Monday, July 13, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

টলিপাড়ায় মেগা মিটিংয়ে একজোট প্রসঙ্গ!‌ একসঙ্গে পথচলার অঙ্গীকার ফেডারেশন, চ্যানেল ও প্রযোজকদের

টলিউডের ‘ঐতিহাসিক দিন’। বৈঠকে একজোট হওয়ার ঘোষণা ফেডারেশন-চ্যানেল-প্রযোজকদের। হিন্দি ধারাবাহিকের শুটিং হবে কলকাতাতেও! বললেন স্বরূপ বিশ্বাস। টলিপাড়ায় মেগা মিটিংয়ের আঁচ আগেই পাওয়া গিয়েছিল। এবার নির্ধারিত দিনে চ্য়ানেল কর্তৃপক্ষ এবং টেলিপর্দার প্রযোজকদের সঙ্গে বৈঠক সেরে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। বিশেষ ত্রিপাক্ষিক কমিটি গঠন করার পাশাপাশি মহিলা শিল্পী এবং কলাকুশলীদের জন্য উন্নতমানের শৌচালয় গড়ে তোলা হবে। এমনকী বিশেষ ক্যান্টিন এবং ভালোমানের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট বৈঠকের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে জানানো হয়েছে চ্যানেল-প্রযোজক এবং ফেডারেশন মিলে একটি কমিটি গঠন করা হবে। যে কমিটিতে স্টার জলসা, জি বাংলা, সান বাংলা এই তিনটি চ্যানেলের তরফে দুজন করে সদস্য থাকবেন। ফেডারেশন এবং এবং প্রযোজকদের তরফ থেকে থাকবেন তিন সদস্য। মেগা মিটিংয়ে স্বরূপ বিশ্বাসের পাশে দেখা গেল প্রযোজক নিসপাল সিং রানে এবং নীলাঞ্জনা শর্মাকে।

চ্যানেল, প্রযোজক এবং ফেডারেশন সব পক্ষের আলোচনায় যে মীমাংসা হবে, সেখবর আগেই ছিল। অবশেষে সোমবারের সাংবাদিক মিটিংয়ে জানিয়ে দেওয়া হল যে, আর শুটিং বন্ধ নয়, হাতে হাত রেখে একজোট হয়ে এগিয়ে যেতে হবে সবপক্ষকেই। শুটিং বন্ধ যে আখেড়ে ইন্ডাস্ট্রিরই আর্থিক ক্ষতি, তেমন ভাবনা থেকেই এদিন একজোট হয়ে ত্রিপাক্ষিক কমিটি গঠন করার পক্ষে সায় দিল প্রযোজক, চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এবং ফেডারেশন। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “৩০ জুন, আজ বাংলা ধারাবাহিকের ঐতিহাসিক দিন। একসঙ্গে পথচলার অঙ্গীকার করেছে ফেডারেশন, চ্যানেল ও প্রযোজকেরা।” পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বৈঠকে বেশকিছু কার্যকারী সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন সকলে, যা আদতে উন্নত টলিউড গড়ে তোলার অন্যতম ধাপ। কী সেগুলি?

১) চলতি শুটিং বন্ধ করা যাবে না। সমস্যা হলে আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা করতে হবে।
২) ফেডারেশন দীর্ঘদিন ধরেই টেকনিশিয়ানদের মাইনে বৃদ্ধি নিয়ে সরব হয়েছিল। আলোচনা সাপেক্ষে সেই সমস্যার সমাধান হয়েছে। প্রায় ৩০ শতাংশ মাইনে বাড়তে চলেছে কলাকুশলীদের।
৩) মহিলাদের জন্য উন্নতমানের শৌচালয় গড়ে তোলা হবে। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার মিলবে প্রত্যেক স্টুডিওর বিশেষ ক্যান্টিনে।

ত্রিপাক্ষিক কমিটির সমন্বয় বজায় রাখার দায়ভার বর্তেছে ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস এবং প্রযোজক নিসপাল সিংয়ের উপর। বৈঠকে আরেকটি সুখবর দেন স্বরূপ। তিনি জানান, এবার থেকে হিন্দি সিরিয়ালের শুটিং যাতে কলকাতাতেও হতে পারে, তেমনই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সব ঠিক থাকলে, খুব শিগগিরি সেটাও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। সমস্যা কাটিয়ে অবশেষে আশার আলো দেখতে চলেছে টলিউড, তেমনটা আশা করাই যায়। একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে সান বাংলা, স্টার জলসা ও জি বাংলা, অর্থাৎ তিনটি চ্যানেলের তরফ থেকে থাকবেন দু’জন করে সদস্য, ফেডারেশনের তরফ থেকে থাকবেন তিন সদস্য এবং প্রযোজকদের তরফ থেকে থাকবেন তিন সদস্য। এই ১২জনের কমিটির তত্ত্বাবধানে থাকবেন স্বরূপ বিশ্বাস এবং নিসপাল সিং রানে। তবে সবচেয়ে বড় সুখবর দিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। এবার থেকে বলিউডের হিন্দি ধারাবাহিকের শুটিং হবে কলকাতায়। এমন ব্যবস্থাই করা হচ্ছে। এই বিষয়ে আলোচনা চলছে। খুব শীঘ্রই বিষয়টি আনুষ্ঠানিক ভাবে সকলকে জানানো হবে। ধারাবাহিকের শুটিং যাতে কলকাতাতেই করা যায়, এমন পরিকাঠামো তৈরীর পরিকল্পনা শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। এতে আখেরে লাভ হবে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির। প্রযোজকদের সঙ্গে মিটিং-এর পর কিছুদিন বাদেই ছোট পর্দার পরিচালকদের সঙ্গে মিটিংয়ে বসবেন স্বরূপ বিশ্বাস। যে সমস্যা ছিল, প্রযোজক, চ্যানেল এবং ফেডারেশনের মধ্যে আলোচনায় তা মিটে দূরত্ব কমবে, আশায় সব পক্ষই।

কোন যৌথ পরিবারে বিবাদ হয় না? কোনও ঝগড়া অচিরেই মেটে। কোনওটি আবার একটু সময় নেয়। ফেডারেশন-ছোট পর্দার প্রযোজকদের দ্বন্দ্বকে দ্বিতীয় তালিকায় ফেললেন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস জানান, ‘‘আগামী দিনে যত বড় সমস্যাই আসুক, কাজ আর বন্ধ হবে না। কাজ বন্ধ করলে কোনও সমস্যার সমাধান হয় না।’’ এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত প্রযোজক নীলাঞ্জনা শর্মা, নিসপাল রানে, সুশান্ত দাস, রাহুল মোহতা, সানি ঘোষ রায়-সহ জি বাংলা, স্টার জলসা, সান বাংলার কর্মকর্তারাও। নীলাঞ্জনা বলেন, ‘‘এই মিটমাটটাই দরকার ছিল। আর প্রযোজক, ফেডারেশন নয়। ওরা-আমরা বিভেদ মুছে এখন থেকে আমরা একটি পরিবার। চা, চানাচুর আর আড্ডা। আর স্বরূপদার ইতিবাচক মনোভাব। এ সবই জমে থাকা অভিমান মুছে দিল।’’ স্বরূপের কথায়, ‘‘আমরা অনেক দিন ধরেই বিষয়টি কী করে মেটে তা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলাম। সকলের সদিচ্ছা ছিল বলেই শেষ পর্যন্ত সম্ভব হল।’’ তাঁর কথার রেশ প্রযোজক সুশান্তের কথাতেও। উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে তাঁর আবেদন, এত দিন দু’পক্ষের দ্বন্দ্বের কথা ফলাও করে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। আগামী দিনে এক পরিবারের সম্মিলিত ইতিবাচক পদক্ষেপের কথাও যেন ছাপা হয়। সমাধান সূত্র খোঁজার ভাবনা থেকেই গত পরশু বৈঠকে বসেছিল ছোট পর্দার প্রযোজক সংগঠন এবং ফেডারেশন। দীর্ঘ আলোচনায় টেকনিশিয়ানদের ৩০ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন শৌচালয়-সহ নানা দাবি গৃহীত হয়। স্বরূপ জানান, কলাকুশলীদের মজুরি ৩০ শতাংশই বেড়েছে। সঙ্গে একটি ত্রিপাক্ষিক কমিটি গঠিত হয়েছে। প্রযোজক, চ্যানেল এবং ফেডারেশনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্য এই কমিটিতে থাকবেন। তাঁরা সবার সমস্ত দাবি কমিটির কাছে তুলে ধরবেন।

এই দ্বন্দ্বের কারণেই বলিউড থেকে ধারাবাহিকের কাজ করতে চাওয়া বহু প্রযোজক কলকাতায় এসেও ফিরে গিয়েছেন। কাঠগড়ায় ফেডারেশনের ‘একুশে আইন’। সেই দ্বন্দ্বও কি মিটবে? ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বলেছেন, ‘‘শুধু বলিউড কেন, দক্ষিণ ভারত থেকেও এখানে ছোট পর্দার শুটিং হবে। স্টার ভারতীর বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছি। আশা করি, আপনাদের ভাল খবর দিতে পারব। ইতিমধ্যেই দেড়শো পরিচালকের সঙ্গে আমরা বসেছি। বাকিদেরও স্বাগত। যাঁরা আইনি পথে সমাধান চান তাঁরা তাঁদের মতো করে অবশ্যই সমাধান খুঁজতে পারেন।’’ ফেডারেশন সভাপতির মতে, জুলাইয়ের দ্বিতীয় রবিবার ছোট পর্দার সমস্ত পরিচালকদের নিয়ে বৈঠক হবে। তাঁদেরও এক পরিবারের আওতায় আনা হবে। বড় পর্দার পরিচালকেরা কি ব্রাত্য?

প্রেক্ষাগৃহ যখন রমরমিয়ে চলছে ‘গৃহপ্রবেশ’, তখন আচমকাই হাসপাতালে ভর্তি সংশ্লিষ্ট ছবির পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। জানা গিয়েছে, রবিবার রাত থেকেই ধুম জ্বরে আক্রান্ত তিনি। অতঃপর শারীরিক পরিস্থিতির খানিক অবনতি ঘটতেই সোমবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় পরিচালক তথা সঙ্গীতশিল্পীকে। রবিবার রাতে ইন্দ্রদীপ ১০৩ জ্বরে আক্রান্ত হন। এরপর থেকেই কাঁপুনি। চিকিৎসকদের পরামর্শ মাফিক বেশ কিছু পরীক্ষা করানো হলে রিপোর্টে জানা যায় তিনি অ্যাকিউট ইউটিআই-তে আক্রান্ত। অর্থাৎ পরিচালকের মূত্রনালীতে সংক্রমণ ঘটেছে। আর সেখান থেকেই এমন ধুম জ্বর। যদিও জানা গিয়েছে, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত বর্তমানে ভালো রয়েছেন, তবে ডাক্তারদের পরামর্শে আপাতত দিন কয়েক বিশ্রামে থাকতে হবে। ২০১৯ সালে ‘কেদারা’ ছবিটি দিয়ে পরিচালনায় হাতেখড়ি হয় খ্যাতনামা সঙ্গীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর। আর পয়লা সিনেমাতেই বাজিমাত। ‘কেদারা’র জন্য জাতীয় পুরস্কার পান। তার পর থ্রিলারধর্মী সিনেমা রহস্য-রোমাঞ্চে ভরপুর ‘আগন্তুক’ উপহার দেন বাঙালি সিনেদর্শকদের। তাঁর তৃতীয় ছবি ‘বিসমিল্লাহ’-ও দর্শক, সিনেসমালোচকদের কাছে বেজায় প্রশংসা কুড়োয়। ঋদ্ধি সেন, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে এক অসমবয়সি ভিনস্বাদের গল্প মন কেড়েছিল। বাংলা ছবিতে বাণিজ্যিক ঘরানার বাইরে এক স্বাতন্ত্রতা এনেছেন ইন্দ্রদীপ। প্রয়াত পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের স্মরণেই ‘গৃহপ্রবেশ’ তৈরি করেছেন তিনি। গত কয়েক বছরে একগুচ্ছ ভাল গান উপহার পেয়েছেন শ্রোতারা। সেই সঙ্গে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও তিনি সফল। পরিচালক হিসাবে এটা তাঁর চতুর্থ ছবি। শোনা যাচ্ছে, শীঘ্রই নতুন ছবির কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে পরিচালকের। সম্প্রতি ঋতুপর্ণ ঘোষকে উৎসর্গ করে ‘গৃহপ্রবেশ’ উপহার দেন ইন্দ্রদীপ। যে ছবির গল্প, সিনেম্যাটিক ট্রিটমেন্ট দেখে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্তির দাবি রেখেছেন দর্শক-অনুরাগীরা

কলকাতায় এলেন ‘পাঞ্জাবের ক্যাটরিনা কইফ’ শেহনাজ গিল। কলকাতা বিমান বন্দরে পাপারাৎজিদের ক্যামেরায় ধরা দিলেন নায়িকা। তবে তিনি একা নন। গিপ্পি গ্রেওয়ালকেও কলকাতা বিমান বন্দরে দেখা গিয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় বিমান বন্দরে দেখা মেলে দুই তারকার। হালকা গোলাপি রঙের টপ, হালকা ধূসর জিন্স, মাথায় টুপি ও মুখে মাস্ক পরে দেখা যায় অভিনেত্রীকে। অন্যদিকে গিপ্পি গ্রেওয়ালের পরনে ছিল সবুজ রঙের টি শার্ট ও টাইজার। এসভিএফ-এর প্রযোজনায় একটি পাঞ্জাবি ছবির শুটিং সারতে তিলোত্তমায় এসেছেন নায়িকা। ছবির নাম ‘সিং ভার্সেস কৌর’। এই ছবিটি প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছে এসভিএফ এন্টারটেইনমেন্ট। পরিচালনা করছেন নবনীত সিং। এই ছবির হাত ধরেই ফের গিপ্পি গ্রেওয়ালের সঙ্গে নতুন করে জুটি বাঁধতে চলেছেন শেহনাজ গিল। মঙ্গলবার থেকেই কলকাতায় শুরু শুটিং। ছবিতে শেহনাজকে গিলকে কিছু অংশে বাংলায় কথা বলতেও দেখা যাবে। তাই তাঁকে বাংলা শেখানোর ভার এসে পড়েছে টলি অভিনেত্রী অলিভিয়া সরকারের উপর। জানা যাচ্ছে, এসভিএফ-এর তরফে অলিভিয়ার কাছে এই প্রস্তাব গিয়েছে। তাই বলাই যায়, এই ছবিতে অভিনয় না করলেও অলিভিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles