পুরোপুরি ‘ফিট’।মহম্মদ সামি। রঞ্জির দু’ম্যাচে মোট ৭৮ ওভার বল করে ১৮টা মেডেন। দিয়েছেন ১৫৭ রান। নিয়েছেন ১৫ উইকেট। রঞ্জিতে চলতি মরসুমে তৃতীয় সর্বাধিক উইকেটের মালিক। গুজরাট ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে বাংলাকে জিতিয়েছেন সামি। মোরাদাবাদে বসে তিনি বলছেন, “পুরানা লালা কো দেখ রহা হুঁ। কিসি কো সমঝই নেহি আ রহা হ্যায়, বল গিরকে কিধর যায়ে গা।” মোরাদাবাদে বসে সেই পুরনো মহম্মদ সামিকে দেখতে পাচ্ছেন মহম্মদ বদরুদ্দিন। প্রতিপক্ষের ব্যাটারেরা বুঝতে পারছেন না, তাঁর ছাত্রের বল পিচে পড়ে কোনদিকে বাঁক নিচ্ছে। রঞ্জি ট্রফির দু’টি ম্যাচে মোট ৭৮ ওভার বল করেছেন সামি। ১৮টি মেডেন। দিয়েছেন ১৫৭ রান। ওভার প্রতি মাত্র ২। নিয়েছেন ১৫ উইকেট। রঞ্জিতে চলতি মরসুমে তৃতীয় সর্বাধিক উইকেটের মালিক। ৩৫ বছর বয়সেও তরুণদের টেক্কা দিচ্ছেন। তথ্যই যদি পারফরম্যান্স মাপার নিক্তি হয়, তা হলে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে কেন ভারতীয় দলে থাকবেন না মহম্মদ সামি? প্রাক্তন জাতীয় নির্বাচক শরদিন্দু মুখোপাধ্যায়ের মতে, “সামির ফিটনেস নিয়ে কি আর কোনও প্রশ্ন কারও থাকতে পারে? লম্বা লম্বা স্পেল করছে। উইকেট নিচ্ছে। আমার তো মনে হয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজ় সিরিজেই ওকে নেওয়া উচিত ছিল। ওরা অর্ধেক ফিট শামিকেও সামলাতে পারত না। এখন তো সামি পুরো ফিট!” গৌতম গম্ভীর-অজিত আগরকর জুটি ভারতীয় ক্রিকেটের দায়িত্ব নেওয়ার পর স্পষ্ট করে দিয়েছেন, চোট সারিয়ে যে কেউ সরাসরি জাতীয় দলে ঢুকতে পারবেন না। তাঁকে ‘পরীক্ষা’ দিতে হবে। পরীক্ষার নাম ঘরোয়া ক্রিকেট। রঞ্জি, দলীপ, বিজয় হজারের মতো প্রতিযোগিতা খেলে নিজেদের ফিটনেস এবং ফর্ম প্রমাণ করতে পারলেই ভারতীয় দলে খেলা যাবে।
প্রমাণ করেছেন। কিন্তু ভারতীয় দলে তাঁর জায়গা হয়নি। কিন্তু চোট সারিয়ে সরাসরি ভারত ‘এ’ দলের অধিনায়ক হয়েছেন ঋষভ পন্থ। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দল ঘোষণার সময় আগরকর জানিয়েছিলেন, শামির ফিটনেস সম্পর্কে কোনও তথ্য তাঁদের কাছে নেই। চোট সারিয়ে বেশি ম্যাচ খেলেননি । যা শুনে পাল্টা জানিয়েছিলেন, তথ্য দেওয়া তাঁর কাজ নয়। বোর্ড তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তিনি মাঠে নেমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। আপাতত তিনি ভরসা রাখছেন, নির্বাচকমণ্ডলী নয়, ভাগ্যের উপর। বলছেন, “আমার হাতে যা ছিল করেছি। আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি। দেখা যাক ভাগ্য আমায় কতদূর নিয়ে যায়।’’ তবে চোট সারিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে জাতীয় দলে ফেরার নিয়মে কোনও সমস্যা দেখেন না বাংলার পেসার।
সামির প্রধান শক্তি তাঁর ছন্দ। নিজের ছন্দে থাকলে তাঁর থেকে ভয়ঙ্কর বোলার বিশ্বক্রিকেটে এখনও কম রয়েছে। সামির ছন্দে পৌঁছনোর পদ্ধতি আলাদা। উত্তরপ্রদেশের আমরোহায় নিজের বাড়িতে ২২ গজের পিচ বানিয়েছেন়। সেখানেই ক্রমাগত বল করেন। যত বল করেন, তত ছন্দে ফেরেন। বদরুদ্দিন ছাত্রের মধ্যে সেই ছন্দ দেখতে পাচ্ছেন। বলছেন, “লালা (এই নামেই সামিকে ডাকেন বদরুদ্দিন) বাকিদের চেয়ে আলাদা। বাকিরা ফিট হয়ে মাঠে নামে। আর ও যত বেশি বল করে, তত ফিট হয়। আগের ম্যাচে ওকে ১০০ শতাংশ ফিট দেখিয়েছে। পুরনো শামির মতো। সম্পূর্ণ অন্য বোলার মনে হচ্ছে ওকে।ওর সিম পজিশন দেখুন। ওটাই বুঝিয়ে দেয় ও কতটা ফিট। এর মধ্যে এখনও অনেক ক্রিকেট বাকি আছে। খুব তাড়াতাড়ি ওকে ভারতীয় দলে ফেরানো উচিত। নইলে অন্যায় হবে।” ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে মাত্র ৭ ম্যাচে সর্বাধিক ২৩ উইকেট নিয়েছিলেন। অথচ প্রথম চার ম্যাচে খেলার সুযোগই পাননি! হার্দিক পাণ্ডিয়া চোট পেয়ে ছিটকে না গেলে হয়তো গোটা প্রতিযোগিতা বেঞ্চে বসেই কেটে যেত সামির। বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা বলেন, “সামি প্রায় ৫০০ উইকেট নিয়েছে। ওর কারও কাছে কিছু প্রমাণ করার নেই। ও কী বল করছে, সেটা সকলে দেখতে পাচ্ছেন। যখন ভারতের হয়ে প্রথম নেমেছিল আর এখনকার বোলিংয়ের মধ্যে কোনও তফাৎ নেই। আরে, এ বার তো ওকে টিমে নিয়ে নাও!” দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের দল ঘোষণার আগে আর একটি রঞ্জি ম্যাচ খেলতে পারবেন সামি। ত্রিপুরার বিরুদ্ধে।





