RK NEWZ ৬ জুলাই এক অদ্ভুত মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড। ওই দিন ভারতীয় সময় রাত ১১টা নাগাদ (১৭:৩০ UTC) সূর্য থেকে সবচেয়ে দূরে চলে যাবে পৃথিবী। বিজ্ঞানের ভাষায় এই বিশেষ অবস্থানকে বলা হয় ‘অপসূর’ বা ‘অ্যাফেলিয়ন’ (Aphelion)। গ্রিক শব্দ ‘apo’ (যার অর্থ দূরে) এবং ‘helios’ (যার অর্থ সূর্য) থেকে এই নামের উৎপত্তি। প্রতি বছরই জুলাই মাসের শুরুর দিকে এই ঘটনাটি ঘটে। তবে সূর্য থেকে এতটা দূরে চলে গেলেও কি আমাদের এখানে গরম কমবে? নাকি হঠাৎ করে বাড়বে ঠান্ডা? বিজ্ঞানের জটিল হিসেব। মহাকাশবিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অপসূর অবস্থানে সূর্য থেকে পৃথিবীর দূরত্ব হবে প্রায় ৯ কোটি ৪৫ লক্ষ মাইল (বা ১৫ কোটি ২১ লক্ষ কিলোমিটার)।পেরহেলিয়ন বনাম অ্যাফেলিয়ন: প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের শুরুতে পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে, যাকে বলা হয় ‘অনুসূর’ বা ‘পেরহেলিয়ন’ (Perihelion)। সেই সময়ের তুলনায় ৬ জুলাই পৃথিবী সূর্য থেকে প্রায় ৩১ লক্ষ মাইল (বা ৫০ লক্ষ কিলোমিটার) বেশি দূরে অবস্থান করবে।
কক্ষপথের খেলা: পৃথিবীর কক্ষপথটি একদম গোল বা বৃত্তাকার নয়, এটি সামান্য ডিম্বাকৃতির। এই কারণেই সারা বছর ধরে সূর্য ও পৃথিবীর দূরত্বের মধ্যে মাত্র ৩ শতাংশের একটি হেরফের ঘটে। সাধারণ হিসেব অনুযায়ী, সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ধরা হয় ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইল (১৫ কোটি কিলোমিটার), যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ১ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট (AU)। আগামী ৬ জুলাই এই দূরত্ব বেড়ে দাঁড়াবে ১.০১৬৬ এইউ-তে। সোজা কথায় উত্তর হল, না, একদমই নয়। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতেই পারে যে সূর্য দূরে চলে গেলে গরম কমে যাওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে এই সময় উত্তর গোলার্ধে (যেমন আমাদের ভারতে) পুরোদস্তুর গ্রীষ্মকাল চলে। আসলে আমাদের পৃথিবীতে ঋতু পরিবর্তন দূরত্বের উপর নির্ভর করে না; বরং তা নির্ভর করে পৃথিবীর অক্ষের ২৩.৫ ডিগ্রি হেলে থাকার উপর। জুলাই মাসে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে হেলে থাকে। ফলে এই অংশে সূর্যের আলো একদম সরাসরি বা লম্বভাবে পড়ে এবং দিনের পরিধিও অনেক বড় হয়। নাসার (NASA) তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি পড়ার কারণে এই সময় বাঁকা রশ্মির তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি তাপ উৎপন্ন হয়। এমনকি উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকাল দক্ষিণ গোলার্ধের চেয়ে ২-৩ দিন বেশি স্থায়ী হয়, যার ফলে সূর্য উত্তর ভাগের স্থলভূমিকে উত্তপ্ত করার জন্য অনেক বেশি সময় পায়। ৬ জুলাই দূরত্বের কারণে আকাশেও সূর্যের আকারে সামান্য বদল আসবে। অনুসূর বা জানুয়ারি মাসের তুলনায় এই দিন সূর্যকে আকারে প্রায় ৩.৪ শতাংশ থেকে ৩.৬ শতাংশ ছোট দেখাবে। তবে এই পরিবর্তন এতটাই সূক্ষ্ম যে তা খালি চোখে ধরা পড়া অসম্ভব। বিজ্ঞানীদের স্পষ্ট সতর্কবার্তা, সঠিক ফিল্টার ছাড়া কখনওই সূর্যের দিকে সরাসরি তাকানো উচিত নয়। এছাড়া, এই দূরত্বের কারণে আগামী ৬ জুলাই পৃথিবীতে পৌঁছনো সূর্যালোকের তীব্রতাও স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৭ শতাংশ কম থাকবে।




