Thursday, July 23, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

৩৯ জন স্ত্রীকে নিয়ে সুখেই থাকেন একই বাড়িতে!‌ ১০০ কামরার বাড়িতে থাকতেন বিশ্বের বৃহত্তম পরিবারের কর্তা!

৩৯ জন স্ত্রী। কর্তা একজনই। সকলকে নিয়েই ১০০ কামরার বাড়িতে থাকতেন। বিশ্বের বৃহত্তম পরিবারের কর্তা! ‘ছুয়ান থার রান’ বা ‘নিউ জেনারেশন হাউস’ নামের যে বাড়িতে জিয়ান বাস করতেন সেখানে স্ত্রীদের থাকার ঘরের বন্দোবস্তের নিয়ম ছিল অদ্ভুত। যে স্ত্রীকে তিনি সবচেয়ে শেষে বিয়ে করেছিলেন তাঁর ঘর ছিল জিয়নের ঘরের সবচেয়ে কাছে। যাঁকে তিনি প্রথম বিয়ে করে সংসার পেতেছিলেন তাঁর ঘর ছিল সবচেয়ে দূরে। মিজোরামের রাজধানী আইজল থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে বাকতাওয়াং গ্রাম। সেখানে ১০০ ঘরের একটি চারতলা প্রাসাদ। ৩৯ জন স্ত্রী, ৯৪ জন সন্তান-সন্ততি নিয়ে বাস। জিয়ংহাকা ওরফে জিয়ন। উত্তর-পূর্বের রাজ্য মিজ়োরাম। পাহাড়ি এই রাজ্যের বাকতাওয়াং গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন জিয়ংহাকা ওরফে জিয়ন। সেই গ্রামের অধিকাংশ অধিবাসীই ছিলেন জিয়নের পরিবারের সদস্য। ১০০ ঘরের একটি চারতলা ‘প্রাসাদে’ পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে থাকতেন জিয়ন।

পরিবারে ৩৯ জন স্ত্রী, ৯৪ জন সন্তান-সন্ততি! প্রথম বিয়ে ১৭ বছর বয়সে। সাবালক হওয়ার আগেই সংসার পেতেছিলেন জিয়ন। জিয়নের সংসারে ধীরে ধীরে স্থান করে নিয়েছিলেন আরও ৩৮ জন তরুণী। ১৯৪৫ সালে জন্ম। জিয়নের প্রথম স্ত্রী জাথিয়াঙ্গি ছিলেন তাঁর থেকে তিন বছরের বড়। একের পর এক বিয়ে করে গিয়েছেন। মিজোরামের রাজধানী আইজ়ল থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরের গ্রামটিতে জিয়ন তাঁর স্ত্রীদের নিয়ে একই ছাদের নীচে সংসার করতেন। প্রতি স্ত্রীর জন্য পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা করেছিলেন জিয়ন। নিজেও তাঁদের সঙ্গে বাস করতেন ওই একই বাড়িতে। তাঁর ঘরের লাগোয়া ঘরেই থাকতেন স্ত্রীরা। শুধু ৩৯ জন স্ত্রী নন, জিয়ন রেখে গিয়েছেন ৯৪ জন সন্তান, ১৪ জন পুত্রবধূ এবং ৩৩ জন নাতি-নাতনি। রেখে গিয়েছেন বলার কারণ হল ২০২১ সালে ৭৬ বছর বয়সে প্রয়াত হন ‘বিশ্বের বৃহত্তম পরিবার’-এর কর্তা জিয়ন। জিয়নের ডায়াবিটিস ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ছিল। তিন দিন ধরে বাকতাওয়াং গ্রামে বাড়িতেই চিকিৎসা চলেছিল তাঁর। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে আনার কিছু ক্ষণ পরেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। অনেক সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিশ্বে আর কারও এত জন স্ত্রী নেই। বাকতাওয়াং গ্রামে তাঁর চারতলা বাড়িটি পর্যটকদের কাছে একটা আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠেছে। ২০১১ ও ২০১৩ সালে জনপ্রিয় পত্রিকা ‘রিপ্লে’জ় বিলিভ ইট অর নট’-এ স্থান পেয়েছিল এই পরিবার। এক জনপ্রিয় ভারতীয় পণ্যের বিজ্ঞাপনের বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছিল জিয়নের পরিবার। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জীবনযাত্রা, জিয়নের অন্দরমহলের চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল সেই বিজ্ঞাপনে। জিয়নের পরিবারটি ‘চানা পাওল’ নামের একটি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। এই সম্প্রদায়ের ২ হাজার অনুসারী রয়েছেন। এই সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জিয়নেরই ঠাকুরদা। ১৯৪২ সালে সম্প্রদায়টির গোড়াপত্তন হয়। চানা সম্প্রদায়ে বহুবিবাহের অনুমতি রয়েছে। জিয়নের দাদুর পরে বংশানুক্রমিক ভাবে সম্প্রদায়ের নেতা হন জিয়নের বাবা। ১৯৯৭ সালে বাবা মারা যাওয়ার পর, উত্তরসূরি হিসাবে এই সম্প্রদায়ের নেতা হন জিয়ন। এক বছরের মধ্যে ১০ জন নারীকে বিয়ে করেন। ২০০৫ সালে শেষ বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জিয়ন। তাঁর কনিষ্ঠতম স্ত্রীর বয়স ছিল ২৫ বছর। তিনি বলেছিলেন, “আমি নিজেকে ভাগ্যবান মানুষ বলে মনে করি। কারণ আমাকে দেখাশোনার করার জন্য ও যত্ন নেওয়ার জন্য প্রচুর মানুষ রয়েছে। তারা সকলেই আমার নিজের পরিবার।’’

জিয়নের ঘরের দ্বার অবশ্য সকলের জন্য অবারিত ছিল। প্রবেশ করার অনুমতি ছিল সকলের। জিয়নের ওই বিশাল বাড়িতে স্ত্রীরা ছাড়াও জিয়নের সন্তানেরা বসবাস করেন। থাকেন পুত্রবধূ এবং নাতি-নাতনিরাও। পরিবারে সকলের আলাদা ঘর থাকলেও রান্নাঘর কিন্তু একটাই। পরিবারের পরিচালনার দায়িত্ব ন্যস্ত জিয়নের প্রথম স্ত্রীর উপরই। তাঁর কঠোর নিয়ম ও তত্ত্বাবধানে পরিবারের সমস্ত কাজকর্ম হয়। পরিবারের রান্না একসঙ্গেই হয়। ঘরদোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নের দায়িত্ব জিয়নের মেয়েদের। এক দিনের খোরাকের জন্য ৬০ কেজি আলু এবং প্রায় ৪০টির গোটা মুরগি লাগে গোটা পরিবারের। প্রতি দিন প্রায় ৯০ কেজি চালের ভাত রান্না হয়। জিয়নের প্রত্যেক স্ত্রী পালাক্রমে রান্না করেন। বাড়ির ছেলেরা সবাই চাষের কাজ আর পশুপালন করে থাকেন। ২০১৯ সালে ‘লন্ডন ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’, ২০১১ সালে ‘ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অ্যাকাডেমি’ ও ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জিয়নের পরিবারকে ‘বিশ্বের বৃহত্তম পরিবার’ হিসাবে উল্লেখ করেছিল। কিন্তু প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকার জন্য পরিবারের কর্তা জিয়ন সেই খেতাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলে জানা যায়। ২০১১ সালে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জিয়ন জানিয়েছিলেন তিনি চান তাঁর পরিবারের পরিধি আরও বৃদ্ধি পাক। বিয়ে করার জন্য যে কোনও সীমা অতিক্রম করতে ইচ্ছুক ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles