এবার রাজনীতিতে জিৎ মান্ধানা? দেব এহেন তৃণমূলের সাংসদ। এবার একই সঙ্গে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখতে চলেছেন জিৎ? তৃণমূলের পুরস্কারপ্রদান অনুষ্ঠান থেকে বিজয়া সম্মিলনী। কোথাও দেখা মেলে না। সম্প্রতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে বিজয়া সম্মিলনীতেও জিৎ অনুপস্থিত। অথচ ফেডারেশন আয়োজিত বিজয়া সম্মিলনীতে সেই তিনিই হাজির! কালো ধাক্কাপাড় ধুতি, সাদা সুতোর কাজ করা একই রঙের পাঞ্জাবি। সাজপোশাকে ‘বাঙালি বাবু’ জিৎ এ দিন শুধু আমন্ত্রণরক্ষাই করেননি। পাশাপাশি বসে হাসিমুখে ছবি তুলেছেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে। সেই ছবি ছড়িয়ে পড়তেই প্রশ্ন উঠেছে অভিনেতা-প্রযোজকের অবস্থান নিয়ে।

এ বার কি রাজনীতির আঙিনায় দেখা মিলবে তাঁরও? ফোনে অভিনেতার সাড়া মেলে না। মন্ত্রী অরূপের সাফ জবাব, “আমার এ বিষয়ে কোনও বক্তব্য নেই। আমি নিজেই ফেডারেশনের বিজয়া সম্মিলনীতে আমন্ত্রিত ছিলাম! মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছেন বলেই তিনি বিনোদন দুনিয়ার ভালমন্দ নিয়ে মাথা ঘামান। কারও ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছা নিয়ে কোনও আগ্রহ নেই তাঁর। টলিউডের অন্দরের খবর, জিৎ আর্টিস্ট ফোরামের কার্যকরী সভাপতি। তাই তিনি এ দিন উপস্থিত ছিলেন।”‘দুই পৃথিবী ২’ নিয়েও জিৎ আর দেব উভয়েই জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে একমাত্র বলতে পারবেন প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতা এবং মহেন্দ্র সোনি। এ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সে কথা উল্লেখ করে দুই নায়কের কথায় একই সুর, “প্রযোজকেরা এসেছিলেন। সাংবাদিকেরা ওঁদের মিস্ করে গিয়েছেন!”

৬ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ৩১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। তিন দিন আগে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয় এই বছর কোন কোন দেশের কতগুলি ছবি দেখানো হবে। সেখানে নেই বাংলাদেশের কোনও ছবির উল্লেখ। অর্থাৎ এই নিয়ে পর পর দু’বছর চলচ্চিত্র উৎসব থেকে বাদ বাংলাদেশি ছবি। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সময়সূচি অনুযায়ী ভারত, গুয়াতেমালা, ফিলিস্তিন, তুরস্ক, সার্বিয়া, মিশর, ইরাক, পোল্যান্ড এবং জার্মানি-সহ ৩৯টি দেশের ২১৫টি ছবি বিভিন্ন বিভাগে প্রদর্শন করা হবে। মনে করা হচ্ছে এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম না থাকার নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। ২০২৪ সাল থেকে পড়শি দেশে শুরু হয় রাজনৈতিক টানাপড়েন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। তার প্রভাব পড়ে দুই দেশের সম্পর্কে। এই পরিস্থিতির কারণেই কি এই বারের চলচ্চিত্র উৎসবে জায়গা পেল না কোনও বাংলাদেশি ছবি? উঠছে প্রশ্ন। উদ্বোধনী ছবি ‘সপ্তপদী’, আর কী কী ছবি থাকছে এ বারের আন্তর্জাতিক কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে? কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জুরি কমিটির এক সদস্য পিটিআই-কে বলেন, “আন্তর্জাতিক বিভাগে বাংলাদেশ থেকে শুধুমাত্র একটি ছবি জমা দেওয়া হয়েছিল। তানভীর চৌধুরীর ‘কাফ্ফারাহ’। কিন্তু দুঃখের বিষয় এটি আমাদের কাঙ্ক্ষিত মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। ফলে চলচ্চিত্র উৎসবে এই ছবিটি জায়গা পায়নি। আমাদের জন্য এই সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না।” ২০২২ সালে, মুহাম্মদ কায়ুমের ‘কুড়া পক্ষীর শূন্যে উড়া’ ছবিটি আন্তর্জাতিক বিভাগে সেরা ছবি হিসাবে ‘গোল্ডেন রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছিল। তার পর কায়ুম দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের পথ আরও প্রশস্ত করার জন্য উৎসাহ জুগিয়েছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন যে পরবর্তীকালে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আরও বেশি করে বাংলাদেশি ছবি প্রদর্শিত হবে।





