RK NEWZ রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই রাজ্যে চালু হয়েছে ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’। কিন্তু তা শর্তসাপেক্ষ। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট শর্তপূরণ না করতে পারলে প্রকল্পের আওতাভুক্ত হওয়া যাবে না। শর্ত ও বিধির বেড়াজালে যাঁরা ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’য় নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য পৃথক স্বাস্থ্যবিমার ঘোষণা করেছিল রাজ্য। অবশেষে সেই ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’র বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে স্বাস্থ্য ভবন। শনিবার জারি হওয়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে— যাঁরা ইতিমধ্যে ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’র সুবিধা পান না, রাজ্যের সেই সব স্থায়ী বাসিন্দারা এই যোজনার আওতায় আসবেন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন এই স্বাস্থ্যবিমা যোজনার মূল উদ্দেশ্য, সাধারণ মানুষকে জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা সংক্রান্ত আর্থিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা। প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে বেশ কিছু শর্তাবলি আরোপ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যে সমস্ত পরিবারের বার্ষিক আয় ৮ লক্ষ টাকার বেশি, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে না। পাশাপাশি, ওয়েস্ট বেঙ্গল হেল্থ স্কিম ২০০৮, কেন্দ্রীয় সরকারের হেল্থ স্কিম (সিজিএইচএস) ১৯৫৪, ইএসআই স্কিম বা কেন্দ্র ও রাজ্যের কোনও পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও নগর স্বায়ত্ত্বশাসন সংস্থার অধীনে থাকা কোনও কর্মগোষ্ঠী বা পেনশনভোগী ব্যক্তি সংস্থা প্রদত্ত স্বাস্থ্যবিমার আওতায় থাকলে এই বিমায় নাম নথিভুক্ত করাতে পারবেন না। এ ছাড়াও, যাঁরা নিয়মিত চিকিৎসা ভাতা পান, ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা প্রবীণ নাগরিক এবং এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া বা স্থানান্তরিত ব্যক্তিরা এর বাইরে থাকবেন। তবে যাঁদের সিএএ বা এসআইআর ট্রাইবুনালে আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁরা এই সুবিধা পাবেন।
এই যোজনায় আওতাভুক্ত পরিবারগুলি বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নগদহীন (ক্যাশলেস) স্বাস্থ্যবিমার সুযোগ পাবে। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য থাকবে পৃথক কার্ড। পূর্ববর্তী সমস্ত অসুখ বা প্রাক্-বিদ্যমান শারীরিক সমস্যাও এই বিমার আওতাভুক্ত থাকবে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনও ‘রিইমবার্সমেন্ট’ সুবিধা থাকবে না, অর্থাৎ সম্পূর্ণটাই হবে নগদহীন। ডিজিটাল ব্যবস্থার উপর বিশেষ জোর দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রথম দিন থেকেই এই প্রকল্পের নজরদারি চলবে পুরোপুরি আইটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। নাম নথিভুক্তকরণ, হাসপাতালে ভর্তি ও ছুটির সময়ে আধারভিত্তিক বায়োমেট্রিক বা ডিজিটাল যাচাইকরণ এবং আভা আইডি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। চিকিৎসার ধরন এবং নির্দেশিকা অনুসরণ করা হবে আয়ুষ্মান ভারত স্কিমের নিয়ম মেনেই। চলতি মাসের গোড়ার দিকে রেজিনগরের জনসভা থেকে এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছিলেন, ‘‘আয়ুষ্মান ভারত যাঁরা পাবেন না, তাঁরা পাবেন মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। এই প্রকল্পে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমার সুবিধা পাওয়া যাবে। এই কার্ডের সুবিধা শুধুমাত্র এ রাজ্যে নয়, সারা ভারতে যাতে পাওয়া যায়, সে ব্যাপারে নিশ্চিত করবে রাজ্য সরকার।’’ গত বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভা ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’ প্রকল্পে সিলমোহর দেয়। রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই রাজ্যে চালু হয়েছে ‘আয়ুষ্মান ভারত যোজনা’। কিন্তু তা শর্তসাপেক্ষ। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট শর্তপূরণ না করতে পারলে প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারবেন না নাগরিকেরা। সেই কারণেই বিকল্প ব্যবস্থা করল শুভেন্দুর সরকার।



