Thursday, July 23, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

আজ ২৯ জুলাই, ‘মোহনবাগান ডে’! সবুজ-মেরুন জনতার আবেগের বহি:‌প্রকাশের দিন

২৯ জুলাই ১৯১১, গর্বের মোহনবাগান দিবসে আমূল বদলে গিয়েছিল ভারতীয় ফুটবলের মানচিত্র। এগারোজন বাঙালির অদম্য জেদের সামনে টলে গিয়েছিল দৃঢ়চেতা ব্রিটিশবাহিনী। আইএফএ শিল্ড ফাইনাল ম্যাচে ইংরেজ দল ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টের বিপক্ষে খালি পায়ে খেলতে নেমেছিল একদল সবুজ-মেরুন জার্সিধারী। এর আগেই পরপর চারটি মিলিটারি দলকে হারিয়েছিল মোহনবাগান। তবু ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ পিছু ছাড়েনি। শ্বেতাঙ্গ মালিকদের কাছে প্রায়শই অপমানিত হতে হত বাঙালি অফিস কেরানিদের। সাধারণ মানুষকেও চড়-থাপ্পড় খেতে হত সেনাবাহিনীর হাতে। উত্তর কলকাতার অন্য যেসব ক্লাবেরা মোহনবাগানের শিল্ডে সুযোগ পাওয়া নিয়ে অখুশি ছিল, তারা লিফলেট বিলি করেছিল মোহনবাগান কতখানি অযোগ্য, তা জানিয়ে। সমস্ত অপমানের জবাব দেওয়ার এক মোক্ষম সুযোগ পাওয়া গিয়েছিল। প্রখর দীপ্তিতে জ্বলে উঠেছিল মোহনবাগান। গোলে ছিলেন হীরালাল মুখোপাধ্যায়। ব্যাকে এস সুকুল ও সুধীর চট্টোপাধ্যায়। হাফ-ব্যাকে মনমোহন মুখোপাধ্যায়, রাজেন সেনগুপ্ত ও নীলমাধব ভট্টাচার্য। ফরোয়ার্ডে যতীন রায়, হাবুল সরকার, অভিলাষ ঘোষ, বিজয়দাস ভাদুড়ী ও শিবদাস ভাদুড়ী। দুই দলের মাঝে চলল এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, যা শেষ হল মোহনবাগানের ঐতিহাসিক জয়ে। আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে উঠল জয়ধ্বনিতে। মোহনবাগানের জয়ের বার্তা লিখে ঘুড়ি ওড়ানো হল। ‘অমর একাদশ’ হয়ে উঠলেন বাঙালির হিরো। খালি পা-ই হয়ে উঠল বাঙালি পৌরুষের প্রতীক। মোহনবাগানের এই জয়ের পর কবি করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায় ‘মানসী’ পত্রিকার আশ্বিন, ১৩১৮ সংখ্যায় লিখেছিলেন “জেগেছে আজ দেশের ছেলে পথে লোকের ভিড়,/ অন্তঃপুরে ফুটল হাসি বঙ্গরূপসীর।/ গোল দিয়েছে গোরার গোলে বাঙালির আজ জিত,/ আকাশ ছেয়ে উঠছে উধাও উন্মাদনার গীত।/ আজকের এই বিজয়বাণী ভুলবে নাকো দেশ,/ সাবাশ সাবাশ মোহনবাগান! খেলেছ ভাই বেশ!” মোহনবাগানের শিল্ড জয় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অনুঘটকের কাজ করেছিল। এই জয়ের হাত ধরে জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম এগিয়ে গিয়েছিল আরও বেশ কয়েক ধাপ।

বিশেষ দিন। সারা বছর তাকিয়ে থাকা। সবুজ-মেরুন জনতার আবেগ। প্রাক্তন সভাপতি টুটু বোসের ‘মোহনবাগান রত্ন’ প্রাপ্তি। আবেগ-ঐতিহ্য মিলে মিশে একাকার। ‘মোহনবাগান ডে’ একেবারেই অন্যরকম। উচ্ছ্বাসের মাত্রা অন্যরকম। প্রতি বছরের মতো এবারও ব্যাতিক্রম নেই সাজসজ্জায়। ক্লাব চত্বর আলোকমালায় সজ্জিত। বৃষ্টি, দুর্যোগের মধ্যেও সমর্থকদের উৎসাহ-উদ্দীপনা। গান বাজছে ক্লাব জুড়ে। ক্লাব সচিব সৃঞ্জয় বোস সদস্য-সমর্থকদের মধ্যে ‘মোহনবাগান ডে’ পাস বিলি করেন। মঙ্গলে মোহনবাগান ডে’র অনুষ্ঠান শুরু। সকাল ৯টাতেই মোহনবাগান লেন থেকে যাত্রার পর অমর একাদশকে মালা পরিয়ে সেখান থেকে মশাল যাত্রা ক্লাবের উদ্দেশে। অমর একাদশকে মালা পরালেন ক্লাব সচিব সৃঞ্জয় বোস, সভাপতি দেবাশিস দত্ত। মশাল নিয়ে পদযাত্রা শহরের বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে এসে শেষ হবে মোহনবাগান ক্লাবে রাখা জ্বলন্ত মশাল। ‘মোহনবাগান ডে’র অনুষ্ঠান শুরুর পর দুপুর থেকে একে একে পরপর অনুষ্ঠান। বিকেলে ক্লাব মাঠে প্রাক্তন ফুটবলারদের ফুটবল ম্যাচ। মোহনবাগান ডে হচ্ছে, প্রাক্তন মোহনবাগান ফুটবলারদের ‘রি ইউনিয়ন।’ সবুজ-মেরুন তাঁবু মুখরিত প্রাক্তন ফুটবলারদের পদচারণায়। মূল অনুষ্ঠান সন্ধ্যায় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সৌরেন্দ্র আর সৌম্যজিতের গানের মাধ্যমে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। সেরা ফুটবলার, সেরা স্ট্রাইকার, সেরা ক্রিকেটার, অ্যাথলেট এরকম নানাবিধ পুরস্কার প্রদানের মাহেন্দ্রক্ষণ। প্রাক্তন সভাপতি স্বপন সাধন বোস, যিনি টুটু বোস নামে অধিক জনপ্রিয়, মঞ্চে ‘মোহনবাগান রত্ন’ সম্মান গ্রহন। শেষে ইমন চক্রবর্তীর সঙ্গীত পরিবেশন।

মোহনবাগান দিবসের শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ এই দিনে পত্রযোগে বার্তা দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। মোহনবাগান দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আজ ২৯ জুলাই। মোহনবাগান দিবস নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে উদযাপন করা হবে জেনে খুবই আনন্দিত। কেবল মোহনবাগানের ইতিহাসেই নয়, ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসেও দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯১১ সালের এই দিনেই মোহনবাগান প্রথম ভারতীয় ক্লাব হিসেবে ব্রিটিশ দলকে হারিয়ে ঐতিহ্যশালী আইএফএ শিল্ড জিতেছিল। যা খেলাধুলার ঊর্ধ্বে গিয়ে জাতীয় গর্বের প্রতীক হয়ে ওঠে। এটি নিছকই কেবল জয় নয়, বরং এক অপরিসীম গৌরবের মুহূর্ত ছিল। যা লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে দেশপ্রেমের উচ্ছ্বাস জাগিয়ে তুলেছিল। গর্বের এই মুহূর্তে আমি সমগ্র মোহনবাগান পরিবারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং শুভকামনা জানাই। শতাব্দী প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানটি আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে আরও উচ্চতায় আসীন হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles