বিশ্বজয়ী। ১৯ বছরের তরুণী। বিশ্বচ্যাম্পিয়ান। দাবা বিশ্বকাপে ইতিহাস দিব্যা দেশমুখ। ভারত থেকে যে প্রথম বার মহিলাদের দাবা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে তা আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল। ফাইনাল ছিল ৩৮ বছরের কোনেরু হাম্পি বনাম ১৯ বছরের দিব্যা দেশমুখ। বাজিমাত করলেন দিব্যা। শেষ পর্যন্ত কিস্তিমাত ১৯ বছরের এই তরুণীর। টাইব্রেকারে হারালেন হাম্পিকে। দ্বিতীয় র্যাপিড গেম জিতে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দিব্যা। দুটো ক্লাসিক্যাল গেম ড্র হওয়ায় খেলা গড়িয়েছিল টাইব্রেকারে। সেখানে প্রথম র্যাপিড গেমে সাদা ঘুঁটি নিয়ে খেলেন দিব্যা। শুরু করেন ‘পেট্রভ’স ডিফেন্স’ দিয়ে। দুই প্রতিযোগীর আক্রমণাত্মক খেলায় দ্রুত চাল বিনিময়। ড্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন দিব্যা ও হাম্পি। দ্বিতীয় র্যাপিড গেমে সাদা ঘুঁটি নিয়ে খেলেন হাম্পি। শুরু করেন ‘কুইন্স গ্যাম্বিট’ দিয়ে। কালো ঘুঁটি নিয়ে খেললেও দিব্যা জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে সময় কম নিচ্ছিলেন। অন্য দিকে হাম্পি চাল দিতে সময় নিচ্ছিলেন বেশি। ঘড়িতে সময় কমছিল। এক সময় ৮ মিনিট এগিয়ে ছিলেন দিব্যা। বাধ্য হয়ে ড্র করার চেষ্টা করেন হাম্পি। পারেননি। চাপের মুখে একটা ভুল চাল দিয়ে ফেলেন হাম্পি। সেটাই কাজে লাগান দিব্যা। ৩৪ চালের পর হার মেনে নিতে বাধ্য হন হাম্পি। মহিলা বিশ্বকাপ ফাইনালের টাইব্রেকারে ২.৫-১.৫ স্কোরে ভারতীয় সতীর্থ কোনেরু হাম্পিকে পরাজিত করেছেন দিব্যা। এর ফলে দাবায় প্রথম মহিলা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পেল ভারত। এর আগে দু’টো ক্লাসিকাল গেম ড্র হওয়ার পর ম্যাচ গড়িয়েছিল টাইব্রেকারে। প্রথম র্যাপিড গেমে সাদা ঘুঁটি নিয়ে খেলেন দিব্যা।

অভিজ্ঞতায় হাম্পির থেকে অনেক পিছিয়ে ছিলেন দিব্যা। বাজিমাত করলেন আগ্রাসন কাজে লাগিয়ে। গোটা প্রতিযোগিতায় আক্রমণাত্মক খেলেছেন। তুলনায় হাম্পিকে অনেক বেশি রক্ষণাত্মক দেখিয়েছে। নিজের দ্বিগুণ বয়সি হাম্পিকে হারিয়ে প্রথম বার বিশ্বকাপ জিতে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে দিব্যা কেঁদে ফেলেন। পর পর দু’দিন দুটো ক্লাসিক্যাল গেম হয়েছে। ক্লাসিক্যালে প্রথম ৪০ চালের জন্য ৯০ মিনিট সময় পান দাবাড়ুরা। তার পর আরও ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়। প্রতি চালের পর ঘড়িতে ৩০ সেকেন্ড করে সময় বেড়ে যায়। শনিবার প্রথম গেমে সাদা ঘুঁটি নিয়ে খেলেছিলেন দিব্যা। তিনি সেখানে শুরু করেছিলেন ‘কুইন্স গ্যাম্বিট’ দিয়ে। প্রথম গেম হওয়ায় দুই প্রতিযোগীর কেউ বেশি ঝুঁকি নিতে চাননি। তার মাঝেই কয়েকটা ভাল চাল দিয়েছিলেন হাম্পি। ভাল জায়গায় ছিলেন তিনি। কিন্তু দিব্যা হার মানেননি। ৩১ চালের পর ড্র হয় সেই ম্যাচ। এগিয়ে থেকেও জিততে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেছিলেন হাম্পি।

সাদা ঘুঁটি নিয়ে খেলেন হাম্পি। ৩৪ চালের পর হাম্পিকে কিস্তিমাত করেন দিব্যা। দাবায় সাদা ঘুঁটি নিয়ে যিনি খেলেন তিনিই সাধারণত সুবিধা পান। কিন্তু হাম্পি শুরুতে কিছুটা রক্ষণাত্মক খেলেন। ‘এ০৬ জুকারটর্ট ওপেনিং’ দিয়ে শুরু করেন হাম্পি। দিব্যার তুলনায় তাঁর অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। নিজের অর্ধেক বয়সি প্রতিযোগীর বিরুদ্ধেও শুরুতে ঝুঁকি নিতে চাননি হাম্পি। তুলনায় দিব্যা অনেক বেশি আক্রমণাত্মক চাল দিতে থাকেন। ফলে প্রথম দিকে চাল দিতে সময় লাগছিল হাম্পির। দেশমুখের বর্তমান রেটিং পয়েন্ট ২৪৬৩। তাঁর সর্বোচ্চ রেটিং ২৫০১। গত বছরের অক্টোবরে এই পয়েন্ট অর্জন করেছিলেন তিনি। ২০২১ সালে দিব্যা ভারতের ২১তম মহিলা গ্র্যান্ডমাস্টার হয়েছিলেন দিব্যা। ২০২২ সালের মহিলা ভারতীয় দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিলেন। ওই বছরেই দাবা অলিম্পিয়াডে ব্রোঞ্জ পদক জয়ী হয়েছিলেন। এর আগে ২০২০ সালের ফিডে অনলাইন অলিম্পিয়াডে ভারতের স্বর্ণপদক জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন দিব্যা।




