Sunday, July 19, 2026

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

বিশ্বকাপের ম্যাচে ১০ গোল!‌ হ্যাটট্রিক ও বিশ্বরেকর্ড হল!‌ ফ্রান্সকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতল ইংল্যান্ড!‌ সোনার বুট এমবাপের?‌

ইংল্যান্ড – ৬ (সাকা ৩, রাইস, কনসা, বেলিংহ্যাম)
ফ্রান্স – ৪ (এমবাপে ২, বার্কোলা, দেম্বেলে)

RK NEWZ সাকার হ্যাটট্রিক, এমবাপের জোড়া গোলে রেকর্ড! বিশ্বকাপের সবচেয়ে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ দেখা গেল তৃতীয় স্থান নির্ণয়কারী লড়াইয়ে। ম্যাচে মোট ১০ গোল হল। শেষ হাসি হাসল ইংল্যান্ড। ৬-৪ গোলে ফ্রান্সকে হারাল। ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের এই ম্যাচে ১০ গোল হল। হ্যাটট্রিক হল। বিশ্বরেকর্ড হল। আর কী চাই? তবে শেষ হাসি হাসল ইংল্যান্ড। ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতে সন্তুষ্ট থাকতে হল তাদের। শেষ ম্যাচে হেরে অবসর নিলেন অধিনায়ক ও কোচ হিসাবে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানো দিদিয়ের দেশঁ। দু’দলের প্রথম একাদশেই ছিল সাতটি করে বদল। বেশি অবাক করেন ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল। দুই সেরা গোলদাতা হ্যারি কেন ও জুড বেলিংহ্যামকে ছাড়াই দল নামান তিনি। বদলে দেন গোলরক্ষকও। বেলিংহ্যামকে পরে নামালেও কেন এই ম্যাচে খেললেন না। ফলে সোনার বুটে দৌড়ে আর থাকা হল না তাঁর। যে ফ্রান্সকে এ বারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল মনে হচ্ছিল, তাদের রক্ষণকে প্রথমার্ধে কাঁপিয়ে দিল ইংল্যান্ড। কেন, বেলিংহ্যামকে ছাড়াই। প্রান্ত ধরে একের পর এক আক্রমণ তুলে আনলেন বুকায়ো সাকা। এই ফুটবলারকে সেমিফাইনালে খেলার সুযোগই দেননি টুখেল। যেমন দেননি মার্কাস রাশফোর্ডকেও। অথচ, এই দুই ফুটবলারই ফ্রান্সের রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখলেন।

খেলা শুরুর ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের মাথায় প্রথম গোল। সেই শুরু। শেষ গোল হল ৯৮ মিনিটে। ডেজ়িরে ডুয়ের ভুল পাস ধরে অনেকটা দৌড়ে বক্সের বাইরে থেকেই ডান পায়ে জোরালো শট মারেন ডেকলান রাইস। ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইগনান দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গোল খেলেন। প্রথমার্ধ জুড়ে ফ্রান্সকে নিয়ে ছেলেখেলা করল ইংল্যান্ড। ১৮ মিনিটে রাইসের কর্নার থেকে হেডে দ্বিতীয় গোল এজ়রি কনসার। যত বার ইংল্যান্ড আক্রমণে উঠছিল মনে হচ্ছিল গোল হবে। রক্ষণ পুরো বদলে দিয়েছিলেন দেশঁ। ফ্রান্সের পরিবর্ত খেলোয়াড়েরা হতাশ করলেন। মনে হচ্ছিল, পাড়ার ফুটবলেও এত খারাপ ডিফেন্স হয় না। ৩৭ মিনিটের মাথায় ফরাসি রক্ষণকে নাচিয়ে প্রথম গোল করলেন সাকা। তাতে অবশ্য রাশফোর্ডের কৃতিত্ব অনেকটাই। ফ্রান্সের গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের নাচিয়ে সাকাকে বল দিলেন। তিনি গোল করলেন। বিরতির ঠিক আগে সাকার দ্বিতীয় গোল ফরাসি রক্ষণের কঙ্কালসার চেহারা দেখিয়ে দিল। মাঝমাঠ থেকে এবেরেচি এজ়ের পাস ধরে ঠান্ডা মাথায় গোল করলেন সাকা। ডিফেন্ডারদের দেখে মনে হচ্ছিল, কিছুই বুঝতে পারছেন না। নিজের জায়গাতেই ছিলেন না। ৪-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফ্রান্স কোনও দিন চার গোলে পিছিয়ে যায়নি। দেখে মনে হচ্ছিল, প্রথমার্ধেই খেলার ফয়সালা করে ফেলেছে ইংল্যান্ড। তখনও জানা ছিল না, দ্বিতীয়ার্ধে এত নাটক অপেক্ষা করছে। পরিবর্তদের সরিয়ে বাধ্য হয়ে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই চার নিয়মিত ফুটবলার নামালেন দেশঁ। উসমান দেম্বেলে, ব্র্যাডলি বার্কোলা, ডায়োট উপামেকানো ও লুকাস ডিগনেকে নামাতেই খেলা ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল।

৪৮ মিনিটে প্রথম গোল শোধ করল ফ্রান্স। করলেন সেই কিলিয়ান এমবাপে। প্রথমার্ধে দু’একটি শট মারা ছাড়া খুঁজে পাওয়া যায়নি তাঁকে। দ্বিতীয়ার্ধে বদল হতেই সচল হলেন তিনি। মাইকেল ওলিসের পাস ধরে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ডিন হেন্ডারসনকে পরাস্ত করেন তিনি। সেই গোল করে মেসিকে ছুঁয়ে ফেলেন এমবাপে। ৬৬ মিনিটের মাথায় এমবাপের দ্বিতীয় গোল। আবার বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন তিনি। সেইসঙ্গে ভেঙে ফেলেন মেসির রেকর্ড। বিশ্বকাপে এটি এমবাপের ২২ নম্বর গোল। মেসি ২১টি গোল করেছেন। চলতি বিশ্বকাপের সোনার বুটের লড়াইয়েও এগিয়ে গিয়েছেন এমবাপে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে মেসিকে ছাপিয়ে গিয়েছেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে এমবাপের গোলের সংখ্যা ১০। মেসির ৮। মেসির সমান চারটি অ্যাসিস্টও রয়েছে। এমবাপের জোড়া গোলের মাঝে ৫৪ মিনিটের মাথায় একটি গোল করেন বার্কোলা। তার পাসও দেন এমবাপে। প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড ঠিক যা যা করেছিল, দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সও তাই করছিল। প্রান্ত ধরে একের পর এক আক্রমণ তুলে আনছিল। আর তাতেই বার বার ভেঙে পড়ছিল ইংল্যান্ডের রক্ষণ। ইংরেজ ফুটবলারদের ক্লান্ত দেখাচ্ছিল। তার মাঝেই এজ়ে ও জেড স্পেন্স ব্যক্তিগত দক্ষতায় কয়েক বার বল নিয়ে ফ্রান্সের বক্সের কাছে গেলেও গোল করতে পারেননি। সেই সময় বেলিংহ্যাম ও ইলিয়ট অ্যান্ডারসনকে নামালেন টুখেল। তাঁরা মাঝমাঠে খেলাটা ধরলেন। গতি খানিকটা কমালেন। তাতে ফ্রান্সের সুযোগ কিছুটা কমল। নেমে নেমেই গোলের সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন বেলিংহ্যাম। গোল করতে পারেননি। প্রতি আক্রমণ থেকে ফ্রান্সের বক্সে ঢুকলেন স্পেন্স। তাঁকে ফাউল করলেন উপামেকানো। পেনাল্টি পেল ইংল্যান্ড। কেন না থাকলে বেলিংহ্যাম পেনাল্টি নেন। তিনি নিতেও গিয়েছিলেন প্রথমে। তার পর মনে পড়ল, সাকা জোড়া গোল করেছেন। ফলে সাকাকে বল দিলেন। পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক করলেন সাকা। ফ্রান্স হাল ছাড়েনি। সংযুক্তি সময়ে ৬ মিনিটের মাথায় দলের চতুর্থ গোল করেন দেম্বেলে। আর একটি গোল করলেই খেলা গড়াত অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু গোটা দ্বিতীয়ার্ধ জুড়ে লাগাতার আক্রমণে ফরাসি ফুটবলারেরাও হয়তো ক্লান্ত হয়ে পড়়েছিলেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করলেন বেলিংহ্যাম। জিতে মাঠ ছাড়ল ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে নিতে একটি দুর্দান্ত ম্যাচ উপহার দিলেন এমবাপে, বেলিংহ্যামেরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Popular Articles