রাতের আকাশে সোনালি সুপারমুন। মুহুর্মুহু উল্কাবৃষ্টিতে নামবে আলোর ঝরনা। দেখা মিলবে কালপুরুষেরও। নভেম্বর জুড়ে ঘটনার ঘনঘটা। নভেম্বর মাসটি অত্য়ন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে চলেছে, যার নেপথ্যে রয়েছে একাধিক মহাজাগতিক কার্যকারণ। কারণ চলতি নভেম্বর মাসে আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ স্বর্ণাভ হয়ে উঠবে। তিন-তিনটি উল্কাবৃষ্টি দেখা যাবে যেমন, রাতের আকাশে দেখা মিলবে কালপুরুষেরও। নভেম্বর মাস জুড়ে মহাজাগতিক ঘটনাবলীর ঘনঘটা বজায় থাকবে। মাসের প্রথম দুই সপ্তাহ দু’টি উল্কার ঝরনা চোখে পড়বে। সাধারণ উল্কাবৃষ্টি যেখানে এক বা দু’দিন দেখা যায়, উত্তরাঞ্চলীয় এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় টরিদ উল্কাপাত দেখা যাবে দুই সপ্তাহ জুড়ে। ধূমকেতু থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় টরিদ উল্কাবৃষ্টি চোখে পড়বে, গ্রহাণু ২০০৪। চোখে পড়বে উত্তরাঞ্চলীয় টরিদ উল্কাবৃষ্টি। বৃষ তারকামণ্ডলের উজ্জ্বলতম অংশ অনুসারে নামকরণ। ভোররাতে, অন্ধকার থাকতে থাকতে এই উল্কাবৃষ্টি দেখা যেতে পারে, ঘণ্টায় পাঁচটি করে।
উল্কাবৃষ্টির ঘনঘটার মধ্যেই রাতের আকাশে সবচেয়ে উজ্জ্বল রূপে ধরা দেবে চাঁদ। আগামী ৪ ও ৫ নভেম্বর পূর্ণিমার চাঁদ সোনালি আকারে যেমন বড় হবে, তেমনই সোনালি আলোয় ধুয়ে যাবে চারিদিক। পৃথিবীর কাছাকাছি চলে এলে এমন রূপ দেখা যায় চাঁদের, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় সুপারমুন। চলতি বছরের দ্বিতীয় সুপারমুন-এর দেখা মিলতে চলেছে নভেম্বরে। আগামী ৪ ডিসেম্বর তৃতীয় বার রাতের আকাশে সুপারমুন হিসেবে ধরা দেবে চাঁদ। নভেম্বরের এই সুপারমুনকে-কে বেভার মুন-ও বলা হয়। বেভার এক ধরনের লোমশ, উভচর প্রাণী। নভেম্বর মাসেই শীতের প্রস্তুতি শুরু করে দেয় তারা। খাবার-দাবার রসদ জড়ো করতে শুরু করে। আবার নভেম্বর মাসেই ফাঁদ পেতে ধরা হয় তাদের। তাদের গায়ের রোম থেকে তৈরি হয় শীতের পোশাক।
১৬-১৭ নভেম্বরও রাতের আকাশে লিওনিড উল্কাবৃষ্টি দেখার সুযোগ হবে। এই লিওনিড উল্কাবৃষ্টি চলাকালীনই এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ উল্কাবৃষ্টি হতে দেখা গিয়েছে, ঘণ্টায় কয়েক হাজার পর্যন্ত। তবে ২০২৫ সালে ঘণ্টায় ১৫টি উল্কাবৃষ্টি দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। নভেম্বর মাসে মহাজাগতিক ঘটনার ঘনঘটায় নাম রয়েছে কালপুরুষ তারামণ্ডলেরও। পূর্ব দিগন্তে দেখা আবির্ভাব ঘটবে তার। রাত ১১টা নাগাদ সেটিকে দেখা যাবে। সময়ের সঙ্গে আরও আগে আগে আকাশে উদয় হবে সেটি। ২০ নভেম্বর অমাবস্যার রাতে রাতের আকাশে মাইক্রো নিউ মুন-এর আবির্ভাব ঘটবে। চাঁদের দেখা মিলবে না। সূর্যের আলো গিয়ে পড়বে তাঁদের উল্টো পিঠে। পৃথিবী ও সূর্যের মাঝে অবস্থান করবে চাঁদ।





