Monday, July 27, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

স্বপ্নের দৌড় থামল কিবু ভিকুনার ছেলেদের! ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ ডায়মন্ড হারবারের, আবার ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন নর্থইস্ট ইউনাইটেড

নর্থইস্ট: ৬ (আশির, পার্থিব, থই, জাইরো, রদ্রিগেজ, আলাদিন)
ডায়মন্ড হারবার: ১ (লুকা)

ডুরান্ডের ফাইনালে নর্থইস্টের কাছে আধ ডজন গোল হজম করে রানার্স অভিষেকের দল। ফাইনালে এসে স্বপ্নভঙ্গ! ডুরান্ড ফাইনালে নর্থইস্টের কাছে হেরে স্বপ্নের দৌড় থামল ডায়মন্ড হারবার এফসি’র। অথচ প্রথম গোল হজম করার আগে অসাধারণ খেলছিলেন লুকা মায়সেন, জবি জাস্টিনরা। যুবভারতীতে ৬-১ গোলে জিতল জন আব্রাহামের দল। পর পর দু’বার ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন। গত বার ফাইনালে মোহনবাগানকে হারিয়েছিল নর্থইস্ট। এ বার বাংলার আর এক ক্লাবকে হারাল। বিপক্ষের দলটা যে চ্যাম্পিয়ন টিম, তা প্রমাণ করলেন জুয়ান পেদ্রো বেনালির ছেলেরা। প্রতিপক্ষকে প্রথমে মেপে নিয়ে যে খেলাটা খেলল নর্থইস্ট, তা তারিফযোগ্য। দলকে উজ্জীবিত করার জন্য যুবভারতীতে উপস্থিত ছিলেন নর্থইস্টের অন্যতম কর্ণধার জন আব্রাহাম। তাঁর সামনেই ডায়মন্ড হারবারকে ৬-১ গোলে হারিয়ে পরপর দু’বার ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন হল ‘হাইল্যান্ডার্স’রা। ৩ মিনিটের মধ্যেই গোলের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল নর্থইস্ট। আলাদিন আজারাইরার দূরপাল্লার শট মিরশাদের দস্তানায় প্রতিহত হয়ে চলে যায় পার্থিব গোগোইয়ের কাছে। তাঁর হেডও বাঁচান ডায়মন্ড গোলরক্ষক। এরপর নিজেদের মধ্যে বল দেওয়া-নেওয়ার খেলায় মন দেয় ডায়মন্ড হারবার। ৮ মিনিটে জবি জাস্টিন দূরপাল্লার শট নিয়েছিলেন বটে। কিন্তু মাটিঘেঁষা সেই শট ছিল বেশ দুর্বল। এরপর অনেকবারই আক্রমণ শানায় কিবু ভিকুনার ছেলেরা। ১৭ মিনিটে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন নর্থইস্টের রিদিম তিলং। এর ঠিক পরের মিনিটেই জবির গোছানো সেন্টার পেয়েও গোল করতে পারলেন না মিকেল।

২৩ মিনিটে গিরিক খোসলার ক্রস থেকে জবির হেড কোনও রকমে বাঁচান নর্থইস্ট গোলকিপার। ২৭ মিনিটে জবির শট সাইড নেটে লাগে। ৩০ মিনিটে আশির আখতারের গোলে এগিয়ে যায় নর্থইস্ট। এক্ষেত্রে ডায়মন্ড গোলরক্ষক মিরশাদকে দায়ী করা যায়। ৩৫ মিনিটে সুযোগ নষ্ট নর্থইস্টের। পার্থিব গোগোইয়ের শট দারুণভাবে বাঁচান মিরশাদ। ফিরতি বলে মিস করে থই সিং। ৩৮ মিনিট ফাঁকা গোলে ঠেলতে ব্যর্থ হন চেমা। বিরতির ঠিক আগে পার্থিব গোগোইয়ের বাঁকানো শটে ব্যবধান বাড়ায় নর্থইস্ট। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় নর্থইস্ট। ম্যাচে ফিরতে গেলে দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত কিছু করতে হত ডায়মন্ড হারবারকে। কিন্তু সেটা হতে দেয়নি নর্থইস্ট। ৫০ মিনিটে এগিয়ে যায় নর্থইস্ট। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে ক্ষিপ্র গতিতে ডায়মন্ডের বক্সে ঢুকে পড়েন আলাদিন। ডান পায়ের ইনস্টেপে অনবদ্য বল বাড়ান থই সিংকে। অরক্ষিত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা থই সিং বল জালে জড়িয়ে দিতে কোনও ভুল করেননি। ৬০ মিনিটে চতুর্থ গোলে এগিয়ে যেতে পারত নর্থইস্ট। বাঁ দিক থেকে বল পেয়ে একাই উঠে গিয়েছিলেন আলাদিন। বাঁ পায়ে শটও নিয়েছিলেন। যদিও তা পোস্টের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৬৮ মিনিটে কর্নার থেকে হেড করেছিলেন জবি। জটলার মধ্যে লুকার মুখে লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়। এই গোলের পরও অবশ্য ম্যাচে ফিরতে পারেনি ডায়মন্ড হারবার। ৮১ মিনিটে জাইরো বুস্তারার গোল করে ব্যবধান বাড়ায় নর্থইস্ট। ফ্রি-কিক থেকে ডায়মন্ড গোলরক্ষক ঠিকমতো বল ক্লিয়ার করতে পারেননি। ফিরতি বলে জাইরো বুস্তারার সহজেই গোল করে। এখানেই শেষ নয়, ৮৬ মিনিটে আলাদিনের সেন্টার থেকে গোল করে নর্থইস্টের পক্ষে স্কোর লাইন ৫-১ করেন আন্দ্রে রদ্রিগেজ। অতিরিক্ত সময়ে (৯০+৩) মিনিটে পেনাল্টি থেকে নর্থইস্টের পক্ষে ষষ্ঠ গোল করেন আলাদিন। ডুরান্ডে আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন সফল হল না বাংলার ক্লাবের। অন্যদিকে, ডায়মন্ড হারবারকে হারিয়ে ডুরান্ড কাপ নিজেদের কাছেই রাখল নর্থইস্ট।

এদিকে, নতুন মাইলফলক অর্জন মোহনবাগানের। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ফুটবল অ্যানালিস্ট সংস্থা অপ্টার র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশের সেরা ক্লাব মোহনবাগান। সাম্প্রতিক অতীতে দুরন্ত ছন্দে দেখা গিয়েছে সবুজ-মেরুনকে। গত মরশুমে দ্বিমুকুট জয়ী হয়েছে গোষ্ঠ পাল সরণির ক্লাব। জিতে নিয়েছে আইএসএল শিল্ড এবং কাপ। এবার ধারাবাহিক এই সাফল্যের পুরস্কার পেল। অপ্টার বিচারে দেশের ১ নম্বর ক্লাব মোহনবাগানের গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিং ১৭২৭। খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে, এশিয়ার মধ্যে কত নম্বরে রয়েছে মোহনবাগান? এশিয়ায় সবুজ-মেরুন রয়েছে ১৮৬ নম্বরে। এশিয়ার মধ্যে এফসি গোয়া রয়েছে ২০৪ নম্বরে। তাদের গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিং ১৮৪২। মোহনবাগানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল রয়েছে এশিয়ায় ৪৫০ নম্বরে। এশিয়ার মধ্যে ক্রমতালিকায় শীর্ষে দুই ক্লাব যথাক্রমে আল হিলাল এবং আল নাসের। দেশের মধ্যে শীর্ষ মোহনবাগানের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এফসি গোয়া। মুম্বই সিটি (গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিং ২৫৬০), বেঙ্গালুরু এফসি (২৯৩৮), ওড়িশা এফসি (৩০৬১) রয়েছে যথাক্রমে তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম স্থানে। দেশের মধ্যে দশম স্থানে ইস্টবেঙ্গল। লাল-হলুদের গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিং ৪০৮০। কলকাতার আরেক প্রধান মহামেডান ক্রমতালিকায় ১৩ নম্বরে। তাদের গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিং ৫৮৬০। অন্যদিকে, ডায়মন্ড হারবার এফসি রয়েছে দেশের মধ্যে ২৬ নম্বরে। তাদের গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিং ৯৪২৩। ডুরান্ড ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ নর্থইস্ট ইউনাইটেড দেশের মধ্যে সপ্তম স্থানে। গ্লোবাল র‍্যাঙ্কিংয়ে তারা ৩৪৫৮। দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে উঠে আসার পর মোহনবাগান শিবিরে খুশির হাওয়া। মোহনবাগানের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু’য়ের অভিযান শুরু হচ্ছে ১৬ সেপ্টেম্বর। গ্রুপ পর্বে মোহনবাগান খেলবে ইরানের সেপাহান এসসি, জর্ডনের আল হুসেইন ও তুর্কমেনিস্তানের আহাল এফসির বিরুদ্ধে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles