ২২,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতার কথা দাবি করে। একপাশের গ্যালারির কাঠামোতে দর্শকাসন। “অস্ট্রেলিয়ার স্টেডিয়ামগুলির মতো” আর্দেন গ্যালারি তৈরি হয়েছে। অরূপের দাবি, এমন আর্দেন গ্যালারিও এখানেই প্রথম। ওডিশার রৌরকেলায় অবস্থিত বীরসা মুন্ডা হকি স্টেডিয়াম ২০,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতা নিয়ে ভারতের বৃহত্তম হকি স্টেডিয়াম হিসেবে স্বীকৃত। ওডিশার ভুবনেশ্বরে প্রায় ১৫,০০০ দর্শক ধারণক্ষমতার কলিঙ্গ স্টেডিয়ামও।





