পয়েন্ট তালিকায় নিচের দিকে শিলিগুড়ি। হতাশ সার্ভোটেক শিলিগুড়ি স্ট্রাইকার্স। বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগে কাঁটা বৃষ্টি। একের পর এক ম্যাচ ভেস্তে যাচ্ছে বৃষ্টির জন্য। টুর্নামেন্টের লিগ পর্ব প্রায় মাঝপথে চলে এলেও বৃষ্টির ভ্রুকুটি থেকেই যাচ্ছে। বৃষ্টির জেরে ভোগান্তি বাড়ছে সার্ভোটেক শিলিগুড়ি স্ট্রাইকার্সের। পুরুষ এবং মহিলা দুই দল মিলিয়ে চলতি মরশুমে শিলিগুড়ির একাধিক ম্যাচ পরপর বাতিল হয়েছে। তার জেরে নকআউট পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমশ ফিকে হচ্ছে দলগুলোর। সার্ভোটেক শিলিগুড়ি স্ট্রাইকার্সের পুরুষদের দু’টি এবং মহিলাদের দু’টি ম্যাচ বাতিল। পয়েন্ট তালিকায় তাদের অবস্থান যথাক্রমে সপ্তম এবং অষ্টম স্থানে থাকার অন্যতম কারণ, বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেস্তে যাওয়া। যথেষ্ট অসন্তুষ্ট ক্রিকেটাররা। অসন্তোষ শিলিগুড়ি শিবিরেও। তাদের তরফে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ার কারণে ক্রিকেটাররা পর্যাপ্ত সুযোগটাই পাচ্ছেন না। কেবল ক্রিকেটাররা নন, ম্যাচ ভেস্তে যাওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ শিলিগুড়ির সমর্থককুলও।
দলের ম্যানেজমেন্টের তরফ থেকে বলা হয়, “আমরা তো মাঠে নামার জন্য পুরোপুরি তৈরি। ভালো খেলার জন্য মুখিয়ে ছিলেন ক্রিকেটাররাও। কিন্তু সবকিছু ভেস্তে দিয়েছে এই বৃষ্টি।” মহিলা দলের অধিনায়ক বলেন, বারবার বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেস্তে যাওয়ায় খেলোয়াড়দের মনোবল ভেঙে যাচ্ছে। শিলিগুড়ির ফ্যানরাও সোশাল মিডিয়ায় এই নিয়ে সুর চড়িয়েছেন। প্রিয় ক্রিকেটারদের মাঠে নেমে খেলতে দেখতে চান তাঁরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি বৃষ্টি থাবা বসাবে সেই আশায়? খারাপ আবহাওয়ার জেরে কী আবারও ভেস্তে যাবে শিলিগুড়ির ম্যাচ? উদ্বিগ্ন ক্রিকেটাররা।

এর আগের ম্যাচেও পোড়লের লড়াই বৃথা। বৃষ্টিভেজা ম্যাচ। বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগের দ্বিতীয় সিজনের ইডেন গার্ডেন্সে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচ। ডায়মন্ডস হারায় প্রতিপক্ষ লাক্স শ্যাম কলকাতা টাইগার্সকে। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি ৯ ওভারে সীমাবদ্ধ। টস হেরে ব্যাটিং করতে নামা হারবার ডায়মন্ডস শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখায়। ইনিংসের শুরুতেই দ্রুত রান তোলে তারা। অভিষেক রমন ১৪ বলে ২০ রান করে দলের ভিত গড়ে দেন। ইনিংসে ছিল দুটি চার ও এক ছক্কা। প্রয়াস রায় বর্মন ৮ বলে ১৯ রান ও বিশাল ভাটি ৭ বলে ১৪ রান করেন। মাঝেমধ্যে উইকেট হারালেও রানর গতি কমেনি। নির্ধারিত ৯ ওভারে ৮ উইকেটে ১০১ রান তোলে হারবার ডায়মন্ডস। কলকাতা টাইগার্সের সায়ন ঘোষ অসাধারণ বোলিং। ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে কলকাতা টাইগার্সের অভিষেক পোড়েলের ১৮ বলে ২৫ রানে ছিল একটি ছক্কা ও দুটি চার। গীত পুরি, প্রদীপ কুমার, কৌশিক মাইতি ও রাহুল প্রসাদ প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নেন। কলকাতা টাইগার্স ৯ ওভারে ৬১/৪ রান তুলতেই থেমে যাওয়ার ফলে ম্যাচটি ৪০ রানের বড় ব্যবধানে হার।
হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন সৌরভের দাদা স্নেহাশিস। স্বস্তি ফিরল সিএবিতে। গঙ্গোপাধ্যায় পরিবারেও স্বস্তি। আচমকাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল ময়দান। তিনদিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন সিএবি প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার আপাতত পুরোপুরি সুস্থ। কয়েকদিন বিশ্রামে থাকতে হবে। দিনকয়েক পরে স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরতে পারবেন। বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার স্নেহাশিস গাঙ্গুলিকে মঙ্গল সকালে ভর্তি করা হয়েছিল কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে। চিকিৎসক সপ্তর্ষি বসুর পর্যবেক্ষণে ছিলেন তিনি। গঙ্গোপাধ্যায় পরিবার সূত্রে খবর, সোম রাত থেকেই অস্বস্তি বোধ করছিলেন। মঙ্গল সকালে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যাওয়ায় দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত। কিংবদন্তি ক্রিকেটার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাদা স্নেহাশিস আচমকাই অসুস্থ। উডল্যান্ডস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল সিএবি প্রেসিডেন্টকে। হাসপাতালে স্যালাইন ও ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। দিন দুয়েক পর্যবেক্ষণে থাকার ফলে চিকিৎসায় দ্রুত সাড়া দেন। মঙ্গলে হাসপাতালে ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাল্যবন্ধু তথা বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার সঞ্জয় দাস। দাদার অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর জানতে পেরে উদ্বিগ্ন সৌরভ। হাসপাতালে দাদাকে দেখতেও যান। বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগ নিয়ে বেশ ব্যস্ত রয়েছেন স্নেহাশিসৃ। বৃষ্টিতে টুর্নামেন্ট পরিচালনা করাই বিরাট চ্যালেঞ্জ। বেশ ব্যস্ততার মধ্যেই কাটছিল স্নেহাশিসের। তার মাঝেই অসুস্থ হয়ে পড়ায় সিএবি প্রেসিডেন্টকে নিয়ে উদ্বিগ্ন সিএবি। বৃহস্পতিতে স্নেহাশিস হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ায় অবশেষে স্বস্তিতে সিএবি ও বঙ্গ ক্রিকেট মহল।

এক ফ্রেমে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ও মহম্মদ কাইফ। সেই জুটি ইডেনে। মহম্মদ কাইফ দেশের হয়ে খেলেছেন মোটে ১৩টি টেস্ট এবং ১২৫টি ওয়ান ডে। ব্যাটিং গড় বা রানসংখ্যাও বিরাট কিছু আহামরি নয়। সামান্য পরিসংখ্যানে ভারতীয় ক্রিকেটে মহম্মদ কাইফের অবদান বর্ণনা করা সম্ভব নয়। দক্ষতা, নৈপুণ্যের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও যেভাবে লড়াকু আর নাছোড় মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন মহম্মদ কাইফ তা অনেকদিন মনে রাখবে ভারতীয় ক্রিকেটমহল। বিশেষ করে মনে রাখবে ২০০২ ন্যাটওয়েস্ট সিরিজে তাঁর ৮৭ রানের ইনিংস। মনে রাখবে তাঁর অনবদ্য ফিল্ডিংয়ের জন্য। মহম্মদ কাইফের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শুরু থেকে শেষ সবটাই হয়েছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অধিনায়কত্বে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ক্রিকেটজীবনের সবচেয়ে আইকনিক মোমেন্ট যদি লর্ডসের ব্যালকনিতে জামা খুলে দাদাগিরি করা হয়, তাহলে কাইফের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে স্মরণীয় ইনিংসও লর্ডসের সেই ম্যাচই। কাইফ না থাকলে হয়তো সেদিনের সেই দাদাগিরির সাক্ষী থাকতে পারত না ক্রিকেট বিশ্ব। আপাতত ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করতে কলকাতায় বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগে। সাক্ষাত হল দাদার সঙ্গে। ছবিতে পোজও দিলেন সেই জার্সি ওড়ানো ছবির সামনে দাঁড়িয়ে। কারণ ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনালে ইংল্যান্ডের দেওয়া ৩২৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খেলতে নেমে ৫ উইকেট খুঁইয়ে ভারত যখন রীতিমতো বিপাকে। তখন যুবরাজের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছিলেন কাইফ। যুবরাজ আউট হওয়ার পর কার্যত একার হাতে ফাইনালে ভারতে জিতিয়ে আনেন। এরপরই লর্ডসের ব্যালকনিতে সৌরভের জার্সি খোলা। যা বাঙালির হৃদয়ে চিরন্তন। ম্যাচটি ছিল ১৩ জুলাই ২০০২, ঠিক ১৬ বছর পরে অর্থাৎ ১৩ জুলাই ২০১৮। সব ধরনের ক্রিকেটকে বিদায় জানান কাইফ। বিদায় জানানোর মুহূর্তেও লর্ডসের সেই ইনিংসকেই মনে করিয়েছিলেন প্রাক্তন মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান। বিসিসিআইকে লেখা চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “লর্ডসের সেই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পেরে আমি আজও গর্বিত।”শুধু লর্ডসের সেই ইনিংসই নয়। কাইফকে ভারতীয় ক্রিকেট মনে রাখবে ২০০২ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত শতরানের জন্য। মনে রাখবে যুবরাজ সিংয়ের সঙ্গে তাঁর একাধিক ম্যাচ উইনিং পার্টনারশিপের জন্য। মনে রাখবে তাঁর অসাধারণ ফিল্ডিং দক্ষতার জন্য। একসময় স্রেফ ফিল্ডিংয়ের জন্য প্রচুর ভারতীয়র আইকন হয়ে উঠেছিলেন উত্তরপ্রদেশের ক্রিকেটার। সমসাময়িক সবচেয়ে ফিট ক্রিকেটারদের মধ্যে একজন ছিলেন কাইফ। দীর্ঘদিন রনজি ট্রফিতে উত্তরপ্রদেশের অধিনায়কত্ব করেছেন, সর্বশেষ খেলেছেন ছত্তিশগড়ের হয়ে। আপাতত ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করতে কলকাতায় বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগে।




