সূর্যগ্রহণ। পূর্ণগ্রাস গ্রহণ। বেশ বিরল। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ এক বছরে বা দেড় বছরে এক বার হয়। দু’টি স্যাটেলাইট ব্যবহারে বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম ভাবে সূর্যের এই গ্রহণ তৈরি করেছেন। মানুষের তৈরি কৃত্রিম উপগ্রহ স্যাটেলাইট। পৃথিবীর বুকে অকালেই দৃশ্যমান পূর্ণগ্রাস গ্রহণ! ইউরোপের মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। নতুন মহাকাশ অভিযান ‘প্রোবা-৩’। অভিযানে দু’টি স্যাটেলাইট ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম ভাবে সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ। সূর্যের বাইরের স্তর করোনা-র আরও নিকট এবং আরও স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ সম্ভব এই নকল গ্রহণের মাধ্যমে। এই পদ্ধতিতে বার বার কৃত্রিম গ্রহণ তৈরি করা গেলে সূর্য সংক্রান্ত গবেষণায় নতুন দিগন্ত। অচিরেই উন্মোচিত হতে পারে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রের অনেক অজানা রহস্য। সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর এবং পৃথিবীর চারপাশে চাঁদের নিরন্তর প্রদক্ষিণের ফলে গ্রহণ হয়। সূর্য, চাঁদ এবং পৃথিবী ঘুরতে ঘুরতে কখনও একই সরলরেখায় চলে আসে। তখন চাঁদের ছায়া পড়ে পৃথিবীর উপর। চাঁদ পৃথিবীর অনেক কাছে থাকে, তার ছায়ায় সূর্যের কোনও অংশই আর দেখতে পাওয়া যায় না। তখন হয় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি ইএসএ ১৬ জুন কৃত্রিম পূর্ণগ্রাস গ্রহণের ছবি প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গিয়েছে, সূর্যের মাঝের অংশ কালো ছায়ায় সম্পূর্ণ ঢাকা। চারপাশ থেকে বেরোচ্ছে সবুজ আভা। সাধারণ পূর্ণগ্রাস গ্রহণের সময়েও একই চিত্র। কেবল ছায়ার চারপাশে সূর্যের আভার রং সে ক্ষেত্রে সবুজ থাকে না। ইএসএ-র ‘প্রোবা-৩’ অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে দু’টি স্যাটেলাইট করোনাগ্রাফ এবং অকালটার। পৃথিবীর বাইরে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পরস্পরের থেকে ১৫০ মিটার দূরত্বে অবস্থান। কৃত্রিম গ্রহণ তৈরি করতে অকালটারের মধ্যে থাকা চাকতি সূর্যের মাঝের অংশকে ঢেকে দেয়। ছায়া গিয়ে পড়ে করোনাগ্রাফে রাখা যন্ত্রের উপর। কৃত্রিম ভাবে সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ চাক্ষুষ করেছেন বিজ্ঞানীরা। বেলজিয়ামের রয়্যাল অবজারভেটরির প্রধান তদন্তকারী অ্যান্ড্রেই জুকোভ বলেন, ‘‘ছবিগুলি দেখে আমি রোমাঞ্চিত হয়েছি। এটাই ছিল আমাদের প্রথম চেষ্টা। প্রথমেই এতটা সাফল্য পাব, ভাবতে পারিনি। সাধারণ প্রাকৃতিক গ্রহণের সময়ে যে ধরনের ছবি ওঠে, আমাদের এই কৃত্রিম গ্রহণের ছবিগুলি তার পাশে রেখে তুলনা করা যায়। তফাৎ একটাই। এই ধরনের গ্রহণ আমরা প্রতি ১৯.৬ ঘণ্টা অন্তর এক বার করে ঘটাতে পারব। প্রাকৃতিক উপায়ে সূর্যের পূর্ণগ্রাস গ্রহণ এত ঘন ঘন হয় না। বরং তা বেশ বিরল। সাধারণত পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ এক বছরে বা দেড় বছরে এক বার হয়। তা ছাড়া, প্রাকৃতিক গ্রহণ মাত্র কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়। ফলে দীর্ঘ ক্ষণ সূর্যের গ্রহণকালীন অবস্থার পর্যবেক্ষণ সম্ভব হয় না। ‘প্রোবা-৩’ অভিযানের মাধ্যমে আমরা অন্তত ছ’ঘণ্টা পূর্ণগ্রাস গ্রহণ ধরে রাখতে পারব।’’ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ‘প্রোবা-৩’ অভিযান শুরু করেছিল ইএসএ। করোনাগ্রাফ এবং অকালটার স্যাটেলাইটকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল নির্দিষ্ট কক্ষপথে। গত মার্চে এই দুই স্যাটেলাইট নিজেদের মধ্যে ১৫০ মিটার দূরত্ব রেখে পৃথক হয়। বেশ কয়েক ঘণ্টা স্যাটেলাইট দু’টি পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সূর্যগ্রহণ তৈরির জন্য অকালটার স্যাটেলাইটে যে চাকতিটি ব্যবহার প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা। অকালটারের ঠিক পিছনে ১৫০ মিটার দূরে ছিল করোনাগ্রাফ। সূর্য ঢাকা পড়ে যাওয়ার পর করোনাগ্রাফের অপটিক্যাল যন্ত্রগুলিতে আট সেন্টিমিটারের ছায়া পড়েছিল। সূর্যের করোনা স্তরের স্পষ্ট চিত্র স্যাটেলাইটের ক্যামেরায়। সূর্য নিয়ে গবেষণাকারীদের কাছে, ‘প্রোবা-৩’ অভিযানের সাফল্য তাঁদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যের করোনা স্তর নিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর অধরা। করোনার তাপমাত্রা সূর্যের কেন্দ্রের চেয়ে বেশি। করোনা স্তরটিকে দেখা যায় না। সূর্যের আলোয় ঢেকে থাকে। একমাত্র পূর্ণগ্রাস গ্রহণের সময়েই এই স্তরটি দেখতে পান বিজ্ঞানীরা। করোনার নিরবচ্ছিন্ন এবং বিপুল তাপমাত্রার রহস্য ভেদ করতে সাহায্য করবে ‘প্রোবা-৩’। দীর্ঘ ক্ষণ করোনা স্তরটিকে বিজ্ঞানীরা দেখতে পাবেন। প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ এবং গবেষণার জন্য পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের অপেক্ষা করতে হত। এ ছাড়া, করোনা স্তর থেকেই সূর্যের যাবতীয় তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হয়ে থাকে। করোনাল মাস ইজেকশন সিএম এবং সৌরঝড়ে সৌরজগতের আবহাওয়া বিঘ্নিত হয়। কখনও কখনও এই ধরনের তেজস্ক্রিয় কণা পৃথিবীর দিকেও ছুটে আসে। এর ফলে পৃথিবীতে বিদ্যুৎ সঙ্কট, নেটওয়ার্ক এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। কৃত্রিম উপগ্রহের কাজও সৌরঝড়ে ব্যাহত হয়। এই সৌরবাতাসের পর্যবেক্ষণে কৃত্রিম গ্রহণ কাজে লাগতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীদের একাংশ।
২২ জুন মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল শুভাংশু শুক্লদের। মহাকাশযান উৎক্ষেপণের দিন দুই আগেই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের আইএসএস তরফে ‘অ্যাক্সিয়ম-৪’ অভিযান স্থগিতের কথা জানানো হয়। কবে এই অভিযান হবে, এখনও স্থির করা হয়নি। নাসা, অ্যাক্সিয়ম স্পেস এবং ধনকুবের ইলন মাস্কের সংস্থা আপাতত অভিযান পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন অভিযান পিছোনো হচ্ছে, তারও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের এভেজ়দা সার্ভিস মডিউলে মেরামতি হয়েছে সদ্য। নাসার প্রাক্তন নভশ্চর এবং বর্তমানে অ্যাক্সিয়ম স্পেসের মানব মহাকাশযানের ডিরেক্টর রেগি হুইটসন অভিযানের কমান্ডর হিসাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রথমে ২০২৫ সালের ২৯ মে শুভাংশুদের অভিযান শুরু হওয়ার কথা ছিল। পরে তা পিছিয়ে ৮ জুন করা হয়। ‘ড্রাগন’-এ ইলেক্ট্রিক্যাল হারনেসের সমস্যার কারণে সে বার পিছিয়ে গিয়েছিল অভিযান। ৮ জুন খারাপ আবহাওয়ার কারণে অভিযান বাতিল করতে হয়। পর দিন, অর্থাৎ ৯ জুন অভিযানের দিন ঠিক করা হয়। সে দিনও ফ্যালকন-৯ রকেটের প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় পিছিয়ে গিয়েছিল অভিযান। খারাপ আবহাওয়া এবং প্রযুক্তিগত গোলযোগের কারণে ১০ জুনও অভিযান হয়নি। এর পরে অ্যাক্সিয়ম-৪ অভিযানের দিন পিছিয়ে ১১ জুন করা হয়। উৎক্ষেপণের ঠিক আগে মহাকাশযানের ‘ফায়ার বুস্টার’ পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, রকেটে ‘এলওএক্স’ লিক করছে। অর্থাৎ রকেটে তরল অক্সিজেন লিক করছে। সে কারণে পিছিয়ে যায় মহাকাশযাত্রা। ঠিক হয় ১৯ জুন শুভাংশুদের নিয়ে উড়বে মাস্কের সংস্থার মহাকাশযান। তবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে এভেজদা সার্ভিস মডিউলের সমস্যার কারণে পিছিয়ে ২২ জুন উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ স্থির করা হয়। সদ্য জন্ম ব্রহ্মাণ্ডের মহাজাগতিক ভোরের আলো। আন্দিজ পর্বতের কোলে অ্যাক্সিয়ম-৪ অভিযানে পাইলটের ভূমিকায় রয়েছেন লখনউয়ের ছেলে শুভাংশু। শুভাংশু ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন। রাকেশ শর্মার চার দশক পরে দ্বিতীয় ভারতীয় হিসাবে মহাকাশে পাড়ি দিচ্ছেন তিনি। শুভাংশু ছাড়াও এই অভিযানে থাকছেন পেগি, পোল্যান্ডের স্লায়োস উজনানস্কি-উইসনিউস্কি এবং হাঙ্গেরির টিবর কাপু। আকাশগঙ্গা মিল্কিওয়ে ছায়াপথের ঠিক মাঝখানে বিশাল কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাক হোল রয়েছে, তাকে নিয়ে আরও কিছু নতুন তথ্য জানতে পারলেন বিজ্ঞানীরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে নতুন গবেষণায় এই সমস্ত তথ্য পাওয়া গিয়েছে, যা ব্ল্যাক হোল নিয়ে বিজ্ঞানীদের এত দিনের ধারণাও অনেকাংশে পাল্টে দিচ্ছে। মিল্কিওয়ের ব্ল্যাক হোল স্যাজিটারিয়াস এ বা এসজিআর এ সর্বোচ্চ গতিতে নিরন্তর পাক খাচ্ছে নিজের অক্ষের চারপাশে। পদার্থবিদ্যার হিসাবে যত জোরে ঘোরা সম্ভব, ততটাই জোরে চলছে এই ঘূর্ণন।
একটি নক্ষত্রের মৃত্যুতে মহাকাশে ব্ল্যাক হোল জন্ম নেয়। এটি অসীম এক অন্ধকার গহ্বর। ব্ল্যাক হোলের ক্ষমতা এতটাই বেশি যে, তার মধ্যে থেকে আলোও বেরোতে পারে না। ব্ল্যাক হোল গিলে নেয় আশপাশের ছোট-বড় অনেক গ্রহ এবং নক্ষত্রকে। এর মধ্যে দিয়ে আলো বেরোতে পারে না বলে ব্ল্যাক হোল পর্যবেক্ষণ করাও কঠিন। মহাকাশে এই ধরনের একাধিক গহ্বরের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু বিজ্ঞানের কাছে ব্ল্যাক হোল এখনও এক বিরাট রহস্য। অনেকে বলেন, ব্ল্যাক হোলের ৯৯ শতাংশই এখনও অজানা থেকে গিয়েছে। আমাদের পৃথিবী এবং সৌরজগত যে ছায়াপথের মধ্যে রয়েছে, তার মাঝের ব্ল্যাক হোলটির নাম এসজিআর এ*। এর ভর সূর্যের ভরের চেয়ে ৪৩ লক্ষ গুণ বেশি। সহজ কথায়, এই ব্ল্যাক হোলের মধ্যে এঁটে যেতে পারে প্রায় ৪৩ লক্ষটি সূর্য। পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব ২৬ হাজার আলোকবর্ষ। সাধারণত, এক সেকেন্ডে তিন লক্ষ কিলোমিটার দূরে যেতে পারে আলো। পদার্থবিদ্যার হিসাবে সর্বোচ্চ গতি এটাই। আলোর চেয়ে দ্রুতগামী কিছু এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। মিল্কিওয়ের ব্ল্যাক হোলের ঘূর্ণন গতিও আলোর সমান বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশদ গবেষণা প্রয়োজন।
ব্ল্যাক হোল পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ইভেন্ট হরাইজ়ন টেলিস্কোপ ইএইচটি। কৃষ্ণগহ্বরের স্পষ্ট ছবি তোলার জন্য বছরের পর বছর ধরে কাজ করে চলেছে এই টেলিস্কোপ। ছবিগুলি তোলা হচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তার ব্যাখ্যার বন্দোবস্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা। ব্ল্যাক হোলের একগুচ্ছ ভার্চুয়াল ছবি এআই-এর মাধ্যমে আগে গড়া হচ্ছে। তার পর আসল পর্যবেক্ষণের সঙ্গে যে ছবিটি সবচেয়ে বেশি মিলছে, সেটি নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। নেদারল্যান্ডসের র্যাডবোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর রেডিয়ো অ্যাস্ট্রোনমির গবেষকদলের এই সংক্রান্ত সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ ‘অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স’ পত্রিকায় প্রকাশিত। পদার্থবিদ্যার হিসাবে সর্বোচ্চ গতিতে ঘুরছে মিল্কিওয়ের ব্ল্যাক হোল। তার ঘূর্ণন অক্ষটি পৃথিবীর দিকে নির্দেশ করছে। ব্ল্যাক হোলের চারপাশে যে আভা দেখা যাচ্ছে, সেটি তৈরি হচ্ছে গরম ইলেকট্রনের প্রভাবে। ব্ল্যাক হোলটির চারপাশে যে চৌম্বকীয় ক্ষেত্র রয়েছে, তা সম্বন্ধেও বিজ্ঞানীদের প্রচলিত ধারণা বদলে গিয়েছে নতুন পর্যবেক্ষণে। পৃথিবী থেকে ৫.৫ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অন্য এক ছায়াপথের মধ্যে রয়েছে প্রকাণ্ড ব্ল্যাক হোল এম৮৭। ইএইচটি টেলিস্কোপের সাহায্যে তার দিকেও নজর রাখা হয়েছে। এটি মিল্কিওয়ের এসজিআর এ-এর চেয়ে আকারে কয়েক হাজার গুণ বড়। এক গ্রাসে গিলে নিতে পারে তিন হাজার কোটি সূর্যকে। ব্ল্যাক হোলটির ঘূর্ণন গতি মিল্কিওয়ের ব্ল্যাক হোলের চেয়ে অনেক কম। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি আরও একটি অতিকায় ব্ল্যাকহোলের সঙ্গে মিশে গিয়েছে। ফলে এর মধ্যেকার পদার্থ এখন ঘুরছে বিপরীত দিকে। বিজ্ঞানীরা আশাবাদী, ভবিষ্যতে বড় আকারের টেলিস্কোপ দিয়ে আরও দূরের ব্ল্যাক হোল নিয়ে খোঁজখবর চালানো সম্ভব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় রহস্যের সমাধানও।
আমেরিকার টেক্সাসে অবস্থিত স্পেসএক্সের উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। স্টারশিপের আগামী সব মিশন আপাতত স্থগিত। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহাতের খবর মেলেনি। এলন মাস্কের স্টারশিপ ৩৬-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যাটিক ফায়ার পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই আচমকা বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে স্পেসএক্সের উৎক্ষেপণ কেন্দ্র। ঠিক কী কারণে এই ঘটনা, এখনও স্পষ্ট নয়। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে সংস্থাটির তরফে। সূত্রের খবর, এই বিস্ফোরণের জেরে স্টারশিপের প্রোটোটাইপে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ২৯ জুন সংস্থাটি তাদের পরবর্তী স্পেস স্টারশিপ উৎক্ষেপণের কথা ভাবছিল। কিন্তু তার মাঝেই ঘটে গেল অঘটন। এবছর শুরুতেই ব্যর্থ হয় মাস্কের স্টারশিপ। উৎক্ষেপণের পর পরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধ্বংস হয়ে যায় স্পেস স্টারশিপটি। লাইভ স্ট্রিমিং চলাকালীন দেখা যায় উৎক্ষেপণ হতে না হতেই ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় মহাকাশযানের। বাহামাসের উপর বিস্ফোরণে টুকরো টুকরো হয়ে যায় মহাকাশযানটি। আমেরিকার টেক্সাসে অবস্থিত স্পেসএক্সের উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। স্টারশিপের আগামী সব মিশন আপাতত স্থগিত।




