RK NEWZ বলতে বাধা আখরুজ্জামানকে, টেনেহিঁচড়ে বার করা হল সাসপেন্ড কুণালকে। মার্শাল ডেকে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে বাইরে বার করে দেওয়ার নির্দেশ স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর। ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক তথা বিরোধী দলের মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামানকে বক্তৃতা করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ কালীঘাটপন্থী কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে। শেষমেশ টেনেহিঁচড়ে বিধানসভার অধিবেশনকক্ষ থেকে বার করে দেওয়া হল কুণালকে। দুই তৃণমূলের দ্বৈরথে তুলকালাম বিধানসভায়। কুণাল-আখরুজ্জামানের ‘সংঘাতে’ উত্তপ্ত বিধানসভা অধিবেশন। মার্শাল ডেকে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে বাইরে বার করে দেওয়ার নির্দেশ স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর। পাশাপাশি কুণালকে একদিনের জন্য সাসপেন্ড করেছেন স্পিকার। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “এমন অসভ্যতা দেখিনি। তীব্র নিন্দা জানাই।” বিধানসভা গঠন হওয়ার পর থেকেই দুই তৃণমূলের সংঘাত বারবার সামনে এসেছে। বিধানসভায় বিরোধীদল হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে ঋতব্রতের তৃণমূল। বিরোধী মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান। আখরুজ্জামান বলতে শুরু করলে তাঁকে বাধা দেন কুণাল ঘোষ। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করতে উঠেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রতিবাদ করেন বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক পাশাপাশি বিজেপির মন্ত্রীরা। ওয়েলে নেমে প্রতিবাদ করেন মন্ত্রী শংকর ঘোষ, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়রা। তারপরই কুণালকে মার্শাল ডেকে বার করে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার। বিধানসভায় কালীঘাটপন্থী তৃণমূূল বিধায়কদের বলতে দেওয়া হচ্ছে না। বারবার এই অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের দাবি, যে লিস্ট পাঠানো হচ্ছে, তাতে কুণাল ঘোষের নাম থাকলেও মুখ্য সচেতক সেই নাম কেটে দিচ্ছেন। অন্য নাম যুক্ত করা হচ্ছে। আগেই প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বুধবার বিধানসভার প্রথমার্ধে একই অভিযোগ তুলেছিলেন কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদ। তখন তাঁদের ঝামেলা, ঘরে মেটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপরই দ্বিতীয়ার্ধে আখরুজ্জামান বলতে উঠলে তাঁকে বাধা দেন কুণাল ঘোষ। পরে আখরুজ্জমান বলেন, “৮০ জন বিধায়ক রয়েছে। সবাইকে বলতে দিলে সময় হবে না। আমরা ঠিক করবে, কে বলবে বা কে বলবে না।” ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এমন অসভ্যতামি বিধানসভায় আগে দেখিনি। বিরোধী দলে ছিলাম। এখন শাসকদলে। এটা খুবই নিন্দাজনক। আখরুজ্জামান আগে মন্ত্রী ছিলেন। উনার বাবা হাবিবুর রহমান মুর্শিদাবাদের সন্মানীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আখরুজ্জামান সাহেবকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা করি।”এরপরই বিধানসভায় ৩৪৮/২ ধারায় নোটিস দিয়ে গোটা অধিবেশনের জন্য কুণাল ঘোষকে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব দেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। বলেন, “অনৈতিকভাবে বিরোধী চিফ হুইপকে আক্রমণ করতে গিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। এর আগে আমি এই রকম দেখিনি।” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বিখ্যাত করার দরকার নেই। এক দিনের জন্য করা হোক।” ধ্বনি ভোটে কুণাল ঘোষকে একদিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দু’কিলোমিটার দূরত্বে দাঁড়িয়ে ২১ জুলাইয়ের দুই সভা থেকে একে অন্যের দিকে আঙুল উঁচিয়েছিল দু’পক্ষ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই যুযুধান তৃণমূল বিধানসভায় বিতণ্ডায় জড়াল একেবারে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক তথা বিরোধী দলের মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামানের বক্তৃতায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠল কালীঘাটপন্থী কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে। শেষমেশ টেনেহিঁচড়ে বিধানসভার অধিবেশনকক্ষ থেকে বার করে দেওয়া হল কুণালকে। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট নিয়ে আলোচনায় যোগ দেন আখরুজ্জামান। বলতে ওঠার পরই তাঁর আসনের সামনে চলে যান কুণাল। বেলেঘাটার বিধায়ককে বলতে শোনা যায়, “আপনি আমার নাম কেটে দিচ্ছেন কেন?” তার পরেও অবশ্য কিছুক্ষণ বক্তৃতা চালিয়ে যান আখরুজ্জামান। সেই সময় আখরুজ্জামানের বাঁ দিকে বসে ছিলেন ফিরহাদ হাকিম এবং জাভেদ খান। ডান দিকে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আখরুজ্জামান বক্তৃতা চালিয়ে গেলেও কুণাল তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে বার বার একই প্রশ্ন করে যেতে থাকেন। কুণালের কাছে চলে আসেন বিজেপি বিধায়কেরা। চলে আসেন পরিষদীয়মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এবং উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ও। কুণালকে নিজের আসনে গিয়ে বসার অনুরোধ করেন স্পিকার রথীন্দ্র বসু। তার পরেও কুণাল সরেননি। স্পিকার হুঁশিয়ারির সুরে কুণালকে বলেন, “কুণালবাবু আপনি নিজের আসনে না-বসলে আপনাকে বার করে দিতে বাধ্য হব।” সেই সময়েও কুণাল ঋতব্রত-আখরুজ্জামানদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শেষমেশ স্পিকারের নির্দেশে বিধানসভার মার্শালেরা কুণালকে অধিবেশনকক্ষের বাইরে বার করার চেষ্টা করেন। তাঁদের সঙ্গে কুণালের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একটা সময়ে ধাক্কাধাক্কিতে অধিবেশনকক্ষেই পড়ে যান কুণাল। তাঁকে পাঁজাকোলা করে বাইরে বার করা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে কক্ষত্যাগ (ওয়াকআউট) করেন কালীঘাট তৃণমূলের অন্য বিধায়কেরাও। এই ঘটনার পর কুণালের নাম না-করেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “অসভ্যতার একটা সীমা থাকে। আমরাও বিরোধী আসনে ছিলাম। কিন্তু এই অসভ্যতা সবার ঊর্ধ্বে। এগুলো বরদাস্ত করা যায় না।” এর পরেই শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় কুণালকে এই অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করার প্রস্তাব দেন স্পিকারকে। যদিও মুখ্যমন্ত্রী উঠে বলেন, ‘‘আমি প্রস্তাব দেব আজকের জন্য সাসপেন্ড করা হোক। কালকে আসুক। যদি আবার অসভ্যতা করেন তার পর দেখা যাবে। ওকে সাসপেন্ড করে বিখ্যাত করার দরকার নেই।” কালীঘাট শিবিরের বিধায়কদের অভিযোগ, বক্তার তালিকায় তাঁদের নাম কেটে দিচ্ছেন বিরোধী দলের মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামান। সেখানে কেবল ঋতব্রতপন্থীদের নাম রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে সরব হন কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদ। ক্ষুব্ধ আলিফা বলেন, “যাঁরা একটা বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করে প্রস্তুতি নিয়ে এসেছেন, তাঁদের ডাকা হচ্ছে না কেন?” আলিফার উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি পাঁচ বছর বিরোধী দলনেতা ছিলাম। নিয়মটা হল বিরোধী দলের মুখ্যসচেতক একটি তালিকা শাসকদলের মুখ্য সচেতকের কাছে জমা দেবেন এবং সেই অনুযায়ী স্পিকার বক্তাদের ডাকবেন। এখন আপনাদের ঘরের মধ্যে যদি কোনও ঝগড়া থেকে থাকে, তবে তা নিজেদের ঘরে মেটান। মুখ্যমন্ত্রী বা বিধানসভা সেই ঝামেলা মেটাতে পারবে না।”




