Thursday, July 23, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

প্রতি বর্ষাতেই সবুজ গালিচা ঢেকে যায় অথৈ জলে! হাওড়ার ইছাপুরের ডুমুরজলা এইচআইটি কোয়ার্টারের বিস্তৃত এলাকা জলের তলায়

বর্ষা হলেই মনে হয় পুকুর। কখনও মনে হবে না এটা একটা ক্রিকেট অ্যাকাজেমির মাঠ। একের পর এক বছর যায়। আবার নতুন বছর আসে। অথচ পরিবর্তন বলে কিছুই হয় না। এলাকার প্রতিনিধি নিজেও উদাসীন। তিনি সারাদিনই ব্যস্ততার সঙ্গে সমস্ত অনুষ্ঠানে ব্যাজ উত্তরীয় পরিধান করার জন্য দৌড়ে যেতে পছন্দ করেন। মুখে লেগেই আছে কৃত্তিম হাসি। এক ঝলকে দেখলে বোঝার উপায় নেই তিনি যে এক্কেবারে অকর্মন্য। এলাকায় পুকুর বুজিয়ে ফেলা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ বারংবার। নিকাশী ব্যবস্থায় কোনও উন্নতি না হওয়ায় বেশ ক্ষিপ্ত মানুষজন। এলাকায় প্রোমোটিং ও দালালি বিষয়ক কর্মেও তিনি নিজেকে যুক্ত রেখেছেন বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সবরকম টানাপোড়েনের শিকার এলাকার ক্রীড়াক্ষেত্রগুলো। হাওড়ার ইছাপুর ডুমুরজলায় অবস্থিত নিখরচায় ক্রিকেট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। টানা ১৪ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পথে শহরতলী হাওড়ায়। অনেক বাধাবিঘ্ন পেরিয়ে শেষমেস সবুজ গালিচায় ঢাকা রুক্ষ বর্গাকার ক্ষেত্র পরিণত একত প্রাণচঞ্চল ক্রীড়াক্ষেত্রে। দু:‌স্থ শিক্ষানবিশদের জন্য ক্রিকেট অ্যাকাডেমি। কারিগর, বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক, বাংলা ক্রিকেট দলের হেডকোচ ও রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী লক্ষীরতন শুক্লা নিজেই। একটু ফ্লাশব্যাকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিনের আলোয় স্থানীয় খেলাধুলা হলেও রাতে অন্ধকারাছন্ন রুক্ষ বর্গাক্ষেত্র জুড়ে বসত মদ-‌জুয়ার আড্ডা। সমাজবিরোধীদের আনাগোনা। অ্যাকাডেমি না হতে দেওয়ার জন্য চলত আন্দোলন নামক কারসাজি। আপাতত তার নামমাত্র নেই। হাওড়া পৌর নিগম ও লক্ষীরতন শুক্লার যৌথ প্রচেষ্টায় হাওড়ার বুকে অবস্থাপন্ন ক্রিকেটারদের জন্য সম্পূর্ন নিখরচায় ক্রিকেট প্রশিক্ষন কেন্দ্র-‘‌এল আর এস অ্যাকাডেমি ’‌‌‌। ডুমুরজলা ড্রেনেজ ক্যানেল রোডের পার্শ্ববর্ত্তি পি-‌এন্ড-‌টি কোয়ার্টারের পিছনে লক্ষীর অ্যাকাডেমির মাঠ সৌন্দ্যর্যায়নে পরিপূর্ণ। সুউচ্চ লোহার জাল ঘেরা মাঠে ক্রিকেট শিখছে খুদেরা। হাতেখড়ি থেকে শেখানোর ব্যাবস্থা। সবুজ গালিচায় আচ্ছাদিত মাঠে একাধিক পিচের ব্যাবস্থাও রয়েছে। মাঠের পাঁচটি চারটি পিচে চলে নেট প্র‌্যাকটিস। অত্যাধুনিক নেটে বোলিং-‌ব্যাটিং অ্যাকশন পর্যবেক্ষনের ক্যামেরা। মাঠের পশ্চিম কোনে থাকা তিন তলার ক্লাবহাউসে বসে প্রশিক্ষক পর্যবেক্ষন কেন্দ্র। ক্লাবহাউসের তিনতলায় গেষ্টরুম, একতলায় ড্রেসিংরুম ও ছোটোখাটো ক্যান্টিনও ছিল একসময়। সবসময়ের কোচ সৌরাশিষ লাহিড়ি সহ কয়েকজন সহকারী। সময় পেলেই লক্ষী নিজেও কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েন। হাওড়া সহ অন্যান্য জেলা থেকেও অবস্থাপন্ন অথচ প্রতিভাবানদের বেছে নেওয়া হয়। মাঠের ধার বরাবর চারধারে ফ্লাডলাইট ও রকমারী গাছ সুসজ্জিত। মাঠের পূর্বে কোন বরাবর শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বিশ্রামস্থল। অ্যাকাডেমিতে জিমও রয়েছে। লক্ষীর কথায়-‌‘‌ উদ্দ্যেশ্য ক্রিকেটার তৈরী করা। প্রচুর প্রতিভা এখান থেকে বাংলা তথা ভারতীয় দলেও খেলেছে। আর নতুন করে নাম বলার অপেক্ষা রাখে না। আমি দেখেছি, অনেক প্রতিভা অর্থের অসচ্ছলতার জন্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাদের সঠিক বাছাই করে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে সুযোগ করে দেওয়া অ্যাকাডেমির লক্ষ। তবে এই বারবার জল জমা নিয়ে পড়েশন হয়ে যাই।’‌। এক্কেবারে সত্যি কথা। বারবার জল জমে যাওয়ায় সবকটি পিচ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মাঠের ঘাস জলের নিচে বেশ কয়েকদিন থাকায় পচে যায়। পরিচর্চা করেও সুরাহা হয় না। এই নিখরচার এ্যাকাডেমির মাঠের জন্য জন্য বছরে একাধিবার খরচের বহর বেড়েই চলেছে। জল জমার ফলে ক্রিকেটারদের অনুশীলনও বাধাপ্রাপ্ত হয়।

পাশাপাশি, কেএমডিএ ও এইচ আই টি সমন্বয়ের অভাবে ডুমুরজলা মার্কেট স্কোয়ার কমপ্লেক্সে জবরদখল করা দোকানঘরগুলোতে চলে অনৈতিক ক্রিয়াকর্ম। রাজ্য সরকারের দুই বিভাগ ‌কেএমডিএ ও এইচআইটি এই জবরদখল করা দোকানঘরগুলো উদ্ধার করার চেষ্টা না করার ফলে এক একজন ব্যাক্তি একাধিক দোকানঘর দখল করে রেখেছেন বলেও বিস্তর অভিযোগের পাহাড়। সেখানে পরিবেশবান্ধব পরিস্থিতে নেই বললেই চলে। এলাকার বাসিন্দারাও অবৈধ কারখানার তীব্র শব্দব্রম্ভে জর্জরিত। রাস্তা জুড়ে কারখানার সামগ্রী ছড়িয়ে থাকায় মানুষজন চলাফেরায় অসুবিধাও বোধ করেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি দিবারাত্র মদ জুয়া ও অন্যান্য কাজকর্মের বধ্যভুম হয়ে উঠেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এদিকে, প্রতিনিয়ত জল জমার ফলেও ক্ষুব্ধ মানুষজন। জল নিকাশী ব্যবস্থা ও জন যন্ত্রণার সুরাহার জন্য কোটি কোটি টাকা টেন্ডার বেরোলেও নাকি সেখানে কোনওরকম সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ। এলাকাবাসীরা সম্মিলিতভাবে এলাকারই জন প্রতিনিধির দিকে আঙুল তুলে বলেন, ‘‘‌এলাকার প্রতিনিধি নিজের ব্যবসা লাটে তুলে, জনগনের টাকায় প্রোমোটিং, দালালি, পুকুর ভরাট করে বিল্ডিং হাঁকানোয় ব্যস্ত। এলাকার প্রত্যেকটি পুকুর ভরাটে ওনার প্রচ্ছন্ন মদত ও টাকা আত্মস্মাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। ওনার বর্তমানে সম্পত্তি সন্ধান করলেই ধরা পড়বে। কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়বে। দীর্ঘদিন ধরেই এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। একাধিক পুকুর ভরাটের জন্যই বারবার জল জমে যায়। এতে এলাকাবাসী পর্যুদস্ত হয়।’‌’‌ একাধিক অভিযোগের পাহাড়ে চাপা ক্ষোভের আগুনে জর্জরিত হাওড়ার ইছাপুরের ডুমুরজলা এইচআইটি কোয়ার্টার ও মার্কেট স্কোয়ার সহ তেতাল্লিশ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তৃত এলাকা। প্রতি বছরই বর্ষা ও একটু ভারী বৃষ্টি হলেই জলের তলায় থাকে এই এলাকাগুলো।

পুলিশ অনুমতি দেয়নি, ২৮ জুলাই ও ৯ আগস্ট নবান্ন অভিযানের ডাকে কোনও জমায়েত নয়। নবান্ন অভিযান আটকাতে মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির আনা মামলায় জানিয়ে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। ২৮ জুলাই এবং ৯ আগস্ট নবান্ন অভিযানের ডাক। মিছিল হলে হাওড়ায় হাটে বিকিকিনিতে সমস্যা হবে। তার ফলে ব্যবসায় ক্ষতি হবে। সে কারণে গত বুধবার আদালতে যায় মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতি। সাধারণ সম্পাদক রাজকুমার সাহা বলেন, “আমরা কোনও আন্দোলনের বিরুদ্ধে নই। কিন্তু হাটের দিনে রাস্তায় প্রতিবাদ সভা হলে আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দোকান না খোলার পরামর্শ আসে। তাই বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলাম।” বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের দ্বারস্থ হয়ে ব্যবসায়ী সমিতি জানায়, যেহেতু পুলিশ অনুমতি দেয়নি তাই ২৮ জুলাই কোন জমায়েত নয়। মামলায় বেআইনি জমায়েত আটকানোর পাশপাশি, নির্দেশ না মানলে আইন অনুযায়ী পুলিশ কড়া পদক্ষেপের আবেদনও জানানো হয়। এই সংক্রান্ত বিষয়ে হলফনামা আদানপ্রদানের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সেপ্টেম্বর মাসে পরবর্তী শুনানি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles