‘স্ত্রীকে অগ্রাধিকার দিন, বাবা-মাকে নয়! ফের বিপাকে ভারতের তারকা ক্রিকেটার মহম্মদ সামি। সামি এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নোটিশ পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। সামির স্ত্রী হাসিন জাহান ও তাঁদের কন্যার মাসিক ভরণপোষণ বাড়ানোর মামলায় এই নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। হাসিন জাহান কলকাতা হাই কোর্টের এক রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। হাইকোর্টের রায়ে জাহান এবং তাঁর কন্যাসন্তানের জন্য মাসিক ভরণপোষণ নির্ধারিত হয়েছিল যথাক্রমে ১.৫ লক্ষ ও ২.৫ লক্ষ টাকা। হাসিনের দাবি, সামির আর্থিক অবস্থা ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের তুলনায় এই টাকার অঙ্কের পরিমাণ অত্যন্ত কম। সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, ‘মাসে ৪ লক্ষ টাকা কি কম?’ আদালত শেষ পর্যন্ত সামি ও রাজ্য সরকারকে নোটিশ জারি করে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ডিসেম্বর মাসে নির্ধারিত হয়েছে। হাসিন জাহানের আইনজীবীর দাবি, ‘সামি প্রচুর উপার্জন করেন। তাঁর নামে একশো কোটি টাকার সম্পত্তি, দামি গাড়ি রয়েছে। তাঁর কাছে বিদেশ সফরও কোনও ব্যাপার নয়। সবকিছুরই প্রমাণ রয়েছে। অথচ তিনি নিয়মিত ভরণপোষণ দেননি।’ পিটিশনে আরও অভিযোগ, পারিবারিক আদালত ও কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বহু মাস ধরে ভরণপোষণ দেননি। হাসিনের বক্তব্য, ‘আমি সামির আয়ে ব্যক্তিগত অধিকার দাবি করছি না, কিন্তু আমাদের কন্যার তার বাবার মতোই মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকার আছে। সে যেন বাবার সহকর্মীদের সন্তানদের মতোই স্কুলে পড়তে পারে, তাঁদের মতোই পরিবেশে বড় হতে পারে।’ ২০১৮ সাল থেকে হাসিন জাহান ও মহম্মদ সামির বিচ্ছেদের পর থেকে তাঁদের মধ্যে আইনি লড়াই চলছে। এমনকি জানা যায়, নির্যাতন পণ এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাঁদের সম্পর্কে ফাটল তৈরি হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নোটিশের পর এখন নজর ডিসেম্বরের শুনানির দিকে, যেখানে সামি ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জবাব পেশ করা হবে।
২০১৪ সালে মডেল এবং অভিনেত্রী জাহানের সঙ্গে বিয়ে হয় সামির। ২০১৫ সালে তাঁদের কন্যাসন্তানের জন্ম। কিন্তু তাঁদের দাম্পত্য সুখের হয়নি। ২০১৮ সালে যাদবপুর থানায় সামি এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ দায়ের করেন জাহান। সেই থেকে শামি এবং জাহানের আইনি লড়াই চলছে। বিবাহবিচ্ছেদ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন জাহান। প্রোটেকশন অফ উইমেন ফ্রম ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট ২০০৫ অনুযায়ী মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলার খরচ এবং অন্তর্বর্তিকালীন ভরণপোষণ বাবদ ১০ লাখ টাকা চেয়েছিলেন। নিজের জন্য মাসে ৭ লাখ এবং মেয়ের জন্য মাসে ৩ লাখ টাকা তিনি চান। কিন্তু নিম্ন আদালতে তাঁর এই আবেদন গ্রাহ্য হয়নি। আলিপুর আদালত শুধুমাত্র জাহানের সন্তানকে প্রতি মাসে ৮০,০০০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেয় সামিকে। পরে জেলা জজ সেই নির্দেশ সংশোধন করে জাহানকেও মাসে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন জাহান। হাই কোর্ট জানায়, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শামিকে অন্তর্বর্তিকালীন ভরণপোষণ বাবদ মাসে ৪ লাখ টাকা করে দিতে হবে। সেই নিয়েই এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন জাহান।
বেশ কিছুদিন হল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অঙ্গ নয় মহম্মদ সামি। চলতি মার্চে শেষবার ভারতের জার্সিতে দেখা যায় তারকা পেসারকে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলেন। তারপর থেকে ফিটনেস সমস্যায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে সামি। আইপিএলে অংশ নেন। বাংলার হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটও খেলছেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য বিবেচনা করা হয়নি তাঁর নাম। একদিনের বা টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পাননি। জাতীয় দলের দরজা চিরকালের মতো বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে মুখ খুললেন তারকা পেসার। সামি বলেন, ‘অনেক গুজব রটছে। মিমও ছড়িয়ে গিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাদ পড়া নিয়ে লোকে আমার মতামত জানতে চায়। আমি শুধু বলতে চাই, দলে সুযোগ পাওয়া আমার হাতে নেই। এটা নির্বাচক কমিটি, কোচ এবং অধিনায়কের সিদ্ধান্ত। ওদের যদি মনে হয় আমাকে দরকার, আমাকে নেবে। ওরা যদি ভাবে আরও কিছুটা সময় দরকার, সেটা ওদের বিষয়। আমি তৈরি। নিয়মিত প্র্যাকটিস করছি। আমার ফিটনেস ভাল জায়গায় রয়েছে। মাঠের বাইরে থাকলে, নিজেকে মোটিভেট করা কঠিন হয়ে যায়। আমি দলীপ ট্রফিতে খেলেছি। আমি খুবই স্বচ্ছন্দ বোধ করেছি। আমি প্রায় ৩৫ ওভার বল করেছি। আমার কোনও ফিটনেস সমস্যা নেই।’





