সত্যিই ঘটনাবহুল দিন! বুধ মধ্যরাতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ দিয়ে শুরু। অল্প হলেও রেশ পড়ে ইডেনে কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম চেন্নাই সুপার কিংস ম্যাচে। বুধ দুপুরেই ইমেলে ইডেন উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি। ইডেনে কেকেআর বনাম চেন্নাই সুপার কিংস ম্যাচের আগে বড়সড় হুমকি। ম্যাচ চলাকালীনই বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া হবে গোটা স্টেডিয়াম। সিএবির অফিসিয়াল ইমেল আইডিতে মেইল পাঠিয়ে হুমকি অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের। সন্ধেয় ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনীদের সম্মান প্রদর্শণ। রোহিত শর্মার টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর। একদিনের ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাবেন। রোহিতকে ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে অধিনায়ক করার নায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তখন তিনি বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট। হিটম্যানের অবসর প্রসঙ্গে সৌরভ বলেন, ‘এটা ওর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ও ভাল অধিনায়ক, দারুণ ক্রিকেটার। তবে ও জানে কখন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।’ পহেলগাঁও জঙ্গিহানার পর নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়ে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য প্রাক্তন বোর্ড সভাপতির, ‘যা করেছে ঠিক করেছে।’

ইডেনে বোমাতঙ্ক। কেকেআর-সিএসকে ম্যাচের দিন দুপুরে সিএবিতে অনামী মেইল আইডি থেকে একটি মেইলে আচমকা ইডেনকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি। বুধে কেকেআর-চেন্নাই ম্যাচ চলাকালীন মেইলের সত্যতা স্বীকার করে সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গাঙ্গুলি জানান, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। স্নেহাশিস গাঙ্গুলি বলেন, ‘একটা মেইল এসেছে। এই মেইল পাওয়ার পর আমরা কোনও ঝুঁকি নিতে চাইনি। পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ইডেনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’ ভারত-পাক যুদ্ধের বাতাবরণের মধ্যে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চায়নি সিএবি। অন্যান্য ম্যাচের তুলনায় বুধবার ইডেনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন। সিভিল ড্রেসে প্রচুর পুলিশ। প্রত্যেক ম্যাচের আগেই স্নিফার ডগ দিয়ে গোটা স্টেডিয়াম পরীক্ষা করানো হয়। কেকেআর-সিএসকে ম্যাচে নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো ছিল। ম্যাচ শুরুর আগে ডাকা হয় বোম স্কোয়াডকে। বিকেল পাঁচটা নাগাদ গোটা স্টেডিয়াম, ড্রেসিংরুম, সিএবির অন্দরমহলে, প্রেস বক্স থেকে শুরু করে পার্কিং জোন খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়। প্রত্যেক গ্যালারিতে এদিন পুলিশের সংখ্যা দ্বিগুণ ছিল।

টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানের। ইডেনে ধুন্ধুমার। কেকেআর বনাম সিএসকে। আইপিএল ২০২৫-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। কলকাতা নাইট রাইডার্স কেকেআর বনাম চেন্নাই সুপার কিংস সিএসকে। সিএসকে ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছে। কেকেআরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ছিল এদিন। কলকাতার প্রথম একাদশে ভেঙ্কটেশ আইয়ার ছিলেন না। স্টিচ থাকার কারণে ডাগ আউটে থাকা ভেঙ্কটেশ আইয়ারের জায়গায় দলে মণীষ পাণ্ডে। ম্যাচের সব আবেগ উত্তেজনার দাবিদার ছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। জাতীয় দলের হয়ে খেলার আগে এই ইডেন, কলকাতার বিভিন্ন মাঠে খেলে গিয়েছেন ধোনি। এই শহর তাঁরও খুব চেনা। ইডেনে তিনি নামা মানেই জনসমর্থন তাঁর দিকে। টসের সময়ে তাঁকে দেখে প্রবল হর্ষধ্বনি। ধোনি ফিরে যাচ্ছিলেন তাঁর ফেলে আসা সময়ে। ইডেনে সম্ভবত শেষ বার খেলতে নেমেছেন ধোনি। কারণ মহেন্দ্র সিং ধোনির চিত্রনাট্য নিজেই লেখেন। ধোনির সিএসকে-তে দুটো পরিবর্তন। স্যাম কারেন ও শায়িক রশিদের পরিবর্তে প্রথম একাদশে এসেছেন ডেভন কনওয়ে ও উরভিল প্যাটেল।

শেষ ওভারে জেতার জন্য চেন্নাই সুপার কিংসের দরকার আট রান। আউট হলেন নূর। ধোনি মাথা নেড়ে চেন্নাই সুপার কিংসের ডাগ আউটকে আশ্বস্ত করলেন, আমি আছি। চিন্তার কিছু নেই। শেষ ওভারে রাসেলের প্রথম বলেই বিশাল ছক্কা হাঁকালেন ধোনি। একটা ছক্কাই তো দেখতে চেয়েছিল কলকাতা। একটা ছক্কা দেখার জন্য কয়েক হাজার মাইল হাঁটা যায়। কেরিয়ারের পড়ন্ত বেলাতেও বৃদ্ধ সিংহ অবলীলায় ছক্কা মারার পর, বাকি কাজটা করেন অংশুল কম্বোজ। ম্যাচ হেরে প্লে অফের অঙ্ক কঠিন কলকাতা নাইটা রাইডার্সের জন্য। ধোনির জন্য জয়ধ্বনি দিল ইডেন। কেকেআর প্রথমে ব্যাট করে তোলে ১৭৯ রান। সিএসকের জয়ের অবদান ডিওয়াল্ড ব্রেবিসের ২৫ বলে ৫২ রান। শিবম দুবে চেন্নাইকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে ফিরে যান ৪৫ রানে। ধোনি অপরাজিত থেকে সিএসকে-কে ম্যাচ জেতান।

ভেঙ্কটেশ আইয়ারের পরিবর্তে দলে আসা মণীষ পাণ্ডে হতাশ করেননি। নিয়মিত নন তবুও দলের প্রয়োজনে মণীষ পাণ্ডে দ্রুত ২৮ বলে ৩৬ রান করেন। কলকাতা নাইট রাইডার্সের ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭৯ রান। গুরবাজ ও সুনীল নারিন ওপেন করতে নামেন কেকেআরের। দলের রান যখন ১১, ফিরে যান আফগানিস্তানের তারকা ক্রিকেটার গুরবাজ ব্যক্তিগত ১১ রানে। নারিন চটজলদি ১৭ বলে ২৬ রান করেন। অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে ৩৩ বলে চটজলদি ৪৮ রান করে যান। অঙ্গকৃষ ব্যর্থ হলে ইডেনে দেখা যায় রাসেল-ম্যানিয়া। ২১ বলে ৩৮ রান করেন ক্যারিবিয়ান দৈত্য রাসেল। রিঙ্কু ম্যাজিক দেখলা না ইডেন, ৯ রানে আউট। ম্যাচের সব আবেগ কেড়ে নিয়েছেন একজন। তিনি মহেন্দ্র সিং ধোনি। জাতীয় দলের হয়ে খেলার আগে এই ইডেন, কলকাতার বিভিন্ন মাঠে খেলে গিয়েছেন ধোনি। এই শহর তাঁরও খুব চেনা। ইডেনে তিনি নামা মানেই জনসমর্থন তাঁর দিকে। টসের সময়ে তাঁকে দেখে প্রবল হর্ষধ্বনি। ধোনি ফিরে যাচ্ছিলেন তাঁর ফেলে আসা সময়ে। সেই চেনা শহরেই জিতলেন ধোনি। জোড়া ম্যাচ জিতে আবার প্লে অফের লড়াইয়ে ফিরেও আবার হারতে হল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। ১১ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের ছয় নম্বরে। প্রথম চারে শেষ করার সম্ভাবনা ক্ষীণ। দুই ম্যাচের মধ্যে দুটিতেই জিতলেও লাভ হবে না নাইটদের। চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচে হার। বাকি দুটো অ্যাওয়ে। বাকি সানরাইজার্স হায়দরাবাদ এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্লে-অফ স্বপ্ন কার্যত শেষ। কলকাতায় মহেন্দ্র সিংহ ধোনির সমর্থক অসংখ্য। বুধবার ইডেনে উপস্থিত ৪২ হাজার দর্শকের অধিকাংশের গায়ে ছিল চেন্নাই সুপার কিংসের হলুদ জার্সি। আইপিএলের শুরুর দিকে অজিঙ্ক রাহানে অনুযোগ করেছিলেন ইডেনে পছন্দের পিচ পাচ্ছেন না। বুধবার পিচ মনের মতো হলেও ইডেনের দর্শক রাহানের মন জয় করতে না পারায় হারতে হল ম্যাচও। ধোনির হাতেই হার।

অপারেশন সিঁদুরের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আইপিএল নিয়ে বাড়তি সতর্ক বোর্ড। ভারতীয় বায়ুসেনার প্রত্যাঘাত এবং পরবর্তী পরিস্থিতির কথা ভেবে সম্ভবত আইপিএলের একটি ম্যাচ স্থগিত বা বাতিল করে দেওয়া হতে পারে। ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তন হতে পারে। বৃহস্পতিবার আইপিএলে ধরমশালায় পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে খেলতে নামার কথা দিল্লি ক্যাপিটালসের। আবার আগামী ১১ মে ধরমশালাতেই পাঞ্জাব খেলবে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে। সূত্রের দাবি, ধরমশালার বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি আপাতত স্থগিত করা হতে পারে বা বাতিল করে দেওয়া হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে সরকারি ঘোষণা এখনও করেনি বোর্ড। সন্ধেয় বোর্ড কর্তাদের জরুরি বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা।




