Sunday, July 26, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

হাতে পিস্তল নিয়ে ঘোরাঘুরি!‌ মমতার বাড়ির সামনে থেকেই আটক যুবক!

পিস্তল নিয়ে ঘোরাঘুরি করায় এক যুবককে আটক করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার সেই ঘটনা ঘটেছে। একটি মহলের তরফে দাবি করা হয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হাজরা মোড়ের কাছে যেখান থেকে আটক করা হয়, সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের দূরত্ব বেশি নয় এক যুবক ঘোরাফেরা করছিলেন। তাঁর গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় আটক করা হয়। কাছে ছিল পিস্তলও। কেন সেই পিস্তল নিয়ে ঘোরাফেরা করছিলেন, তা জানতে চাওয়া হয়। পরে পিস্তলের লাইসেন্স দেখানোয় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। অপর একটি মহলের তরফে দাবি করা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনেই ঢোকার চেষ্টা করছিলেন ওই যুবক। সেইসময় তাঁকে ধরে ফেলা হয়। যে পরিচয়পত্র পাওয়া গিয়েছে, তা থেকে জানা গিয়েছে যে ওই যুবক সল্টলেকের একটি বেসরকারি স্কুলে কাজ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতেই কালীঘাটে এসেছেন বলে দাবি করেন ওই যুবক। যদিও বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তরফে সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বুধবার অভিযোগ করেনযে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা রাজ্যের অফিসারদের ‘হুমকি দিচ্ছেন’, যা বরদাস্ত করা হবে না। তিনি বলেন, কমিশনের আধিকারিকরা বিধানসভা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার আগেই ‘রাজনৈতিক প্রভাবে’ কাজ করছেন। বিশেষ নিবিড় সমীক্ষার (এসআইআর) নামে ভোটার তালিকায় কারচুপির যে কোনও প্রচেষ্টা গণতন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের হুমকি দিচ্ছে। এটা বরদাস্ত করা হবে না। যখন নির্বাচনের তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তখন কীভাবে কমিশনের আধিকারিকরা রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের তলব করতে পারেন? রাজ্যে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন হবে। সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, যেভাবে বিশেষ নিবিড় সমীক্ষাকে দেখানো হচ্ছে, সেটা আদতে নয়। পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি করার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে এসআইআর করা হচ্ছে। বিহারে নির্বাচন কমিশন এসআইআর করতে পেরেছিল, কারণ সেখানে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার আছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেরকম পরিস্থিতি নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই রেশ ধরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বেশি দড়। তাঁর বিরুদ্ধেই অনেক অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, সময় হলে পুরো বিষয়টি সামনে আনবেন। তিনি বিভিন্নরকম দুর্নীতিতে অভিযুক্ত আছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। সেই পরিস্থিতিতে তিনি বেশি বেড়ে খেলবেন না।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল দুর্নীতিতে অভিযুক্ত বলে মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের সময়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। এই নিয়ে নির্বাচন কমিশন অসন্তুষ্ট বলে জানা গিয়েছে। তাদের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের সময়ে মুখ্যসচিব কী ভাবে উপস্থিত ছিলেন? তাঁর উচিত ছিল বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া। এই নিয়ে প্রশ্ন তুলে কমিশনে চিঠি দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই চিঠি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছে সিইওর দফতর।

নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের ‘বসিয়ে’ রেখে রাজ্যের সিইও ‘অতি সক্রিয়তা’ দেখাচ্ছেন। সিইওর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে বলেও জানান তিনি। মমতা হুঁশিয়ারিও দেন সিইও-কে। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন অসন্তুষ্ট বলে খবর। কমিশনের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের সময় মুখ্যসচিব কী ভাবে উপস্থিত ছিলেন? তাঁর উচিত ছিল বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া। সিইও দফতরের এক আধিকারিক জানান, এই (সিইও) পদমর্যাদার কোনও অফিসারের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া প্রকাশ্যে এ ভাবে দুর্নীতির অভিযোগ করা যায় না। লোকপাল আইন অনুযায়ী, কোনও সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করতে হলে লিখিত স্বীকারোক্তি দিতে হয়। এমনকি, সেই অভিযোগ সঠিক না হলে অভিযোগকারীর জেল এবং জরিমানাও হতে পারে। কমিশনের এক আধিকারিক জানাচ্ছেন, লোকপাল আইনের ওই অংশটি মুখ্যসচিবের জানা উচিত। তাই কমিশনের বক্তব্য, সেই সময়ে তাঁর ওই বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া উচিত ছিল।

সিইও মনোজের বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতির অভিযোগ’ প্রকাশ করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে শুক্রবার চ্যালেঞ্জ ছোড়েন শুভেন্দু। সিইও-র দফতরে এসে মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্য নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘‘মনোজ আগরওয়াল কী করছেন, মুখ্যমন্ত্রী না বললে দীপাবলির পরে সিইও দফতরে ধর্না দেব। কেন কমিশনের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সব আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়নি। দু’জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি কেন?’’ এ বিষয়ে তিনি সিইও দফতরে একটি লিখিত অভিযোগ দিতে এসেছেন বলেও জানান। তিনি বলেন, ‘‘অভিযোগ জানানো হয়েছে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছেও। বিষয়টি খুবই গুরুতর। রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থের উপস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি সিইও-কে আক্রমণ করেছেন। উনি (মুখ্যমন্ত্রী) বলেছেন, সিইও বেড়ে খেলছে। এই ভাষা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। সরাসরি কমিশনকে হুমকি।’’ মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে সিইও দফতরে শুভেন্দু যে চিঠি দিয়েছেন, তাতে ওই বৈঠকে মুখ্যসচিবের উপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন। সেই চিঠি নির্বাচন কমিশনকে পাঠিয়েছে সিইও-র দফতর। তাদের বক্তব্য, কমিশনে কেউ কোনও অভিযোগ জানালে সিইও দফতর নিয়ম মেনেই তা দিল্লিতে পাঠিয়ে দেয়। বিরোধী দলনেতার ক্ষেত্রেও সেই পদ্ধতি মানা হয়েছে। মমতা অভিযোগ করে জানান, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের ‘বসিয়ে’ রেখে রাজ্যের সিইও ‘অতি সক্রিয়তা’ দেখাচ্ছেন। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেছেন, ‘‘বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বেশি দড়! রাজ্যের সিইও-র বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। সময় হলে বলব। তিনি নিজে নানা দুর্নীতিতে অভিযুক্ত। আশা করব, তিনি বেশি বেড়ে খেলবেন না!’’ এই নিয়েই কমিশন অসন্তুষ্ট বলে খবর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles