কালীপুজোর দিন অনেকেই উপোস করেন। সারা রাত জেগে পুজো দেখেন। বছরের এই একটা দিনের অপেক্ষায় অনেকেই থাকেন। কিন্তু বছরের একদিন উপোস করা ও রাত জাগা শরীরের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। না খেয়ে পুজোর কাজ করে যাওয়া মোটেই সহজ নয়। অনেক সময়ে গ্যাস-অম্বল হয়ে যায়, আবার অনেক সময়ে রক্তচাপ কমে যায়। এমন পরিস্থিতি এড়াতে কালীপুজোর দিন মেনে চলুন কিছু সহজ টিপস। সব সময়ে মনে রাখবেন শরীর আগে। অসুস্থ হয়ে পড়লে আপনারই ক্ষতি। তাই নির্জলা উপোস করার আগে নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকুন। উপোস করা মানে জল না খাওয়া, ওষুধ খাওয়া না হয়। তাই উপোস করতে গিয়ে ওষুধ খেতে ভুলবেন না। উপোস করলে ভারী খাবার খাওয়া চলে না। তবে শরীরকে জলশূন্য হতে দেওয়া যাবে না। তাই পর্যাপ্ত জল খেতে হবে। পাশাপাশি ডাবের জল, লস্যি, ফলের রসও খেতে পারেন। তবে চা-কফি এড়িয়ে চলুন। উপোস ভাঙার সময়ে এমন কোনও খাবার খাবেন না, যা বদহজমের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ভাজাভুজি, বেশি তেলমশলা দেওয়া খাবা এড়িয়ে চলুন। মিষ্টি খেতে পারেন। কিন্তু বেশি মিষ্টিও খাবেন না। হালকা খাবার খেয়ে উপোস ভাঙুন। খেজুর, কলা, আমন্ড, আখরোটের মতো খাবার খেয়ে উপোস ভাঙতে পারেন। মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক থাকবে। এ ছাড়া শরীর চাঙ্গা করলে ডালিয়া, ওটস, সাবুদানা ইত্যাদি খেতে পারেন। উপোস ভাঙার পরেও জল খেতে হবে। প্রতি ১ ঘণ্টা অন্তর অল্প অল্প করে জল খেতে পারেন। এ ছাড়া উপোস করার সময়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। না খেয়ে বেশি কাজ করলে শরীর দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
কালীপুজোর আগের দিন আপনার বাড়িতেও কি রান্না হয় ১৪ শাক? এই দিন ১৪টা শাক না খেলে কি ভূত আপনার ঘাড় মটকাতে পারে? আসলে ভূত চতুর্দশীর দিন অনেকের বাড়িতে চোদ্দ শাক খাওয়া হয়। মা-ঠাকুমারা এই দিন আর কিছু রান্না নাই করুন, ১৪ শাক রাঁধবেনই। অনেকই বলেন, ভূত চতুর্দশীর দিন দলবল নিয়ে মর্ত্যে আসে ভূতেরা। আর সেই ভূত তাড়াতেই নাকি ১৪ প্রদীপ জ্বালানো হয়। সেইসঙ্গে এই দিন ১৪ ধরনের শাক খাওয়ার রীতি রয়েছে। আসলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে, ভূত চতুর্দশীর দিন বাড়িতে বাড়িতে ১৪ শাক রান্না করে খাওয়া হয়। এই প্রথা যুগের পর যুগ ধরে চলে আসছে। অবশ্য এটি শুধু প্রথা নয়, এই শাকের পেছনে আছে প্রকৃতি ও স্বাস্থ্যের চমৎকার এক সম্পর্ক। আসলে ভূত চতুর্দশী মানে হেমন্তের শুরু। গরম-ঠান্ডা বদলের সময় শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। নানা রোগের সম্ভবনাও বাড়ে। তাই শরীরের রক্ষাকবচ হিসেবে এই ১৪ শাক খাওয়ার রীতি প্রচলিত। যার ফলে শাস্ত্রেও উল্লেখ আছে এই দিনে খেতে হবে ১৪ ধরনের শাক। পলতা, সর্ষে, নিম পাতা, শুশনি শাক, জয়ন্তী শাক, ওল শাক, ঘেঁটু বা ভাট, কেঁউ শাক, বেতো শাক, শেলুকা, হিঞ্চে, গুলঞ্চ শাক, শাঞ্চে শাক, কালকাসুন্দে। কালীপুজো এ বার ২০ অক্টোবর। তার আগের দিন অর্থাৎ ১৯ অক্টোবর, রবিবার পড়েছে ভূত চতুর্দশী। এই দিন তা হলে আপনার বাড়িতেও কি জ্বালানো হবে ১৪ প্রদীপ আর রেঁধে খাওয়া হবে ১৪ শাক?





