Sunday, July 26, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

মন্ত্রী সুজিতের অফিসে হানা ইডির!‌ অগ্নি নির্বাপণ দপ্তরেও নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ?‌

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ফের সক্রিয় ইডি। শুক্র সকাল থেকে তল্লাশি চলছে কলকাতার অন্তত ১০টি জায়গায়। তল্লাশি চলছে সল্টলেক সেক্টর ওয়ানের একটি ভবনে। ওই ভবনেই রয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসুর অফিস। ইডি সূত্রে খবর, নাগেরবাজার এলাকায় এক কাউন্সিলরের বাড়িতে তল্লাশি চলছে। ঠনঠনিয়ার একটি বাড়িতেও গিয়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকেরা। তল্লাশি চলছে শরৎ বোস রোড, নিউ আলিপুরের একাধিক ঠিকানাতেও। পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলা ছাড়াও ব্যাঙ্ক প্রতারণার একটি মামলার তদন্তেও চলছে তল্লাশি অভিযান। শুক্রবার সকাল থেকেই কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে শহরের নানা এলাকায় তল্লাশি অভিযানে নামেন ইডি আধিকারিকেরা। প্রথমেই তাঁরা যান নাগেরবাজারে। সর্বত্রই তাঁদের সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তেই লেকটাউনে সুজিতের দু’টি বাড়ি এবং দফতরে তল্লাশি চালিয়েছিলেন ইডি আধিকারিকেরা। ১৪ ঘণ্টা তল্লাশির পর বেশ কিছু নথি এবং সুজিতের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে বেরিয়ে যান তদন্তকারীরা। তল্লাশি শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দমকলমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘যদি কাজের জন্য কেউ সুজিতকে এক টাকা দিয়ে থাকেন, সুজিত আজই মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগপত্র দেবে।’’ স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ব্যবসায়ী অয়ন শীলকে প্রথম গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। পরে তাঁর সল্টলেকের অফিসে তল্লাশি চালাতে গিয়ে উদ্ধার করা হয় বেশ কিছু উত্তরপত্র বা ওএমআর শিট। সেখান থেকেই পুরসভার নিয়োগেও দুর্নীতির হদিস পান তদন্তকারীরা। অয়নের সংস্থা পুর নিয়োগের ক্ষেত্রে ওএমআরের দায়িত্বে ছিল। তদন্তে নেমে একে একে আরও অনেককে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। পরে এই মামলায় অবৈধ ভাবে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্তে নামে ইডিও। অগ্নি নির্বাপণ দপ্তরেও বেশ কিছু কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছিল বলে অভিযোগ। গত বছর এই মামলায় প্রথম চার্জশিট দেয় সিবিআই। নিয়োগ দুর্নীতিতে কী ভাবে টাকা লেনদেন হত, সেই চার্জশিটে তার হদিস দিয়েছিল তারা। পাশাপাশি, কী ভাবে চাকরি পাওয়া যেত, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছিল। সিবিআই চার্জশিটে দাবি করেছিল, অয়নের দুই এজেন্টের মাধ্যমে বেশ কয়েক জন চাকরি পেয়েছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে ৫০ হাজার টাকা করে কমিশন নিয়েছিলেন অয়নের এজেন্টরা। অয়নের মাধ্যমে কলকাতা-সহ ১৬টি পুরসভায় নিয়ম-বহির্ভূত ভাবে অনেকে চাকরি পেয়েছেন বলে জানানো হয়। চার্জশিটে শমীক চৌধুরী নামে এক এজেন্টের কথা জানায় সিবিআই।

দুর্গাপুজো শেষ হতেই রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী সুজিত বসুর অফিসে ইডি হানা। আজ পুর নিয়োগ মামলার তদন্তে এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয় ১-টি জায়গায়। জানা গিয়েছে, এই ১০ জায়গার মধ্যে অন্যতম হল সল্টলেক সেক্টর ওয়ানের একটি ভবন। সেই বিল্ডিংয়েই নাকি সুজিত বসুর অফিস রয়েছে। এদিকে সল্টলেক ছাড়াও শরৎ বোস রোড, নিউ আলিপুর, ঠনঠনিয়াতেও ইডি হানা দিয়েছে। নাগেরবাজারেও হানা দিয়েছে ইডি। একাধিক মামলায় এই সব অভিযান চলছে বলে জানা গিয়েছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে লেকটাউনে সুজিতের দু’টি বাড়ি এবং দফতরে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল ইডি। সেদিন ১৪ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু নথি এবং সুজিত বসুর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছিলেন অফিসাররা। উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রথমে তদন্ত চালাচ্ছিল সিবিআই। স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সিবিআই পুর নিয়োগ দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছিল। স্কুল এবং পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল ব্যবসায়ী অয়ন শীলকে। সেই মামলায় বেইআনি আর্থিক লেনদেনের তদন্ত করতে ইডি তদন্ত শুরু করেছিল। এই মামলায় সিবিআই ইতিমধ্যেই চার্জশিটও দাখিল করেছে সিবিআই। জানানো হয়, অয়ন শীলের মাধ্যমে কলকাতা-সহ ১৬টি পুরসভায় বেআইনি ভাবে চাকরি বিক্রি করা হয়েছিল। আজ সকাল সকাল নাগেরবাজারে দীপক দে নামক এক ব্যক্তির বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি। রিপোর্ট অনুযায়ী, নাগেরবাজারে শ্যামনগর রোডে শোভনা অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন এই দীপক। একটি স্কুলের মালিক তিনি। এলাকাতেও তাঁর বেশ নামডাক, পরিচিতি আছে। তিনি তৃণমূল ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত। রিপোর্টে বলা হয়, সকাল হতে না হতেই শোভনা অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছে সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল ইডি আধিকারিক এবং সিআরপিএফ জওয়ানদের। কারণ বারবার দরজায় ধাক্কা দিয়ে ডাকা হলেও অ্যাপার্টমেন্টের ভিতর থেকে কোনও সাড়া মিলছিল না। বেশ কিছুক্ষণ পরে অ্যাপার্টমেন্টের দরজা খুলে দেওয়া হয়। ভিতরে ঢোকেন কেন্দ্রীয় এজেন্সির আধিকারিকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles