দিনকয়েক আগেই বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ বা নিবিড় সমীক্ষার স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন প্রসঙ্গ টেনে সুর চড়িয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সেই নিয়মবিধিতে বদল আনল কমিশন। প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রক্রিয়ার নানা নিমকানুন নিয়েও। তার কয়েক দিনের মধ্যেই বিশেষ বা নিবিড় সমীক্ষা নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করল নির্বাচন কমিশন। বিহারে আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার সার্বিক সংশোধনের কথা জানিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সে জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকাও জারি করা হয়। ফের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সেই নিয়মবিধিতে বিস্তর বদল এনেছে কমিশন। নতুন বিজ্ঞপ্তি,
১) বিহারের ২০০৩ সালের ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। সেখানে নথিভুক্ত ৪.৯৬ কোটি ভোটারের জন্য নতুন করে আর কোনও নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
২) এই ৪.৯৬ কোটি ভোটারের স্বীকৃতির জন্য বাবা কিংবা মায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও নথিও জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
৩) কোনও ভোটারের নাম যদি ২০০৩ সালের বিহারের ভোটার তালিকায় না-ও থাকে, সে ক্ষেত্রে তিনি নিজের বাবা কিংবা মায়ের অন্য কোনও নথির পরিবর্তে ২০০৩ সালের ভোটার তালিকাটি ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ, মা কিংবা বাবার জন্য আলাদা করে কোনও নথি দেখানোর প্রয়োজন নেই।
৪) অর্থাৎ, এখন মোট ভোটারদের প্রায় ৬০ শতাংশকে কোনও নথি জমা দিতে হবে না। শুধু ২০০৩ সালের ভোটার তালিকা থেকে বিবরণ যাচাই করে আবেদন বা গণনা ফর্ম জমা দিতে হবে।
সামনেই বিহারে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে জাল ভোটার রুখতে সম্প্রতি ভোটার তালিকায় পরিমার্জনের কাজে হাত দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানায়, ওই রাজ্যে ২০০৩ সালে ভোটার তালিকার যে বিশেষ সংশোধন হয়েছিল, সেই সময় ভোটার সংখ্যা ছিল ৪.৯৬ কোটি। আর বিহারে এই মুহূর্তে ৭,৮৯,৬৯,৮৪৪ জন ভোটার রয়েছেন। এঁদের প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে একটি এনুমারেশন ফর্ম (ইএফ) দেওয়া হচ্ছে। কমিশন জানায়, যাঁদের নাম পুরনো তালিকায় রয়েছে তাঁদের শুধু ইএফ ফর্মটি পূরণ করে জমা দিলেই হবে। আলাদা করে অতিরিক্ত নথি দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কিন্তু যাঁরা নতুন, তাঁদের ‘ডিক্লারেশন ফর্ম’-এর সঙ্গে নাগরিকত্বের প্রমাণস্বরূপ বাড়তি নথি জমা দিতে হবে।
কমিশনের তরফে জানানো হয়, যে সব ভোটার ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে জন্মগ্রহণ করেছেন তাঁদের জন্মতারিখ অথবা জন্মস্থানের সপক্ষে তালিকায় উল্লিখিত ১১টি নথির মধ্যে যে কোনও একটি জমা দিতে হবে। ১৯৮৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০০৪ সালের ২ ডিসেম্বরের মধ্যে যাঁদের জন্ম, তাঁদের জন্মতারিখ অথবা জন্মস্থানের প্রমাণস্বরূপ একটি নথি এবং তাঁদের বাবা কিংবা মায়ের জন্মতারিখ অথবা জন্মস্থানের প্রমাণ রয়েছে এমন একটি নথি জমা দিতে হবে। যে সব ভোটার ২ ডিসেম্বর ২০০৪ তারিখের পরে জন্মগ্রহণ করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নিজের জন্মতারিখ ও জন্মস্থানের প্রমাণ হিসাবে যে কোনও একটি নথি এবং বাবা-মায়ের জন্মতারিখ ও জন্মস্থান প্রমাণের নথি জমা দিতে হবে। যদি কারও বাবা কিংবা মা ভারতীয় না হন, সে ক্ষেত্রে তাঁর পাসপোর্ট ও সন্তান জন্মের সময়কার ভিসার কপি জমা দিতে হবে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা প্রশ্ন তোলেন, বাংলায় প্রয়োগের আগে টেস্ট ড্রাইভ চলছে কি? নিবিড় সমীক্ষা করে ঘুরপথে এনআরসি আনার পথ প্রশস্ত করছে কেন্দ্র? মমতার প্রতিবাদে পিছু হঠল নরেন্দ্র মোদি সরকার। সোমবার নিবিড় সমীক্ষা নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করল নির্বাচন কমিশন। নয়া নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?
বিহারের ২০০৩ সালের ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। নথিভুক্ত ৪.৯৬ কোটি ভোটারের নথি রয়েছে। নতুন করে আর কোনও নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ৪.৯৬ কোটি ভোটারের স্বীকৃতির জন্য বাবা বা মায়ের কোনও নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কোনও ভোটারের নাম যদি ২০০৩ সালের বিহারের ভোটার তালিকায় না-ও থাকে, সে ক্ষেত্রে তিনি নিজের বাবা কিংবা মায়ের অন্য কোনও নথির পরিবর্তে ২০০৩ সালের ভোটার তালিকাটি ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ, মা কিংবা বাবার জন্য আলাদা করে কোনও নথি দেখানোর প্রয়োজন নেই। মোট ভোটারদের প্রায় ৬০ শতাংশকে কোনও নথি জমা দিতে হবে না। শুধু ২০০৩ সালের ভোটার তালিকা থেকে বিবরণ যাচাই করে আবেদন ফর্ম জমা দিতে হবে।
নির্বাচনের কমিশনের আগের নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, ১৯৮৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০০৪ সালের ২ ডিসেম্বরের মধ্যে যাঁদের জন্ম, তাঁদের জন্মতারিখ অথবা জন্মস্থানের প্রমাণস্বরূপ একটি নথি এবং তাঁদের বাবা কিংবা মায়ের জন্মতারিখ অথবা জন্মস্থানের প্রমাণ রয়েছে এমন একটি নথি জমা দিতে হবে। এছাড়াও যে সব ভোটার ২ ডিসেম্বর ২০০৪ তারিখের পরে জন্মগ্রহণ করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নিজের জন্মতারিখ ও জন্মস্থানের প্রমাণ হিসাবে যে কোনও একটি নথি এবং বাবা-মায়ের জন্মতারিখ ও জন্মস্থান প্রমাণের নথি জমা দিতে হবে। যদি কারও বাবা কিংবা মা ভারতীয় না হন, সে ক্ষেত্রে তাঁর পাসপোর্ট ও সন্তান জন্মের সময়কার ভিসার কপি জমা দিতে হবে। অবৈধ ভোটারদের বাদ দিয়ে ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা আনতে সংশোধনের কাজ করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। সেই কারণে বিভিন্ন রাজ্যের কাছে পাঠানো হয়েছে একটি ‘ডিক্লারেশন ফর্ম’। যদিও কমিশনের বেশ কিছু নিয়ম নিয়ে আপত্তি তোলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র আসলে বাংলা এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের নিশানা করতে চাইছে। সে কারণেই এমন নিয়ম। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে কথা না-বলে নির্বাচন কমিশন কখনওই এটা করতে পারে না। আমাদের গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা রয়েছে। এখানে রাজনৈতিক দল বা নির্বাচিত সরকার কখনওই ক্রীতদাস নয়। ভোটার তালিকা সংশোধন করার জন্য আমাদের কাছে কমিশন একটা ফর্ম পাঠিয়েছেন। কিন্তু সেই ডিক্লারেশন ফর্মের কয়েকটি বিষয়ে আমার আপত্তি আছে। কেন উল্লেখ করা হচ্ছে যে ১৯৮৭ থেকে ২০০২-এর মধ্যে যাদের জন্ম, তাদের তা লিখতে হবে ফর্মে? তার মানে কি তার আগে বা পরে যারা জন্মেছে, তাদেরটা হবে না?” আরও বলেন, “তরুণ প্রজন্ম যাতে ভোট দিতে না পারে, সেই কারণেই কি এই নিয়ম? গরিবেরা কী ভাবে বাবা-মায়ের শংসাপত্র পাবেন? এটা কি এনআরসি? এ ভাবেই দেশে এনআরসি চালু করার চেষ্টা হচ্ছে কি?” মমতার এই প্রতিবাদের কয়েক দিনের মধ্যে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন।
প্রসঙ্গত, বিহারের বর্তমানে মোট ভোটারের সংখ্যা ৮ কোটি। শেষবার কমিশনের দ্বারা এই নিবিড় সমীক্ষা হওয়ার সময় ভোটার সংখ্য়া ছিল মোট ৪.৯৬ কোটি। যা বর্তমানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এদিন কমিশন সাফ জানিয়েছে, ২০০৩ সালের তালিকায় ৪.৯৬ কোটি ভোটারের নথি-বিবরণ মিলেছে। তাই নতুন করে তাঁদের আলাদা নথি জমা দিতে হবে না। কমিশনের পদক্ষেপ নিয়ে আপত্তি তোলেন মমতা। দাবি করেন, বিহার বাহানা, কমিশনের আসল নিশানা বাংলা। কমিশনের নিয়মকে ভিত্তিহীন বলেও দাবি করে বাংলার শাসকদল। তৃণমূলের অভিযোগ, কী ভাবে সকলের পক্ষে বাবা-মায়ের জন্মতারিখের শংসাপত্র দেওয়া সম্ভব? কারণ আজ থেকে কয়েক দশক আগেও বাড়িতেই প্রসব হত, সে ক্ষেত্রে জন্মের শংসাপত্র পাওয়ার কোনও প্রশ্নই ছিল না। এ ছাড়া সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকেরা অনেকেই ভিন্রাজ্যে স্থানান্তর করেছেন। মমতা অভিযোগ তোলেন, কেন্দ্র আসলে বাংলা এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের নিশানা করতে চাইছে। সে কারণেই এমন নিয়ম। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে কথা না-বলে নির্বাচন কমিশন কখনওই এটা করতে পারে না। আমাদের গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা রয়েছে। এখানে রাজনৈতিক দল বা নির্বাচিত সরকার কখনওই ক্রীতদাস নয়।’’ নাম না-করে কমিশনকে ‘বিজেপির প্রচারক’ বলেও কটাক্ষ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘‘তরুণ প্রজন্ম যাতে ভোট দিতে না পারে, সেই কারণেই কি এই নিয়ম? গরিবেরা কী ভাবে বাবা-মায়ের শংসাপত্র পাবেন? এটা কি এনআরসি? এ ভাবেই দেশে এনআরসি চালু করার চেষ্টা হচ্ছে কি?’’ ঘটনাচক্রে, এর দিনকয়েকের মাথায় পুরনো নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করল কমিশন।
তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েনের গলায় শোনা গিয়েছে ভিন্ন সুর। ডেরেক বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনের আগের বিজ্ঞপ্তিটি দেখেছিলাম। সোমবার প্রকাশ হওয়া বিজ্ঞপ্তিটিও দেখেছি। দুটি বিজ্ঞপ্তি দেখার পর আমাদের মনে হয় দু’টি বিজ্ঞপ্তির মধ্যে খুব একটা ফারাক নেই। বিষয়টি যে লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচন কমিশন করেছিল, সেই লক্ষ্যে তারা এখনও অবিচল রয়েছে। মুখে বিহারের কথা বলা হলেও, আসলে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে বিজেপি বাংলা দখলের জন্য এই কাজ করাচ্ছে।” মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের দফতরে অভিযোগ জানাতে যাচ্ছেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। ওই প্রতিনিধিদলে থাকবেন, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক। থাকবেন রাজ্যের তিন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং অরূপ বিশ্বাস। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে তার বিরোধিতা করে নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে অবিলম্বে কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (মহার্ঘভাতা) মিটিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্যের কাছে দাবি জানিয়ে ধর্মঘট এবং ‘পেন ডাউন’ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটি। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ওই সংগঠনের তরফেবিবৃতি দিয়ে সে কথা জানানো হয়েছে। রাজ্য সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্যকে সুপ্রিম কোর্ট যে ছয় সপ্তাহ সময়সীমা দিয়েছিল, তা শুক্রবার শেষ হয়েছে। এর পর সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য জানায়, তাদের এখন আর্থিক সঙ্কট রয়েছে। তাই বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটানোর জন্য আরও সময় প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশ পুনর্বিবেচনারও আর্জি জানায় রাজ্য। এ-ও জানিয়েছে, তারা বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ সরাসরি আদালতের তহবিলে জমা দিতে প্রস্তুত। এ বার রাজ্যের সব কর্মচারী সংগঠন নিজেদের মতো করে আন্দোলনের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোনও কোনও সংগঠন আবার রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে চিঠি লিখে জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কোনও সিদ্ধান্ত না-নিলে, তারা আদালত অবমাননার মামলা করবে। কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী-সহ সিপিএম সমর্থিত রাজ্য সরকারের কর্মচারীরা আগামী ৯ জুলাই একটি ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। কিন্তু তার আগে আগামী ৪ জুলাই তাঁরা একটি ‘পেন ডাউন’ কর্মসূচি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই সংক্রান্ত তাঁরা একটি নির্দেশিকা দেন। নির্দেশিকায় বলা আছে, রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে বেতনপ্রাপ্ত সমস্ত অংশের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা ও রিলিফ প্রদানের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে রাজ্য সরকার কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকারকে উপেক্ষা করছে। তার প্রতিবাদে আগামী ৯ জুলাই ধর্মঘট হবে। এই ধর্মঘটের আগে আগামী ৪ জুলাই দু’ঘণ্টার জন্য ‘পেন ডাউন’ কর্মসূচির বিষয়েও উল্লেখ করা আছে ওই নির্দেশিকায়। শুধু তাই নয়, এই আন্দোলনের কর্মসূচিকে ঐক্যবদ্ধ করতে আগামী ১ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ শহিদ মিনারে যৌথ মঞ্চ ও সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বানে যৌথ উদ্যোগে সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। ১৬ মে সুপ্রিম কোর্ট ডিএ সংক্রান্ত মামলায় নির্দেশ দিয়েছিল, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত যে পরিমাণ ডিএ রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া রয়েছে, তার ২৫ শতাংশ রাজ্য সরকারকে মিটিয়ে দিতে হবে পরের ছয় সপ্তাহের মধ্যে। সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে ২৭ জুন, শুক্রবার। আগামী অগস্ট মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা। ডিএ মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মোট বকেয়া ডিএ–র পরিমাণ ১১ হাজার ৮৯০ কোটি ১৮ লক্ষ টাকা। এ ছাড়া পেনশন প্রাপকদের জন্য মোট বকেয়া ১১ হাজার ৬১১ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা। এ ছাড়াও শিক্ষক, পুরসভা, পঞ্চায়েত–সহ স্বশাসিত সংস্থা ও রাজ্য সরকার পরিচালিত সংস্থার কর্মীদের পাওনা ১৮ হাজার ৩৬৯ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে অঙ্কটা ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি। তাই রাজ্য সরকারের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে জানিয়েছিলেন, পুরো ডিএ দিতে গেলে রাজ্য সরকারের আর্থিক অবস্থা বেহাল হয়ে যাবে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশ মেনে এর ২৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা ২৭ জুনের মধ্যে মেটাতেই হবে। পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীরা বর্তমানে ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পান। কয়েক মাস আগে বাজেট বক্তৃতার সময়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চার শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছিলেন। তার পর ১৪ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ডিএ হয় ১৮ শতাংশ। সেই বর্ধিত ডিএ কার্যকর হয় ১ এপ্রিল থেকে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে এ রাজ্যের কর্মীদের মহার্ঘভাতার ফারাক এখনও ৩৭ শতাংশ। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ৫৫ শতাংশ হারে ডিএ পান। গত ১৬ মে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছিল, কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ পরের ছ’সপ্তাহের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে।
কসবার আইন কলেজে ধর্ষণকাণ্ড গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। শুধু কলকাতা হাই কোর্টে নয়, সুপ্রিম কোর্টেও মামলা দায়ের হয়েছে। সিবিআই তদন্তের আবেদন জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সিবিআই তদন্তের দাবি উঠলেও কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে। অভিযুক্তদের ‘কল রেকর্ড’ থেকে শুরু করে ঘটনার সময় মূল অভিযুক্তের পরনের পোশাকও সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। অন্য দিকে, দিনভর কসবা থানা এবং কলেজের সামনে প্রতিবাদের ছবিও প্রকাশ্যে আসে। কলেজের সামনে হাতাহাতিতে জড়ায় বাম এবং বিজেপি! শুধু কলেজ এবং থানা নয়, ধর্মতলা, বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটেও ছড়ায় বিক্ষোভ, যার জেরে উত্তর এবং মধ্য কলকাতাতেও একটা সময় যানজট তৈরি হয়। সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে গণধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে আবেদন জমা পড়েছে সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালতের নজরদারিতে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়েছেন সত্যম সিংহ নামে এক আইনজীবী। শুধু তা-ই নয়, ‘নির্যাতিতা’ এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও আদালতের নজরে আনা হয়েছে। পাশাপাশি, ওই তরুণীর জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদনও জানানো হয়েছে শীর্ষ আদালতে। সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। মামলা করার অনুমতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত। কসবার ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টেও বেশ কিছু জনস্বার্থ মামলা দায়ের করার আবেদন জমা পড়েছে। দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়েছেন মামলাকারীরা। হাই কোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি স্মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, দৃষ্টি আকর্ষণের প্রয়োজন নেই। ওই বিষয়ে সকল মামলা দায়ের করে অপর পক্ষকে নোটিস দেওয়া হোক। তার পরে শুনানি চেয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন আইনজীবীরা। আগামী বৃহস্পতিবার এই মামলাগুলির একসঙ্গে শুনানির সম্ভাবনা। প্রথমে লালবাজার এবং পরে সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে যায় বিজেপির ‘তথ্যানুসন্ধানী দল’। সেই দলে ছিলেন মুম্বইয়ের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সত্যপাল সিংহ, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মীনাক্ষী লেখী, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, সাংসদ বিপ্লব দেব এবং মননকুমার মিশ্র। সেই দলকে নিয়ে প্রথমে লালবাজারে যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। সেখানে কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মার সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। প্রায় ৪৫ মিনিট লালবাজারে ছিল ওই দলটি। কলেজের নিরাপত্তা, তদন্ত থেকে শুরু করে বহিরাগতদের আনাগোনা নিয়ে একাধিক বিষয়ে আলোচনা। লালবাজার থেকে বিজেপির ‘তথ্যানুসন্ধানী দল’ পৌঁছোয় কসবার কলেজে। সেখানে প্রবেশের আগে প্রথমে তাদের পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয়। পরে ওই দলের কয়েক জনকে কলেজের ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেয় পুলিশ। সেই সময় কলেজের সামনে জড়ো হয়েছিলেন বিজেপির যুব সংগঠনের কর্মীরা। শুধু তাঁরা নন, কলেজের সামনে জমায়েত করেছিলেন বেশ কয়েকটি বামপন্থী সংগঠনের কর্মীরাও। বিজেপির ‘তথ্যানুসন্ধানী দল’-এর কয়েক জনকে কলেজের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার পরেই পুলিশের সঙ্গে বচসা বাধে বাম কর্মীদের। কেন তাঁদের আটকাচ্ছে পুলিশ, সেই প্রশ্ন তুলে স্লোগান-বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। বিজেপি কর্মীরাও পাল্টা স্লোগান শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের সঙ্গে বচসার মধ্যেই বাম এবং বিজেপি কর্মীরা নিজেদের মধ্যে হাতাহাতিতে জড়ায়। পুলিশের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আইনের ছাত্রছাত্রী এবং প্রাক্তনীদের বিক্ষোভ মিছিল হয় কসবায়। কলেজের বর্তমান ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন। দাবি একটাই— ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অপরাধীদের অবিলম্বে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে নিরাপত্তা। কসবা থানা থেকে সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজ পর্যন্ত হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করেন। আইনজীবী এবং আইনের পড়ুয়ারা ছাড়াও সোমবার পথে নেমেছিল নাগরিক সমাজ। ধর্মতলা, বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে জমায়েত করেন প্রতিবাদীরা। তাঁদের দাবি, দুষ্কৃতীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। জমায়েতের কারণে শহরের বিভিন্ন জায়গায় মূলত উত্তর এবং মধ্য কলকাতায় যানজট তৈরি হয়। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা ৫০ মিনিট— প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা, এই সময়ের মধ্যেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কলেজ ক্যাম্পাসের ভিতর। পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগপত্রে তেমনটাই জানিয়েছেন কসবার সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজের ‘নির্যাতিতা’। পুলিশ ইতিমধ্যেই ওই দিনের সাড়ে সাত ঘণ্টার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। আপাতত তদন্তকারীদের নজর তিন অভিযুক্তের ফোন কলের নথিতে। ঘটনার আগে এবং পরে তিন জনের ফোন থেকে কার কার কাছে ফোন গিয়েছে, কত ক্ষণ কথা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেই পুলিশ সূত্রে খবর। শুধু ‘কল রেকর্ড’ নয়, ধর্ষণকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ‘এম’-এর পোশাকও সংগ্রহ করেছে তদন্তকারী দল। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ঘটনার সময় ‘এম’-এর পরনে ছিল লাল কুর্তা এবং খয়েরি ট্রাউজার্স। রবিবার তাঁর বাড়ি থেকেই সেগুলি সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ওই পোশাক ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। তদন্তে এই পোশাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছে সিট। ঘটনার ছ’দিনের মাথায় কড়া পদক্ষেপ করল সরকার। সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজকে চিঠি দিল উচ্চশিক্ষা দফতর। চিঠিতে অস্থায়ী কর্মীকে বহিষ্কার, মূল অভিযুক্ত ‘এম’-কে বহিষ্কার এবং বাকি দুই পড়ুয়াকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বহিরাগতদের প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, কলেজের নিরাপত্তার দায়িত্বে যে সংস্থা ছিল, তাদেরও শোকজ় করা হয়েছে। কেন ওই সংস্থাকে ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ করা হবে না তাদের কাজের গাফিলতির জন্য তার জবাব দিতে হবে। এ ছাড়াও, কলেজে কলেজে যে বিশাখা কমিটি বা ‘ইন্টারনাল কমপ্লেন্ট’ কমিটি রয়েছে তাদের কলেজে বৈঠক ডাকতে হবে। কলেজের সময়ের পর ক্যাম্পাস ফাঁকা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে উচ্চশিক্ষা দফতরের থেকে। পাশাপাশি, ওই কলেজের মধ্যে আরও সিসিটিভি প্রয়োজন কি না তা-ও খতিয়ে দেখতে হবে বলেও জানিয়েছে সরকার।




