Sunday, July 19, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

ভাঙা আঙুল নিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলবেন আর্জেন্টিনা গোলকিপার! বাঁ-পায়ে ব্যান্ডেজ, স্প্যানিশ শিবিরে চিন্তা, ফাইনালে আদৌ খেলবেন তো?

RK NEWZ যন্ত্রণা সঙ্গী হলেও দেশের জন্য খেলতে কোনও দ্বিধা নেই। আঙুল ভাঙা। প্রতিদিন অসহ্য যন্ত্রণা! তবু থামেননি। অস্ত্রোপচার পিছিয়ে রেখে গোটা বিশ্বকাপ খেলছেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্টিনেজ। স্পেনের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যন্ত্রণা সঙ্গী হলেও দেশের জন্য খেলতে কোনও দ্বিধা নেই। মার্টিনেজ বলেন, “আমার হাতে এখনও প্রতিদিন ব্যথা হয়। জানি, এই যন্ত্রণা সহজে হার মানবে না। আমেরিকা ও ইংল্যান্ডে যাঁদের দেখিয়েছি, প্রায় সকল বিশেষজ্ঞই অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন। গ্রুপ পর্বে ঠিকমতো অনুশীলনও করতে পারিনি। তবে নকআউট পর্ব শুরু হওয়ার পর আর এসব নিয়ে ভাবিনি। এখন অনেক ভালো আছি।” বিরুদ্ধে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আর্জেন্টানাকে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন দিবু। এবারও তিনি দলের অন্যতম ভরসা। কয়েক বছর আগে সতীর্থদের সঙ্গে কথোপকথনে দু’টি বিশ্বকাপ জিতে অবসর নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। সেই প্রসঙ্গ উঠতেই দিবু বলেন, “হ্যাঁ, অনুশীলনের সময় নিকোকে এমন কথা বলেছিলাম। তবে তার আগে তো আমাদের জিততে হবে। এখন শুধু সেটাই ভাবছি। এই দল বছরের পর বছর ধরে উন্নতি করেছে। আমরা যা অর্জন করেছি, তা ভাবলে কখনও কখনও একাই কেঁদে ফেলি। সামনে আরও আনন্দের মুহূর্ত অপেক্ষা করছে। আগেরবারের চেয়েও এবারের বিশ্বকাপ বেশি উপভোগ করছি। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হারের পর খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। খুব বেশি শট হয়নি, তবু ওরা গোল করেছিল। পরে পেনাল্টি শুটআউটে দলকে সাহায্য করতে পেরেছিলাম। এখন আমার পায়ের নড়াচড়া আরও ভালো হয়েছে। রবিবার মাঠে নামব। আমাকে হাসিমুখেই দেখবেন। প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে এক-দু’টি গোল করতেই পারে। কিন্তু পরের ম্যাচে আমি আবার সেই আগের দিবু। আমি চাপ নিই না। গ্লাভস পরে মাঠে নামলেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পাই। স্পেন দুর্দান্ত দল। প্রিমিয়ার লিগে খেলা ওদের অনেক ফুটবলারকে আমি খুব ভালো করে চিনি। ওদের কোচও অসাধারণ। শুধু লামিন ইয়ামাল নয়, গোটা দলটাই শক্তিশালী। ওরা যোগ্য হিসাবেই ফাইনালে উঠেছে। তবে আমাদেরও নিজেদের শক্তি রয়েছে। আশা করছি এমন একটি ম্যাচ হবে, যা ফুটবলপ্রেমীরা বহুদিন মনে রাখবেন।”

ইয়ামাল যাতে ফাইনালে সম্পূর্ন ফিট হয়ে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে মাঠে নামতে পারেন, তারজন্য দিন-রাত এক করে ফেলছেন দলের সঙ্গে থাকা ডাক্তাররা। রবিবার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা-স্পেনের মধ্যে যে বিশ্বকাপ ফাইনাল হতে চলেছে, সেটা যে শুধুই বিশ্বফুটবলে নিজেদের দেশের মাহাত্ম প্রতিষ্ঠা করা, এরকমটা নয়। বরং রবিবারের ফাইনালটা হবে আজ পর্যন্ত ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ইভেন্ট। কারণ, ফাইনালের টিকিট ঘিরে যে পরিমাণ দাম ঘোরাফেরা করছে, তাতে স্টেডিয়ামে বসে ফুটবল দেখা, সাধারণের আয়ত্বের বাইরে চলে গিয়েছে। সেমিফাইনাল পর্যন্ত তাও মেরে কেটে একটা টিকিট ৩ লাখ টাকায় পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু ফাইনালে সবচেয়ে কম দামের টিকিটটাই রিসেলে হাঁকছে ১০ লক্ষ টাকা। ফিফা একদিকে বলছে, টিকিট ঘিরে কালোবাজারি বন্ধ করতে হবে। আরেকদিকে নিজেরাই রিসেলের ব্যবস্থা করে একটা টিকিট থেকে তিনবার কমিশন ঘরে তুলছে। প্রথমে একবার সাধারণ বুকিং থেকে কমিশন নিচ্ছে। তারপর একবার রিসেল থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন কাটছে। আবার সেই টিকিটকা যে কাটছে, তার থেকেও ১৫ শতাংশ কমিশন নিয়ে আমেরিকা বিশ্বকাপে আর্থিক ভাবে ফুলে ফেঁপে উঠছে ফিফা। আর তাতেই সাধারণ মানুষের চাপে ফাইনালের আগে নড়ে চড়ে বসেছে মার্কিনি প্রশাসন। নিউ ইয়র্ক আর নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেলরা যৌথভাবে ফাইনাল ম্যাচের টিকিট বুকিং প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। মেটলাইফের ভিতর আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফুটবল যুদ্ধ শুরুর আগেই, মেটলাইফের বাইরে শুরু হয়েছে বিশাল এক অর্থনৈতিক যুদ্ধ। ফুটবল এখন আর শুধুই ফুটবল নয়। পুঁজিবাদের বিশাল এক বিজ্ঞাপন। ফাইনালের টিকিট নিয়ে সরকারিস্তরে নড়াচড়া আরও শুরু হয়েছে কারণ স্প্যানিশ সমর্থকরা বারবার করে তাদের ফেডারেশনের কাছে আবেদন করছে ফাইনালের টিকিট নিয়ে। কিন্তু তারা অপারগ। এর মধ্যে আবার ফাইনালের আগে থাই মাসলের চোটের জন্য অনুশীলন না করে লামিনে ইয়ামল বাইরে বসে থাকায় টেনশনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে স্পেন শিবিরে।

দু’বছর আগে জুলাই মাসে ইউরো সেরা হয়েছিল স্পেন। দুবছর পর ফের আর এক জুলাই। এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি। ফাইনালে ওঠার জন্য ১৬ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা। ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক গোলে বিশ্বকাপ জেতার পর স্পেন আর একবারের জন্যও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পারেনি। ১৬ বছর পরেও ফাইনালে উঠে এরকম সমস্যায় পড়তে হবে, কে আর আগে ভেবেছিলেন? প্র্যাকটিসে দেখা গিয়েছে, বাঁ পায়ের থাই মাসলে ব্যান্ডেজ বেঁধে মাঠের পাশে বেঞ্চে বসে আছেন স্প্যানিশ তারকা ইয়ামেল। দলের অন্য ফুটবলাররা যখন ফুয়েন্তের কোচিংয়ে টানা প্র্যাকটিস করছেন, ইয়ামাল তখন থাই মাসলে ব্যান্ডেজ বেঁধে বসে। সেমিফাইনালে ওয়ারজাবালের পেনাল্টি থেকে গোলের পিছনে বড় অবদান ছিল ইয়ামালের। ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে পিছন থেকে ট্র্যাকল করায় স্প‌্যানিশ তারকাকে বক্সের মধ্যে আটকান। সেখান থেকেই পেনাল্টিতে গোল করে এগিয়ে যায় স্পেন। ইয়ামেলকে প্র্যাকটিসে না দেখে কিছুটা হলেও চিন্তিত হয়ে পড়েন স্প্যানিশ সমর্থকরা। দেখা যায়, মাঠে বসে ফোম রালার দিয়ে রিহ্যাব করছেন তিনি। এই অবস্থায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দলের অন্যতম তারকা পুরো ফিট হয়ে খেলতে না পারলে, দলের অবস্থা কী হবে, তা সহজেই অনুমেয়। সেই কারণেই সমর্থকদের চিন্তা। ইয়ামাল যাতে ফাইনালে সম্পূর্ন ফিট হয়ে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে মাঠে নামতে পারেন, তারজন্য দিন-রাত এক করে ফেলছেন দলের সঙ্গে থাকা ডাক্তাররা। দলের মেডিক‌্যাল বার্তায় অবশ্য বলা হয়েছে, বড় কোনও চোট নেই ইয়ামালের। ফাইনালের আগে স্প‌্যানিশ তারকা নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। তাই যতটা সম্ভব বিশ্রাম দিয়ে চোটের জায়গায় রিকভারি করা হচ্ছে। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই মাঠে নামবেন তিনি। তবে শুধু ইয়ামাল নন। এদিন স্পেনের প্র্যাকটিসে বল নিয়ে অন্যদের সঙ্গে দেখা যায়নি পেড্রো পোরোকেও। তিনিও আলাদা ট্রেনিং করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles