RK NEWZ রুপোর পদক বাবা-মা এবং কোচ বিজয় শর্মাকে উৎসর্গ করেছেন তিনি। তবে সোনা হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ যাচ্ছে না তামিলনাড়ুর ভারোত্তোলকের। চার বছর আগে কমনওয়েলথ গেমসে সুযোগই পাননি। এবার সেই মঞ্চেই রুপোলি সাফল্য। একটা সময় চোট তাঁকে ভুগিয়েছিল। কেরিয়ার শেষ হয়ে যাওয়ার ভ্রূকুটি থেকে দলে জায়গা না পাওয়ার যন্ত্রণাও বিদ্ধ করেছিল। সেই সব হতাশা কাটিয়ে গ্লাসগোয় পুরুষদের ৬৫ কেজি বিভাগে দেশকে চতুর্থ পদক এনে দিলেন রাজা মুথুপান্ডি। স্ন্যাচ এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে মোট ২৮৬ কেজি ভার তুলে রুপো জিতলেন ভারতীয় ভারোত্তোলক। শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি তামিলনাড়ুর মুথুপান্ডির। স্ন্যাচে প্রথম প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হলেও ১২৬ কেজি তুলে দ্রুত ছন্দে ফেরেন। ততক্ষণে ১৩৩ কেজি তুলে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছেন বিদিন। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৫৮ কেজিতে ব্যর্থ হওয়ার পর সাহসী সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় ভারোত্তোলক। ওজন বাড়িয়ে ১৬০ কেজি তোলেন। সাময়িক ভাবে গেমস রেকর্ডও তাঁর দখলে আসে। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই ১৬৬ কেজি তুলে সেই রেকর্ড ভেঙে দেন বিদিন। শেষ প্রচেষ্টায় ১৭০ কেজি তোলার ঝুঁকি নিয়েছিলেন মুথুপান্ডি। সফল হলে সোনার সম্ভাবনা থাকত। সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও রুপো আটকায়নি। কে এই রাজা মুথুপান্ডি? ২০১৯ সালের কমনওয়েলথ ওয়েটলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে স্ন্যাচের সময় ডান কনুইয়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গিয়েছিল তাঁর। অস্ত্রোপচারের পরে দীর্ঘ দিন প্রতিযোগিতার বাইরে ছিলেন। চোট সারলেও ২০২২ সালের কমনওয়েলথ গেমসের ভারতীয় দলে জায়গা পাননি। সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে ২০২৪ সালে জাতীয় রেকর্ড গড়েন। ২০২৫ সালে কমনওয়েলথ চ্যাম্পিয়নশিপে রুপো জেতেন। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্স করেন। আর এবার গ্লাসগোয় রুপো জিতলেন। সোনা হাতছাড়া হওয়ায় খুশি নন মুথুপান্ডি। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে বলেন, “সোনা জিততে না পারায় হতাশ। কোচ আমার উপর ভরসা রেখেছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, সোনা জিততে পারব। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। রুপোর পদক বাবা-মা এবং কোচ বিজয় শর্মাকে উৎসর্গ করছি। এখান থেকে যা শিখলাম, তা কাজে লাগিয়ে আরও মন দিয়ে অনুশীলন করব। কোচের নির্দেশ মেনে কঠোর পরিশ্রম করব, যাতে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল করতে পারি।” এই ইভেন্টের সোনার পদক মালয়েশিয়ার আজনিল বিন বিদিন মুহাম্মদের ঝুলিতে। ২৯৯ কেজি তুলে গেমস রেকর্ড গড়ে তিনি টানা তৃতীয় বার কমনওয়েলথ গেমসে সেরার মুকুট পরলেন। ব্রোঞ্জ পেলেন পাপুয়া নিউ গিনির মোরিয়া বারু। উল্লেখ্য, মীরাবাঈ চানুর সোনা এবং ঋষিকান্ত সিংয়ের রুপোর পর মুথুপান্ডিও রুপো জিতলেন। ভারোত্তোলন ও প্যারা পাওয়ারলিফটিং মিলিয়ে ভারতের পদকসংখ্যা পৌঁছল চারে। যার মধ্যে একটি সোনা, দু’টি রুপো, একটি ব্রোঞ্জ। সোমবার ভারোত্তোলনে বিন্দিয়ারানি দেবী (৫৮ কেজি), ভল্লুরি অজয় বাবু (৭৯ কেজি) এবং জ্ঞানেশ্বরী যাদব (৫৩ কেজি) নামবেন পদকের লড়াইয়ে।




