Sunday, July 12, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

অনবদ্য তিন সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড়ে ‘‌নতুন’‌ টিম ইন্ডিয়া!‌ ইংরেজ বোলারদের রীতিমতো শাসন করে সেঞ্চুরি হাঁকালেন থ্রি মাস্কেটিয়ার্স

ঋষভ পন্থ। ইংরেজ বোলারদের রীতিমতো শাসন। সেঞ্চুরি হাঁকালেন টিম ইন্ডিয়ার উইকেটরক্ষক। শোয়েব বশিরের বলে এক হাতে বিরাট একটা ছক্কা মেরে ১৪৬ বলে শতরান পেরলেন ২৭ বছরের ক্রিকেটার। তারপর ডিগবাজি খেয়ে সেলিব্রেশনে মেতে ওঠেন। আইপিএলের শেষ ম্যাচে আরসিবি’র বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করেও একইভাবে উল্লাসে মেতে উঠেছিলেন পন্থ। প্রথম দিনই ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে টপকে গিয়েছিলেন ঋষভ পন্থ। আর দ্বিতীয় দিনেও নিজের লক্ষ্যে পন্থ ছিলেন অবিচল। ইংল্যান্ডের মাটিতে এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি পন্থের। এই সেঞ্চুরির পর অসাধারণ একটা নজিরও স্পর্শ করলেন তিনি। তাঁর সেঞ্চুরির সংখ্যা ৭টি। কোনও ভারতীয় উইকেটকিপারই এতগুলো শতরান পাননি। এক্ষেত্রেও পিছনে ফেললেন ধোনিকে। টেস্টে মাহির সেঞ্চুরির সংখ্যা ৬টি। ধোনি ৯০ টেস্টে ছ’টি শতরান করেছেন। আর হেডিংলিতে পন্থ খেলতে নেমেছেন ৪৪তম টেস্ট। অনেকেই মনে করছেন, আগামীদিনে আরও অনেক রেকর্ড গড়বেন তিনি। সেঞ্চুরির পর নিজের ব্যাটিং গিয়ার বদল করেন পন্থ। একেবারে তুরীয় মেজাজে অবতীর্ণ হন তিনি। বিশেষ করে শোয়েব বশিরের উপর নির্দয় ছিলেন তিনি। যদিও এর মধ্যেই ব্যক্তিগত দেড়শোর মাইলফলক স্পর্শের ৩ রান আগেই আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন গিল। পন্থের সঙ্গে ২০৯ রানের ‘ম্যামথ’ পার্টনারশিপের সমাপতন এভাবেই হয়। ৮ বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন ঘটানো করুণ নায়ারের কাছে দিনটা সুখকর হল না। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বেন স্টোকসের বলে আউট হন অলি পপের অনবদ্য ক্যাচে। ১৩৪ রানের মাথায় আউট হন পন্থও। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে আউট হন শার্দূল ঠাকুরও। লাঞ্চে ৭ উইকেটে ৪৫৪ রান করার পর, ২৪ রানে চার উইকেট হারায় টিম ইন্ডিয়া।

ইংরেজ বোলারদের রীতিমতো শাসন করে সেঞ্চুরি হাঁকালেন টিম ইন্ডিয়ার এই উইকেটরক্ষক। শোয়েব বশিরের বলে এক হাতে বিরাট একটা ছক্কা মেরে ১৪৬ বলে শতরান পেরলেন ২৭ বছরের এই ক্রিকেটার। আর তারপর ডিগবাজি খেয়ে সেলিব্রেশনে মেতে ওঠেন তিনি। আইপিএলের শেষ ম্যাচে আরসিবি’র বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করেও একইভাবে উল্লাসে মেতে উঠেছিলেন পন্থ। এদিন যেন তারই ‘রিপিট টেলিকাস্ট’ দেখল ক্রিকেটবিশ্ব। তারপরই গাভাসকর বলেন ‘সুপার্ব, সুপার্ব, সুপার্ব’। ছ’মাস আগে অজি সফরে মেলবোর্ন টেস্টে ৫ উইকেট হারানো অবস্থায় রবীন্দ্র জাদেজা এবং পন্থের দিকেই তাকিয়ে ছিল গোটা দেশ। স্কট বোলান্ডের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে আউট হন পন্থ। যা দেখে গাভাসকর বলেন ‘স্টুপিড, স্টুপিড, স্টুপিড’। পন্থের সেঞ্চুরি দেখে গাভাসকরের মুখ থেকে বেরোল ‘সুপার্ব, সুপার্ব, সুপার্ব’। সেঞ্চুরির সঙ্গে অসাধারণ একটা নজিরও স্পর্শ করলেন তিনি। তাঁর সেঞ্চুরির সংখ্যা ৭টি। কোনও ভারতীয় উইকেটকিপারই এতগুলো শতরান পাননি। এক্ষেত্রেও তিনি পিছনে ফেললেন ধোনিকে। টেস্টে মাহির সেঞ্চুরির সংখ্যা ৬টি। ইংল্যান্ডের মাটিতে এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি পন্থের।

অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলে ভারতকে চালকের আসনে বসিয়ে দিয়েছেন শুভমান গিল। ইংরেজ বোলারদের ঔদ্ধত্যকে একপ্রকার পাত্তা না দিয়ে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। শুভমানের উপর নেমে আসতে পারে শাস্তির খাঁড়া। পোশাকবিধি ভঙ্গ করেছেন শুভমান। অনেকেই হয়তো জানেন না, টেস্ট ক্রিকেটে সাদা পোশাকের বিধি ছাড়াও আরও একটা বিধি থাকে। আইসিসি’র সেই পোশাকবিধি ভঙ্গ করেছেন শুভমান গিল। আইসিসি’র ১৯.৪৫ নম্বর বিধি অনুসারে, টেস্ট ম্যাচে রংবেরঙের মোজা ব্যবহার করতে পারেন না ক্রিকেটাররা। টেস্ট ম্যাচে কেবল ‘সাদা, ক্রিম বা হালকা ধূসর’ রঙের মোজা পরারই অনুমতি রয়েছে। ২০২৩ সালের মে থেকে কার্যকর হয়েছে এই নিয়ম। অথচ শুভমান গিল খেলেছেন কালো রঙের মোজা পরে। সেই কারণে পোশাকবিধি ভঙ্গের অভিযোগে শাস্তি পেতে পারেন তিনি। দোষী প্রমাণিত হলে ম্যাচ ফি’র ২০ শতাংশ জরিমানা হতে পারে। শাস্তি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও থাকবে, যদি ম্যাচ রেফারিকে বোঝাতে পারেন এই ভুল অজ্ঞতাবশত বা অনিচ্ছাকৃত, তাহলেই শাস্তি এড়াতে পারবেন। লিডসে ৫৭ বছরের রেকর্ড ভেঙেছেন শুভমান। নবাব পতৌদির ৫৭ বছরের রেকর্ড ভেঙে ইংল্যান্ডের মাটিতে কনিষ্ঠতম ভারতীয় হিসেবে নেতৃত্বের ভার সামলানোর নজির গড়েছেন গিল। বিজয় হাজারে, দিলীপ ভেঙ্কসরকার, সুনীল গাভাসকর এবং বিরাট কোহলির পর পঞ্চম ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক টেস্টে শতরানের মালিক হয়েছেন শুভমান। ইংল্যান্ড সিরিজের ঊষালগ্নে খেলা দেখে মনে হচ্ছে, তরুণদের হাতে সুরক্ষিত টিম ইন্ডিয়া।

নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, বিরাট কোহলির পরিবর্ত হিসাবে ইংল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর জানিয়েছিলেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকতার পুরস্কার পাবেন তিনি। সকলেই জানতেন, করুণ নায়ারের খেলা নিশ্চিত। করুণ নিজেও চেয়েছিলেন, প্রত্যাবর্তনে নজর কাড়তে। কিন্তু পারলেন না। হেডিংলেতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে চার বলে শূন্য রানে আউট হয়ে ফিরলেন। ২০১৬ সালে এই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেই ত্রিশতরান করেছিলেন করুণ। তার পরেও সুযোগ পাননি। ব্রাত্য হয়ে যান। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন করুণ। পাশাপাশি কাউন্টি ক্রিকেটও খেলেন। তাঁর ঘরোয়া ক্রিকেটের সাফল্য নজরে পড়ে নির্বাচকদের। ভারতীয় দলে সুযোগ পান তিনি। ৩০১১ দিন পর আবার ভারতের জার্সি গায়ে ব্যাট করতে নামেন। শুরুটা ভাল হল না। কোহলির পরিবর্ত হিসাবে করুণকে নেওয়া হলেও চার নম্বরে ব্যাট করার সুযোগ পাননি। অধিনায়ক শুভমন গিল চার নম্বরে খেলছেন। পাঁচ নম্বরে সহ-অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। ফলে ব্যাট করার জন্য অনেক ক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় তাঁকে। দ্বিতীয় দিন শুভমন আউট হওয়ার পর নামেন তিনি। তার পরেও তাঁকে দু’ওভার অপেক্ষা করতে হয়। কারণ, সেই দুই ওভারের সব বলই খেলেন পন্থ। প্রথম তিনটে বল খেলার পর চতুর্থ বলটা অফ স্টাম্পের বাইরে করেন বেন স্টোকস। করুণ কভার দিয়ে চার মারার চেষ্টা করেন। কিন্তু বল মাটিতে রাখতে পারেননি তিনি। কভারে দাঁড়িয়ে থাকা ওলি পোপ শূন্যে ঝাঁপিয়ে দু’হাতে ক্যাচ ধরেন। করুণকে কিছু ক্ষণ হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তার পরে সাজঘরে ফেরেন। বিশেষ করে যশস্বী জয়সওয়াল, শুভমন ও পন্থের শতরানের পর তাঁর কাছেও সুযোগ ছিল বড় রান করার। সেই সুযোগ হাতছাড়া করলেন।
প্রথম দিন যেখানে শেষ করেছিলেন, দ্বিতীয় দিন সেখান থেকেই শুরু করেন শুভমন ও ঋষভ পন্থ। যশস্বী ও শুভমনের পর পন্থও নিজের শতরান করেন। তিন ব্যাটার শতরান করেছেন। অন্তত ৫৫০-৬০০ রান হওয়া উচিত। তার বদলে ৪৭১ রানে শেষ হয়ে গেল ভারতের প্রথম ইনিংস। একটা সময় রান ছিল ৩ উইকেটে ৪৩০। পরের ৪১ রানে ৭ উইকেট পড়ল। শুরুটা হল শুভমনকে দিয়ে। বড় শট খেলতে গিয়ে ফিরলেন। করুণ নায়ার আউট হওয়ার পর সাজঘর থেকে নির্দেশ পাঠালেন কোচ গৌতম গম্ভীর। পন্থকে সাবধানে খেলতে বললেন। সেখানেই খেই হারিয়ে ফেললেন পন্থ। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আউট হলেন। ভারতের সেই পুরনো রোগ। লোয়ার অর্ডারের আয়ারাম-গয়ারাম দশা। শার্দূল ঠাকুর, রবীন্দ্র জাডেজারা রান করতে পারলেন না। টেস্টের ইতিহাসে এক ইনিংসে তিন ব্যাটারের শতরানের পর ভারতের করা ৪৭১ রান সর্বনিম্ন। টেস্টে সেই দলই বড় রান করে যাদের লোয়ার অর্ডার রান পায়। ভারতের ইনিংস শেষ হওয়ার পর ইংল্যান্ডের ওপেনারেরা নামতে যাওয়ার সময় শুরু হল বৃষ্টি। খেলা বন্ধ থাকল। বৃষ্টি থামার পর বেন ডাকেট ও জ্যাক ক্রলি যখন নামলেন তখনও আকাশে মেঘ। এই আবহাওয়ায় বল স্বাভাবিকের থেকে বেশি সুইং করে। বল হাতে শুরুটা ভালো করেছিল ভারত। প্রথম ওভারের শেষ বলে ইংল্যান্ড ওপেনার জ্যাক ক্রলিকে ফেরান জশপ্রীত বুমরাহ। শুরুর অ্যাডভান্টেজ নিতে পারেনি ভারত। প্রথমে বেন ডাকেটের সহজ ক্যাচ ছাড়েন রবীন্দ্র জাদেজা। ডাকেট ৬২ রানে বোল্ড হন বুমরাহের বলে। ক্যাচ ছাড়েন যশস্বী জয়সওয়ালও। জীবনদান পান অলি পোপ। সেই পোপ এদিন সেঞ্চুরি হাঁকালেন মাত্র ১২৫ বলে। উইকেটের অন্য প্রান্তে জো রুট থিতু হওয়ার মূহুর্তেই ব্যক্তিগত ২৮ রানে আউট হন সেই বুমরাহের বলেই। আর আর কোনও ভারতীয় বোলারই সেভাগে দাগ কাটতে পারেননি। দিনের শেষ ওভারে বুমরাহের বাউন্সার পুল করতে গিয়ে আউট হন হ্যারি ব্রুক। ঘটনাচক্রে সেটা নো বল ছিল। প্রথম স্পেলে বুমরাহ তা করে দেখালেন। বুমরাহ প্রথম ওভারেই ক্রলিকে ফেরালেন। প্রতি ওভারে অন্তত দুটো করে সুযোগ তৈরি করছিলেন বুমরাহ। মহম্মদ সিরাজ প্রথম তিন ওভারে দিলেন ২৪ রান। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ প্রথম চার ওভারে দিলেন ২৮ রান। একই অবস্থা জাডেজারও, বলে স্পিন বিশেষ হল না। ইংল্যান্ডের তিনটে উইকেটই নেন বুমরাহ। দিনের শেষ ওভারে হ্যারি ব্রুককেও আউট করেছিলেন। নো বলের কারণে ব্রুক আরও এক বার সুযোগ পান। নইলে ৪ উইকেট থাকত বুমরাহের ঝুলিতে। বোলারদের কাজ আরও কঠিন করে দিল ভারতের ফিল্ডিং। বুমরাহের বলে তিনটে ক্যাচ পড়ল। ডাকেটেরই দু’বার। এক বার স্লিপে যশস্বী জয়সওয়াল ক্যাচ ছাড়লেন। পয়েন্টে জাডেজা ক্যাচ ছাড়লেন। ডাকেট করলেন ৬২ রান। চা বিরতির পর বুমরাহের বলে ক্যাচ তুলেছিলেন ওলি পোপ। সেই ক্যাচও স্লিপে ছাড়েন যশস্বী। গত অস্ট্রেলিয়া সফরে স্লিপে বেশ কয়েকটা ভাল ক্যাচ ধরেছিলেন যশস্বী। সেই কারণেই তাঁকে সেখানে রাখা হয়েছিল। কিন্তু এ দিন তিনি ব্যর্থ। জীবনদান কাজে লাগালেন পোপ। শতরান করলেন তিনি। গত বছর ভারত সফরে এসে প্রথম টেস্টে শতরান করেছিলেন। দ্বিতীয় দিনের শেষে ইংল্যান্ড ৩ উইকেটে ২০৯। পোপের সঙ্গে ক্রিজে রয়েছেন ব্রুক। ইংল্যান্ডের ইনিংস টানছেন ওলি পোপ। ১০০ রানে অপরাজিত ইংরেজ ব্যাটার। ১০০ রানে অপরাজিত। ভারতের ফিল্ডারেরা ক্যাচগুলো ধরতে পারলে হয়তো খেলার ছবিটা অন্য রকম হত। ইংল্যান্ডকে রুখতে তৃতীয় দিন বাকি বোলারদেরও ছন্দে ফিরতেই হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles