শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সৌরভের বায়োপিকে ডোনার ভূমিকায় কে? লর্ডসে জামা ঘোরানোর দৃশ্য? সিনেপর্দায় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বর্ণময় ক্রিকেট কেরিয়ার থেকে ব্যক্তিগতজীবন। দর্শকদের কৌতূহল, উৎকণ্ঠার অন্ত নেই। ‘প্রিন্স অফ ক্যালকাটা’র ভূমিকায় রাজকুমার রাও। ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ভূমিকায়? কবে মুক্তি পাবে মহারাজের বায়োপিক? ২০২৬-র ডিসেম্বরে রুপোলি পর্দায় আসতে চলেছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বহুপ্রতীক্ষিত বায়োপিক। শুটিং শুরুর জন্য যাবতীয় প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতেই শুরু শুটিং। প্রথম তিনমাস শুটিং চলবে ভারতে। অনেকটা জায়গাজুড়ে থাকবে শহর কলকাতা। এখান থেকেই শুরু সৌরভের উত্থান। তাঁর ‘দাদাগিরি’ দেখেছে গোটা ক্রিকেটবিশ্ব। পরের তিনমাস শুটিং চলবে লন্ডনে। ইতিমধ্যে লোকেশন দেখার কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের চরিত্রে অর্থাৎ রাজকুমার রাওয়ের বিপরীতে থাকতে পারেন বলি অভিনেত্রী তৃপ্তি দিমরি। ডোনার চরিত্রে অনেককেই ভাবা হয়েছিল। সৌরভের সহধর্মিণী ভূমিকায় তৃপ্তিই এগিয়ে। সিনেমার কাস্টিংয়ের দায়িত্বে রয়েছে মুকেশ ছাবরার সংস্থা। বিদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে মুখের মিল আছে, এরকম অভিনেতাদের খোঁজ চলছে জোরকদমে। সৌরভ নিজেও যথেষ্ট উৎসাহী এই প্রজেক্টটা নিয়ে। সিনেমার সার্বিক পরিকল্পনা নিয়ে একাধিকবার বৈঠকে বসেছেন। সৌরভের বায়োপিক হবে, তাতে লর্ডসে জামা ঘোরানো! ঐতিহাসিক দৃশ্য শুট নিয়ে একাধিক পরিকল্পনা। অপেক্ষা ‘শুভ মহরতে’র। ক্রিকেট মাঠ থেকে রুপোলি পর্দা। ২০২৬-র ডিসেম্বরেই ভারতবাসী সাক্ষী হতে চলেছে সৌরভের ‘দাদাগিরি’র।

বাংলার মহারাজ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বায়োপিক বড় পর্দায়। আগে ঠিক ছিল, ঐশ্বর্য রজনীকান্তের পরিচালনায় ছবিতে ‘প্রিন্স অফ ক্যালকাটা’র চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে আয়ুষ্মান খুরানাকে। মহারাজের ক্রিকেট কেরিয়ার থেকে ব্যক্তিগত জীবন দাদা বললেন, “হ্যাঁ বায়োপিক হচ্ছে তো। প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে এবার ফ্লোরে যাওয়ার অপেক্ষা। খুব তাড়াতাড়ি শুরু হবে শুটিং।” তাঁকে নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই প্রকাশিত হচ্ছে কোনও না কোনও বই। কিন্তু তিনি আজও লিখে উঠতে পারেননি আত্মজীবনী। তবে তাঁর জীবননামা এবার পর্দায় আসছে। তাই সেটিকে নিয়ে দর্শকের আগ্রহ যে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। এর আগে মহেন্দ্র সিং ধোনি, মহম্মদ আজহারউদ্দিনের বায়োপিক তৈরি হয়েছে হিন্দিতে। বাংলার মহারাজ। এতদিন ধরে টানা ‘দাদাগিরি’র সঞ্চালক হিসেবে একই জনপ্রিয়তা নিয়ে একটার পর একটা অধ্যায় পার করে চলেছেন তিনি। জাদুটা কী? প্রশ্নের উত্তরে এক গাল হেসে জানান, “আমি তো সারাক্ষণ বকেই যাই। আসলে অভ্যেস হয়ে গিয়েছে। কোনওদিন ভাবিনি টেলিভিশনে এতদিন কাজ করব। ক্রিকেট টেলিভিশনে নয়, এন্টারটেইনমেন্ট টেলিভিশনে এতদিন ধরে কাজ করে চলেছি। এত মানুষের সঙ্গে আলাপ হয়, ভালোই লাগে।”
ক্রিকেট মাঠে কিংবদন্তিদের বহুচর্চিত বন্ধুত্ব। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও শচীন তেণ্ডুলকর। হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের দাপট দেখে দুই প্রাক্তন ফিরে গেলেন ২৩ বছর আগে। ২০০২ সালে ঠিক একইভাবে ইংল্যান্ডকে শাসন করেছিলেন শচীন-সৌরভ-রাহুলরা। হেডিংলিতে টসে জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বেন স্টোকস। কিন্তু তাঁর পরিকল্পনায় জল ঢালে ভারতের দুই ওপেনার। হাতে চোট নিয়েও সেঞ্চুরি করেন যশস্বী জয়সওয়াল। চা-পানের বিরতির ঠিক পরেই ১০১ রানে আউট হন। আর এরপর ইংল্যান্ড দেখল নতুন অধিনায়কের কামাল। ১৪০ বলে শুভমান গিল করলেন টেস্ট কেরিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। প্রথম দিনের শেষে তিনি অপরাজিত আছেন ১২৭ রানে। এককথায় গিলকে পরাস্ত করার মতো কোনও অস্ত্র ব্রাইডন কার্সদের হাত থেকে বেরোয়নি। অন্যদিকে ঋষভ পন্থ অপরাজিত আছেন ৬৫ রানে। ভারতের দাপট দেখে শচীন তেণ্ডুলকর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘কেএল রাহুল ও যশস্বী জয়সওয়াল ভারতকে শক্ত মাটিতে দাঁড় করিয়েছেন। যশস্বী ও শুভমান গিলকে অনবদ্য সেঞ্চুরির জন্য অনেক অভিনন্দন। ঋষভ পন্থও এই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের ব্যাটিং দেখে আমার ২০০২ সালে হেডিংলি টেস্টের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। যেখানে রাহুল, সৌরভ ও আমি প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলাম। আমরা সেই টেস্ট জিতেছিলাম। আজ যশস্বী ও শুভমান নিজেদের কাজ করেছে। এবার তৃতীয় সেঞ্চুরি করবে কে?’ ২০০২ সালে লিডসে তৃতীয় টেস্টে ভারত এক ইনিংস ও ৪৬ রানে জিতেছিল। রাহুল দ্রাবিড় করেন ১৪৮ রান। শচীনের ব্যাট থেকে আসে ১৯৩ রান। সৌরভ থামেন ১২৮ রানে। শচীনের পোস্টের উত্তরে সৌরভ লেখেন, ‘হাই চ্যাম্প। এবার তো মনে হয় চারজন সেঞ্চুরি করবে। পিচ খুবই ভালো। পন্থ আর তারপর করুণও সেঞ্চুরি করতে পারে। ২০০২ সালের টেস্টের পিচের সঙ্গে আজকের পিচের কিছুটা তফাৎ রয়েছে।’ দুজনের কথাবার্তায় নস্ট্যালজিক ক্রিকেটভক্তরা।




