২৩ জুলাই শুরু ডুরান্ড কাপ। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামছে ইস্টবেঙ্গল এবং সাউথ ইউনাইটেড। এবার ডুরান্ডের সূচনা করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দু’বছর আগেও তিনি বলে কিক মেরে ডুরান্ডের উদ্বোধন করেছেন। গতবছর সরকারি কাজে দিল্লিতে থাকায় উদ্বোধনে আসতে পারেননি, এবার থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী।থাকবেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস-সহ সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের পদাধিকারীরা। প্রতিবারই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডুরান্ডের উদ্বোধন। বুধবার বিকেলে সাড়ে চারটে নাগাদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচনা হওয়ার কথা। থাকছে ‘ফ্লাইপাস্ট’। সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার পাইলটরা যুবভারতীর উপর করবেন ‘এয়ার শো’। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ডিভিশনের সদস্যরাও নিজেদের মতো করে পারফর্ম করবেন। গোর্খা রেজিমেন্টের ‘কুকরি শো’ থেকে শুরু করে শিখ রেজিমেন্টের ‘ভাংড়া’ থাকছে সবই। সঙ্গে থাকবে মার্শাল আর্টের শো। সবটাই হবে সেনাবাহিনীর নিজস্ব ব্যান্ডের সংগীতে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অংশ হবেন ছৌ নৃত্যশিল্পীরা। তবে এবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচি তৈরির ক্ষেত্রে স্থানীয় সংস্কৃতির উপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন আয়োজকরা। বাংলার বাউল সংগীতের উপস্থিতি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। সবমিলিয়ে আঘধণ্টা এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলবে। ম্যাচের কিক অফ হবে সাড়ে পাঁচটার সময়। ডুরান্ডের বাকি চার আয়োজক শহরেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। জামশেদপুর, ইম্ফল, কোকরাঝাড় এবং শিলংয়ে প্রথম ম্যাচের আগে এমন অনুষ্ঠান। ডুরান্ডের জন্য টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। অনলাইনের পাশাপাশি ময়দানের তিন প্রধানের তাঁবু এবং যুবভারতীর কাউন্টার থেকে টিকিট কিনতে পারবেন সমর্থকরা। এমনকী তিন প্রধানের ম্যাচের দিন সংশ্লিষ্ট ক্লাবের তাঁবু থেকে টিকিট কেনা যাবে। ডায়মন্ডহারবার এফসি-র ম্যাচের টিকিটও পাওয়া যাবে মহামেডান ক্লাব থেকে। তবে ম্যাচের দিন যুবভারতীর কাউন্টার বন্ধ থাকবে। সাধারণ সমর্থকদের জন্য পঞ্চাশ, একশো এবং দু’শো টাকা মূল্যের টিকিট ছাড়া হয়েছে।

কলকাতা লিগের ডার্বির প্রথম পর্যায়ের টিকিট ছাড়া হয়েছিল নির্দিষ্ট একটি অ্যাপে। প্রথম পর্যায়ের ছাড়া সেই টিকিট প্রায় শেষের পথে। মোহনবাগানের জন্য নির্দিষ্ট ব্লক ‘বি’, ব্লক ‘সি’ ও ব্লক ‘এ’-র টিকিট শেষ। কিছু টিকিট বাকি রয়েছে ইস্টবেঙ্গলের জন্য নির্দিষ্ট গ্যালারির। গোলপোস্টের ঠিক পিছনে ব্লক ‘এ’ গ্যালারি নির্দিষ্ট করা হয়েছে ইস্টবেঙ্গলের জন্য। আইএফএ কর্তাদের আশা এই পর্যায়ের বাকি টিকিটও দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে। এই পর্বের টিকিট পুরো বিক্রি হয়ে গেলে আইএফএ সেই রিপোর্ট দেবে স্থানীয় পুলিশকে। বাকি টিকিট এই অ্যাপেই ছাড়বে তারা। কল্যাণী স্টেডিয়ামে নিরাপত্তাজনিত কারণে এবার ঘরোয়া লিগের ডার্বি মাত্র দশ হাজার দর্শক দেখতে পারবেন মাঠে বসে। টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ১৫০ টাকা। ঘরোয়া লিগের ডার্বি আয়োজনে আইএফএ ত্রুটি রাখতে চাইছে না। আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত বলেন, “প্রথম পর্যায়ের টিকিট প্রায় শেষ। আমরা এই টিকিট বিক্রির রিপোর্ট পুলিশকে দেওয়ার পর ফের দ্বিতীয় দফার টিকিট ছাড়া হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে সোমবারই আমরা দ্বিতীয় দফার টিকিট ছেড়ে দিতে পারি।” ঘরোয়া লিগের ডার্বি দেখতে পাওয়া যাবে মাল্টিপ্লেক্সে। উদ্যোক্তাদের দাবি, সিনেমার পর্দায় ঘরোয়া লিগের ডার্বি ম্যাচ দেখানোর উদ্যোগ এই প্রথম। তবে সেটা বাংলায় নয়। আশ্চর্য হচ্ছেন? এটাই সত্যি। বাংলার সীমা ছাড়িয়ে ত্রিপুরাতে এই আয়োজন হতে চলেছে শনিবার। কলকাতা থেকে আগরতলায় উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ভারতীয় ফুটবলের দুই প্রাক্তন তারকা আলভিটো ডি’কুনহা ও রহিম নবিকে। কলকাতা ডার্বি নিয়ে উন্মাদনা থাকে সারা দেশেই। সেই উন্মাদনাকে আরও ছড়িয়ে দিতেই এই পরিকল্পনা নিয়েছে এসএসআর সিনেমা। ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার মন্ত্রীবাড়ি রোডে অবস্থিত এমএল প্লাজার এসএসআর সিনেমাতে টিকিট কেটে শনিবার ডার্বি দেখার সুযোগ থাকছে ফুটবল প্রেমীদের। ঘরোয়া লিগ দেখানোর স্বত্ব রয়েছে এসএসইএন অ্যাপের কাছে। তাদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তারা কলকাতা লিগের ডার্বি দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসএসআর সিনেমার ডিরেক্টর শতদীপ সাহা বলেন, “কলকাতা ডার্বি নিয়ে সারা দেশেই উন্মাদনা থাকে। আমরা এই পদক্ষেপটা করে দেখছি। আপাতত একটি হলে দেখানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যদি এই উদ্যোগে সাড়া পাই তাহলে আমরা আরও বেশি হলে এই ধরনের ম্যাচ দেখানোর ব্যবস্থা করতে পারি। কলকাতা থেকে ওই দিন আগরতলায় যাচ্ছেন আলভিটো ও রহিম নবির মতো ডার্বি মাতানো ফুটবলার।”




