জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ-রাজৌরি এলাকায় সংঘর্ষবিরতি চুক্তি ভেঙে গোলাবর্ষণ শুরু পাকিস্তানের। ভারতীয় সেনার তরফে ঘোষণা। পাকিস্তানের এই হামলায় জম্মু ও কাশ্মীরে তিন জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু। পহেলগাঁওয়ে ‘সিঁদুর’ কেড়েছিল পাক জঙ্গিরা। পাকের মধ্যে পরপর জঙ্গি শিবির ধ্বংস করে বদলা ভারতীয় সেনার। ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে বদলা নিল ভারতীয় সেনা এবং ভারতীয় বায়ুসেনা। পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। ধ্বংস করে দেওয়া হয় একের পর এক জঙ্গি শিবির। যে সব শিবির থেকে ভারতে জঙ্গি হামলা চালানোর ছক তৈরি করা হত। পরিচালনা করা হত জঙ্গিদের। সেইসব শিবির রাতের অন্ধকারে গুঁড়িয়ে দিল ভারত। ২৫ মিনিটের অপারেশন। তাতেই রক্তবন্যা বইছে পাকিস্তানে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তানে নিহত কমপক্ষে শতাধিক। মৃত্যুমিছিল ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ভারতের প্রত্যাঘাতে কমপক্ষে ৯০ জন জঙ্গি নিকেশ। প্রাণ গেছে ২৬ জন পাকিস্তানি নাগরিকের। আহত বহু। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গল গভীর রাতে পাকিস্তানের চারটি এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের পাঁচটি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালায় ভারতের জল, স্থল, বায়ু সেনা। ১৯৭১ সালের পর এই প্রথমবার তিন সেনাবাহিনী যৌথভাবে হামলা চালাল। লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ অর্থাৎ জেইএম, হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি সংগঠনের মোট ন’টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারত। অনুমান, ৮০ থেকে ৯০ জঙ্গি খতম হয়েছে এই হামলায়। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বদলার পরে ভারতীয় সেনার তরফে, ‘জাস্টিস ইজ সার্ভড ন্যায়বিচার হল। জয় হিন্দ।’ঘোষিত
ভারতীয় সেনা জানিয়েছে পুঞ্চ-রাজৌরি এলাকার ভিম্বের গলিতে কামান থেকে গোলাবর্ষণ কর পাকিস্তান। ভারতীয় সেনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে বায়ুসেনার সমস্ত ইউনিটকে তৈরি থাকার নির্দেশ। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর বার বার সংঘর্ষবিরতি চুক্তি ভেঙেছে পাকিস্তান। জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় হামলায় চুপ থাকেনি ভারতীয় সেনা। মঙ্গল মধ্যরাতে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আঘাত হেনেছে ভারতীয় বাহিনী। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হানার জবাব পাকিস্তানকে ভারত নিজের পছন্দের সময়ে এবং পছন্দের স্থানে দেবে বলে নয়াদিল্লির তরফে বিবৃতি। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বহাওয়ালপুরে এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজফ্ফরাবাদে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ভারত আঘাত হেনেছে বলে দাবি। ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতি, পাকিস্তানে এবং পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে ৯টি জায়গায় জঙ্গি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’। যে সব জায়গায় বসে ভারতে সন্ত্রাসবাদী হানার পরিকল্পনা হয়েছিল এবং নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেখানেই ভারত আঘাত হেনেছে বলে মন্ত্রক বিবৃতিতে দাবি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতিতে লেখা, “আমাদের পদক্ষেপ সুনির্দিষ্ট, পরিমিত এবং অপ্ররোচনামূলক। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কোনও পরিকাঠামোয় আঘাত হানা হয়নি। লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং আঘাত হানার প্রশ্নে ভারত উল্লেখযোগ্য সংযম দেখিয়েছে।”ইসলামাবাদের চিরাচরিত ‘স্ক্রিপ্ট’ মেনে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ দাবি করেছেন, ভারত যে হামলা চালিয়েছে, তাতে কোনও জঙ্গি শিবির ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বরং অসামরিক জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারতে নির্বিচারে গুলি-গোলা বর্ষণ শুরু করে পাকিস্তানি সেনা। ভারতের ৩ জন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সেনা। এখনও পর্যন্ত কোনও জওয়ান শহিদ হননি। মেন্ধরের মানকোট সেক্টরে পাকিস্তান যে আর্টিলারি শেলিংয়ের হামলা চালিয়েছে তাতে মৃত্যু হয়েছে রুবি কউরের। এদি কুপওয়ারাতেও মর্টার শেলিং হয়েছে। ত্রিভোনি শিখ গ্রামে এবং তঙ্গধারে ৩টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে পাকিস্তানি শেলিংয়ে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর একাধিক জায়গায় পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। যোগ্য জবাব দিচ্ছে ভারতও। পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে ২টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারত। বাহাওয়ালপুরে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে ভারতীয় হামলায়। ৭ মে ভোররাত ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও পাকিস্তানে জঙ্গিদের ৯টি গোপন আস্তানায় হামলা চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। হামলায় এখনও পর্যন্ত ৯০ জনেরও বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মুরিদকেতে ৩০ জন জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে। অন্যান্য ক্যাম্পেও কয়েক ডজন জঙ্গি নিহত। পাকিস্তান এই নিয়ে মিথ্যা দাবি করে বলে শিশু এবং মহিলা সহ ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ভারতের অভিযানে।
পহেলগাঁওতে পাকিস্তানের মদতে ইসলামি জঙ্গিরা ধর্ম জিজ্ঞেস করে মেরেছিল পর্যটকদের। জঙ্গি হামলায় মুছে গিয়েছে অনেকের সিঁদুর। বদলা হিসাবে পাকিস্তানের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিল ভারত। পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে ২টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারত। মুরিদকে, মুজাফফরাবাদ, কোটলি, গুলপুর, ভীমবের, চাক আমরু এবং শিয়ালকোটেও ভারত হামলা চালিয়েছে। মোট ৮টি জায়গায় ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারত। অপারেশনে অংশ নেওয়া প্রত্যেক বায়ুসেনা পাইলট নিরাপদে। ভারতের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। দাবি করা হচ্ছে, বাহাওয়ালপুরে ৩০ জনের মৃত্যু ভারতীয় হামলায়। ভারতীয় সেনার পদক্ষেপে পাকিস্তানি সেনা বা অসামরিক কোনও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। নিখুঁতভাবে জঙ্গি শিবিরগুলিকে টার্গেট করে নষ্ট করা হয়েছে। ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে কোনও জঙ্গি শিবির ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি ইসলামাবাদ। পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছেন।
বুধ সকাল-দুপুরে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-র বিষয়ে বিস্তারিত তথ্যপ্রকাশ করা হবে বলে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের জানিয়েছে। গভীর রাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে শুধুমাত্র বলা হয়েছে, ‘কিছুক্ষণ আগে অপারেশন সিঁদুর চালিয়েছে ভারতীয় সামরিক বাহিনী। পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গি ছাউনিতে নিশানা করেছে। ভারতে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করা হত এবং পরিচালনা করা হত। ন’টি এলাকা নিশানা করা হয়েছে। ভারতীয় সেনা যে পদক্ষেপ করেছে, তাতে পাকিস্তানি সেনা বা অসামরিক কোনও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। একেবারে নিখুঁতভাবে জঙ্গি শিবিরগুলিকে ‘টার্গেট’ করা হয়েছিল। যেমন ‘টার্গেট’ করা হয়েছিল, সেইমতো নেওয়া হয়েছে ‘অ্যাকশন’। ভারতীয় সেনা অত্যন্ত সংযম দেখিয়েই সেই পদক্ষেপ করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় যে পৈশাচিক জঙ্গি হামলা চালানো হয়েছিল, সেটার প্রেক্ষিতেই এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে। যে জঙ্গি হামলায় মোট ২৬ জন মারা গিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৫ জন ভারতীয় ছিলেন। আর একজন নেপালি। ওই হামলার ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের শাস্তি দেওয়ার যে প্রতিজ্ঞা নিয়েছি আমরা, সেটা পূরণ করছি।’ ভারতের দূতাবাস জানিয়েছে পাকিস্তানে ভারতের হামলার পরেই ভারতের জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, আমেরিকার উপদেষ্টা এবং রাষ্ট্রসচিব মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলবে।
ভারত ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ এর কথা স্বীকার করে নিয়েছে। অতীতের মতো এবারও ইসলামাবাদের তরফে দাবি করা হয়েছে যে ভারতের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে’ কোনও জঙ্গি শিবির ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ভারত যে কাজটা করেছে, তার প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামাবাদ। ভারতকে যোগ্য জবাব দেবে পাক। পাকিস্তানে এবং পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে ৯টি জায়গায় জঙ্গি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’ করা হয়েছে। যে সব জায়গায় বসে ভারতে সন্ত্রাসবাদী হানার পরিকল্পনা হয়েছিল এবং নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, সেখানেই ভারত আঘাত হেনেছে বলে মন্ত্রক বিবৃতিতে দাবি করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, “আমাদের পদক্ষেপ সুনির্দিষ্ট, পরিমিত এবং অপ্ররোচনামূলক। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কোনও পরিকাঠামোয় আঘাত হানা হয়নি। লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং আঘাত হানার প্রশ্নে ভারত উল্লেখযোগ্য সংযম দেখিয়েছে। ভারতীয় সেনার বীরত্বের বন্দনা দেশের ক্রিকেটারদের কণ্ঠে। গৌতম গম্ভীর থেকে বরুণ চক্রবর্তী, সবার কণ্ঠে একটাই মন্ত্র- জয় হিন্দ। এক্স হ্যান্ডলে ভারতের জাতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর ‘অপারেশ সিঁদুরে’র ছবি দিয়ে লিখেছেন ‘জয় হিন্দ’। আকাশ চোপড়াও একই ছবি দিয়ে লিখেছেন, ‘আমরা একজোট হয়ে পাশে আছি। জয় হিন্দ’। প্রজ্ঞান ওঝা বলেন, ‘জয় হিন্দ, ভারতীয় সেনার জয়’। বীরেন্দ্র শেহওয়াগ লেখেন, ‘ধর্ম রক্ষতি রক্ষত, ভারতীয় সেনার জয়’। অর্থাৎ, যে ধর্মকে রক্ষা করে, ধর্ম তাঁকে রক্ষা করে। সুরেশ রায়নাও লিখেছেন ‘অপারেশন সিঁদুরে’র জয়গানে মুখর।ভারতীয় সেনাবাহিনীর হামলার পরে এক্স হ্যান্ডলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ লিখেছেন, ‘ভারত মাতা কী জয়!’ ভারতীয় সেনাবাহিনীর হামলার পরে এক্স হ্যান্ডলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ লিখেছেন, ‘ভারত মাতা কী জয়!’




