Monday, July 13, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

সারাদিনে শরীরে জলের প্রয়োজনীয়তা অসীম!‌ জলের বদলে কোকাকোলা! মূত্রাশয়ে ৩৫টি বিশাল বিশাল পাথর?‌

অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় পানের অভ্যাস ভয়াবহ হতে পারে। সম্প্রতি ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস রাজ্যের কাপিনোপোলিস হাসপাতালে এক ৬০ বছর বয়সি রোগীর মূত্রাশয় থেকে অস্ত্রোপচার করে বার করা হল ৩৫টি বিশালাকার পাথর। গোটা ঘটনায় রীতিমতো হতবাক চিকিৎসকরাও। দাবি, এর নেপথ্যে রয়েছে রোগীর একটি বদ-অভ্যাস। প্রতিদিন প্রায় তিন লিটার কোকাকোলা পান করতেন রোগী। আর তার থেকেই এই পাথরের উৎপত্তি। অস্ত্রোপচারের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে নেটমাধ্যমে। ভিডিওটি তুলেছিলেন ওই হাসপাতালেরই ইউরোলজিস্ট ডা. থালেস ফ্রাঙ্কো দি অ্যান্ড্রাদে। তিনি নিজের ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি পোস্ট করার পরেই সেটি সামাজিক মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ইতিমধ্যেই ভিডিওটি দেখেছেন ৮০ লক্ষেরও বেশি নেটিজেন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত ৩০ এপ্রিল প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে এই জটিল অস্ত্রোপচার করেন শল্যচিকিৎসকদের একটি দল। রোগীর মূত্রাশয় থেকে প্রায় ৬০০ গ্রাম ওজনের ৩৫টি ক্যালসিয়াম অক্সালেট-ফসফেট পাথর বার করা হয়। সফল অস্ত্রোপচারের পর রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও ডা. অ্যান্ড্রাদে তাঁর পোস্টে স্পষ্টভাবে লিখেছেন, “জল কম খাওয়া, প্রস্রাবের অম্লতা বৃদ্ধি এবং মূত্রে ক্যালসিয়াম-অক্সালেটের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, এই তিনটি বিষয় মূত্রাশয়ে পাথর তৈরির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।” হার্ভার্ডের গবেষণা বলছে কোলা-জাতীয় পানীয়ের মধ্যে থাকে ফসফরিক অ্যাসিড। এটি প্রস্রাবকে অতিরিক্ত অম্ল করে তোলে, যা পাথর জমার আশঙ্কা বাড়ায়। পাশাপাশি ঠান্ডা পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি থাকে। এই অতিরিক্ত চিনি শরীরের ক্যালসিয়াম বিপাক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে এবং প্রস্রাবে খনিজের ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয়। আর সবশেষে যে উপাদানটির উল্লেখ করতে হয়, সেটি হল ক্যাফেইন। অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরে প্রবেশ করলে ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা দেখা দেয়। এই তিনের সম্মিলিত প্রভাবে মূত্রাশয় বা কিডনিতে সহজেই পাথর জমতে পারে।

সারাদিনে কখন, কতটা জল শরীরের দরকার। তা জেনে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, আমাদের হজম শক্তি অনেকটাই নির্ভর করেই এই জলের পরিমাণের উপর। শরীরে জলের পরিমাণ ঠিক থাকলে, বজায় থাকবে হজম ক্ষমতাও। ব্যস্ত জীবনে সাধারণ ভাবেই প্রচুর মানুষই জল খেতে ভুলে যান। মনে থাকে না সময়ে খাবার খাওয়ার কথা পর্যন্ত। তবে এই অভ্যাস শরীরের জন্য একেবারে ভাল নয়, বলছেন চিকিৎসকরা। খাবার খাওয়ার সময় জল একেবারে বাতিল করে দেওয়া উচিত। দুপুরের খাবার বা রাতের ডিনারের অন্তত ৩০ মিনিট আগে জল খাওয়া উচিত। এই সময় ব্যবধান বজায় রাখা উচিত খাবার খাওয়ার পরেও। এর মাঝে কোনও মতেই জলের গ্লাসে হাত দেওয়া উচিত নয়। ঠান্ডা জল যতটা বর্জন করা যায় ততই ভাল। কারণ ফ্রিজের কনকনে ঠান্ডা জল একদিকে যেমন শরীরে নানা ক্ষতি করে, ঠিক তেমনই শরীরের তেজকেও নষ্ট করে থাকে। উষ্ণতা সাধারণ। না গরম, না ঠান্ডা। কারণ, অতিরিক্ত গরম জল পেটের পক্ষে অতিরিক্ত ক্ষতিকর।

গ্যাস-অম্বলের সমস্যা। সময় বাঁচাতে জাঙ্কফুড খাওয়া, অনিয়মিত খাওয়ার সময়, এমন নানা কারণ থাকতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়, রাতে খাবারের পরই গলা বুক জ্বালা করে। মুখে কেমন একটা টক টক ভাব লাগে। বুকে ব্যাথা হয়, এমনকি কাঁসি এবং বমি বমি ভাব কিংবা বমি হওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়। আবার মনে হয়, গলায় কী যেন আটকে রয়েছে। এমন সমস্যা যদি আপনার ক্ষেত্রেও থাকে, তা হলে এই পরামর্শগুলি মেনে দেখতে পারেন। ওটস এবং কলায় ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকে। যা অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি দিতে পারে দ্রুতই। পেট দীর্ঘ সময় ভরা রাখে। ব্রেকফাস্টে ওটস এবং কলা খেলে অ্যাসিডিটি এবং গলা-বুক জ্বালা করার পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। আদা এবং য়োগার্ট-আদা প্রাকৃতিক ভাবেই প্রদাহ-বিরোধী। পেটের সুস্থতার জন্য খুবই উপকারী। এর ফলেও গ্যাস এবং গলা বুক জ্বালা হওয়া আটকানো যায়। আদা চা কিংবা সুপের মধ্যে আদা খাওয়া যেমন উপকারী, তেমনই আদা দিয়ে য়োগার্ট (দইয়ের মতো) খেলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি। ডায়েটে অবশ্যই শাকসব্জি বাড়াতে হবে। শাক, ব্রোকোলি, শশা, বিনস এ সমস্ত ডায়েটে যোগ করতে পারেন। অ্যাসিডের দিক থেকে একেবারেই ক্ষতি করে না। পেট ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। তবে সব্জি ভাজার চেয়ে, সেদ্ধ করে খাওয়ায় উপকার বেশি। ঘরোয়া উপায় রয়েছে। অ্যালোভেরা অর্থাৎ ঘৃতকুমারীর রস কিংবা হার্বাল টি। অনেকের বাড়িতেই ঘৃতকুমারী গাছ থাকে। খাবার খাওয়ার আগে এর রস খেলে উপকার পেতে পারেন।

তরতাজা ফলই খাচ্ছেন। ফল সাধারণত হিমঘরেই রাখা হয়। সেখান থেকে বাজারে আসে। আর তারপর কারও বাড়ির ডাইনিং টেবলে। অনেকেই একসঙ্গে বেশি করে ফল কিনে রাখেন। বাইরে রাখলে খুব বেশিদিন ধরে তা খাওয়া যায় না। পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই কারণেই ফ্রিজেও রাখা হয় ফল। কিন্তু সব ফল ফ্রিজে রাখাও ঠিক নয়। যেমন কিছু ফল ভুলেও ফ্রিজে রেখে খাওয়া উচিত নয়। তরতাজা থাকার কারণে ফ্রিজে রাখা হয় ফল। কিছু ফলের ক্ষেত্রে তা স্বাস্থ্যকরের পরিবর্তে ‘বিষে’ পরিণত হতে পারে। আপেল একেবারেই ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। এর ফলে তা দ্রুত নরম হতে থাকে। ফ্রিজের ঠান্ডার কারণে তার প্রাকৃতিক স্বাদও নষ্ট হয়। আপেল যদি পুরোপুরি পাকা না হয়, তা ঘরের তাপমাত্রাতেই রাখা শ্রেয়। ফ্রিজে রাখলে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এখন আমের মরসুম। ফলের রাজাকে কার্যত সব বাড়িতেই দেখা মিলছে। বেশি করে আম এনে ফ্রিজে রেখে অনেক দিন ধরে খাওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। আম ফ্রিজে রাখলে এমনিতেই তাঁর স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। হালকা পাকা আম ফ্রিজে রাখলে সেটা পুরোপুরি পাকা থেকে আটকায়। আমও ঘরের তাপমাত্রাতেই রাখা ভালো। একেবারেই ফ্রিজে রাখা উচিত নয় আনারস। এর প্রাকৃতিক স্বাদ এবং রসালো বিষয়টা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আনারস একমাত্র কাটা অবস্থাতেই ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। কমলালেবু কিছু সময়ের জন্য ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। তবে বেশি সময় রাখলে এর প্রাকৃতিক গুণ, স্বাদ সবই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বরং কমলালেবুকে যদি ফ্রিজ ছাড়া অন্য কোনও ঠান্ডা জায়গায় রাখলে ভালো। পেপে যেমন কাঁচা অবস্থায় সবজি হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তেমনই পাকা পেঁপে খুবই উপকারী একটা ফল। কাঁচা কিংবা আধপাকা পেঁপে ফ্রিজে রাখলে তা কখনোও পাকবে না। পাকা পেপে ফ্রিজে রাখলে স্বাদ নষ্ট। তবে কেটে রাখলে আলাদা বিষয়।

ফ্রিজে সবসময়ই মিষ্টি রাখাই থাকে। সেটা রসগোল্লা, সন্দেশ হোক কিংবা চকোলেট। মাত্রাতিরিক্ত কোনও কিছুই শরীরের পক্ষে ভালো নয়। অনেক সময় এটা জেনেও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। চা-কফিতে চিনি খাওয়াটাও সাধারণ ব্যাপার। প্রয়োজনের তুলনায় মিষ্টি খাওয়া ধূমপানের মতোই ক্ষতিকারক। কিংবা বেশি পরিমাণে ফ্যাট খেয়ে নেওয়ার মতো। এর ফলে ওজন বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস, হৃদরোগের মতো সমস্যাও হতে পারে। যদি একটা সপ্তাহও চিনি ছাড়া থাকতে পারেন, সত্যিই কি শরীরে কিছু পরিবর্তন দেখা যাবে। কেউ যদি এক সপ্তাহ ‘নো সুগার’ ডায়েট করা যায়, শরীরে নানা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। শুরুতে হয়তো একটু ক্লান্তি, মেজাজ রুক্ষ থাকা, মাথাব্যাথার মতো পরিস্থিতি হতে পারে। কারণ, শরীরে যখন মিষ্টির অভ্যেস তৈরি হয়ে যায়, হঠাৎ করে তা বন্ধ হলে সাময়িক সমস্যা হওয়ারই কথা। একবার যদি এই মিষ্টি ছাড়া যায়, ওজন বৃদ্ধি আটকানো, ব্লাড সুগার লেভেল ঠিক করার মতো অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন হতে পারে। চিকিৎসকরা বলেছেন, ‘নো সুগার’ ডায়েটের ফলে পেট ব্যাথা, গ্যাসের সমস্যা, অম্বলের সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। ত্বক পরিষ্কার এবং স্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। এমন ঘুমও ভালো হয়। আমেরিকান ডায়েটারি গাইডলাইন ২০২০-২০২৫ অনুযায়ী, দিনে মোট ক্যালোরির ১০ শতাংশের বেশির উৎস যেন চিনি না হয়। নো সুগার ডায়েটে বরং যোগ করা যেতে পারে সবুজ শাক-সব্জি, তাজা ফল, মাছ, ডিম ইত্যাদি। এর ফলে শরীরে প্রয়োজনীয় সব কিছুই মিলবে। রাতে ছোলা ভিজিয়ে রাখেন এবং সকালে খালি পেটে তা খান। সঙ্গে কিসমিসও যদি রাতে ভিজিয়ে সকালে খাওয়া যায়, লাভ আরও বেশি। শুধু স্বাদের দিক থেকেই নয়, পুষ্টির দিক থেকেও খুবই উপকারী। শরীরকে ডিটক্স করতে সাহায্য করে ভেজানো ছোলা ও কিসমিস। কিসমিসের মধ্যে প্রাকৃতিক ভাবেই মিষ্টি স্বাদ থাকে। আয়রন এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও থাকে কিসমিসে। তেমনই ছোলায় প্রোটিন, ফাইবার কার্বোহাইড্রেটের উপাদান থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজানো ছোলা এবং কিসমিস শরীরের জন্য খুবই উপকারী। গরমকালে ভেজানো কিসমিস খাওয়া বাড়তি সাহায্যও করে। শরীর ঠান্ডা রাখে এই খাবার। তেমনই স্বাস্থ্যের দিক থেকেও উপকারী। সারাদিন শরীরে এনার্জি, স্ফুর্তি ধরে রাখতে সাহায্য করবে। যাঁরা এক্সারসাইজ করেন, শুধু তাঁদের ক্ষেত্রেই নয়। সকলের জন্যই উপকারী হতে পারে ভেজানো ছোলা এবং কিসমিস।

লিভার সুস্থ রাখতে চটজলদি স্ন্যাকসই যথেষ্ট, তবে চাই সঠিক পছন্দ। হার্ভার্ড-প্রশিক্ষিত লিভার ও গাট বিশেষজ্ঞ ড. সৌরভ সেঠী জানিয়েছেন, প্রতিদিনের কিছু ছোট কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত খাদ্য-চয়নেই লিভারের জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। খেজুরে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার হজমকে ধীরে করে, লিভারে ফ্যাট জমা কমায়। অন্যদিকে আখরোটে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রদাহ কমায়। সপ্তাহে দু’বার ২টি খেজুর ও এক মুঠো আখরোট খাওয়াই যথেষ্ট। ৭০ শতাংশ বা তার বেশি কোকোযুক্ত ডার্ক চকোলেট অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়ক। এর সাথে ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ আমন্ড বা পিস্তাবাদাম লিভার কোষ রক্ষা করে। সপ্তাহে এক বা দু’বার এই যুগল উপভোগ করা যেতে পারে। আপেলে থাকা পেকটিন চর্বি আটকাতে সাহায্য করে, কাঁচা মধু উপকারী গাট ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে এবং দারচিনি প্রদাহ কমায়। ঠান্ডা বা গরম—যেকোনোভাবেই উপভোগযোগ্য এই স্ন্যাকস। গ্রিক দই বা দেশীয় দই প্রোবায়োটিক ও প্রোটিন সমৃদ্ধ, যা হজম ও লিভার ফ্যাট নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এর সঙ্গে ব্লুবেরি বা স্ট্রবেরির মতো বেরি মিশিয়ে খেলে ভিটামিন সি ও পলিফেনলসের বাড়তি সুবিধা মেলে। স্ন্যাকসগুলি যথার্থ কাজ করে শুধুমাত্র যখন সেগুলির সাথে থাকে নিয়মিত শরীরচর্চা ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে শস্য, ফলমূল, ও শাকসবজির অভ্যাস। এমন খাদ্যাভ্যাসই ধীরে ধীরে ও স্বাভাবিকভাবে ফ্যাটি লিভার রোধে সাহায্য করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles