Wednesday, July 22, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ব্যক্তির বাসস্থানের প্রাথমিক প্রমাণ হিসাবে আধার কার্ড গ্রহণযোগ্য!‌ কলকাতা হাই কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ রায় ঘোষণা করে জানাল

RK NEWZ দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, চূড়ান্ত এবং প্রাথমিক প্রমাণ সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। যে কোনও সরকারি নথির প্রাথমিক প্রমাণ হিসাবে গুরুত্ব রয়েছে। কোনও ব্যক্তির বাসস্থানের প্রাথমিক প্রমাণ হিসাবে আধার কার্ড গ্রহণযোগ্য। বেআইনি দখলদার সংক্রান্ত এক মামলায় রায় ঘোষণা করে জানাল কলকাতা হাই কোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, কোনও ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় বসবাস করছেন কি না, সেই বিষয়ে বিশ্বাস করার মতো নথি হিসাবে আধার কার্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে তা চূড়ান্ত প্রমাণ নয় বলেও জানিয়েছে হাই কোর্ট। আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। সে কথা আগেই জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। একাধিক রায়ে সুপ্রিম কোর্টও জানিয়েছে, আধার আইন অনুযায়ী দেশের নাগরিকত্বের প্রমাণ নয় আধার কার্ড। এটি কেবলমাত্র একটি পরিচয়পত্র। বসবাসের ঠিকানা হিসাবে অনেকে আধার ব্যবহার করেন। ওই বিষয়েও বির্তক রয়েছে। এমতাবস্থায় হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, আধার বসবাসের প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য। কারণ, আধার তৈরির আগে ঠিকানার তথ্য যাচাই করা হয়। তাই বাড়ির ঠিকানা হিসাবে ওই নথিকে সম্পূর্ণ মূল্যহীন বলা যায় না। আদালতের মতে, শুধু আধার নয়, ভোটার কার্ড, গ্যাসের বিল-সহ অন্যান্য সরকারি নথিও কোনও ব্যক্তির ঠিকানার প্রাথমিক প্রমাণ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। তবে আধার যে চূড়ান্ত প্রমাণ নয় সেটিও রায়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছে আদালত। দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, চূড়ান্ত এবং প্রাথমিক প্রমাণ সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। যে কোনও সরকারি নথির প্রাথমিক প্রমাণ হিসাবে গুরুত্ব রয়েছে। বেআইনি ভাবে দখলের অভিযোগে ক্যালকাটা ডক লেবার বোর্ড ও ক্যালকাটা পোর্ট ট্রাস্ট-এর আবাসন ভাঙতে চান শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট কর্তৃপক্ষ। তাঁরা প্রায় ৫০০টির বেশি আবাসিক কোয়ার্টার ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। ওই কোয়ার্টারগুলিতে প্রায় ৮ হাজার মানুষের বসবাস। তাঁদের অভিযোগ, বন্দর কর্তৃপক্ষ নোটিস বা শুনানির সুযোগ না দিয়েই উচ্ছেদ ও ভাঙার কাজ শুরু করতে চান। হাই কোর্টের একক বেঞ্চ জানায়, বাসিন্দারা কী ভাবে ওই কোয়ার্টারে এসেছেন, তার স্পষ্ট প্রমাণ নেই। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড দেখে নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না যে তাঁরা বৈধ ভাবে ওই কোয়ার্টারে থাকেন। একক বেঞ্চে আবেদন খারিজ হলে ডিভিশন বেঞ্চে যান বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, বহু বছর ধরে ওই এলাকায় তাঁরা রয়েছেন। এখন বক্তব্য না শুনে উচ্ছেদ বা বাড়ি ভেঙে দেওয়া আইনবিরোধী। হাই কোর্টে বন্দর কর্তৃপক্ষের যুক্তি, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড দেখিয়ে কেউ বসবাসের দাবি করতে পারেন না। অবৈধ ভাবে ওই বাসিন্দারা রয়েছেন। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, বাসিন্দাদের কাছে থাকা নথিগুলি দেখে অন্তত এটুকু বোঝা যায় যে, তাঁরা ওই জায়গায় থাকেন। ফলে তাঁদেরকে অবৈধ দখলদার ঘোষণা করার আগে আইন মেনে তদন্ত হওয়া উচিত। হাই কোর্টের রায়, কেন ওই বাসিন্দাদের অবৈধ দখলদার মনে করা হচ্ছে এবং কেন উচ্ছেদ করা হবে সেই বিষয়ে প্রত্যেক পরিবারকে নোটিস দিতে হবে। তাঁদের শুনানি করাতে হবে। প্রত্যেক বাসিন্দা নিজেদের পক্ষে যুক্তি এবং প্রমাণ দেখাতে পারবেন। সব বিষয় খতিয়ে দেখেই উচ্ছেদ এবং ভাঙার মতো পদক্ষেপ করা যাবে। পাশপাশি, আদালত আরও জানায়, আইনে বন্দর কর্তৃপক্ষকে কোনও ভবন ভাঙার ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ওই বিষয়ে পদক্ষেপ করতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles