Thursday, July 23, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

‘দ্বিতীয় হৃদযন্ত্র’ নেপথ্যে কঠিন শরীরতত্ত্ব?‌ অতিরিক্ত ঘুম মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে!

শরীরের প্রতিটি অঙ্গের নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে। দেহের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রগুলির কথা উঠলেই মনে পড়ে ব্রেন, হার্ট, লিভার কিংবা কিডনির কথা। কিন্তু এর বাইরেও এমন কিছু অঙ্গ আছে যেগুলি নীরবে নিজের কাজ করে যায়। তেমনই একটি অঙ্গ হল পায়ের কাফ মাসল। চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রায়শই একে বলা হয় ‘দ্বিতীয় হৃদযন্ত্র’। নেপথ্যে কঠিন শরীরতত্ত্ব ও রক্তসঞ্চালনের গভীর বিজ্ঞান। কাফ মাসল বলতে মূলত দু’টি পেশিকে বোঝানো হয়- গ্যাস্ট্রোকনিমিয়াস ও সোলিয়াস। এই দুটি পেশি পায়ের পেছনের অংশে হাঁটু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত বিস্তৃত। আপনি যখন হাঁটেন, দৌড়ন বা সিঁড়ি ওঠেন, তখন এই মাসলগুলিই পায়ের চাপ ও দেহের ভার বহন করে। আসল হৃদযন্ত্র প্রতিনিয়ত রক্ত পাম্প করে শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে। কিন্তু ভেবে দেখুন হার্ট উপরের দিকে থাকে আর পা নিচের দিকে। তাই নিচের অর্থাৎ পা পর্যন্ত রক্ত পাঠানো যতটা সহজ, উল্টো দিক থেকে সেই রক্ত আবার উপরের দিকে পা থেকে হৃদপিণ্ডে ফেরত পাঠানো ততটাই কঠিন। এখানেই বড় ভূমিকা নেয় কাফ মাসল। এই মাসলগুলি যখন সংকুচিত হয় (চলাফেরা বা ব্যায়ামের সময়), তখন তা পায়ের শিরাগুলিতে চাপ ফেলে এবং নিচ থেকে রক্ত উপরের দিকে ঠেলে দেয়। এই কাজ অনেকটা হৃদযন্ত্রের রক্ত পাম্প করার মতো। তাই একে বলা হয় ‘দ্বিতীয় হার্ট’ বা ‘প্রান্তিক হার্ট’ বলা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকা বা এক জায়গায় বসে থাকার ফলে কাফ মাসলের কাজ ব্যাহত হয়। তখন রক্ত নীচের দিকে জমা হতে থাকে, শিরার ওপর চাপ বাড়ে। এর ফলে ভ্যারিকোজ ভেইন, পা ফোলা, এমনকি ডিপ ভেইন থ্রোম্বোসিস-এর মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষত অফিসে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি। তাই বর্তমানে চিকিৎসকেরা বসে কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে সামান্য হাঁটাহাঁটির পরামর্শ দিচ্ছেন। যাতে কাফ মাসলের স্বাভাবিক সংকোচন-প্রসারণ অব্যাহত থাকে। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট হেঁটে কাফ মাসলকে সক্রিয় রাখতে হবে। বিশেষ কিছু কাফ স্ট্রেচ ও পায়ের ব্যায়াম রক্ত সঞ্চালন বাড়তে সাহায্য করে। শরীরে পর্যাপ্ত জল থাকলে রক্তের ঘনত্ব স্বাভাবিক থাকে। জল কম খেলে রক্তের ঘনত্ব বেড়ে যায়। ফলে পেশির সংকোচন ও প্রসারণে সমস্যা হয়। ‘দ্বিতীয় হৃদযন্ত্র’ নিরবধি কাজ করে চলেছে। রক্ত ফিরিয়ে আনছে হার্টে। তাকে অবহেলা করলে ক্ষতি কিন্তু হবে আপনারই। পায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ মাসলকে সক্রিয় রাখতে হবে।

মানুষের ঘুমের সময়সূচি নিয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক দিন ধরেই কৌতূহলী। সারা দিনে ঠিক কত ক্ষণ ঘুমোনো উচিত। রাতের ঘড়ির কাঁটা কখন যে ঘুরে যায়, হিসাব থাকে না। রাতে ঘুম কম হলে পরের দিন সকাল থেকে চোখেমুখে তার স্পষ্ট ছাপ পড়ে। চোখের নীচে কালি জমে, মাথা ভার হয়ে থাকে, অল্প কাজেই আসে ক্লান্তি। কম ঘুমের এই সমস্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আমাদের জানা। মানুষের ঘুমের সময়সূচি নিয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক দিন ধরেই কৌতূহলী। সারা দিনে ঠিক কত ক্ষণ ঘুমোনো উচিত, তা নিয়ে অনেকে অনেক রকম মতামত দিয়ে থাকেন। সম্প্রতি তেমনই একটি গবেষণায় উঠে এসেছে নতুন ধরনের তথ্য। বিজ্ঞানীদের দাবি, কম ঘুমের চেয়েও শরীরের বেশি ক্ষতি করতে পারে বেশি ঘুম! এমনকি, ঘুমের পরিমাণ অত্যধিক হয়ে গেলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে! দীর্ঘ দিন ধরে ঘুম সংক্রান্ত নানা পরিসংখ্যান ঘেঁটে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় ঘুম সংক্রান্ত আরও ৭৯টি সমীক্ষার ফলাফল খতিয়ে দেখা হয়েছে। গবেষকেরা অন্তত এক বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের, বিভিন্ন বয়সের মানুষের ঘুমের সূচি নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন, যে সমস্ত মানুষ কম ঘুমোন (এ ক্ষেত্রে রাতে সাত ঘণ্টার কম ঘুমের কথা বলা হয়েছে), তাঁদের মধ্যে মৃত্যুর সম্ভাবনা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। কিন্তু যাঁরা বেশি ঘুমোন (রাতে ন’ঘণ্টারও বেশি ঘুম), তাঁদের মধ্যে মৃত্যুর সম্ভাবনা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩৪ শতাংশ বেশি। স্বাভাবিক বলতে এখানে প্রতি রাতে অন্তত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমের কথা বলা হয়েছে। ২০১৮ সালেও ঘুম নিয়ে এই ধরনের একটি গবেষণা হয়েছিল। সেখানে ফলাফল প্রায় অনুরূপ ছিল। গবেষকেরা ৭৪টি সমীক্ষার ফল খতিয়ে দেখে জানিয়েছিলেন, রাতে ন’ঘণ্টার বেশি ঘুমোলে মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে ১৪ শতাংশ। বেশি ঘুমোনোর সঙ্গে সরাসরি মৃত্যুর কোনও সম্পর্ক নেই। তবে ঘুম বেশি হলে বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তা নিয়ে গবেষকেরা সতর্ক করেছেন। প্রথমত, বেশি ঘুম মানসিক অবসাদের অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে। এ ছাড়া, শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, হজমের অসুবিধা হতে পারে অতিরিক্ত ঘুমের কারণে। সবচেয়ে বেশি যেটা চোখে পড়ে, তা হল ওজন বৃদ্ধি। ঘুম বেশি হলে শরীরে বাড়তি মেদ জমে এবং ওজন বেড়ে যায়। তা বিভিন্ন জটিল রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অর্থাৎ, বেশি ঘুম মৃত্যুর কারণ নয়। বেশি ঘুম আসলে রোগব্যাধির কারণ, যা ভবিষ্যতে মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে। বেশি ঘুমোলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে। তা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ওষুধের প্রভাবে তাঁদের অতিরিক্ত ঘুম পেতে পারে। সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য তাঁদের বাড়তি ঘুম প্রয়োজন হতে পারে। আবার, অসুস্থ ব্যক্তিদের ঘুম কম হওয়াও স্বাভাবিক। হয়তো শারীরিক অসুস্থতার কারণেই অনেকে রাতে ঠিকমতো ঘুমোতে পারেন না। অতিরিক্ত ঘুম হতে পারে অসুস্থতার কারণ নয়, অসুস্থতার লক্ষণ। স্বাভাবিক ঘুমের পরিমাণ বেশি এবং কারও কম হতে পারে। ঘুম ব্যক্তিবিশেষের অভ্যাসের উপর নির্ভরশীল হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই বয়স হয়ে ওঠে অন্যতম বড় কারণ। গবেষণা অনুযায়ী, কৈশোরে তুলনামূলক বেশি ঘুম প্রয়োজন হয়। বয়স ১৩ থেকে ১৯ পর্যন্ত রাতে আট থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্ক যে কোনও মানুষের সাধারণ ভাবে প্রতি দিন সাত থেকে ন’ঘণ্টা ঘুম দরকার। বেশি বয়সে অনেকে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঘুমোন। তবে শারীরিক সমস্যা না থাকলে বাড়তি ঘুমের প্রয়োজন পড়ে না। পরিমিত গাঢ়, গভীর ঘুম শরীরের পক্ষে উপযোগী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles